বাংলাদেশের সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল ভোটে জয়লাভ করায় আনন্দের জোয়ার বইছে সুদূর স্পেনেও। এই ঐতিহাসিক বিজয় উদ্যাপনে দেশটির রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে।
মাদ্রিদের বাঙালি অধ্যুষিত লাভাপিয়েস এলাকায় বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করেই গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিজয়োল্লাস।
বিজয় উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। হাতে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তারা লাভাপিয়েস প্লাজায় আনন্দ মিছিল বের করেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের বিজয়ের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— স্পেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেমায়েত খান, সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রাসেল, মাদ্রিদ মহানগর বিএনপির সভাপতি সোহেল আহমদ সামছু, সহ-সভাপতি আব্দুল মোতালেব বাবুল, সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, সায়েদ মিয়া, আব্দুল মতিন, ছানুর মিয়া ছাদ, উপদেষ্টা আব্দুল মুজাক্কির, সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ আবুল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শিপার আহমদ, মাদ্রিদ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কবির আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পারভেজ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হারুন আহমদ, যুবদল নেতা শাহ আলম ও ছাত্রদল নেতা রুদ্রসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাসাসের শতাধিক নেতা-কর্মী।
আনন্দ উদ্যাপন শেষে বিজয় মিছিল এবং মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত প্রবাসী আহম্মদ আলী সালেহ আহমদ এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবাব সন্ধ্যায় বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। জানাজায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন প্রমুখ অংশ নিয়েছেন। জানাজা পূর্ব বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় কাজ করছে সরকার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। মনিটরিং টিমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন। মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিশন প্রবাসীদের সুরক্ষায় একযোগে কাজ করছে। যুদ্ধে বাংলাদেশি চারজন প্রবাসী নিহত হলেও একজনের লাশ দেশে এসেছে। অবশিষ্টদের লাশও সে দেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সরকারি খরচে দেশে আনা হবে। সরকার নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছে এবং নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছে। মন্ত্রী আরও বলেন, যারা আহত হয়েছে দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে যারা কর্মহীন এবং গৃহবন্দী হয়ে আছে তাদেরকেও খুঁজে বের করে দূতাবাসের মাধ্যমে খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এসময় মন্ত্রী নিহতের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান। এরআগে মন্ত্রী প্রবাসী আহম্মদ আলীর লাশ নিয়ে বড়লেখায় পৌঁছালে নিহতের বাড়িতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়৷ এই সময় শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানান তিনি। সোমবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সহযোগিতায় মরদেহটি দেশে আনা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে তার মরদেহ বিমানযোগে সিলেটে নেয়া হয়। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ রিসিভ করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সংঘাত চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব শ্রমিক ও প্রবাসীদের পাশে বাংলাদেশ সরকার রয়েছে এবং সবধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো সংকটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিবারের সদস্যদের মতো তাদের পাশে থাকবে। মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সৌদি আরবের বিভিন্ন নামিদামি হাসপাতালে সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সার্বিক খোঁজ খবরও রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে মারা যান সালেহ আহমদ। তিনি বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে। স্বজনরা জানিয়েছেন, সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি পানির গাড়ি চালাতেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পানির গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এসময় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আজমান শহরে আঘাত হানে। এতে সালেহসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা সালেহকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরি (BCAOC)-এর উদ্যোগে ক্যালগেরির বাংলাদেশ সেন্টারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির উপস্থিত সকলের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়। অনুষ্ঠানে নারীর অধিকার, সমাজে নারীর ভূমিকা এবং তাদের অবদানের গুরুত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ ও উন্নত সমাজ গঠনে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তারা নারীর ক্ষমতায়ন ও সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ১২৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৮ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও ৩৪ জন শিশু রয়েছে। আজ রোববার (৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য হিন্দুর পৃথক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আরও দেখুন স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্যাকেজ বাংলা সংবাদপত্রের সাবস্ক্রিপশন বিজ্ঞাপন পরিষেবা বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার শহরটিতে এই বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অন্তত ২০০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়, যাঁদের মধ্যে ১২৪ জন বাংলাদেশি বলে দাবি করছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, আটক ব্যক্তিরা গত কয়েক বছর ধরে বেঙ্গালুরু শহরের কাদুগোডি ও ভার্থুর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন। বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিংয়ের নির্দেশে অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করতে সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের (সিসিবি) চারটি দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের কারও কাছেই ভারতে প্রবেশ বা সেখানে বসবাসের কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আটক ব্যক্তিরা যে প্রকৃতপক্ষেই বাংলাদেশি নাগরিক, এমন কোনো প্রামাণ্য দলিল বা নথিপত্রও তাঁদের কাছে মেলেনি। বর্তমানে আটক এই ব্যক্তিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে ইতিমধ্যে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (এফআরআরও) একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ, বৃহত্তর বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষ এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের সহায়তায় গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন থানা এলাকায় এই অভিযান চলছে এবং তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।