সর্বশেষ

সংসদে এমপিদের বেফাঁস মন্তব্যের প্রতিযোগিতা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সেখানে গিয়ে আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তনসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলে থাকেন। ব্যাপক ব্যয়বহুল প্রতিটি অধিবেশনে সময় মেপে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান সংসদ সদস্যরা। এক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি-বিধিসহ নানা নিয়ম-কানুন মানতে হয় তাদের। তবে বিভিন্ন সময়ে অনেক এমপিকে চরম বেফাঁস ও অপ্রয়োজনীয় বক্তব্য দিতে শোনা গেছে।

 

বিগত বিভিন্ন সংসদের ধারাবাহিকতায় চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদেও এ চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এই সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলের কিছু এমপির বেফাঁস কথার যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তাদের একের পর এক অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যে ব্যক্তিগত ও সংসদের মান-মর্যাদাহানির মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়। অথচ সময়স্বল্পতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যুতে কথা বলার সুযোগ হারাচ্ছেন তারা।

 

এবার অনেক এমপিই নতুন ও ব্যতিক্রমী এই সংসদে মন খুলে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় বেফাঁস কিছু কথা বেরিয়ে আসছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তবে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের সংসদ অনেক প্রাণবন্ত বলেও দাবি করছেন তারা। এ ক্ষেত্রে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন, এমপি ও সংসদের মান-মর্যাদা রক্ষায় বিতর্কিত বক্তব্য এড়িয়ে কার্যপ্রণালি বিধি মানাসহ প্রয়োজনীয় স্টাডি করে অধিবেশনে আসার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

সূত্রমতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে জাতীয় সংসদকে চরম বিতর্কিত করা হয়। সে সময় সংসদের প্রতি সাধারণ মনুষের আস্থা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে তাই মানুষের নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয় । নানা কারণে ব্যতিক্রমধর্মী এই সংসদের যাত্রাটাও বেশ সফলভাবেই হয়েছে।

 

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ভাষণে বলেছিলেন— জাতীয় সংসদকে তিনি সব যুক্তিতর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান।

 

অপরদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, নবগঠিত সংসদ একটি গতিশীল, প্রাণবন্ত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। তিনি বলেন, সংসদীয় আলোচনায় ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্র হননের পরিবর্তে জনগণের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়া উচিত।

 

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের সরব ভূমিকায় বেশ উত্তাপ ছড়িয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয় প্রথম অধিবেশন।

 

তবে গত ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া দ্বিতীয় অধিবেশনে (বাজেট অধিবেশন) এসে সেই উত্তাপের মাত্রা মোড় নিয়েছে ভিন্ন দিকে। এমপিদের নানা বক্তব্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। বাজেটের ওপর বক্তৃতা দিতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে সময় ব্যয় করছেন কেউ কেউ। তাদের আপত্তিকর কথাগুলো এক্সপাঞ্জ করতে হচ্ছে স্পিকারকে। এমনকি স্পিকারের বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ সংসদ অধিবেশনে প্রতি মিনিটে দুই লাখ ৭২ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানা গেছে।

 

সংসদ অধিবেশনে এমপিদের বেফাঁস কথা প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্থার কমিশনের প্রধান ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জাতীয় সংসদে সদস্যরা যে ধরনের নিম্নমানের কথাবার্তা বলেন, তা মর্যাদাহানিকর। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার বার্তা দেওয়া উচিত।

 

তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল জাতীয় সংসদে যারা নির্বাচিত হয়ে আসেন, তারা যদি সে ধরনের আচরণ না করেন, তাহলে নিজেদের মর্যাদাহানির পাশাপাশি সংসদকেও নেতিবাচক ধারণায় ফেলবেন। এটা পরিবর্তন হওয়া দরকার। সংসদের পদের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের সে ধরনের আচরণ করা উচিত। সংসদে বক্তব্যের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালী-বিধি মানাসহ স্টাডি করে আসার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, নির্বাচিতদের অনেকেই সংসদীয় কাজে আগ্রহী নন। তারা স্থানীয় উন্নয়ন কাজে আগ্রহী, যা সংবিধান পরিপন্থী। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে— সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ভিন্ন। তাই ভবিষ্যতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারেও মনে রাখতে হবে যে, যারা আইন প্রণয়ন ও নীতি-নির্ধারণী কাজে আগ্রহীদের যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। আর এটা খেয়াল রাখলে দক্ষ ও সংসদীয় কাজে আগ্রহীরাই মনোনয়নের সুযোগ পাবেন।

 

মামুনুল হককে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ

সূত্রমতে, গত ১৮ জুন বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে পতিত আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের রিসোর্টে যাওয়ার একটি ঘটনা তুলে ধরেন ঢাকা-১ আসনের সরকারদলীয় এমপি খোন্দকার আবু আশফাক। তিনি তার ‘মুতা বিয়ে’ সম্পর্কে জানতে চান। সংসদের বাইরের এক ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্যের একপর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ইশারা দিলে তিনি প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন। যদিও এ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের বিতর্ক ও অনুরোধের পর বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

এ সময় এমপি আশফাককে স্পিকার বলেন, অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। তবে তিনি মুতা বিয়ে সম্পর্কে যে বর্ণনা দেন তা নিয়ে নতুন বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, মামুনুল হকের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, এটা একেবারেই ভুল তথ্য। উনি মুতা বিয়ে করেননি। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা স্টাবলিশ। বিয়ে করা জায়েজ। বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করেন তিনি।

 

একইভাবে বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তখন স্পিকার বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এখনো কিন্তু তিনি (মামুনুল হক) তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক চাই না।

 

এদিকে সংসদে মামুনুল হককে নিয়ে বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় তার দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে দলটি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করে।

 

নিজের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

মামুনুল হকের ‘কথিত পরকীয়া’ বিষয়ে সংসদে বিএনপির এমপি আবু আশফাকের দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের ‘অন্ধকার অংশ’ নিয়ে নিজের মন্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে এ কথা বলেন স্পিকার।

 

তিনি বলেন, যেহেতু যার পক্ষে সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। তাই আবু আশফাকের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেছি।

 

তিনি বলেন, আমারও একটি বক্তব্য উল্লেখ করেছিলাম— বলেছিলাম কোনো ব্যক্তির জীবনের অন্ধকার অধ্যায় সম্পর্কে আমার বক্তব্যে এসেছিল। সে অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়, এটিকেও এক্সপাঞ্জ করা হলো।

 

ভবিষ্যতে বাজেট বক্তব্যসহ অন্যান্য বক্তৃতায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, যার পক্ষে এখানে এসে নিজেকে ডিফেন্ড করা সম্ভব নয়, তার উদ্দেশে কোনো বিরূপ মন্তব্য আপনারা করবেন না, এটাই আশা করি।

 

বাবাকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দাবি নিয়ে বিতর্ক

বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বলে উল্লেখ করেন নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের এমপি আব্দুল মুনতাকিম। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেন তিনি। বক্তব্য সংশোধনের জন্য তিনি স্পিকারকে চিঠিও দেন বলে জানা গেছে।

 

গত ১৪ জুন বক্তব্যে আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা–চাচা) সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।’ এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের পর সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল— এটা এমপির ‘স্লিপ অব টাং’। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।

 

ঋণখেলাপি নিয়ে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ দাবি

গত ১৮ জুন প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার বক্তব্যে এবারের সংসদকে ‘ঋণ খেলাপির সংসদ’ আখ্যা দেওয়া নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যদের মাঝে বেশ বিতর্ক হয়। সরকারি দলের সদস্য ফজলুল হক মিলন দাবি করেন, এখানে (সংসদে) কেউ ঋণখেলাপি নেই। শব্দটি এক্সপাঞ্জ করা হোক। তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও একইভাবে বলেন, এখানে কেউ ঋণখেলাপি না, তবে ঋণগ্রস্ত হতে পারেন। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সার্বভৌম সংসদে ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারলে কোথায় বলবেন? পরে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের পক্ষে ফের যুক্তি তুলে ধরেন।

 

ওয়াশিং মেশিন-ওভেন চাওয়া নিয়ে বিতর্ক

গত ১৭ জুন বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতের এমপি মিজানুর রহমান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

পরদিন সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে এমপি মিজানুর রহমানকে মাইক্রোওভেন দিতে চান বিজেপির এমপি আন্দালিভ রহমান পার্থ। একই সঙ্গে তিনি ওই সদস্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিং মেশিন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পর্দা দেওয়ার অনুরোধও জানান। এ নিয়েও বিতর্ক বাড়ে।

 

পার্থের এই বক্তব্যের পর পাল্টা প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওনার কাছে চাইছে নাকি?’ আমাদের মানসিকতাগুলো এমন হওয়া উচিত, এখানে দাঁড়িয়ে কারও সম্মানে আঘাত করব না।

 

পার্থের বক্তব্যের বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক না বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

 

স্পিকার আরো বলেন, বাজেট আলোচনায় অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। তিনি নিজের জন্য চাননি। তবে এটা সংসদে না বললেও হতো। কিন্তু এটা বলে বিরোধী দলের ওই সদস্য কোনো গর্হিত অপরাধ করেননি।

 

চেয়ার নিয়ে অভিযোগ

১৭ জুন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষের চেয়ার নিয়ে অভিযোগ করেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, চেয়ারগুলোর পেছনের পিন খোলা থাকায় সংসদ সদস্যদের হাত কেটে যাচ্ছে। চেয়ারগুলোর ওজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 

তিনি বলেন, এখানে ৩০০টির বেশি চেয়ার আছে। এ চেয়ারগুলোর পেছনে গ্যাপ তিন ইঞ্চি। যখন এখানে বসা হয়, তখন গ্যাপটা পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। অনেক তরুণ এমপিও বসতে পারেন না। তবে সংসদে এ ধরনের প্রসঙ্গে আলোচনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ সমালোচনা করতে দেখা যায়।

 

পর্দা নিয়ে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য

জামায়াতের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে সরকারদলীয় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে সংসদে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এমনকি বিষয়টিকে ফরজ বিধানের অবমাননা আখ্যায়িত করে সংসদের বাইরেও ধর্মীয় দলগুলো তীব্র প্রতিবাদ করে।

 

গত ১৪ জুন মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে বলেন, ‘…কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা?’ তার এমন মন্তব্যে বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করলে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য সংসদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

 

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। পরে অবশ্য বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, সংসদে বিরোধী দলের নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে যে ধরনের কথা বললেন, তা অমার্জনীয় অপরাধ। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এই বক্তব্য একটি বর্ণবাদী আচরণ।

 

পরে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এ পরিস্থিতি আমি প্রত্যাশা করিনি। যদি আমার কোনো বক্তব্যে আকার-ইঙ্গিতে কারো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করব। আমার মনে হয় ওনারা ভুল বুঝেছেন।

 

ইংরেজি-বাংলা মিশ্রিত বক্তব্য

গত ১৬ জুন বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য জীবা আমিন খান বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে একটি বক্তব্য দেন। দেশের কাঁচা রাস্তা ও ভাঙাচোরা সড়ক নিয়ে বিরোধী দলের এক সদস্যের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা। দ্য রাস্তাস আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন, দিস ইজ ডিউ টু দুর্নীতি। দ্যাট ইউ হ্যাভ সিন, ফ্রম দ্য প্রিভিয়াস রিজিম।’ তার এই ব্যাকরণগতভাবে ভুল ও মিশ্র ভাষারীতির ১১ মিনিটের বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

 

চানাচুরের পুষ্টিগুণ নিয়ে বক্তব্য

চানাচুরের পুষ্টিগুণ তুলে ধরেছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। গত ১৪ জুন বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি চানাচুরের পুষ্টিগুণ বর্ণনা করেন। তিনি মূলত, বিরোধী দলকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘উজিরে খামাখা একজন ছিলেন, তার সঙ্গে টকশো করতে গিয়ে শুনলাম আট লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার ছায়া বাজেট করেছেন।’

 

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, বাজেটে চানাচুরের পুষ্টিগুণ জানা সম্পর্কে একটা কমিটি যদি করার জন্য বরাদ্দ রাখা হতো, তাহলে খুব ভালো হতো। চানাচুরের ডিব্বা না চানাচুরের পুষ্টিগুণ। আমি দেখলাম যে, নরমাল গুণ যদি আমরা একটু সার্চ করে থাকি তাহলেই পেয়ে যাচ্ছি চানাচুরের কিছু পুষ্টিগুণ আছে। যে কেউ খুঁজলে পাবেন, ক্যালরি প্রায় ৫০০-৫৫০ কিলোক্যালরি, ফ্যাট আছে ৩৫ গ্রাম, প্রোটিন ১০ গ্রাম, ফাইবার ৫ গ্রাম। সোডিয়াম ৮০০ মিলিগ্রাম, প্রতি ১০০ গ্রাম চানাচুরের মধ্যে।

তিনি বলেন, ‘এটা বলার কারণ হলো বাজেটটা নাকি চানাচুরের মতো খেতে ভালো লাগে কিন্তু কোনো পুষ্টিগুণ নেই। তো বিষয়টা আসলে এরকম নয়।’

 

এর আগে প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, এই বাজেট দেখতে সুন্দর এবং সাময়িকভাবে আকর্ষণীয় বা খেতে ভালো হলেও এতে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মতো প্রয়োজনীয় কোনো ‘পুষ্টিগুণ’ নেই।

 

‘অশ্লীল’ উপমা দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ

গত ১৬ জুন নীলফামারী-১ আসনে জামায়াতের এমপি মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার তার বাজেট নিয়ে আলোচনায় উদাহরণ হিসেবে চালুনি ও সুচের কথোপকথন তুলে ধরেন। এতে কিছু অংশকে ‘অরুচিকর ও অশ্লীল’ উল্লেখ করে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংসদের রীতিনীতি মেনে চলার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তিনি।

 

মুক্তিযোদ্ধাদের জামায়াত করা নিয়ে বক্তব্য

এর আগে প্রথম অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক ছড়ায়। তিনি বলেছিলেন— মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য জামায়াত করতে পারে না, যদি কেউ করে সেটা ‘ডাবল অপরাধ’।

 

এই বক্তব্য নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাউকে নিবৃত্ত করতে পারছিলেন না। তিনি একপর্যায়ে দাঁড়িয়ে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে স্পিকার সরকারি ও বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, সারা জাতি দেখছে। সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এই সংসদ আর থাকবে না।

 

সদস্যদের কর্মকাণ্ডে শিশুরাও লজ্জা পাবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা এরই মধ্যে দাদা হয়ে গিয়েছেন, তাদের নাতিরা হয়তো এখানে গ্যালারিতে বসে দেখছেন। তারা কী ভাববে এ সম্পর্কে?

 

এছাড়া চলতি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম ও চলতি অধিবেশনে দেশের জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সিনিয়র সদস্যদের নানা বিতর্কিত বক্তব্যে সংসদে ও বাইরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

সরকারি ও বিরোধীদলীয় এমপিদের মন্তব্য

সংসদে বেফাঁস ও বিতর্কিত কথাবার্তা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আমার দেশকে বলেন, সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু তারা অপ্রাসঙ্গিক ও অতিরিক্ত কথা বলে সংসদে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করছে। অনেক সময় অতিরিক্ত দলীয় কর্মসূচি নিয়ে সংসদে হাজির হচ্ছে। যেমন ব্যাংকলুটকারী এস আলমের পক্ষে তারা বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা সংসদকে সুষ্ঠু ও সচল রাখার দাবি জানাই।

 

বিভিন্ন বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি দলের এমপিদের অনেক বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হচ্ছে। আমাদেরও এ ধরনের কথা বলা উচিত না। আমাদের এমপিরা সংসদে তাদের এলাকার উন্নয়ন ও প্রয়োজনে কথা বলছেন। আগামীতে যাতে আরো সংযত ভাষায় প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারেন, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

সরকারদলীয় সিনিয়র সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এবার অনেকে প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। তারা মনের থেকে কথা বলতে গিয়ে হয়তো অপ্রয়োজনীয় কথা এসে যায়। তবে আগের সংসদগুলোতে আরো বেশি অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা হতো।

 

তিনি বলেন, এবারের সংসদের চিত্র ভিন্ন। আশা করি, এই সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সফল হবে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কথা বলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে স্পিকার সবাইকে সতর্ক করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

সূত্রমতে, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে এমপিদের বক্তৃতাকালে কিছু নির্দেশনা মানার কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে— বিচারাধীন কোনো বিষয় উল্লেখ না করা, কোনো আক্রমণাত্মক, কটু বা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার না করা ইত্যাদি। এসব নির্দেশনা মানলে এমপিদের বক্তব্য আরো বিতর্কমুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত তথ্যের অনলাইন বাজার, হাজার টাকায় মিলছে কল রেকর্ড: ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান

কার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন, কতক্ষণ কথা বলেছেন কিংবা কথা বলার সময় আপনি কোন এলাকায় ছিলেন—এসব তথ্য এখন অনলাইনে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে বলে উঠে এসেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক বিস্তারিত অনুসন্ধানে।   তাদের প্রতিবেদন বলছে, কোনো নির্দিষ্ট এক-দুই দিনের তথ্য নয়; তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ডেটাও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ করার দাবি করছে বিক্রেতারা। আর এসব তথ্য পেতে ক্রেতাকে দিতে হচ্ছে কখনও কয়েকশ, কখনও কয়েক হাজার টাকা।   ডিসমিসল্যাব বলছে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচাকে ঘিরে অনলাইনে একটি বাজার গড়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আর দাম পরিশোধ করা হচ্ছে বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে।   শুধু কল ডিটেইল রেকর্ড বা সিডিআর নয়, এই বাজারে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্টের তথ্য, নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠানো এসএমএসের তালিকা, নির্দিষ্ট সময়ে কোনো মোবাইল নম্বরের অবস্থান, কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাবের বিবরণও বিক্রি হচ্ছে।   ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে এসব তথ্যের নির্ধারিত মূল্যতালিকাও পাওয়া গেছে। ক্রেতার কাছ থেকে অনেক ক্ষেত্রে শুধু একটি মোবাইল নম্বর অথবা এনআইডি নম্বর চাওয়া হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে তা অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নথি বা সরকারি সংস্থার সার্ভার থেকে নেওয়া কপি হিসেবে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।   ১৭ মিনিটে এনআইডি ডিসমিসল্যাব বলছে, ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে একটি মাত্র শব্দ ব্যবহার করে ফেইসবুকে অনুসন্ধান চালিয়ে ৬৭৫টি পোস্ট খুঁজে পায় তারা। এর মধ্যে ৬০৫টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল। বাকিগুলো ছিল আগ্রহী ক্রেতাদের পোস্ট। অনুসন্ধানে ব্যবহৃত শব্দটি ছিল ‘সাইন কপি’।   বিক্রেতাদের ভাষায় ‘সাইন কপি’তে একজন ব্যক্তির এনআইডি ও ভোটার নম্বর, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৈবাহিক অবস্থা, পেশা, ঠিকানা, ভোটার এলাকা, ধর্ম, শারীরিক শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য এবং স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপের তথ্য থাকতে পারে।   আর ‘সার্ভার কপি’ বলতে তারা নির্বাচন কমিশনের লোগোযুক্ত এমন একটি পিডিএফকে বোঝায়, যাতে এনআইডির বিস্তারিত তথ্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্যকে সরকারি নথি বা সরকারি সংস্থার সার্ভার থেকে নেওয়া কপি হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে।   এমন একটি ফেইসবুক পোস্টের সূত্র ধরে ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদক একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের সন্ধান পান। ‘Voter List’ নামের ওই গ্রুপে ‘Shibat Zubar’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল নম্বর দিয়ে এনআইডি পাওয়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল।   একজন গ্রাহকের সম্মতি নিয়ে ডিসমিসল্যাব ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর দিয়ে ৫০০ টাকা অগ্রিম পাঠায়। ১৭ মিনিটের মধ্যে ‘Shibat Zubar’ একটি এনআইডির পিডিএফ পাঠায়।   পরে গ্রাহকের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হলে নাম, ছবি, জন্মতারিখসহ সব তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এমনকি দুই মাস আগে সংশোধন করা ওই ব্যক্তির মায়ের নামও নথিতে হালনাগাদ ছিল। একই পদ্ধতিতে আরেকটি নম্বর দিয়ে করা পরীক্ষাতেও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।   ওই গ্রুপের ‘Help BD’ নামের অ্যাডমিনের বিজ্ঞাপনে শুধু এনআইডি নয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, মোবাইলের অবস্থান, কল ডিটেইল রেকর্ড, এসএমএসের তালিকা, আইএমইআই নম্বর, টিআইএন সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্টের কপি এবং ভূমি উন্নয়ন করের রসিদের কথাও বলা হয়।   ২৫ জুন ওই অ্যডমিনের সঙ্গে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। মোবাইল নম্বর বা ভোটার নম্বর দিয়ে কী তথ্য পাওয়া যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার একটি ওয়েবসাইট আছে, সেখান থেকে ‘সার্ভার কপি’ বের করে পিডিএফ দেওয়া যাবে।   পরে ১৫০ টাকা পাঠিয়ে একটি ভোটার নম্বর ও জন্মতারিখ দেওয়া হলে তিনি একটি এনআইডির পিডিএফ পাঠান। যাচাই করে দেখা যায়, তথ্য সঠিক। আরেকজন পরিচিতের সম্মতি নিয়ে তার মোবাইল নম্বরের ‘সাইন কপি’ চাওয়া হলে ২৫০ টাকার বিনিময়ে সেটিও অল্প সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়।   আড়াই ঘণ্টায় তিন মাসের কল রেকর্ড এরপর একই অ্যাডমিনের কাছে একটি গ্রামীণফোন নম্বরের তিন মাসের কল ডিটেইল রেকর্ড চায় ডিসমিসল্যাব। ১ হাজার ৫০ টাকা পাঠানোর আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফাইলটি পাওয়া যায়।   ফাইলে থাকা সর্বশেষ ২০টি যোগাযোগের নম্বর, কলের সময় ও কলের ধরন ওই গ্রাহকের প্রকৃত কল হিস্ট্রির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। প্রতিটি তথ্যই মিলে যায়।   CDR-এ একজন ব্যক্তি কার সঙ্গে কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন, কতক্ষণ কথা বলেছেন এবং কলটি করেছেন নাকি গ্রহণ করেছেন—এসব তথ্য থাকে। কলের সময় ফোনটি টুজি নাকি ফোরজি নেটওয়ার্কে ছিল, সেটাও জানা যায়।   এ ছাড়া এতে ফোনের আইএমইআই এবং সিমের আন্তর্জাতিক মোবাইল সাবস্ক্রাইবার পরিচিতি বা আইএমএসআই নম্বর থাকে। ফলে একটি নির্দিষ্ট সিম কোন হ্যান্ডসেটে ব্যবহার করা হয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব।   ফাইলে কোনো কল বা এসএমএসের সময় সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরটি কোন মোবাইল টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক সেল এলাকায় ছিল, সেই তথ্যও থাকে। দীর্ঘ সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে একজন ব্যক্তির চলাচলের ধরনও অনুমান করা সম্ভব।   ১৬ মিনিটে মোবাইলের অবস্থান ডিসমিসল্যাব বলছে, ফেইসবুক পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পেয়েছে তারা।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সব ওয়েবসাইটের নকশা ও পরিচালন পদ্ধতি একই রকম। সাইটগুলোর ড্যাশবোর্ডে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, টিআইএন সনদ, সিডিআর ও মোবাইলের অবস্থানসহ বিভিন্ন তথ্যের দাম দেওয়া ছিল। অন্তত একটি ওয়েবসাইট ২০২৫ সালে নিবন্ধিত হয়।   ওই ওয়েবসাইটগুলোর একটির মালিককে ওপেন সোর্স অনুসন্ধানের মাধ্যমে শনাক্ত করে ডিসমিসল্যাব। চাঁদপুরে থাকা ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করেন।   তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি গ্রামীণফোন নম্বরের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে অর্থ পরিশোধের ১৬ মিনিটের মধ্যে নম্বরটির সর্বশেষ সক্রিয় থাকার সময়, মোবাইল টাওয়ারভিত্তিক অবস্থান, একটি ঠিকানা এবং গুগল ম্যাপের লিংক দেওয়া হয়।   তবে তথ্যের উৎস সম্পর্কে ওই বিক্রেতাদের দেওয়া সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ডিসমিসল্যাব।   এক মাসেই ছয়শর বেশি বিজ্ঞাপন একটি মাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং একটি মাত্র ‘সাইন কপি’ শব্দ ব্যবহার করে পাওয়া পোস্টেই বাজারটির বড় একটি চিত্র উঠে এসেছে ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে।   এক মাসে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ছয়শর বেশি বিজ্ঞাপন পাওয়ার পাশাপাশি এসব পোস্টে যোগাযোগের জন্য অন্তত ১১২টি আলাদা মোবাইল নম্বর ব্যবহার হতে দেখা যায়। একটি গ্রামীণফোন নম্বরই ৭৫টি পোস্টে ছিল।   ১০টি ওয়েবসাইটে তথ্য বিক্রির অর্থ নেওয়ার জন্য ১০টি আলাদা মোবাইল আর্থিক সেবা নম্বরও পাওয়া যায়।   এ ছাড়া ৩৬টি সক্রিয় ফেইসবুক গ্রুপে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন বারবার দেখা গেছে। এসব গ্রুপের অনেকগুলোর নামেই এনআইডি, সাইন কপি বা জন্মনিবন্ধন সেবার উল্লেখ ছিল।   সাতটি গ্রুপে অন্তত পাঁচবার করে এমন পোস্ট পাওয়া যায়। ওই সাত গ্রুপেই মোট ১১৪টি প্রচারমূলক পোস্ট শনাক্ত করেছে ডিসমিসল্যাব।   তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি প্ল্যাটফর্মে একটি মাত্র কিওয়ার্ড ব্যবহার করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে, ফলে বাজারটির প্রকৃত পরিসর আরও বড় হতে পারে।   এই বাজারে একাধিক স্তরের বিক্রেতা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা বিজ্ঞাপন দেন, তাদের অনেকেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর তারা বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে টাকা জমা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দামে তা বিক্রি করেন।   ফলে ওয়েবসাইটে দেওয়া দাম এবং সরাসরি বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া দামের মধ্যে পার্থক্য থাকে।   চাঁদপুরের ওই ওয়েবসাইট মালিক ডিসমিসল্যাবকে বলেছেন, তিনি ৮০০ টাকায় মোবাইল গ্রাহকের কল তালিকা কিনে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেন। ১ হাজার টাকায় যে কোনো বিকাশ নম্বর খোলার সময় ব্যবহৃত পরিচয়পত্র এবং ৪ হাজার ৫০০ টাকায় ওই বিকাশ হিসাবের বিবরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।   তথ্য কীভাবে পাওয়া যায় জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা দাবি করেন, তিনি আরেকটি গ্রুপ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং ওই গ্রুপ মূলত একটি এপিআই ব্যবহার করে সরকারি সার্ভারের নিরাপত্তা পাশ কাটিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।   তিনি দাবি করেন, একটি পুলিশ ডেটাবেজ থেকে এনআইডি ও জন্মতারিখ দিয়ে বিস্তারিত তথ্য খোঁজা যায় এবং সেখান থেকে এপিআই তৈরি করে তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে।   তবে এসব দাবির প্রযুক্তিগত সত্যতা এবং তিনি যাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন, তাদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ডিসমিসল্যাব।   কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ, তবু বন্ধ হয়নি বিক্রি ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেইসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির পোস্ট রয়েছে ২০২৩ সাল থেকেই। ২০২৫ সালের মার্চে একই ধরনের সেবা বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া একটি ইউটিউব ভিডিওও পাওয়া গেছে।   একটি মোবাইল অপারেটর অনেক আগেই তথ্য বিক্রির বিষয়ে প্রমাণসহ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিল। কিন্তু এরপরও এসব তথ্য বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।   কল ডিটেইল রেকর্ড ও গ্রাহকের মৌলিক অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য মোবাইল অপারেটরদের কাছে সংরক্ষিত থাকে।   এ বিষয়ে ডিসমিসল্যাবের প্রশ্নে গ্রামীণফোন লিখিত বক্তব্যে বলেছে, গ্রাহকের তথ্য ও ডেটা সুরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা এবং অনুমোদিত মানদণ্ড অনুযায়ী কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিদের কাছেই গ্রাহকের তথ্য দেওয়া হয়।   রবি বলেছে, সিডিআর, সিম নিবন্ধন ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য আইন অনুযায়ী অনুমোদিত সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেওয়া হয়। গ্রাহকের তথ্য অন্য কোথাও যাওয়ার ‘সুযোগ নেই’।   একটি মোবাইল অপারেটরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অপারেটরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিস্টেমে বিটিআরসি, এনটিএমসি ও পুলিশ সদর দপ্তরসহ ১০টির বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রবেশাধিকার রয়েছে। এ প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে গ্রাহকের বিস্তারিত কল রেকর্ড এবং সিম নিবন্ধনের সময় দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য দেখা ও পর্যবেক্ষণ করা যায়।   ওই কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অপারেটর নিজস্বভাবে তদন্ত করে দেখেছে, কিছু তথ্য একটি সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার এপিআই ব্যবহার করে বাইরে যাচ্ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ওই সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। বিটিআরসিকেও বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।   তদন্তে সরকারি ব্যবস্থার প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক কর্নেল মো. কামরুল হাসান মামুন ডিসমিসল্যাবকে বলেন, প্রায় দুই মাস আগে এ বিষয়ে কাজ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল।   কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। পরে মন্ত্রণালয় বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেও বিষয়টি জানানো হয়। আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   একটি সংবাদ প্রতিবেদনের বরাতে ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এনটিএমসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, ৭৮৯টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে নাগরিকদের এনআইডি ও কল রেকর্ড বিক্রি হচ্ছে।   ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের একজন পুলিশ সুপার এবং র‌্যাব-৬-এর একজন সহকারী পুলিশ সুপারের লগইন তথ্য ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে। সাইবার অপরাধ শাখার একজন কনস্টেবল অর্থের বিনিময়ে সংবেদনশীল কল রেকর্ড বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও সেখানে বলা হয়।   তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির ডিসমিসল্যাবকে বলেন, এ ধরনের ‘রিয়েল টাইম’ তথ্য কেবল তখনই পাওয়া সম্ভব, যখন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মীরা এতে যুক্ত থাকেন অথবা কোনো তৃতীয় পক্ষ তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থার নিরাপত্তা পাশ কাটিয়ে প্রবেশাধিকার পায়। দুই ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   তার মতে, সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে কি না, তা নজরদারি করা জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।   সুমন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কোনো কর্মী হয়ত বুঝতেই পারেন না যে এসব তথ্য গোপনীয় এবং তা ফাঁস করা অন্য ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে এমন মৌলিক সচেতনতা রয়েছে কি না, তাও প্রশ্নের বিষয়।   ডিসমিসল্যাব বলছে, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. তাইবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তারা। তিনি প্রথমে সাক্ষাৎকারে সম্মতি দিলেও পরে দেখা করতে পারেননি। তার সম্মতিতে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   এনআইডি, কল রেকর্ড ও অবস্থান ফাঁস হলে ঝুঁকি কী একজন ব্যক্তির এনআইডি, কল রেকর্ড বা অবস্থানের তথ্য অন্যের হাতে চলে গেলে এর ঝুঁকি শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।   সুমন আহমেদ সাবির বলেন, বাংলাদেশে এনআইডি একটি পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারও এনআইডির সব তথ্য অন্যের হাতে গেলে তার নামে ভুয়া হিসাব খোলা, অন্য পরিচয়ে প্রতারণা করা কিংবা সম্পূর্ণ মিথ্যা পরিচয় তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।   তার ভাষায়, ডিজিটাল যুগে সবার জন্যই বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।   সুমন বলেন, কারও নামে ভুয়া বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন করা হলে সেই ব্যক্তি বিপদে পড়তে পারেন। অতিরিক্ত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ভবিষ্যতে বৈধ হিসাব থেকেও অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ডিসমিসল্যাব এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টারের একটি প্রকাশনার কথা লিখেছে।   বাংলাদেশের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা যাবে না। কারও অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগও রয়েছে।   তথ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য প্রশাসনিক জরিমানার বিধান রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই জরিমানা ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।   জবাব চাওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশন ও এনটিএমসির কাছে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডিসমিসল্যাব নির্বাচন কমিশন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, এনটিএমসি এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে।   নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মোমিন সরকার তাদের বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য পেতে কমিশনে লিখিত আবেদন করতে হবে।   জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশাকে পাঠানো প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এনটিএমসির একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালকের কাছেও পরে ই-মেইলে সাক্ষাৎকারের অনুরোধ পাঠানো হয়, তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সেখান থেকেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্যাডেল রিকশা বন্ধ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালু করতে আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ সংকটে সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার

ছবি: সংগৃহীত

নবম পে স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ

বাংলাবান্ধা সীমান্তের সৌন্দর্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকা বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।   সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।   এসময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও, মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বোল্ডিনসহ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।   সফরের অংশ হিসেবে তারা যান দেশের সর্বউত্তরের স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে। এসময় সীমান্ত এলাকার নান্দনিক পরিবেশ ও চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী। পরে বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্টে কিছু সময় অবস্থান করে নির্মল পরিবেশ উপভোগ করেন তারা। এসময় সীমান্তের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্মৃতি ধরে রাখতে ছবিও তোলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সহধর্মিণী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হজ নিবন্ধনে সাড়া কম, এবারও অপূর্ণ থাকতে পারে বাংলাদেশের কোটা

ছবি: সংগৃহীত

বিমান ভাড়া আরও কমানোর পরিকল্পনা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন হত্যা মামলায় মূল সন্দেহভাজনসহ দুজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
বৈরী আবহাওয়ায় কাঠমান্ডু যেতে না পেরে ঢাকায় ফিরল চায়না ইস্টার্নের ফ্লাইট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবতরণ করতে না পেরে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট দুই দফায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে এসেছে।   এমইউ-৯৬১৭ নম্বর ফ্লাইটটি শনিবার (২৯ আগস্ট) চীনের কুনমিং বিমানবন্দর থেকে ১১৬ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়। নেপালের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের আশপাশে আবহাওয়া দ্রুত প্রতিকূল হয়ে ওঠে।   পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় উড়োজাহাজটি বেশ কিছুক্ষণ আকাশে অবস্থান করে। পরে নিরাপদে অবতরণের সুযোগ না থাকায় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ফ্লাইটটি ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।   প্রথমবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উড়োজাহাজটি ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ করে। এরপর আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিলে জ্বালানি নেওয়া ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে এটি আবার কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে।   তবে দ্বিতীয়বারও কাঠমান্ডুর আকাশসীমায় পৌঁছে একই ধরনের বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ে ফ্লাইটটি। একাধিকবার অবতরণের চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় উড়োজাহাজটি ফের ঢাকার পথে ফিরে আসে।   রাত সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের সমন্বয়ে ফ্লাইটের ১১৬ জন যাত্রী ও ক্রুর জন্য রাজধানীর একটি হোটেলে সাময়িক থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে ফ্লাইটটি আবার কাঠমান্ডুর উদ্দেশে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফ্লাইটটি ঢাকার বিমানবন্দর থেকে পুনরায় কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়নি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীন থেকে ২০ জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ, ব্যয় ২.৩০২ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশে প্রথম মাতৃগর্ভে যমজ শিশুর সফল অস্ত্রোপচার ঢামেকে

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও একজন

0 Comments