জাতীয়

১৬ আগস্ট উদ্বোধন হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ৪ বছরে সুবিধা পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হচ্ছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে প্রকৃত দরিদ্রদের সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে সরকার।

 

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

 

মন্ত্রী জানান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম চালু হবে।

 

গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থা: 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বা গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ফলে কোনো পরিবার দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হলে, কিংবা পুনরায় দারিদ্র্যে নেমে এলে তা নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

 

রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়: মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

নারীর হাতে সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা: সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটির শিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি ব্যবহৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

 

পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল: সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশের কম ছিল।

 

পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ: সরকার জানিয়েছে, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

 

তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা: 

  • কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
  • ইউনিয়ন পর্যায়ে: প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন।
  • উপজেলা পর্যায়ে: ইউএনওর নেতৃত্বে কমিটি কাজ করবে।
  • জেলা পর্যায়ে: জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে।
  • বিভাগীয় পর্যায়ে: বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
  • জাতীয় পর্যায়ে: অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি থাকবে।
  • মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি করবেন।

 

একাধিক ভাতা নেওয়া ঠেকাতে সমন্বিত যাচাই: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, একই ব্যক্তি যেন একাধিক ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন মূল্যায়ন করা হবে, যাতে কর্মসূচিটি দারিদ্র্য কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে তা পরিমাপ করা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে সংসদীয় কমিটির শোক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করছে। কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী বুধবার এক শোক বার্তায় জানান, এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষমাণ পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংহতি ও সহমর্মিতার বিবৃতিকে কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে বাংলাদেশ গভীরভাবে অবগত একটি দেশ। তাই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও দেশের জনগণ নেপালের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার জন্য কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ​​​​​

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নেপালের আকস্মিক বন্যায় ভূমিধসে আটকে থাকা নারীকে উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহায়তার আশ্বাস

রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা নয়, চাই মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় ব্যারাকের ওয়াশরুম থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, এটি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।   বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে গাওছিয়া কমিটি চিলাহাটি শাখার উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের কৃষি, মাছ ও হাঁস চাষের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে। এর ফলে স্থানীয় মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পানি ও কৃষি সংকট অনেকটাই কমবে।   সার সংকট নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী: সারের সংকট প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিরোধীদল কৃত্রিমভাবে সার সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, আগের নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের বাতিল না করে শূন্য পদে নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পরিপত্রের পর তৃতীয় পরিপত্রের সময়সীমা বাড়িয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের কাছে সহজে সার পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।   ফ্যামিলি কার্ড নিয়েও বক্তব্য: ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে এ কর্মসূচি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হলেও ইতোমধ্যে ১০টি উপজেলার প্রায় ১৪টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে কার্ড পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নির্ধারিত পাঁচটি মানদণ্ডের মধ্যে প্রথম তিনটি মানদণ্ডে যারা পড়বেন, তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।   পানির স্তর কমে যাওয়ায় উদ্বেগ: পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, একসময় ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীরতায় টিউবওয়েলে পানি পাওয়া গেলেও এখন অনেক এলাকায় ২০০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষাসহ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   অভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ে অভিযোগ: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব নদীর অনেকগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ এখন আর নেই। তার দাবি, বিভিন্ন স্থানে বাঁধ, স্লুইসগেট ও ব্যারেজ নির্মাণের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ ও পানিসম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অনুষ্ঠানে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী, ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেয়াজুল ইসলাম কালুসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ড: নওগাঁর ৭ শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরছে বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

সাতকানিয়ায় বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল মেকানিকের

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ৫৫তম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত
২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র

ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও সেবার দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় কোরিয়া ভিসা আবেদন কেন্দ্র (কেভিএসি) চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস।  আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকার কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের বি অ্যান্ড টি নেহালিয়া টাওয়ারে কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হবে। দূতাবাস জানিয়েছে, কেভিএসি চালুর পর সাধারণ ভিসার আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুধু এই কেন্দ্রের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। তবে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া কূটনৈতিক ও সরকারি ভিসার আবেদন গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট বিতরণ আগের মতোই সরাসরি দূতাবাসে হবে। নতুন ব্যবস্থায় কেভিএসির মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে আবেদনকারীদের অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার তারিখ ও পদ্ধতিসহ বিস্তারিত তথ্য আগামীকাল ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে জানাবে দূতাবাস। তবে নোটারাইজেশন ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সেবা আগের মতোই দূতাবাস থেকে দেওয়া হবে। দূতাবাস জানিয়েছে, কেভিএসির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, কার্যক্রমের সময়সূচি, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি, ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি- সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পৃথকভাবে জানানো হবে। ভিসা আবেদনকারীদের এসব বিষয়ে দূতাবাসের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে: আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে মুখোশধারীরা ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী

রাতারাতি ‘বৈপ্লবিক পরিবর্তন’ আশা করতে পারি না: আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments