বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে স্টল বরাদ্দের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে www.ba21bookfair.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবে।
শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলা একাডেমি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের বইমেলায় অংশ নেওয়া পুরনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো আগের আকারের (১, ২, ৩ ও ৪ ইউনিটের স্টল বা প্যাভিলিয়ন) স্টল পেতে চাইলে ১৮ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, লেখকের সঙ্গে করা সর্বশেষ চুক্তিপত্রের প্রথম ও শেষ পাতা, লেখককে দেওয়া সম্মানীর সাম্প্রতিক প্রমাণ, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে বই জমা দেওয়ার রসিদ বা প্রত্যয়নপত্র এবং অগ্নি ও সাইক্লোন বীমার প্রমাণক আপলোড করতে হবে।
নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অথবা যারা আগের চেয়ে বড় স্টল বা প্যাভিলিয়ন নিতে আগ্রহী, তারা বাংলা একাডেমি থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সরাসরি জমা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত কমপক্ষে ৩০টি মানসম্মত বই আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। ২০ থেকে ২৬ জানুয়ারি (ছুটির দিনসহ) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনের নিচতলার অভ্যর্থনাকক্ষ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।
বইয়ের মান ও কাগজপত্র যাচাই শেষে স্টল বরাদ্দের বিষয়ে বইমেলা পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। যেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করতে পারবে না, তারা সরাসরি আবেদন জমা দিতে পারবে। যাচাই-বাছাই শেষে আবেদনপত্রের তালিকা ৩১ জানুয়ারি অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।
স্টল বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাংকে ভাড়া জমা দিয়ে রসিদ অনলাইনে আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া জমা না দিলে প্রতিষ্ঠান লটারির তালিকার বাইরে থাকবে। ভাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির যেকোনো শাখায় জমা দেওয়া যাবে এবং রসিদে প্রতিষ্ঠানের নাম ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিশুদের প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছে শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ’। সংগঠনটি বলছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা দেশের শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। একইসঙ্গে এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে তারা। রবিবার (২৪ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুদের ওপর চলমান বর্বরতা একটি সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক এবং এটি জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে শিশুদের জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজ— কোথাও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিজ্ঞপ্তিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ৪৬ শিশু। ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণে ব্যর্থ হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে অন্তত ১৭ শিশু। কোয়ালিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার মুরাদনগরে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ, ভোলার দৌলতখানে ১২ বছরের শিশুকে গণধর্ষণ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ১২ বছরের শিশু ইমনের নির্মম মৃত্যু দেশের পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। সংগঠনটি মনে করছে, শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, আইন প্রয়োগে দুর্বলতা এবং সামগ্রিক জবাবদিহিতার সংকটের কারণে শিশুরা আজ ঘরে-বাইরে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। শুধু আইন প্রণয়ন করলে হবে না, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র— সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেছে কোয়ালিশন। এর মধ্যে রয়েছে— শিশুদের প্রতি যে কোনো সহিংসতার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা, পরিবারে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় রাখা। এছাড়া শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পাঠ্যসূচিতে শিশু অধিকার ও আত্মরক্ষামূলক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং জরুরি হেল্পলাইন ১০৯৮ ও ৯৯৯ সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করার দাবিও জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমাজভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটিকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। একইসঙ্গে শিশু নির্যাতনের সব মামলাকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে কোয়ালিশন। তবে তারা বলছে, শুধু গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়; নিখুঁত তদন্ত ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে নিহত রামিসার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশু নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদী অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
জরুরি মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজের কারণে রোববার (২৪ মে) সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘসময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। কোথাও ৩ ঘণ্টা, কোথাও সাড়ে ৩ ঘণ্টা আবার কোথাও টানা ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। নেসকো সিরাজগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ জানিয়েছে, নওপাজেকো-পুঠিয়াবাড়ি ৩৩ কেভি সোলার সোর্স লাইনের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের পাশাপাশি লাইনের আশপাশের গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের কাজ করা হবে। এ কারণে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩৩ কেভি সোর্স লাইন বন্ধ থাকবে। ফলে এই লাইনের আওতাধীন সব গ্রাহক টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকবেন। নেসকো নওগাঁ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ জানিয়েছে, নওগাঁ ২৩০/১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রোববার সকাল ৭টা থেকে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ সময়ে আরজী নওগাঁ ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন তালতলী ফিডারের চক প্রসাদ, লামা শেরপুর, মদিনা ফ্লাওয়ার মিল, জোকাবিলা, তেতুলতলীর মোড়, তালতলী, বাগবাড়ি, চকপ্রাণ, লাটাপাড়া, পলিটেকনিক এলাকা, মৎস্য অফিস ও শাহী মসজিদ এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। একইসঙ্গে আনন্দনগর ফিডারের পাটালীর মোড়, আনন্দনগর, মৃধ্যাপাড়া, চামড়া গুদাম, খাস নওগাঁ, ইদুর বটতলী, খাগড়া ও ফয়েজ উদ্দীন কলেজ এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এছাড়া আতাইকুলা ফিডারের চকপ্রসাদ, মকরামপুর, শৈলগাছী, পারবাঘাপুর, দরিয়াপুর, হরিশপুর, আতাইকুলা, ২ নম্বর সুইচগেট ও ৩ নম্বর সুইচগেট এলাকায়ও একই সময়ে বিদ্যুৎ থাকবে না। কুজাইল বাজার ফিডারের নগরব্রিজ, কাশিমপুর, কুজাইল বাজার, সরবরামপুর, ভবানীপুর, দুর্গাপুর, পাগলীর মোড়, ঘোষগ্রাম, ক্ষুদ্রকালিকাপুর ও আন্ধারকোঠা এলাকাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে। পাশাপাশি ত্রিমোহনী ফিডারের চুনাতাপাড়া, সুলতানপুর, চণ্ডিপুর, চুনিয়াগাড়ি, ত্রিমোহনী, কুবরাতলী ও নিজামপুর এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে নেসকো। নেসকো রাজশাহী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫ জানিয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা কর্তনের কাজ করা হবে। এ কারণে রোববার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক ফিডারের আওতাধীন পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
শেরপুর সদর উপজেলায় ১২ বছরের এক শিশুকে উপর্যুপরি ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে স্থানীয় যুবক কাউছার (২৪) ও সুন্নত আলী সন্তু (৬০)-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় শাহিন মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই শিশুকে নানা ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। একপর্যায়ে শিশুটি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপরই অভিযুক্ত কাউছার অন্য সহযোগীদের সহায়তায় জোরপূর্বক শিশুটির গর্ভপাত করায়। গর্ভপাতের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে। পরে গত শুক্রবার (২২ মে) আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা বলেন, "আমার অবুঝ মেয়েটাকে ফুসলিয়ে সর্বনাশ করা হয়েছে। এরপর জোর করে গর্ভপাত করানোয় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমি এই পৈশাচিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফী জানান, "১২ বছরের এক কন্যাশিশুকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। যেহেতু এটি আইনি বিষয় (পুলিশ কেস), তাই আমরা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পরবর্তী চিকিৎসা ও অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।" ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, শেরপুর পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।