বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ‘জুলাই সনদ’-এর মূল চেতনা অনুসরণ না করে নিজেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে চায়। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি যেসব বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছিল, গণভোটে জনগণ সেসব অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে।
রোববার চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘১১-দলীয় ঐক্যের গণভোটের রায়: জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কয়েকটিতে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল। কিন্তু গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সেই ভিন্নমত প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, সেগুলোই অতীতে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের সুযোগ তৈরি করেছিল। তাই গণভোটের রায়কে জনগণের সরাসরি মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকার জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে একই দৃঢ়তা দেখাচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, সংবিধান, সাংবিধানিক আইন ও রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে সরকারি দলের আরও গভীর বোঝাপড়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারের অবস্থানে স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে।
শিশির মনির আরও বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণভোট জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং ক্ষমতায় থাকতে হলে জনসমর্থন ও নৈতিক অবস্থান জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে অনন্য নজির স্থাপনকারী বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করছে জাতিসংঘ। চলতি বছরের ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে শান্তিরক্ষীদের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক তুলে দেবেন সংগঠনটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ বছর বিশ্বজুড়ে আত্মত্যাগকারী মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। সম্মাননা পেতে যাওয়া এই শান্তিরক্ষীদের মধ্যে ৫৯ জনই গত বছর কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের এই ৬ জন কৃতি সন্তান রয়েছেন। মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পেতে যাওয়া বাংলাদেশের সেই ছয়জন বীর শান্তিরক্ষী হলেন— প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট শান্ত মন্ডল। এই বীর সেনানীরা আব্বেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সেখানে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় নিহত হন।
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। একটি প্রস্তাবে অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। অন্য প্রস্তাবে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানো এবং নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দ্বিতীয় প্রস্তাবটি আলোচনায় এসেছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দিলে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে বলেও মত রয়েছে। বর্তমান আলোচনায় থাকা প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক দাঁড়াতে পারে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকায়। একইভাবে সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের বেসিক ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, দ্বিতীয় প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। আলোচনায় থাকা এই বিকল্প অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন দ্বিগুণ করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে। নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। ফলে নতুন পে-স্কেলে তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতনসংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ না হলেও আলোচনায় থাকা দুই বিকল্পের মধ্যে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখার বিষয়টি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন তদারকি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টকশো ও জনপরিসরে বিষয়টি নিয়ে মতামত দিচ্ছেন অনেকে। কেউ এটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঈদের আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা দেখতে ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগকে দেওয়া আরেক নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মাঠে নামেন প্রধানমন্ত্রী। গুলশান থেকে শুরু করে হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, বাসাবো, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, পুরান ঢাকা, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কলাবাগান, মিরপুর রোড, জিগাতলা, মানিক মিয়া এভিনিউ ও মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। দুই কর্মকর্তাকে অপসারণের নির্দেশ পরিদর্শনের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির বর্জ্য ও জমে থাকা ময়লা দেখতে পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জোন-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজিরকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রকাশের পর শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে হাতিরঝিল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঈদের সময় সেখানে পশুর বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহ-সম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “নগরবাসীর স্বস্তির জন্য পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।” আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, “ভালো কাজের প্রশংসা হওয়া উচিত। তবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।” বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সহ সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “পরিচ্ছন্নতা রক্ষা সরকারের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। সাময়িক পদক্ষেপের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সেলিম বলেন, “কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সময়োপযোগী। বিষয়টি নিয়ে মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।”