অন্যান্য

শবেবরাতের ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬

 

মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মদি তথা আখেরি নবীর উম্মতের জন্য ইবাদতের বিশেষ কিছু সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচটি রাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইবাদতের এ বিশেষ পাঁচটি রাত হলো শবেজুমা বা জুমার রাত, শবেইদাইন বা দুই ঈদের রাত, শবেবরাত বা মুক্তির রাত তথা ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরাত, শবেকদর বা কদরের রাত অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ রজনী। এসব রাতে ইবাদত-বন্দেগি করলে বিশেষ মর্যাদা ও সওয়াব লাভ করা যায়। আল্লাহর নির্ধারিত সময় বাদে অন্য যে কোনো সময়ই ইবাদত-বন্দেগি করা যায়। তবে সময়ের ভিন্নতায় ইবাদতের বরকত হ্রাস-বৃদ্ধি হয়। যেমন—শবেবরাতের বরকতময় মুহূর্ত অর্থাৎ ১৪ শাবানের দিনগত রাতটা ইবাদতের জন্য খুবই বরকতময়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) তাকে বলেছেন, ‘এ রাতে বনি কালবের ভেড়া-বকরির পশমের (সংখ্যার পরিমাণের) চেয়েও বেশিসংখ্যক গুনাহগারকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি: ৭৩৯)।

শবেবরাতের বরকতময় রাতটা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিসহ নানা প্রার্থনায় অশেষ বরকত হাসিল করার সুবর্ণ সুযোগ। হজরত আলি বিন আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনি আসে (শবেবরাত), তখন তোমরা রাতে নামাজ পড়ো, দিনের বেলায় রোজা রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ এ রাতে সূর্য অস্তমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন, ‘কোনো গুনাহগার ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? আছে কোনো রিজিকপ্রার্থী? আমার কাছে রিজিক প্রার্থনা করবে আর আমি তাকে রিজিক দেব? আছে কোনো বিপদগ্রস্ত? আমার কাছে মুক্তি চাইবে আর আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দেব? মহান আল্লাহ এভাবে ফজর পর্যন্ত আহ্বান করতে থাকেন।’ (ইবনে মাজা: ১৩৮৮)

পবিত্র এ রাতে মহানবী (সা.) খুব গুরুত্বের সঙ্গে কাটাতেন। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সেজদা করলেন যে, আমার ধারণা হলো তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম, তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল; তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে আয়েশা! তোমার কীসের আশঙ্কা হয়েছে?’ আমি উত্তরে বললাম, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না।’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘তুমি কি জানো এটা কোন রাত?’ আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই ভালো জানেন।’ তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘এটা হলো অর্ধশাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।’ (শুয়াবুল ইমান: ৩/৩৮২)

বিখ্যাত তাবেয়ি খালিদ বিন মাদান, মকহুল, লোকমান বিন আমের (রহ.) প্রমুখ প্রসিদ্ধ তাবেয়ি মধ্যশাবানের রাতকে সম্মান করতেন এবং এতে স্বাভাবিক অভ্যাসের চেয়েও বেশি ইবাদত-বন্দেগি করতেন (লাতায়েফুল মায়ারিফ: ২৬২)। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, বছরের পাঁচটি রাতে দোয়া কবুল হয়। জুমার রাত, দুই ঈদের দুই রাত, অর্ধশাবানের রাত এবং রজব মাসের প্রথম রাত (কিতাবুল উম্ম: ২/৪৮৫)। হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) নিজেই এ রাতে ইবাদত করতেন এবং অন্যদেরও ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য নির্দেশ দিতেন। একদা তিনি বসরার গভর্নরের উদ্দেশে চিঠি দিয়ে জানালেন যে, তারা যেন লাইলাতুল বরাতে বিশেষ ইবাদত করে। একদা তিনি নিজে এ রাতে নামাজ আদায়কালে সেজদা থেকে মাথা উত্তোলন করে দেখতে পেলেন একটি সবুজ কাপড়ের টুকরো, যার থেকে আলো বিচ্ছুরিত হয়ে আসমানের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ওই টুকরোর মধ্যে লেখা ছিল মহাপরাক্রমশালীর পক্ষ থেকে এটি তার বান্দার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির বার্তা। (রুহুল বয়ান: ৮/৩১১)


নবীজি, সাহাবি ও তাবেয়িদের আমল দেখে সে যুগের মক্কার লোকেরাও শবেবরাতে রাতভর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকতেন। শবেবরাতে মক্কার অধিবাসীদের আমল সম্পর্কে আল্লামা আবু বকর ফাকেহি (২১৭-২৭৫ হি.) বলেন, অতীতকাল থেকে আজ পর্যন্ত আহলে মক্কার বা মক্কাবাসীর আমল ছিল, অর্ধশাবানের রাতে সাধারণ মানুষ মসজিদুল হারামের উদ্দেশে বের হতো। তারা নামাজ আদায় করত, তওয়াফ করত এবং সারা রাত ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করত। এমনকি সকাল পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত, খতমে কোরআন এবং নামাজের মাধ্যমে অতিবাহিত করত। নামাজের মধ্যে তারা প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহা এবং ১০ বার সুরা ইখলাস পড়ত। তারা জমজমের পানি পান করত, তা দিয়ে গোসল করত এবং অসুস্থদের জন্য জমা করে রাখত। উদ্দেশ্য ছিল এ রাতের বরকত হাসিল করা। (আখবারে মক্কা: ৩/৮৪)

বরকতময় এ রজনি আমরা আর নাও পেতে পারি। এজন্য এ রাতের অশেষ বরকত কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না। এ রাতে আমরা যেসব আমল করতে পারি, তা হলো—নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন তেলাওয়াত করা, তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা, তওবা-ইস্তেগফার করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, জিকির-আজকারে নিয়োজিত থাকা, প্রার্থনায় সবার কল্যাণ কামনা করা, কবর জিয়ারত করা, দান-সদকা করা এবং পরের দিন রোজা পালনসহ বিভিন্ন ইবাদতে মশগুল থাকা। কিন্তু আমাদের দেশে অনেককে দেখা যায়, এ রাতে হালুয়া-রুটি, গোশতসহ বিভিন্ন প্রকার মজাদার খাদ্য তৈরি করে আত্মীয়স্বজন নিয়ে মহাব্যস্ত সময় পার করে ইবাদত-বন্দেগির সময়-সুযোগ হারিয়ে ফেলে। এটা কখনোই একজন মুমিনের কাম্য হতে পারে না। শবেবরাত যেহেতু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিন বান্দার জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহ, তাই এ রাতে বিভিন্ন গর্হিত কাজ থেকেও আমাদের দূরে থাকতে হবে। যেমন—আতশবাজি ফোটানো, খেলাধুলায় মত্ত থাকা, ঘরবাড়িতে আলোকসজ্জা করা, শরিয়তবিরোধী কাজ করা, অপচয় করা, কারও ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো, অযাচিত আনন্দ-উল্লাস করা, বেহুদা কথাবার্তা ও ঘোরাঘুরি করা, সওয়াবের উদ্দেশ্যে মসজিদে খিচুড়ি রান্না করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পুণ্যময় রজনির বরকত হাসিল করার তওফিক দান করুন।

লেখক: ইমাম ও খতিব

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
তানিম রেজা বাপ্পি। ছবি : সংগৃহীত
অবশেষে ধরা পড়ল সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বাপ্পি

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মতিঝিল থানা পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তারের পর থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।   মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে রাকিবুল ইসলাম ভূইয়া রিজন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুব্রত বাইনের অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত এই বাপ্পি। সুব্রত বাইনকে ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই বাপ্পি ও তার সহযোগীরা আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নানা অপরাধমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

টকশোতে অনেকে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন : রিজভীর

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজপথে এবি পার্টির কফিন মিছিল

ছবি : সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত: নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুর পরও সওয়াব পৌঁছায় যে ৬ আমলে

মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটে, কিন্তু তার জন্য জীবিতদের কিছু আমল মৃত্যুর পরও উপকার বয়ে আনতে পারে। ইসলামে এমন কিছু কাজের কথা বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা, তার অধিকার আদায় করা এবং আল্লাহর রহমত কামনা করা যায়। তবে এসব আমল অবশ্যই কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। নিচে মৃত ব্যক্তির উপকারে আসে—এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো—   ১. মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা মৃত ব্যক্তির জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং তার ক্ষমা প্রার্থনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বোত্তম আমলগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন— وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ ‘আর যারা তাদের (পূর্ববর্তী মুমিনদের) পরে এসেছে, তারা বলে— হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন, যারা ইমানের সঙ্গে আমাদের আগে চলে গেছেন।’ (সুরা আল-হাশর: আয়াত ১০) রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাজা শেষে সাহাবিদের উদ্দেশে বলতেন— اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ؛ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য অবিচল থাকার দোয়া করো। কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ (আবু দাউদ ৩২২১)   ২. তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করলে আল্লাহ চাইলে তার সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— إِنَّ أُمَّ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ تُوُفِّيَتْ... فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ، أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ ‘সাদ ইবন উবাদা (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন— হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা ইন্তেকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে সদকা করব? তিনি বললেন— হ্যাঁ।’ (বুখারি ২৭৬২)   ৩. মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করা মৃত ব্যক্তির ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এটি দ্রুত আদায়ের চেষ্টা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ ‘মুমিনের আত্মা তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়।’ (তিরমিজি ১০৭৮)   ৪. তার ওসিয়ত বাস্তবায়ন করা মৃত ব্যক্তি যদি শরিয়তসম্মত কোনো ওসিয়ত করে যান, তবে তা বাস্তবায়ন করা উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন— مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ‘(সম্পদ বণ্টন হবে) তার কৃত ওসিয়ত পূরণ এবং ঋণ পরিশোধের পর।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১১) তবে ওসিয়ত অবশ্যই শরিয়তসম্মত হতে হবে এবং ইসলামী বিধানের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।   ৫. তার পক্ষ থেকে হজ করা যদি কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় হজ ফরজ হওয়ার পরও তা আদায় করতে না পারেন এবং শরিয়তের শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তার পক্ষ থেকে হজ করা বৈধ। এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন— إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا... أَفَأَحُجُّ عَنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ। তার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, কিন্তু তিনি বাহনে বসে যাত্রা করার সামর্থ্য রাখেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করব? তিনি বললেন— হ্যাঁ।’ (বুখারি ১৫১৩, মুসলিম ১৩৩৪)   ৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও তার সৎ বন্ধুদের সম্মান করা মৃত ব্যক্তির আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তার প্রিয় বন্ধুদের সম্মান করা তার প্রতি উত্তম আচরণের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِنَّ مِنْ أَبَرِّ الْبِرِّ صِلَةَ الرَّجُلِ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ ‘সর্বোত্তম সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত হলো— কোনো ব্যক্তি তার পিতার প্রিয়জনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।’ (মুসলিম ২৫৫২) মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে উপকারী আমল হলো আন্তরিক দোয়া, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং তার অধিকারগুলো আদায়ে সচেষ্ট হওয়া। পাশাপাশি তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করা, ঋণ পরিশোধ করা, শরিয়তসম্মত ওসিয়ত বাস্তবায়ন করা, প্রয়োজন হলে তার পক্ষ থেকে হজ করা এবং তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও সুন্নাহসম্মত আমল। এসব কাজের মাধ্যমে আমরা একদিকে মৃত ব্যক্তির প্রতি দায়িত্ব পালন করি, অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জনের চেষ্টা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমাদের মৃত বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও সকল মুমিন-মুমিনার জন্য বেশি বেশি দোয়া করার এবং তাদের হক যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৬, ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। ফাইল ছবি

চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান

ছবি: সংগৃহীত

দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের রায় ২৮ জুলাই

বৃহস্পতিবার খুলছে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র

ছবি : সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না : সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না, বরং তা ছিল শোষণের পুরোনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য।   মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক সাতমাথায় আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।   বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের সংসদে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সারজিস আলম বলেন, গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ যে কথাগুলো বলেছেন, আমরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। যে গণভোটের পক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছে, তা যদি বৈধ না হয়, তবে এই সরকারেরও কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। বৈধ হলে সরকারের সবকিছুই বৈধ হবে, অবৈধ হলে দুটিই অবৈধ হবে।   এর আগে, বিকেল থেকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জুলাই পথসভা শেষে সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের দত্তবাড়ী এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি থানামোড় এলাকায় পৌঁছালে সারজিস আলম ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এতে যোগ দেন। পরে পদযাত্রাটি শহরের সাতমাথায় এসে মূল সমাবেশে মিলিত হয়।   সমাবেশে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের ‘ব্রয়লার মুরগি’ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ বলে ছোট করার সুযোগ নেই। তারা যখন রাজপথে রক্ত ও জীবন দিচ্ছিল, তখন আপনি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন না। আপনি ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং তাদের সমস্যা বুঝে ব্যবস্থা নিন। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবনের চেয়ে দুই-চার দিন পরীক্ষা পেছানো কোনোদিন বড় হতে পারে না।   বিগত সরকারের আমলে বগুড়ার প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে। শুধু বগুড়ার বাসিন্দা হওয়ার কারণে চাকরির ভেরিফিকেশন ও ভাইভা বোর্ডে মানুষকে অপমান করা হয়েছে। আমরা আগামীতে এই বৈষম্য আর দেখতে চাই না। তবে বগুড়ার নাম ভাঙিয়ে আগামী ৫ বছরে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজি করার স্পর্ধা দেখায় তাদেরও বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না।   সমাবেশে তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি জানান। একই সঙ্গে দিনের বেলা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে রাতে তার ভাগ নেওয়া রাজনৈতিক নেতাদের হুঁশিয়ারি দেন।   সাতমাথার এই সমাবেশ থেকেই বগুড়া সদর উপজেলার আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে জাতীয় ছাত্র শক্তির বগুড়া জেলার আহ্বায়ক এ এম জেড শাহরিয়ার জুহিনের নাম ঘোষণা করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, আমরা টাকা বা পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে নয়, জুলাইয়ের পক্ষে ইনসাফ ও ন্যায়ের লড়াইয়ে থাকা তরুণ প্রার্থীকে বেছে নিয়েছি।   এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আবদুস সবুর সুমনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহদী, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীর, সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমা না চাইলে সারজিস-তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুঁশিয়ারি

ছবি : সংগৃহীত

মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান খুলতে পারবে বিএমইউ

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা পেছাল

0 Comments