জাতীয়

র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে থাকছে একই বাহিনী

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গোপন বন্দিশালা পরিচালনার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে র‍্যাবের বিরুদ্ধে। জাতিসংঘ, গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মহল থেকে বাহিনীটি বিলুপ্ত করার দাবি ও সুপারিশ এসেছিল। এমনকি জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিও সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল। অথচ সেই বাহিনীকে বিলুপ্ত না করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে রেখে দেওয়া হচ্ছে।

 

গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হবে।.

 

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনের খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাগজে ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার প্রায় সবই থাকছে। র‍্যাবের বর্তমান জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, নথি ও অন্যান্য সম্পদ এসআরবিতে চলে যাবে। র‍্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নতুন ইউনিটের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। র‍্যাবের দায়দায়িত্ব, চুক্তি এবং পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান মামলাও এসআরবির নামে চলবে।

 

ফলে বাহিনীটি ভেঙে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কাঠামো তৈরির বদলে মূলত নতুন নাম ও পৃথক আইনি ভিত্তিতে র‍্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ব্যবস্থাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ইউনিটকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রাখা হয়েছে।

 

র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ, গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র‍্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

 

এর মধ্যেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো বিএনপির আগের অবস্থান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে দলটি সরাসরি র‍্যাব বিলুপ্ত করার দাবি করেছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সংস্কারের পরিবর্তে বাহিনীটি বিলুপ্ত করাই উচিত। অথচ এখন শুধু র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে আগের কাঠামো রেখে দেওয়ার পথে এগোল বিএনপি সরকার।

 

রাষ্ট্রের প্রয়োজনে নতুন বাহিনী দরকার

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, র‍্যাবের পুরোনো কাঠামো রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। এখানে নাগরিকদের অভিযোগ এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আইনের মধ্যেই কমিটি রাখার বিধান করা হয়েছে। সদস্যদের কোন কোন কাজ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে, কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসবও আইনে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, র‍্যাবের ক্ষেত্রে আগে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল; নতুন আইনে সেই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

 

বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল থেকে র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি উঠলেও কেন অন্য নামে তা রেখে দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাব তো বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এটি (এসআরবি) একটি নতুন ব্যাটালিয়ন। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে এমন বাহিনী দরকার। সাইবার অপরাধ, মাদক, সংঘবদ্ধ অপরাধসহ নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ, বিশেষ সরঞ্জাম, জনবল ও সক্ষমতা প্রয়োজন।

 

সশস্ত্র বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ছিল না এবং রাজনৈতিক সরকার বাহিনীটিকে যেভাবে চেয়েছে সেভাবে ব্যবহার করেছে। এখন সরকার চাইলেই তাদের সেভাবে ব্যবহার করতে পারবে না। তাঁর মতে, কোনো আইন কতটা ভালোভাবে কাজ করবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের নির্দেশনা এবং আইনটি কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তার ওপর।

তবে আইনের এই খসড়া সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সরকার র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি করার কথা বললেও এখানে নতুন কিছু নেই। শুধু সরকার ও বাহিনীর নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এটি কতটা স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। পুরোনো কাঠামো ও ক্ষমতা বহাল থাকলে এসআরবি আরেকটি ভয়ংকর বাহিনী হিসেবে সামনে আসতে পারে।

 

র‍্যাবের প্রায় সবই যাবে এসআরবিতে

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় ২৭টি ধারা রয়েছে। এর ২৬ ধারাতেই র‍্যাব রহিত করার পাশাপাশি নতুন ইউনিটে তার ধারাবাহিকতা কীভাবে থাকবে, তা বিস্তারিত বলা হয়েছে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে র‍্যাব গঠন করা হয়। নতুন এসআরবি আইনের খসড়া অনুযায়ী, এটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০০৩ সালের যে সংশোধনী আইনের মাধ্যমে র‍্যাব গঠন করা হয়েছিল, সেটি রহিত হবে। কিন্তু র‍্যাবের সব সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ড ও অন্যান্য সম্পদ এসআরবিতে স্থানান্তরিত হবে।

 

র‍্যাবে বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা–কর্মচারীরাও এসআরবির সদস্য হবেন। নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী তাঁদের চাকরির শর্ত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আগের শর্তেই তাঁরা কাজ করবেন।

র‍্যাবের সব দায়দায়িত্ব এবং তাদের করা বা তাদের সঙ্গে করা চুক্তিও এসআরবির দায় ও চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে। র‍্যাবের পক্ষে বা বিপক্ষে আদালতে চলমান মামলা বা অন্য আইনি কার্যক্রমও এসআরবির নামে অব্যাহত থাকবে। একইভাবে র‍্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা বা আইনি কার্যক্রম শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তনের কারণে বাতিল হবে না।

বিদ্যমান আইনের ১৩ ধারায় র‍্যাব সদস্যদের ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ করা কাজের জন্য যে দায়মুক্তির বিধান রয়েছে, এসআরবি আইনের খসড়ায় সে ধরনের কোনো দায়মুক্তির ধারা রাখা হয়নি। নতুন বিধি না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারা ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিও প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ (অভিযোজন) নতুন ইউনিটে বহাল থাকবে।

 

বহু বাহিনীর পুরোনো কাঠামোও থাকছে

র‍্যাবের কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জায়গা ছিল সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) সদস্যদের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার। গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও মানবাধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিশেষায়িত বাহিনী করা হলে সেটি শুধু প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় সেই সুপারিশ প্রতিফলিত হয়নি।

 

এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হবে। এর মহাপরিচালক হবেন পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রেষণ বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে অনুমোদন হওয়া খসড়ার ৪(৩) ধারায়।

 

খসড়ায় ‘শৃঙ্খলা বাহিনী’ বলতে সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত অর্থে সশস্ত্র বাহিনীকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের এসআরবিতে নেওয়ার আইনি সুযোগ থাকছে।

 

গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কমিশনের সুপারিশ ছিল, র‍্যাব বিলুপ্ত করে কোনো বিশেষায়িত বাহিনী রাখা হলে সেটি শুধু পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠন করতে হবে। সেখানে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী বা অন্য কোনো বাহিনীর সদস্য রাখা উচিত নয়। কারণ, সশস্ত্র বাহিনীর একজন কর্মকর্তা র‍্যাবে প্রেষণে গেলে তিনি তাঁর মূল বাহিনীর নিয়মিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে চলে যান। ওই কর্মকর্তা র‍্যাবে অপরাধে জড়ালে মূল বাহিনীর পেশাদারত্ব ও ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

 

ক্ষমতা কমছে না, তদন্তও করবে

নতুন ইউনিটের দায়িত্বের পরিধিও বিস্তৃত রাখা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বেআইনি অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, সাইবার অপরাধ দমন, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের দায়িত্ব থাকবে এসআরবির।

নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, পাচার ও অপরাধমূলক মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অন্য অপরাধ দমনে কাজ করবে এসআরবি। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা এবং আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে নতুন ইউনিটকে।

 

অনুমোদন হওয়া খসড়ার ১২ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবে এসআরবি। মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী সংগঠন বা আশ্রয়স্থল, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এসআরবির কর্মকর্তা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবেন।

 

এসআরবির কর্মপরিধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন বাহিনীর ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আগে শুধু সরকার র‍্যাবকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারত। এখন আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনো সময় এসআরবির মহাপরিচালককে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের উপপরিদর্শক বা তার ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।

 

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‍্যাব) বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত তিন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, বর্তমানে র‍্যাব অভিযান পরিচালনা, আসামি গ্রেপ্তার ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করলেও অধিকাংশ মামলার তদন্ত করে পুলিশ বা অন্য তদন্ত সংস্থা। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু মামলা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের দেওয়া হতো। কখনো আবার চাঞ্চল্যকর কিছু মামলা তদন্তের জন্য আবেদন করে চেয়ে নিত র‍্যাব।

 

হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ নিয়ে প্রশ্ন

এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, তদন্তকাজ পরিচালনার প্রয়োজনে এসব স্থাপনা থাকবে এবং মামলা আদালতে পাঠানো বা অভিযোগপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি অনুসরণ করতে হবে।

অনুমোদন হওয়া এসআরবি আইনের খসড়ার ধারা ১৪ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ‘অনতিবিলম্বে’ নিকটবর্তী থানার হেফাজতে দিতে হবে। আবার ধারা ১৫(৪) বলছে, এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে। এই দুই বিধান পাশাপাশি কীভাবে কার্যকর হবে—অর্থাৎ কাকে, কোন পরিস্থিতিতে এবং কত সময় এসআরবির হাজতে রাখা যাবে—খসড়ায় তা স্পষ্ট করে বলা নেই।

 

এই বিধান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর র‍্যাবের বিরুদ্ধে গোপন বন্দিশালা, বেআইনি আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে।

গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের হিসাবে, তাদের অনুসন্ধানে উঠে আসা গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গে র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, একক বাহিনী হিসেবে যা সর্বোচ্চ। কমিশন সারা দেশে যে ৪০টি গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছিল, তার মধ্যে ২২ থেকে ২৩টি ছিল র‍্যাবের।

এর আগে পুলিশের বিশেষ শাখার নথি বিশ্লেষণ করে প্রথম আলো ৭ বছরে (২০১৫-২১) ১ হাজার ৭টি ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছিল। এসব ঘটনার ২৯৩টিতে র‍্যাবের নাম ছিল।

২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর র‍্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বাহিনীটির অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা থাকার কথাও তিনি স্বীকার করেছিলেন।

এমন অতীত থাকার পর নতুন ইউনিটকে নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ দেওয়ার ক্ষেত্রে সেখানে আটক ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণ, সিসিটিভি নজরদারি, আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, স্বাধীন পরিদর্শন এবং হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা থাকবে—খসড়ায় এসব বিষয়ে আলাদা বিস্তারিত বিধান নেই।

 

পাঁচ সদস্যের অভিযোগ কমিটি

নতুন আইনে র‍্যাবের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নাগরিকদের করা অভিযোগ এবং এসআরবির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তিতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে।

তবে পাঁচ সদস্যের মধ্যে চারজনই হবেন সরকার, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কর্মকর্তা। পঞ্চম সদস্য হবেন সরকার মনোনীত মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসন বিষয়ে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর কমিটি সরাসরি শাস্তি দেওয়ার বদলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে। ফলে কমিটি কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং এর সুপারিশ কতটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্ন থাকছে।

 

পুরোনো কাঠামোতেই কেন থাকবে

২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময় পুলিশ, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, তৎকালীন বিডিআর, কোস্টগার্ড ও আনসারের সদস্যদের সমন্বয়ে র‍্যাব গঠন করা হয়। শুরুতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানের কারণে বাহিনীটি আলোচনায় আসে। পরে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এরপরেই মূলত র‍্যাব বিলুপ্তির জন্য প্রতিটি সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

 

এবার সরকারের তথ্যবিবরণীতে নতুন আইনকে র‍্যাব ‘বিলুপ্ত’ করে এসআরবি প্রতিষ্ঠার আইন হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, র‍্যাবের বর্তমান কাঠামো ও ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে নতুন নামে চালু করার সিদ্ধান্ত অনেকটা পুরোনো জিনিস নতুন মোড়কে আনার মতো।

 

মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে যখন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে জমা হয়, তখন সেই বাহিনীকে নতুন নামে চালু করলে সমস্যার সমাধান হবে—এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আগের মতো রেখে বাহিনীটির যে নামই দেওয়া হোক, যে পোশাকই পরানো হোক, তাতে মৌলিক পরিবর্তন হবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জনগণ ভালো থাকে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, জনবান্ধব দল বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, জনগণ ভালো থাকে। তাই প্রান্তিক জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।   আজ মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় সুফলভোগী খামারিদের মধ্যে বকনা, বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান কীভাবে উন্নতি করা যায়, সে লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছেন।   সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, আমরা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আজ যাদের বকনা বাছুর বিতরণ করা হচ্ছে, এগুলো যদি ঠিকভাবে লালন-পালন করা হয়, একসময় তারা খামারিতে রূপান্তরিত হবেন। নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন। এ জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, এই মানিকগঞ্জ জেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এসে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। প্রান্তিক খামারিরা যাতে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারেন, খাল খননের পাশাপাশি মৎস্য খামার গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।   তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার খুন-গুম করেছে। শিশু-বাচ্চাদের পর্যন্ত হত্যা করেছে। সেই জালেম সরকারকে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিতাড়িত করেছে। আজকে তারা বিভিন্ন ধরনের কথা বলে আবার আসতে চায়। বাংলাদেশের জনগণ ফাঁসির রায় কার্যকর করতে চায়। যে পরিমাণ খুন-গুম করেও কোনো অনুশোচনা নেই, তাকে দেশের মানুষ ছেড়ে দেবে না।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুশোচনা না করে হুমকি-ধামকি দেওয়া শুরু করেছে। হুমকি-ধামকি দিয়ে এই দেশের জনগণকে কি রোধ করা যায়? যাবে না। এই দেশ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যতবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, ততবার গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিএনপি আন্দোলন করেছে।   তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই যেন তারা এই দেশে করতে না পারে। আমরা যদি সজাগ থাকি, ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না।   অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।   অনুষ্ঠানের শেষে ২৫ জন সুফলভোগীর মধ্যে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: সালাহউদ্দিন আহমদ

মাদকদ্রব্য রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে : আইজিপি

গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশ, গণমাধ্যমের মানোন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   আজ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নামে-বেনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুঁইফোঁড় পেজ ও অনলাইন পোর্টাল খুলে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   মূলধারার গণমাধ্যমের বাইরে অনেকেই একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এটি একটি বড় সমস্যা, উল্লেখ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক কারা—তার একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা ও মাপকাঠি নির্ধারণ জরুরি।   তিনি জানান, এ বিষয়ে বিএফইউজে, ডিইউজে, ডিআরইউ-সহ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠন ও সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা প্রদান এবং অন্যান্য নীতিমালার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মাপকাঠির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   সাংবাদিকদের কল্যাণ, পেশাগত মানোন্নয়ন ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ডিআরইউ’র পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আমরা ডিআরইউ’র সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব।   সাংবাদিকদের জন্য সময়োপযোগী ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি অর্জনে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হবে।   সভায় ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো দেখভালের দায়িত্ব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। সাংবাদিকদের কল্যাণ ও সমস্যা সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে ডিআরইউ এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।   ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, সংগঠনটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটর্ফম হিসেবে পেশাদার সাংবাদিকদের কল্যাণ ও মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।   মতবিনিময় সভায় ডিআরইউ সহ-সভাপতি মেহদী আজাদ মাসুম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

পাকুন্দিয়ায় দুই ঘণ্টার হাটে কোটি টাকার পানবাণিজ্য

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

আধুনিক প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু অক্টোবরে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।   গতকাল রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, অক্টোবর মাসে শুরু হয়ে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে চলবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এই সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   রোসাটম জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি ফ্লাইটে এ জ্বালানি পাঠানো হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য দিলেন উপদেষ্টা

মোংলা বন্দরকে ‘স্মার্ট'’ বন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে: মবক চেয়ারম্যান

বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে সিম রিপ্লেসমেন্ট চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার

0 Comments