অর্থনীতি

সয়াবিন ও চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী, কমেছে ডিমের দাম

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

রাজধানীর খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেল ও চিনির দাম বেড়েছে, অন্যদিকে ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১০ টাকা কমে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছ ও মাংসের দাম আগের উচ্চ পর্যায়েই স্থিতিশীল থাকলেও সরবরাহ বাড়ায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।

 

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি মানভেদে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৭২ থেকে ১৮২ টাকা। একই সময়ে আলুর দামও বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩০ টাকা।

ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০ টাকা। সাদা রঙের ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় এবং হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, সবজি ও মুরগির দাম কমতে শুরু করায় ডিমের ওপর চাপ কমেছে। পাইকারি বাজারে প্রতি পিস ডিমের দাম নেমে এসেছে ৮ টাকায়, ফলে সামনে দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুরগির বাজারে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। শিম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপি প্রতিপিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মাঝারি আকারের লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

পেঁয়াজের বাজারে নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। বর্তমানে মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

মাছের বাজারে দাম তুলনামূলকভাবে চড়া। সরপুঁটি কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি আকারভেদে কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
নাহিদ রহমান। ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে নাহিদ রহমানের পদোন্নতি

নাহিদ রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। গত ৩০ জুন তিনি এ পদোন্নতি পান।    নাহিদ সর্বশেষ দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লি. এর মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড একাউন্টস) হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৯৯ সালে সহকারী পরিচালক পদে বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল সাইডে যোগদান করেন।   তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রবেশনারী অফিসার হিসেবে কর্মজীবন আরম্ভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি, ক্রেডিট গ্যারান্টি ডিপার্টমেন্ট প্রভৃতি বিভাগে বিভিন্ন পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।   তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে এমকম (ফিন্যান্স) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পেশাগত উৎকর্ষতার জন্য তিনি প্রেষণে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) থেকে এমবিএম ডিগ্রি অর্জন করেন।   এছাড়া তিনি প্রেষণে জেডিএস স্কলারশিপ নিয়ে জাপানের রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি (Ritsumeikan Asia Pacific University) থেকে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের একজন ডিপ্লোমেইড অ্যাসোসিয়েট। তিনি ডিএফআই ও দি ফ্লেচার স্কুল এট টাফটস ইউনিভার্সিটি (The Fletcher School at Tufts University) কর্তৃক আয়োজিত সিডিএফপি (CDFP) বিষয়ে উচ্চতর পেশাগত সার্টিফিকেশন কোর্স সম্পন্ন করেন। ব্যাংকিং বিষয়ক পেশাগত জার্নালে তার বিভিন্ন গবেষণাপত্র ও আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে।   তিনি খুলনার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আতিকুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার এবং মাতা সেলিমা রহমান একজন গৃহিনী। তার স্বামী মো. আলমগীর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) একজন প্রফেসর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জননী।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৮৪ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

জুনে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াল ৯.১৬ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহারে কি বাড়বে গ্রাহকের লেনদেন খরচ

ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশে উন্নীত করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই শিল্পখাতের দ্রুত সম্প্রসারণে কোনো ধরনের স্থবিরতা বরদাশত করা হবে না।  একই সঙ্গে চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্ম-প্রস্তাবনা জমা দিতে বিসিক কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।   রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত বিসিক ভবনে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালার যৌথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।    শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। শিল্প খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।   তিনি বলেন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্ম-প্রস্তাবনা জমা দিতে হবে।   অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বিগত ৬৯ বছরে বিসিকের অর্জন, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন।   অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিসিক শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমেই সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।   আগামী দিনে পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন এবং বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানা পুনরায় চালু করার ওপর জোর দিচ্ছে বিসিক। এছাড়া অনাবাদী প্লটের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ ধারণার বিকাশসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে চেয়ারম্যান জানান।   কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। দেশিয় ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে মেলা ও কর্মশালা দুটি বিসিকের সার্বিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।   বাংলার বর্ষার স্নিগ্ধতা, ঐতিহ্য এবং দেশিয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ৫ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তাদের জামদানি, মণিপুরী শাড়ি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, হস্তশিল্প, চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্যসহ মোট ৫৬টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব এড়াতে সতর্ক থাকার নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

পোশাক খাতের রপ্তানি আয় নিম্নমুখী

ছবি : সংগৃহীত

আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ থেকেই কার্যকর

ছবি : সংগৃহীত
দেশে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের

দেশের ব্যাংক খ্যাতে অনেকদিন ধরেই অস্থিরতা চলছে। এর মাঝেই যুবকদের জন্য বিশেষায়িত একটি ব্যাংক খুলতে চায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিশেষায়িত এ ব্যাংকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘যুব ব্যাংক’। সম্প্রতি দেশের জাতীয় এক দৈনিকের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ মে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় ‘যুব ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই, ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা, অর্থায়ন কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় বলা হয়, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনেক যুবক প্রয়োজনীয় জামানত, অভিজ্ঞতা বা আর্থিক সক্ষমতার অভাবে সহজে ঋণ সুবিধা পায় না। এর ফলে সম্ভাবনাময় অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ হারিয়ে যায়।  এ পরিপ্রেক্ষিতে যুববান্ধব একটি বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ করা হয়, যেখানে যুবকরা সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা পাবে।  সভায় আরও বলা হয় এ ব্যাংক যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এদিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। অনেক দিন ধরেই নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর কথা বলছেন। সম্প্রতি ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনার আলোচনা উঠেছে জাতীয় সংসদেও। তবে এসব আলোচনার মধ্যেই নতুন ব্যাংক খুলতে চায় বাংলাদেশ সরকারের এ মন্ত্রাণলয়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এরই মধ্যে দেশে অনেকগুলো বিশেষায়িত ব্যাংক তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি কী, আমরা সবাই জানি। সেগুলোকে ঠিক না করে নতুন ব্যাংক তৈরি করলে আরো বোঝা বাড়বে। যে ধরনের চাহিদার জন্য নতুন নতুন ব্যাংক খোলা হয়, সে ধরনের সুযোগ-সুবিধা তো বিদ্যমান ব্যাংকগুলোও দিতে পারে। ‘যুব ব্যাংক’ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, আমরা ইতিমধ্যে এক ধরনের ব্যাংকিং করি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে যারা প্রশিক্ষণ নেয়, তাদেরকে সিড ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়।  ‘এ বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নেয়ার জন্য একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যারা স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা করতে বা উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদেরকে সহায়তা করার জন্যই আমাদের এ উদ্যোগ। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখানে বিভিন্ন অংশীজনের পরামর্শ নেয়া হবে।’ বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক আছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (পিকেবি)। এর বাইরে আছে তফসিল-বহির্ভূত আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। বিশেষায়িত এসব ব্যাংক মূলধন ঘাটতি, লোকসানসহ বহুমুখী সংকটে ভুগছে। উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ৬২টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ছয়টি। তফসিলভুক্ত বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৪৩টি ও বিদেশী ব্যাংক রয়েছে নয়টি। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে তিনটি। এর বাইরে তফসিল-বহির্ভূত রয়েছে আরো পাঁচটি ব্যাংক।

মারিয়া রহমান জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আতিউরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বোর্ড সদস্যদের নথি তলব

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংকিং লেনদেনে এলো নতুন নিয়ম, নির্দেশনা দিল কর্তৃপক্ষ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ব্যাংক হলিডে, বন্ধ সব ধরনের লেনদেন

0 Comments