দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে ২১টি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ এয়ারক্রাফট যুক্ত হচ্ছে এয়ারলাইন্সটিতে।
বিশ্বসেরা ৫টি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে এই এয়ারক্রাফটগুলো দিচ্ছে যার বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এই উড়োজাহাজগুলো বহরে হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর হোটেল শেরাটনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইউএস-বাংলা। অনুষ্ঠানে বোয়িং এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যৌথভাবে বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।
অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমান ও পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
ইউএস-বাংলা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন শুধু একটি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়; বরং এটি দেশের এভিয়েশন খাতে একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ।
বিশিষ্ট এভিয়েশন ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি এয়ারলাইন্স এর আগে একসঙ্গে এত বড় পরিসরে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়নি। এটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বড় সফলতা। তারা নিশ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। আমার বিশ্বাস, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন শিল্প, রপ্তানি ও বিনিয়োগ আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনায় বিপুলসংখ্যক পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও সহায়ক জনবলের প্রয়োজন হবে, যা দেশে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের একটি বড় অংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি ক্যারিয়ারগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ২১টি উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী, ডিসপ্যাচার এবং অন্যান্য কারিগরি জনবল প্রয়োজন হবে। ফলে এভিয়েশন খাতে হাজারো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের জন্য পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, “ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এত বড় বিনিয়োগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তবে একসঙ্গে এতগুলো এয়ারক্রাফট পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে। বিশেষ করে কোন রুটে কী ধরনের চাহিদা রয়েছে এবং সেই চাহিদা অনুযায়ী কোন সাইজের এয়ারক্রাফট পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে যথাযথ বিশ্লেষণ জরুরি। সঠিক রুট পরিকল্পনা ও উপযুক্ত এয়ারক্রাফট নির্বাচন করা গেলে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে এবং দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।”
এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের কোনো একক এয়ারলাইন্সের একবছরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার ঘটনা মাত্র পাঁচটি। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে অনন্য নজির তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আইএটিএস সার্টিফাইড বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
শুধু বহরের আকার নয়, যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে এয়ারলাইন্সটি। নতুন উড়োজাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন ইন্টেরিয়র এবং প্রিমিয়াম সিট সংযোজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি উড়োজাহাজে থাকবে আধুনিক ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে কোনো তার ছাড়াই দেশি-বিদেশি সিনেমা, নাটক, টিভি অনুষ্ঠান, সংগীতসহ হলিউড-বলিউডের বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন।
নতুন বহরের প্রতিটি উড়োজাহাজে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধাও থাকবে। ফলে যাত্রীরা আকাশে ভ্রমণের সময়ও ইন্টারনেট ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান এবং ফোন কলে কথা বলতে পারবেন। এ ধরনের সুবিধা বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে থাকলেও বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি এয়ারলাইন্সের জন্য এটি হবে অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি।
মেঘনা এভিয়েশন লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. আনোয়ারুল হক সরদার বলেন, “ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার খবর অত্যন্ত আনন্দের। এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য ইউএস-বাংলা পরিবারের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে ইউএস-বাংলার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। আশা করি, ভবিষ্যতে ইউএস-বাংলা ট্রান্স-আটলান্টিক রুটেও ডানা মেলবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি, নিরাপদ আকাশযাত্রা এবং সামনে আরও অনেক সাফল্য কামনা করছি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে ২১টি ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ এয়ারক্রাফট যুক্ত হচ্ছে এয়ারলাইন্সটিতে। বিশ্বসেরা ৫টি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে এই এয়ারক্রাফটগুলো দিচ্ছে যার বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এই উড়োজাহাজগুলো বহরে হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর হোটেল শেরাটনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইউএস-বাংলা। অনুষ্ঠানে বোয়িং এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যৌথভাবে বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমান ও পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। ইউএস-বাংলা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন শুধু একটি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়; বরং এটি দেশের এভিয়েশন খাতে একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ। বিশিষ্ট এভিয়েশন ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি এয়ারলাইন্স এর আগে একসঙ্গে এত বড় পরিসরে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়নি। এটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বড় সফলতা। তারা নিশ্চয়ই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। আমার বিশ্বাস, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন শিল্প, রপ্তানি ও বিনিয়োগ আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনায় বিপুলসংখ্যক পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও সহায়ক জনবলের প্রয়োজন হবে, যা দেশে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের একটি বড় অংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি ক্যারিয়ারগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ২১টি উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী, ডিসপ্যাচার এবং অন্যান্য কারিগরি জনবল প্রয়োজন হবে। ফলে এভিয়েশন খাতে হাজারো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের জন্য পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক উইং কমান্ডার এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, “ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এত বড় বিনিয়োগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তবে একসঙ্গে এতগুলো এয়ারক্রাফট পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে। বিশেষ করে কোন রুটে কী ধরনের চাহিদা রয়েছে এবং সেই চাহিদা অনুযায়ী কোন সাইজের এয়ারক্রাফট পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে যথাযথ বিশ্লেষণ জরুরি। সঠিক রুট পরিকল্পনা ও উপযুক্ত এয়ারক্রাফট নির্বাচন করা গেলে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে এবং দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।” এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের কোনো একক এয়ারলাইন্সের একবছরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার ঘটনা মাত্র পাঁচটি। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে অনন্য নজির তৈরি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আইএটিএস সার্টিফাইড বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। শুধু বহরের আকার নয়, যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে এয়ারলাইন্সটি। নতুন উড়োজাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন ইন্টেরিয়র এবং প্রিমিয়াম সিট সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি উড়োজাহাজে থাকবে আধুনিক ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে কোনো তার ছাড়াই দেশি-বিদেশি সিনেমা, নাটক, টিভি অনুষ্ঠান, সংগীতসহ হলিউড-বলিউডের বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন। নতুন বহরের প্রতিটি উড়োজাহাজে ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধাও থাকবে। ফলে যাত্রীরা আকাশে ভ্রমণের সময়ও ইন্টারনেট ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান এবং ফোন কলে কথা বলতে পারবেন। এ ধরনের সুবিধা বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে থাকলেও বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি এয়ারলাইন্সের জন্য এটি হবে অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। মেঘনা এভিয়েশন লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. আনোয়ারুল হক সরদার বলেন, “ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার খবর অত্যন্ত আনন্দের। এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য ইউএস-বাংলা পরিবারের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে ইউএস-বাংলার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। আশা করি, ভবিষ্যতে ইউএস-বাংলা ট্রান্স-আটলান্টিক রুটেও ডানা মেলবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি, নিরাপদ আকাশযাত্রা এবং সামনে আরও অনেক সাফল্য কামনা করছি।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফিলিস্তিনের জন্য আলেমদের সম্মেলন’-এ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের চার শীর্ষ আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব। ফিলিস্তিন ও কুদস ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলেমদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা জোরদারের লক্ষ্যে আগামী ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনের আয়োজক হাইআতু উলামা-ই ফিলিস্তিন (ফিলিস্তিনি আলেম সমিতি)। সম্মেলনে অংশ নিতে আমন্ত্রিত বাংলাদেশি আলেমদের ভিসা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্য অতিথিরা হলেন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, রাজধানীর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার (মুহাম্মদপুর) প্রধান মুফতি মাওলানা হিফজুর রহমান এবং বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী। এ ছাড়া শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আমিরুল ইসলামসহ বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে পাঠানো হাইআতু উলামা-ই ফিলিস্তিনের এক সুপারিশপত্রে বলা হয়েছে, আলেমদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং ফিলিস্তিন ও কুদস ইস্যুতে বৈশ্বিক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। চিঠিতে ফিলিস্তিন ও কুদস ইস্যুতে সচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশি আলেমদের অবদানও প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্যমতে, সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেমরা অংশ নেবেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য তুরস্কের বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে চোরাকারবারি মাফিয়া চক্র। অতি সম্প্রতি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ, জাল ভিসায় একযোগে ৭৬ জনকে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা এবং কার্গো ভিলেজ থেকে ৪ হাজার কেজি মালামাল বিনা শুল্কে বের করে নেওয়ার মতো একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নজরদারি বাড়ালেও চোরাকারবারিরা নিরাপত্তার ফাঁকফোকর গলিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ৪ দিনে ১০০ কোটির স্বর্ণ জব্দ, বিমানের অভ্যন্তরেই ‘ভেতরের লোক’ বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের কার্গো হোল্ড থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ডিজিএফআই, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বিমানের নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং বিমানবন্দর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশনস) শরিফ হোসেন বলেন, “আমরা আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি। আমরা ওই ফ্লাইটটি সরেজমিন পরিদর্শন করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটির পরিচালনার দায়িত্বে কারা ছিলেন তাদের তালিকাও আমরা চেয়েছি। ইঞ্জিনিয়ার সেকশন, ক্লিনার সেকশন, কেবিন ক্রু এবং পাইলট সবরাই তালিকা চাওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সবার সঙ্গে আমরা কথা বলবো।” শরিফ হোসেন বলেন, “আলোচিত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্সকে ব্যবহার করে কারা স্বর্ণ চোরাচালানি করছে তাদের আমরা আইনের আওতায় আনবো।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে প্রক্রিয়ায় স্বর্ণগুলো আনা হয়েছে তাতে আমরা ভেতরের লোক জড়িত রয়েছে মর্মে আমরা সন্দেহ করি। তবে এখনও যেহেতু বিষয়টি তদন্তের মধ্যে রয়েছে সব কিছু খোলাসা না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম বলা উচিত হবে না।” তিনি বলেন, “আমরা তালিকা পাওয়া মাত্রই জিজ্ঞাসাবাদের কার্যক্রম শুরু করবো। আশা করছি দ্রুতই তারা এগুলো আমাদের নিকট সরবরাহ করবেন।” এর আগে গত ২৮ মার্চ রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশের আরেকটি ফ্লাইটের (বোয়িং ৭৮৭-৮, ফ্লাইট ইএ-৩৪৮) টয়লেটের প্যানেলের ভেতর থেকে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ কেজি (১৫৩টি বার) স্বর্ণ উদ্ধার করে এভসেক ও একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এই ঘটনায় বিমানের প্রকৌশল বিভাগের তিন মেকানিক ও হেলপার—নূর-ইসলাম, আবুল হোসেন এবং মিজানুর রহমানকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, নির্ধারিত ডিউটি শেষ হওয়ার পরও ওভারটাইম করার কারণে তাদের সন্দেহ হয় এবং পরে তাদের মোবাইল ফোনে স্বর্ণপাচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত মেলে। এই চক্রে বিমানের আরও অন্তত ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। বোর্ডিং গেটে জালিয়াতি ফাঁস: মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টা পণ্ড স্বর্ণ চোরাচালানের পাশাপাশি বিমানবন্দরে বড় ধরনের মানবপাচারের একটি চক্রের তৎপরতাও প্রকাশ্যে এসেছে। গত ৪ জুলাই রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে (বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার) ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল। কিন্তু বোর্ডিং গেটে পরীক্ষা করার সময় ৫ জন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং এভসেক তাদের অফলোড (আটকে দেওয়া) করে। এই ৫ জন আটকে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই একই ফ্লাইটের আরও ৭১ জন যাত্রী বিমানে না উঠে তড়িঘড়ি করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, মানবপাচারকারী একটি চক্র ‘বডি কনট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে এত বড় গ্রুপকে জাল ভিসায় মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা করছিল। তবে আগে থেকে গোয়েন্দারা সতর্ক থাকায় এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এই ঘটনার পেছনেও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ কোনও চক্রের যোগসাজশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার্গো ভিলেজ থেকে ৪ হাজার কেজি মালামাল উধাও বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তার মাঝেই বছরের শুরুতে ঘটে এক বিশাল শুল্ক ফাঁকির ঘটনা। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে আমদানিকৃত প্রায় ৪ হাজার কেজি ফেব্রিক্স (কাপড়) কোনও প্রকার শুল্ক বা ট্যাক্স না দিয়েই সুকৌশলে বাইরে বের করে নিয়ে যায় একটি চক্র। এই ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কাস্টমস চেকিংয়ের দুর্বলতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে। কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী মহলের বক্তব্য তদন্তকারীরা বলছেন, যে স্থান থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে সাধারণ যাত্রীর প্রবেশ প্রায় অসম্ভব। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানের অভ্যন্তরে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রী নামার পর বিমানটি হ্যাঙ্গারে নেওয়া হলে সেখান থেকে স্বর্ণগুলো খালাস করার কথা ছিল বলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই স্বর্ণ পাচার চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনার মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। বিমানবন্দরে অপরাধ চক্রের এই আকস্মিক সক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিমানবন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী খাইরুল কবীর ভুঁইয়া। তিনি বলেন, “দুটি ঘটনায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ করা কোনও সাধারণ বিষয় নয়। এর অর্থ হলো চোরাচালান চক্রটি কতটা শক্তিশালী ও বেপরোয়া। আবার জাল ভিসার মাধ্যমে মানবপাচারের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক মহলে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। বিমানবন্দরের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট হলেও অপরাধীদের কাছে তা যেন কোনও বিষয়ই মনে হচ্ছে না। তারা নিরাপত্তার মধ্যেই বারবার অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। তাই নজরদারি ও তৎপরতা আরও বহুগুণ বাড়াতে হবে।” সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, “গত কিছুদিনের যা ঘটনা তাতে করে তাদের তৎপরতা যে বেড়েছে আমরা বুঝতে পারছি। আমরা বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে এই ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলেছি। আমাদের তৎপরতার কারণে এগুলো ধরা পড়ছে। আমরা সজাগ রয়েছি আরও সজাগ হবো।”