উন্নয়ন খাতের উদ্যোগ, মানুষের জীবন বদলে দেওয়া গল্প ও মাঠপর্যায়ের কাজ নিয়ে তৈরি কনটেন্টের জন্য জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস প্রফেশনালস সোসাইটি (বিসিপিএস)। এ উদ্যোগের সম্ভাব্য নাম ‘ডেভকম অ্যাওয়ার্ড’।
এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি এসব কনটেন্টকে মূলধারায় তুলে আনা এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের স্বীকৃতি দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
এ বিষয়ে আজ চ্যানেল আইয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হারুন অর রশীদ এবং আইস্ক্রিনের প্রধান মাহবুব রহিম উদয় উপস্থিত ছিলেন। বিসিপিএসের একটি প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নেয়।
সভায় যোগাযোগ, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। মানসম্মত যোগাযোগ কনটেন্ট তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ এবং পেশাজীবীদের নিজেদের কাজ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরির বিষয়ও আলোচনায় আসে।
বিসিপিএসের চেয়ারপারসন টনি মাইকেল গোমেজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্য সাহস মোস্তাফিজ, আসাদ রাসেল, নুসরাত আক্তার ও মালিহা তাবাসসুম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, “চ্যানেল আই উন্নয়নমূলক অনেক উদ্যোগের পথিকৃৎ, যা দেশের উন্নয়ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ডেভকম বা উন্নয়ন যোগাযোগ আমাদের মূল মূল্যবোধের একটি অংশ। আমরা দেশের ভালো কাজগুলোকে স্বীকৃতি দিতে চাই এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এই ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করতে চাই।”
প্রস্তাবিত পুরস্কারে যোগাযোগ ও সৃজনশীল কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে পুরস্কারের নাম, বিভাগ ও আয়োজনের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিসিপিএসের চেয়ারপারসন টনি মাইকেল গোমেজ বলেন, “বাংলাদেশে উন্নয়ন খাতের কনটেন্ট কখনো যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়নি। ফলে এই খাতে কাজ করা সৃজনশীল পেশাজীবীদের জাতীয় পর্যায়ে মানুষের গল্প তুলে ধরতে এবং প্রচলিত সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করতে উৎসাহ দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়নি।”
তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যোগাযোগের কাজ গত কয়েক বছরে অনেক বদলে গেছে। ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তার এবং নতুন ধরনের কনটেন্ট তৈরির সুযোগ যোগাযোগের ধরনেও পরিবর্তন এনেছে। বিসিপিএস যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।”
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিপিএস উন্নয়ন যোগাযোগ, গণমাধ্যম, অ্যাডভোকেসি, প্রচারাভিযান, জনসংযোগ ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনায় কাজ করা পেশাজীবীদের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নয়ন যোগাযোগ সম্মেলন, নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার কর্মশালা এবং জীবনবৃত্তান্ত লেখার সেশন।
প্রস্তাবিত পুরস্কারটি যোগাযোগ ও গণমাধ্যম ক্ষেত্রে পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে বিসিপিএসের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।
ফটো ক্যাপশন : ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশনস অ্যাওয়ার্ড নিয়ে নিয়ে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের সঙ্গে বিসিপিএস প্রতিনিধিদলের বৈঠক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর এক লাখ করে মোট পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডক্টর অব ভেটেরিনারি (ডিভিএম) ৬০তম ব্যাচের ২৩তম ইন্টার্নশিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জেন্ডার-ব্যালান্সড ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা একটি জেন্ডার-ব্যালান্সড ক্যাম্পাস চাই। যেখানে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ থাকবে। আমরা জানি, উন্নত দেশগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি সায়েন্সে পড়াশোনা করেন। আমি ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ববোধ করি। ঢাকার বাইরে অবস্থানে বাকৃবি বিভিন্ন সুযোগবঞ্চিত জানিয়ে ড. মাসুমা বলেন, ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা, শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০ সেশনের ডিভিএম-৫৯তম ব্যাচের সেরা সিজিপিএ অর্জনকারী ৮ জন শিক্ষার্থীকে অ্যকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তরা হলেন নুরুন লায়লা শাওন, মোছা. সাবরিনা ইয়াসমিন নুপুর, মোছা. ফাহমিদা সুলতানা জোনাকি, আফসানা মিমি, মোছা. আখি আক্তার শিলা, নওরিন জান্নাত, মো. মোরসালিন এবং মোছা. সালমা খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন বাকৃবির কৃষি অনুষদের ডিন ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কীভাবে এর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ৩১ আগস্ট নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এরপর সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এমপিও শিক্ষকদের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা প্রয়োজন নতুন প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সম্পর্কে কোনো পৃথক নির্দেশনা না থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে তাদের বেতন কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষা খাতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা সরকারি অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও নতুন পে-স্কেলের আওতায় তাদের সুবিধা কীভাবে নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনার প্রয়োজন হবে। বাড়িভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে মূল বেতনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট হারে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছেন। পরবর্তী সময়ে বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সুবিধা দুই ধাপে কার্যকর হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৫ শতাংশের অর্ধেক, অর্থাৎ সাড়ে ৭ শতাংশ—ন্যূনতম ২ হাজার টাকা—২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। অবশিষ্ট সাড়ে ৭ শতাংশ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর সঙ্গে এসব সুবিধা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি এখনো নির্ধারিত নয়। প্রাথমিক শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধায় পরিবর্তন নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন মূল বেতনের সঙ্গে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলেও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই সুবিধা বিলুপ্ত হিসেবে গণ্য হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত কোনো শিক্ষক ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা হিসেবে যে অর্থ পেয়েছেন, তা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য বকেয়া অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। তবে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীরা তাদের অবসরোত্তর ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রযোজ্য হারে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন কাঠামো নিয়ে নির্দেশনা দিলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি এখনো আলাদা সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কের দুই পাশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বা নির্জন স্থানে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য এ বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিদিনের চলাচল শেষে সব ধরনের যানবাহন নিজ নিজ ডিপো, নির্ধারিত গ্যারেজ অথবা টার্মিনালে নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পাহারার মধ্যে রাখতে হবে। সড়কের পাশে বা অনিরাপদ স্থানে যানবাহন রেখে না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা যানবাহন ভাঙচুরের ঝুঁকি এড়াতে মালিক ও শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। দেশের বিভিন্ন এলাকার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের এই নির্দেশনা গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।