জাতীয়

চট্টগ্রামে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের বাসায় হামলা-অগ্নিসংযোগ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরের দুই নম্বর গেট এলাকার চশমা হিলে অবস্থিত বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বাসভবনটি চট্টগ্রাম সিটি প্রয়াত সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পারিবারিক বাড়ি।

 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাত ২টার দিকে হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ওসি আরও জানান, সাত জন দুর্বৃত্ত এসে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। পরে পাইপলাইনে আগুন ধরে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।

 

এ হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। স্থানীয়দের ধারণা, এই ঘটনার জেরে নওফেলের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সংসদে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদেশে পলাতক চার আসামিকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং মানবপাচার মামলার আসামি মোল্লা নজরুল ইসলাম রয়েছেন। এ ছাড়া চলতি বছর বিদেশ থেকে হত্যা মামলার দুই আসামি মো. আরিফ সরকার ও মোবারক মণ্ডলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশে পলাতক আসামিদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত মো. আরিফ সরকারকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ২৭ মে একই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত ও রেড নোটিশভুক্ত মোবারক মণ্ডলকে কাতার থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।   তিনি বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত এই আসামিকে ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতারের তথ্য পাওয়ার পর ১৬ জুন তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক ‘(এক্সট্রাডিশন প্রোপজাল) পাঠানো হয়। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। এ কারণে দেশটি ‘প্রিন্সিপল অব রেসিপ্রোসিটি’ বা পারস্পরিক সহযোগিতার নিশ্চয়তা চেয়েছে। তাদের অনুরোধ অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে।   অন্যদিকে, মানব পাচার মামলার ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী পলাতক আসামি মোল্লা নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে দেশে ফেরাতে গত ১৬ মার্চ কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ‘এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল’ পাঠানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে ‘এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল’ পাঠানো হয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশে থাকা অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৭, ২০২৬

তেল, গ্যাস আর বিদ্যুৎ নিয়ে দুষ্টু লোকেরা বলে ‘টুকু’ আসে ‘টুকু’ যায়: রুমিন ফারহানা

আমাকে যদি কথা বলতে না দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পোস্টাল ব্যালটে ভোটের সুযোগ থাকবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে

৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ

৬৪ জেলায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ। তাদের মধ্যে কেউ একটি, আবার কেউ দুই থেকে তিনটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমও তদারকি করবেন।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থের অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।   এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।   দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।   আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন মৌলভীবাজারের দায়িত্ব। মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম; এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।   জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।   শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন ঢাকা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।   পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।   ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব পেয়েছেন। মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরোনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন তারা। প্রয়োজন হলে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৭, ২০২৬
আদালতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ছবি: সংগৃহীত

জামিন চান না দীপু মনি, বললেন ‘বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। ফাইল ছবি

ডিসেম্বরেই হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আভাস সিইসির

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ পুলিশের ১৪ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল যুবকের

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাউসবোট থেকে পানিতে নেমে গোসল করার সময় ডুবে মারা গেছেন আব্দুল মাজেদ পিকলু (২৪) নামে এক যুবক। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পানির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার লামাগাঁও বাজার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পিকলু রাজশাহীর শাহমখদুম উপজেলার মধ্য নওদাপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।   স্বজন ও সহযাত্রীদের বরাতে জানা যায়, রাজশাহী থেকে ১০ বন্ধু মিলে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে বের হন। পথে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য তাদের হাউসবোটটি লামাগাঁও বাজার ঘাটে নোঙর করা হয়। এ সময় দলের কয়েকজন সদস্য বাজারে যান।   এর মধ্যেই পিকলু হাউসবোট থেকে পানিতে লাফ দিয়ে গোসল করতে নামেন। পানিতে নামার পর তিনি আর ভেসে ওঠেননি। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার বন্ধুরা ও স্থানীয়রা পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।   দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে পানির নিচ থেকে পিকলুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা এলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচন শুরু ডিসেম্বরে, সেপ্টেম্বরে তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: এক বছরে কমেছে খুন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতা

ফাইল ছবি

সংসদে হট্টগোল নিয়ে ক্ষুব্ধ স্পিকার, দিলেন কড়া বার্তা

0 Comments