হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তিনটি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৫২ কেজি স্বর্ণ। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি বিমানবন্দর থানা পুলিশ। তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থা পুলিশ আলোচিত তিনটি ঘটনার কার্যত কোনো কূলকিনারাই করতে পারেনি।
সবশেষ ফলের ক্যারেটের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৬ কেজি স্বর্ণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে আসামিদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও তাদের গ্রেফতার তো দূরের কথা, তদন্তেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা তদন্ত করছেন। কী ধরনের তদন্ত হচ্ছে এবং এজাহারে আসামিদের নাম-ঠিকানা থাকার পরও কেন তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিদের ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম দুটি অভিযানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্পর্শকাতর স্থান থেকে ৩৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মামলা হওয়ার পর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। তারা যদি কোনো অগ্রগতি করতে না পারে, তবে সেটি তাদের ব্যর্থতা।
তাদের ভাষ্য, এত বড় ঘটনার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্তে অগ্রগতি না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পৃথক তিন অভিযানে উদ্ধার ৫২ কেজি স্বর্ণ
গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি সোনা জব্দ করা হয়। চালানটি দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে ১৫৩টি স্বর্ণের বার ছিল। যার মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম। ২৪ ক্যারেটের এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় সংস্থাটির সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কয়েকজনের মোবাইল ফোনে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্ন বা কোড পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
গত ২ জুলাই একই ধরনের আরেকটি চালান ধরা পড়ে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের কার্গো হল থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এ ঘটনায়ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলায় কারও নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়নি।
সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই কার্গো ভিলেজে ফলের ক্যারেটে ১৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। কৌশল হিসেবে চোরাকারবারীরা ক্যাথে প্যাসিফিক কার্গো বিমান ব্যবহার করে। যে ক্যারেটে স্বর্ণ পাওয়া যায়, সেখানে রামবুটান, চেরি ও অ্যাভোকাডো ছিল। অর্থাৎ হংকং হয়ে ফলের কার্টনের মধ্যে সুকৌশলে স্বর্ণ ভরে শাহজালাল বিমানবন্দরে আনা হয়। কার্গোতে ফলের চালান থাকায় এটি সহজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাবে— এমন ধারণা থেকেই এ কৌশল নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের আসামি করে মামলা করেছে কাস্টমস। তবে এ মামলার তদন্তেও কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি পুলিশ।
তদন্তে অগ্রগতি শূন্য
আলোচিত স্বর্ণ জব্দের তিনটি ঘটনার তদন্তে কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরপর তিনটি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম দুটি ঘটনার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় একই, ব্যবহার করা হয়েছে একই এয়ারলাইনস। স্বর্ণ পাচারের জন্য বিমানের যে স্থানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে এয়ারলাইনসের লোকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, থানায় মামলা হওয়ার পর পুরো বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করে। তিনি সহযোগিতা চাইলে তা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু তিনি না চাইলে সহযোগিতা করার সুযোগ থাকে না।
তাদের ভাষ্য, তদন্তকারী কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কেন কোনো অগ্রগতি করতে পারছেন না, সেটি বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
তারা আরও বলেন, সর্বশেষ ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় এজাহারে আসামিদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তারপরও ওই মামলায় কোনো অগ্রগতি না হওয়া বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। থানা পুলিশের দৈনন্দিন নানা দায়িত্ব থাকে। তারা না পারলে ডিবি, সিআইডি, পিবিআই কিংবা র্যাবের মতো সংস্থা তদন্ত করতে পারে। এসব সংস্থার কাছে আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত থেমে গেলে চোরাকারবারীরা আরও উৎসাহিত হবে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, টেকনাফের একটি দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত শতাধিক বাঙালি ও রোহিঙ্গা নাগরিককে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী গ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেন। অভিযান শুরুর পরপরই মানবপাচারকারীরা গুলিবর্ষণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন ১ বীর (১ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট)-এর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭)। বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত তিতাস শেখকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), রামুতে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযানস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান চলছিল। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এদিকে যৌথ বাহিনীর ওপর হামলায় সেনাসদস্য নিহতের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা। এ সময় তাঁরা টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন সাঈদ বলেন, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। টেকনাফ থেকে মানবপাচার নির্মূল করতে হবে এবং অপরাধীদের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া শুক্রবার বিকেলে উখিয়ায় ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সেনাসদস্য নিহতের প্রতিবাদে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল করবে। একই সঙ্গে উখিয়া-টেকনাফকে মাদক ও মানবপাচারমুক্ত করার দাবি জানান তিনি। সেনাসদস্যের মৃত্যুতে আইএসপিআর গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় কর্তব্যরত অবস্থায় তরুণ এই সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ৩ নম্বর গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পল্টন থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সমাজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে দুর্বৃত্তরা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ৩ নম্বর গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।
দেশের শিল্পকারখানা বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মিল-কলকারখানা দেশের প্রাণ, অর্থনীতির প্রাণ। এসব প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল, তারা এখন দেশের অর্থনীতিকেও ধ্বংস করতে চায়। যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। মানুষের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা শহরের কেন্দ্রস্থল ডাকবাংলো মোড়ের মঞ্চে অনির্ধারিত পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষে জেলার প্রবেশদ্বার রূপসা উপজেলার তিলক কুদির বটতলায় পথসভার আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে তিনি রূপসা ব্রিজ পার হয়ে আসেন খুলনা শহরে। শহরের কেন্দ্রস্থল ডাকবাংলো মোড়ের মঞ্চে অনির্ধারিত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই। আমি আজ খুলনায় এসেছি নতুন কুঁড়ি উদ্বোধন করতে। আমরা খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিটি স্তরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, এক যুগ ধরে জোর করে ক্ষমতা দখল করে রাখা এবং মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া স্বৈরাচারী শক্তিকে এ দেশের মানুষ বিতাড়িত করেছিল; যারা লুটপাটের রাজনীতি শুরু করেছিল, তারা আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ যেভাবে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছিল, সেই শক্তি আবারও ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশের মানুষের স্বার্থে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে সেই যাত্রাকে মাথানত করতে দেওয়া হবে না। জনগণের প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আজ থেকে সবার একটাই প্রত্যাশা হওয়া উচিত জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নির্মাণ। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা ও বাগেরহাটে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। রূপসার পথসভা শেষে বেলা ২টা ৩৪ মিনিটে তিনি খুলনা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি সিজন-২ উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় কুদির বটতলা থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে এবং হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান।