জাতীয়

সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারের সমালোচনায় শিশির মনির

আক্তারুজ্জামান মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান ও সাংবিধানিক আইন সম্পর্কে সরকারি দলের পর্যাপ্ত জ্ঞান ও পড়াশোনার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলো স্পষ্ট হলেও সরকার তা বুঝতে পারছে না কিংবা এড়িয়ে যাচ্ছে।

 

রোববার চট্টগ্রাম নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত ‘গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিশির মনির বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারি দলের নেতাদের আরও বেশি পড়াশোনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের কাছেও বোধগম্য এমন সংস্কার প্রস্তাব যদি সরকার বুঝতে না পারে, তাহলে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

 

বিএনপির সংবিধান-সংক্রান্ত অবস্থানেরও সমালোচনা করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, দলটির নেতারা অতীতের সাংবিধানিক ব্যবস্থার উদাহরণ দিলেও সেই কাঠামোর অনেক অংশই পরবর্তীতে আদালত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় পুরোনো দৃষ্টান্ত টেকসই নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন শিশির মনির। তিনি বলেন, উপমহাদেশের ইতিহাসে কোনো গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর করার নজির নেই। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, যোগ্য ও ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

বিচারক নিয়োগের জন্য প্রণীত আইন কার্যকর না হওয়া, গুমবিরোধী আইন বাতিল এবং তথ্য অধিকার আইনের সংশোধনী প্রত্যাহারেরও সমালোচনা করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অডিট রিপোর্ট প্রকাশ বাধ্যতামূলক থাকলে স্বচ্ছতা বাড়ত, কিন্তু সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি জনগণের সরাসরি মতামত প্রকাশের অন্যতম গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। তাই গণভোটের রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কর্ণফুলীতে বন্দরের জাহাজ থেকে ডিজেল পাচার, ৯ জন আটক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি জাহাজ থেকে চোরাইভাবে ডিজেল পাচারের সময় প্রায় চার হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় সংশ্লিষ্ট চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।   রোববার রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   তাঁর বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে কর্ণফুলী থানার ডাঙ্গারচর এলাকায় ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন নদীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের 'কান্ডারী-৬' জাহাজ থেকে 'ওটি আজু শাহ' নামের একটি অয়েল ট্যাঙ্কারে অবৈধভাবে ডিজেল স্থানান্তরের সময় প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের চার হাজার লিটার জ্বালানি আটক করা হয়। এ সময় নয় জন চোরাকারবারিকে হাতেনাতে ধরা হয়।   পরবর্তীতে জব্দ করা ডিজেল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   কোস্ট গার্ড জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ধানের এমন উচ্চমূল্য আগে কখনো দেয়নি সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তিন কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচনে কী কী পরিবর্তন আনতে চায় ইসি?

ছবি: সংগৃহীত
‘জুলাই সনদের স্পিরিট মানছে না বিএনপি’ - গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ‘জুলাই সনদ’-এর মূল চেতনা অনুসরণ না করে নিজেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে চায়। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি যেসব বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছিল, গণভোটে জনগণ সেসব অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে।   রোববার চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘১১-দলীয় ঐক্যের গণভোটের রায়: জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।   মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কয়েকটিতে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল। কিন্তু গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সেই ভিন্নমত প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, সেগুলোই অতীতে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের সুযোগ তৈরি করেছিল। তাই গণভোটের রায়কে জনগণের সরাসরি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকার জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে একই দৃঢ়তা দেখাচ্ছে না।   অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, সংবিধান, সাংবিধানিক আইন ও রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে সরকারি দলের আরও গভীর বোঝাপড়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারের অবস্থানে স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে।   শিশির মনির আরও বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণভোট জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং ক্ষমতায় থাকতে হলে জনসমর্থন ও নৈতিক অবস্থান জরুরি।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য দেন।

আক্তারুজ্জামান মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারের সমালোচনায় শিশির মনির

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য কর্নেল অলির

ছবি: সংগৃহীত

গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চায় রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, বাজেটের আগে ১১ দফা দাবি

ছবি: সংগৃহীত
পূর্ব লন্ডনের চার বরোতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৮০ কাউন্সিলরের জয়

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ব লন্ডনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বরোতে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা। টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম মিলিয়ে মোট ৮০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাসে এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন।   এবারের নির্বাচনে লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে তিন শতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, মূলধারার বড় রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম থেকেও বাংলাদেশি প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।   সবচেয়ে বড় জয় এসেছে টাওয়ার হ্যামলেটসে। সেখানে এসপায়ার পার্টি ৪৫ সদস্যের কাউন্সিলে ৩৩টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দলটির নির্বাচিত সব কাউন্সিলরই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। এছাড়া বরোটিতে লেবার পার্টি থেকে তিনজন এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে একজন বাংলাদেশি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।   টাওয়ার হ্যামলেটসে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুর রহমান। তিনি ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলামকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন।   নিউহামেও বাংলাদেশি প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে ১২ জন নিউহাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি, ৬ জন লেবার পার্টি এবং একজন গ্রীন পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরহাদ হোসেন নিউহামের নতুন নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের মূলধারার বড় কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী মেয়র হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।   রেডব্রিজেও বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। সেখানে ৯ জন লেবার পার্টি থেকে এবং ৫ জন স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্মের হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বিশেষ করে ইলফোর্ড এলাকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলোতে তাঁদের প্রভাব আরও বেড়েছে।   অন্যদিকে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১০ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮ জন লেবার পার্টি এবং ২ জন গ্রীন পার্টির হয়ে জয় পেয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রভাব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান। টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামে নির্বাহী মেয়র পদে বাংলাদেশি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং কাউন্সিলগুলোতে ব্যাপক প্রতিনিধিত্ব নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার দুটি সংসদীয় আসনের এমপি রুশনারা আলী ও আফসানা বেগমও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।   পূর্ব লন্ডনের বাইরে ইলিং, ক্রয়ডন, ব্রেন্ট এবং বার্মিংহামেও কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।   অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব লন্ডনের এসব বরোতে দীর্ঘদিন ধরেই বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলাদেশিদের অনুপাত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। নিউহামে বসবাস করেন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক। এছাড়া রেডব্রিজে প্রায় ৩০ হাজার এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা এখন শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এবারের নির্বাচন সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আক্তারুজ্জামান মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর পথে সরকার, নতুন এডিপিতে থাকছে প্রাথমিক বরাদ্দ

ছবি: সংগৃহীত

খাল খনন প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম

নৌ পরিবহন খাতে সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি: মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

0 Comments