জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনি আসনে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে শতকরা সাড়ে ১২ ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে মেহেরপুরের দুটি সংসদীয় আসনে এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তিন প্রার্থীর জামানত হারানো প্রায় নিশ্চিত হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের পরই জামানত বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। উভয় আসনেই তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।
মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনে পোস্টাল ভোট বাদে মোট ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দিন খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদ অরুন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৮৭ ভোট।
এ আসনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরও দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রার্থী মোহা. মিজানুর রহমান কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৭৮১ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩৯০ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা সাড়ে ১২ ভাগের কম ভোট পাওয়ায় নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী এ দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।
অপরদিকে, মেহেরপুর-২ সংসদীয় আসনে পোস্টাল ভোট বাদে বাকি ৯০টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থী নাজমুল হুদা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৯৮৮ ভোট।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপর প্রার্থী জাতীয় পার্টির আব্দুল বাকী লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৮২৫ ভোট। নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রমে ব্যর্থ হওয়ায় তারও জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এ মেহেরপুর জেলায় নারী ভোটারদের আধিক্যসহ সব বয়সী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং মেহেরপুর-২ সংসদীয় আসনে ৬৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছিলেন। আটক ব্যক্তি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরের ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ার। সোমবার (২৫ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে হ্নীলা থেকে কক্সবাজারগামী একটি মাইক্রোবাস হোয়াইক্যং চেকপোস্টে থামানো হয়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা এবং বিজিবির নারকোটিক্স ডগ “হেনরী” গাড়িটিতে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিলে চালক নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে অশোভন আচরণ করেন এবং জোর করে চেকপোস্ট অতিক্রমের চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে মাইক্রোবাসটি আটক করেন। তল্লাশির সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে দুটি ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে নারকোটিক্স ডগ “হেনরী”র সহায়তায় গাড়ির পেছনের সিটের কভারের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও একটি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোহাম্মদ আনোয়ারকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনি হ্নীলা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক আরও জানান, মাদক সরবরাহকারী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগানো অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে রাজসিক সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্ম’ কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় মহিষটির ক্রেতা খামারে এলে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে পশুটিকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে দুপুর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদায় জানানোর রাজকীয় প্রস্তুতি শুরু করেন খামারিরা। বিশালাকার এই মহিষটিকে বিশেষভাবে গোসল করানোর পর পরানো হয় রাজকীয় পোশাক। এরপর রঙিন স্মোক (রঙিন ধোঁয়া) উড়িয়ে ও লাল গালিচায় হাঁটিয়ে বিদায় দেওয়া হয় তাকে। দীর্ঘদিন পরম যত্নে লালন-পালন করা প্রিয় পশুটিকে বিদায় দেওয়ার সময় খামারের মালিক ও কর্মচারীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, এই মহিষটির গায়ের রঙ, চুল ও চোখের গঠন দেখতে অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। এই মিল থাকার কারণেই খামারের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই শখ করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ব্যতিক্রমী চেহারার ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি কোরবানির হাটে তোলার আগেই লাইভ ওয়েটে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় কিনে নেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির। নাম ও চেহারার কারণে মহিষটি খামারে থাকা অবস্থাতেই দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কাড়ে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এটি দেখতে খামারে ভিড় জমাতেন। রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘদিনের মায়ায় জড়ানো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে বিদায় দিতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কোরবানির ত্যাগের মহিমায় তাকে হাসিমুখে বিদায় দিতেই হবে। এই রাজকীয় মহিষটির স্মৃতি আমরা আজীবন মনে রাখব। মহিষটির ক্রেতা সামির বলেন, অনেক আগেই আমি মহিষটি পছন্দ করে কিনে রেখেছিলাম। পরে হঠাৎ করেই এটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। এখন আমার এলাকার মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
শুরু হয়ে গেছে ঈদের ছুটি। এবার ঈদে আজ সোমবার ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকালেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা ফাঁকা ছিল। রাজধানীর পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, গুলশান, বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা তুলনামূলক ফাঁকা ছিল আজ। মেট্রোরেলেও ভিড় কম ছিল। বেশির ভাগ মানুষকেই মালপত্র নিয়ে ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। রাস্তায় প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক বেশি। ঈদ উপলক্ষে গতকাল রোববার বিকেল থেকেই অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ঘরমুখো এসব মানুষকে হাস্যোজ্জ্বল সেলফি পোস্ট করতে দেখা গেছে। আজ সকালেও অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। পরিবার–পরিজন নিয়ে কেউ বাসে, ট্রেনে, উড়োজাহাজে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি যাচ্ছেন। সঙ্গে অনেকে পোষা প্রাণীকেও নিয়ে যাচ্ছেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে খুব অল্প গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে খুব অল্প গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। আজ সোমবার সকালেছবি: ফাতেমা তুজ জোহরা পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকছে। আজ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ছুটি পাবেন। তবে আজ ও আগামীকাল দেশের পোশাকশিল্প এলাকার কিছু ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে। দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস আজ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।