১৯৪৭ সালে দেশভাগের প্রাক্কালে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মারাত্মক যক্ষ্মা রোগের খবর অত্যন্ত গোপনে রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ মুম্বাইভিত্তিক (তৎকালীন বোম্বে) দুই ভারতীয় পার্সি চিকিৎসককে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’-এ ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের পুরস্কার কমিটির প্রধান এবং পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহসান ইকবাল সামাজিক মাধ্যম এক্সে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। মনোনীত দুই চিকিৎসক হলেন চিকিৎসাবিদ ড. জল রতনজি প্যাটেল এবং রেডিওলজিস্ট ড. জল ধাইভো-কু।
১৯৪৬ সালে ড. প্যাটেল এবং ড. ধাইভো-কু জিন্নাহর বুকের এক্স-রে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, তিনি জটিল ও অন্তিম পর্যায়ের যক্ষ্মা রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর আয়ু আর মাত্র এক থেকে দুই বছর বাকি রয়েছে। তবে, পেশাগত গোপনীয়তার সর্বোচ্চ নীতি বজায় রেখে তারা এই তথ্য জিন্নাহর নিকটতম অভ্যন্তরীণ বৃত্তের বাইরে কারোর কাছে প্রকাশ করেননি। আহসান ইকবাল তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, পেশাগত শপথের প্রতি এই চিকিৎসকদের অনড় নিষ্ঠা অঘোষিতভাবে পাকিস্তান সৃষ্টির প্রেক্ষাপট তৈরিতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল।
ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, জিন্নার এই মরণব্যাধির খবর প্রকাশ পেলে ভারত ভাগ এবং পাকিস্তান সৃষ্টির সময়ক্রম ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারত। ব্রিটেনের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরবর্তীকালে স্বীকার করেছিলেন, তিনি যদি আগে থেকে জিন্নাহর স্বাস্থ্যগত সংকটের কথা জানতেন, তবে তিনি হয়তো দেশভাগ পিছিয়ে দিতেন। ফলে ইতিহাসের গতিপথ ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারত এবং পাকিস্তান গঠন হয়তো সম্ভবই হতো না।
ইতিহাসবিদ আকবর আহমেদের গবেষণা গ্রন্থ ‘Jinnah, Pakistan and Islamic Identity: The Search for Saladin’ অনুযায়ী, জিন্নাহ ১৯৩০-এর দশক থেকেই যক্ষ্মা রোগে ভুগছিলেন। তৎকালীন সময়ে কার্যকর কোনো অ্যান্টিবায়োটিক না থাকায় রোগটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ছিল। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও নেতৃত্ব যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেজন্য জিন্নাহ তাঁর এই শারীরিক অবস্থার কথা শুধু বোন ফাতেমা জিন্নাহসহ গুটিকয়েক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। দেশভাগের পর তাঁর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটে এবং ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তান স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুর ৭৮ বছর পর দুই পার্সি চিকিৎসকের এই নিঃশব্দ অবদানকে স্মরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সালের মার্চ মাসে মরণোত্তর এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আবারও ব্যবহার বাড়ছে কয়লার। বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির পরিবর্তে কয়লার দিকে ফিরছে। ফলে বিশ্বজুড়ে লাভবান হচ্ছে কয়লা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। দক্ষিণ আফ্রিকার তাপীয় কয়লা উৎপাদক থুঙ্গেলা রিসোর্সেস জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশে কয়লার চাহিদা ও দাম বাড়ায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে তাদের মুনাফা দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমার সাথে সাথে বেড়েছে দামও। এ অবস্থায় তুলনামূলক সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় অনেক দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে আবার কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়ায়। এক বিশ্লেষণে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বলছে, চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। যুদ্ধের মধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। জ্বালানি তথ্য সংস্থা এমবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে কয়লা উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। এদিকে জাপান পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের পরিকল্পনা পিছিয়েছে। বাংলাদেশেও শুরুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত ও জ্বালানি রেশনিংয়ের পর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামও গ্যাসের মজুদ রক্ষায় কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে। পাকিস্তানে জুলাই পর্যন্ত আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ভারত নতুন কয়লাখনি প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকেই আরও স্পষ্ট করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় অনেক দেশ জরুরি পরিস্থিতিতে কয়লার দিকে ফিরছে। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকট এড়াতে এশিয়ার দেশগুলোকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুতায়নের দিকে এগোতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি ও সরকারি সংস্থার ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে, এসব হামলার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪২টি কোম্পানি ও সরকারি সংস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৩১ টেরাবাইটের বেশি একাডেমিক তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, হামলাগুলোর কিছু ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), ইরানি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে চালানো হয়েছিল। মার্কিন তদন্তকারীরা সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি সাইবার হামলার সঙ্গেও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর যোগসূত্রের কথা জানিয়েছেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩০টি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা হয়েছিল। এসব হামলায় ইরান-সংশ্লিষ্ট ‘হানজালা’ হ্যাকার গোষ্ঠীর ব্যবহৃত কৌশলের মিল পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিবহন ব্যবস্থায় চালানো একটি সাইবার হামলার ঘটনাও তদন্তে এসেছে। ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গ্যাম্বিট সিকিউরিটির গবেষকেরা ওই হামলার জন্য ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, হামলায় লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির ই-মেইল, ব্যাকআপ কপি ও অন্যান্য নথিসহ অন্তত ৭০০ গিগাবাইট তথ্য চুরি করা হয়েছিল। সূত্র: শাফাক নিউজ
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। একই সঙ্গে সিরিয়ায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা রাতভর ইসরায়েল পরিচালিত বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং আইন লঙ্ঘনকারী এই কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আরও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এর আগে সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইদলিবে অবস্থিত আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতে আট দফায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে ঘাঁটিটির ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দামেস্ক এ হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাকও হামলাটিকে নিশ্চিত ইসরায়েলি বিমান হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সিরিয়ায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে। নতুন সিরীয় সরকারের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্ক সহায়তা করছে বলে আশঙ্কা করে ইসরায়েল অতীতেও সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়ার নতুন সরকারের বিমানবাহিনী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তুরস্কের সম্ভাব্য সহায়তা ঠেকাতে ইসরায়েল সক্রিয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিটি সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মধ্যেই ঘাঁটিটিতে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটল। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল