জাতীয়

এবারের বইমেলায় স্টলের আবেদন ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে স্টল বরাদ্দের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে www.ba21bookfair.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবে।

 

শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলা একাডেমি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের বইমেলায় অংশ নেওয়া পুরনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো আগের আকারের (১, ২, ৩ ও ৪ ইউনিটের স্টল বা প্যাভিলিয়ন) স্টল পেতে চাইলে ১৮ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, লেখকের সঙ্গে করা সর্বশেষ চুক্তিপত্রের প্রথম ও শেষ পাতা, লেখককে দেওয়া সম্মানীর সাম্প্রতিক প্রমাণ, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে বই জমা দেওয়ার রসিদ বা প্রত্যয়নপত্র এবং অগ্নি ও সাইক্লোন বীমার প্রমাণক আপলোড করতে হবে।

নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অথবা যারা আগের চেয়ে বড় স্টল বা প্যাভিলিয়ন নিতে আগ্রহী, তারা বাংলা একাডেমি থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সরাসরি জমা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত কমপক্ষে ৩০টি মানসম্মত বই আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। ২০ থেকে ২৬ জানুয়ারি (ছুটির দিনসহ) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনের নিচতলার অভ্যর্থনাকক্ষ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।

বইয়ের মান ও কাগজপত্র যাচাই শেষে স্টল বরাদ্দের বিষয়ে বইমেলা পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। যেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করতে পারবে না, তারা সরাসরি আবেদন জমা দিতে পারবে। যাচাই-বাছাই শেষে আবেদনপত্রের তালিকা ৩১ জানুয়ারি অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।

 

স্টল বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাংকে ভাড়া জমা দিয়ে রসিদ অনলাইনে আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া জমা না দিলে প্রতিষ্ঠান লটারির তালিকার বাইরে থাকবে। ভাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির যেকোনো শাখায় জমা দেওয়া যাবে এবং রসিদে প্রতিষ্ঠানের নাম ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিতে বাধা নেই

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত বুথ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

ছবি : সংগৃহীত

সেনাবাহিনীতে খুনের সংস্কৃতি আগে থেকেই ছিল, গুমের সংস্কৃতি পরে গড়ে ওঠে - ইকবাল করিম ভূঁইয়া

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের ফল প্রকাশ কবে, জানালেন ইসি আনোয়ারুল

‘মেডইরান’ প্রযুক্তির মাধ্যমে মেডিকেল ট্যুরিজম ও বাংলাদেশে মাহান এয়ারের সরাসরি ফ্লাইটের শুভ সূচনা

বাংলাদেশে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্ববৃহৎ বেসরকারি এয়ারলাইন্স মাহান এয়ার। একইসঙ্গে বিলিয়ন ডলার মূলধনের প্রতিষ্ঠান মাকান ট্যুরিজম গ্রুপ ও বাংলাদেশের এ্যরো ভার্সাটাইলো গ্রুপ-এর মধ্যে একটি যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মাকান গ্রুপ বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা ও ট্যুরিজম খাতে আর্থিক বিনিয়োগ করবে এবং এ্যরো ভার্সাটাইলো গ্রুপ তাদের উদ্ভাবিত মেডিকেল ট্যুরিজম ইকোসিস্টেম প্রযুক্তি ‘মেডইরান (Mediran)’ সরবরাহ করবে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা-তে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে মাকান ট্যুরিজম গ্রুপের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহসেন মাকিয়ান এবং এ্যরো ভার্সাটাইলো গ্রুপের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার এস. এ. রানী এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মালদ্বীপের সাবেক পর্যটন মন্ত্রী ও সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদীব আবদুল গাফুর বলেন,“মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। পাশাপাশি মাহান এয়ারের সরাসরি ফ্লাইট দুই দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে আরও শক্তিশালী করবে।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহারাবাদি আশা প্রকাশ করে বলেন,“মাহান এয়ারের সরাসরি ফ্লাইট এবং মেডইরান প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের সৌহার্দপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ (CAAB)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। মাহান এয়ারের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (কমার্শিয়াল) খাদিজা বেঘেরবায়াতি বলেন,“বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে মাহান এয়ারের নতুন রুট ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট প্রদানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” এ্যরো ভার্সাটাইলো কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইং কমান্ডার (অব:)  আলিমুন নাহার  জানান,“বাংলাদেশে মাহান এয়ারের যাত্রী ও কার্গো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ্যরো ভার্সেটাইলো কর্পোরেশনকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। মাহান এয়ারকে শাহজালাল বিমান বন্দর শ্লট পারমিশন দিয়েছে। শেষ ধাপের প্রস্তুতি শেষে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফ্লাইট অপারেশন শুরুর লক্ষ্যে আমরা প্রস্তুত। ওয়াইডবডি এয়ারক্রাফট, যুক্তিসঙ্গত ভাড়া, উন্নত ইন-ফ্লাইট সার্ভিস এবং অতিরিক্ত লাগেজ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।” মাহান এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হামিদ আরবনেজাদ বলেন,“বাংলাদেশ ও ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আমরা এই সরাসরি ফ্লাইট উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই সার্ভিস যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক, নিরাপদ ও মানসম্মত ভ্রমণ নিশ্চিত করবে।” মাকান ট্যুরিজম গ্রুপের সিইও মোহসেন মাকিয়ান জানান,“বাংলাদেশে আমাদের মেডিক্যল টুরিজমের ব্যবসায়িক মুনাফার ১০ শতাংশ সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের উন্নত চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে।”                             অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে এ্যরো ভার্সাটাইলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার কমোডর (অব.) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন,“মাহান এয়ার ও মাকান ট্যুরিজম গ্রুপ বাংলাদেশের সাথে আকাশপথে আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং মেডিকেল ট্যুরিজম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আমাদের নতুন কার্গো এয়ারলাইন্স ‘গ্রেট ডেল্টা এয়ার’বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ড. কামরুল আহসান, চেয়ারম্যান, ভার্সাটাইলো গ্রুপ। এছাড়া মাহান এয়ারের বাংলাদেশের জেনারেল সেলস এজেন্ট (GSA) প্রতিষ্ঠান এ্যরো ভার্সাটাইলো কর্পোরেশন-এর স্বত্বাধিকারী খন্দকার সেলিনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও পাকিস্তানের এভিয়েশন, ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা ও ট্রাভেল এজেন্সি মালিকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শেষে বক্তারা বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন উন্নয়ন, কার্গো পরিবহন এবং স্বাস্থ্যখতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।    

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ভোটের দিন মেট্রোরেলের চলাচলে নতুন নির্দেশনা

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নয়, নিষেধাজ্ঞা ইসির

ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন সামনে রেখে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে বিশেষভাবে সক্রিয় থাকবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন এবারের নির্বাচনকে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে। এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগে থেকেই সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে এবং এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। গতকাল বিকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজারের বেশি, কোস্টগার্ডের সাড়ে ৩ হাজারের বেশি, পুলিশের প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার এবং আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। র‍্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্র বা এর আশপাশে কোনো অভিযোগ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বার্তা পৌঁছাবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রে থাকবে সেনাবাহিনী এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এবার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে সেনাসদস্যরা প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্টে অবস্থান করে টহল ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে স্ট্যাটিক ও মোবাইল টহল মোতায়েন থাকবে। উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। রংপুরে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজারের বেশি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৩৫৯টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ১৭ হাজার ৬৫৬টি। মহানগরের বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬–১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭–১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। মহানগর এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ১৬ থেকে ১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে। এই সদস্যরা ভোটের দুই দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত

চার দিন বন্ধ থাকবে এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা

ছবি : সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

0 Comments