জাতীয়

সামনে অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে : তারেক রহমান

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫

সামনের দিনগুলো দেশের জন্য খুব একটা অনুকূল নয় উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে, বিভিন্ন জায়গায় নানা ষড়যন্ত্র চলছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপিই এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজন করা এ কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ের হাজারের বেশি ছাত্রদল নেতা অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি বলে আসছেন—সামনের সময় ভালো নয়। তবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায়। জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে তিনি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ বলে আখ্যা দেন। বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রথমেই দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে হবে, না হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিসহ সব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যেমন স্বৈরাচারের সময় আদালতকে প্রভাবিত করা হতো, এখন আদালত অনেকটাই স্বাধীন এবং সেই আদালতও দেখিয়েছে—বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগই ছিল প্রোপাগান্ডা। বিএনপিই দেশকে দুর্নীতি থেকে মুক্ত করতে সক্ষম, অতীতে যেমন করেছে।

সম্প্রতি কিছু গোষ্ঠীর ‘অমুককে দেখুন’ মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যাদের কথা বলা হচ্ছে তাদের দেশবাসী ১৯৭১ সালেই দেখেছে—কীভাবে লাখো মানুষ হত্যা করেছে এবং মা-বোনদের ইজ্জত লুট করেছে। রাজনৈতিক স্বার্থে এদের ভূমিকা জাতি ভুলে যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একটি ধর্মভিত্তিক দলের জান্নাতের গ্যারেন্টি দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটি নিয়ে কেউ প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। এমন দাবি শিরিকের পর্যায়ে পড়ে। ছাত্রদল নেতাদের তিনি বলেন, ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে জানাতে হবে—এ ধরনের কথায় বিশ্বাস করলে তারাও শিরিকে জড়িত হবে।

দেশ গড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো করতে চায় না; বরং চায় একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ—যেখানে কর্মসংস্থান থাকবে, মানুষ শান্তিতে বাঁচবে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

তিনি ছাত্রদলকে নির্দেশ দেন মানুষের দোরগোড়ায় যেতে, ঐক্য গড়ে তুলতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে। বাধা ও কঠিন সময় আসবে, তবু জনগণের শক্তিকে কেউ দমন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কবির রিজভী, সঞ্চালনা করেন হাবিব উন নবী খান সোহেল। বিএনপি ও ছাত্রদলের ঊর্ধ্বতন নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং পরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আলোচকরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সামান্য ঝড়েই বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পল্লী বিদ্যুতে গ্রাহকদের ক্ষোভ

একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে সারা বছর ধরে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে কম-বেশি অভিযোগ লেগেই থাকে। এছাড়া রাজধানীসহ শহর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলে।   এদিকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় শুক্রবার (২৯ মে) বিকালে ঝড় হয়। ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা সদর ছাড়াও পদ্মপুকুর, চাঁপাতলা ও কাশিপুরসহ আশপাশের সব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।   এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের অনেকেই তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা জানান।   এদিকে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কুরবানির মাংস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী উপজেলাবাসী। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ফ্রিজের ভেতরে থাকা মাংস নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।   গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য বাতাস কিংবা হালকা বৃষ্টিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।   ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।   গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়ে যায় বলে তারা জানান।   গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ নম্বরে যোগাযোগ করলেও সাধারণ গ্রাহকদের ফোন ধরেন না তারা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। আর এসব অভিযোগ শোনার মতো কেউ নেই।   আবার অনেক এলাকায় লাইন মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।   তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা ছিল। অনেকের বাসা-বাড়িতে কুরবানি হয়েছে। মাংস বিলি-বণ্টনও সম্পন্ন হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে মাংস ফ্রিজে রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাংস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সবাই।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ঝিকরগাছার ডিজিএম ইমাম হাসান যুগান্তরের যশোর ব্যুরোকে বলেন, ঝড়ে বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের উপর গাছ পড়েছে। এছাড়াও কয়েকটি জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে। এজন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গাছ ও ডাল অপসারণের কাজ চলছে। গাছের ডাল অপসারণ ও মেরামতে সময় লাগছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬

কুরবানির বর্জ্য রাস্তায়, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে

ডিএসসিসি ডাম্পিং করেছে ১৯ হাজার ৬৪১ টন কুরবানির বর্জ্য

ছবি: সংগৃহীত

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে স্কেল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। নতুন এই পে স্কেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন নিম্ন আয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনেও আসছে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।   গত ২১ মে সচিবালয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করতে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   নতুন পে স্কেলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং কম বেতনে কর্মরতদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।   নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগসহ সরকারি চাকরির সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানা গেছে।   এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে যেসব পেনশনার ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, নতুন পে স্কেল চালু হলে তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।   সরকার আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করতে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।  

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৮ জন

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

ফাইল ছবি।

যমুনা সেতুতে ৪ দিনে ১৪ কোটি টাকার টোল আদায়

আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড। ছবি: সংগৃহীত
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, তদন্তে নির্মাণ ত্রুটি শনাক্ত

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে নির্মাণত্রুটির প্রমাণ পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আগামীকাল শনিবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু নির্মাণগত ত্রুটি পাওয়া গেছে। সেগুলো নবজাতকদের চিকিৎসা পরিবেশে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলেছিল কিনা, তা তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা, বায়ু চলাচল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্ত কমিটি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছে। গত কয়েক দিনে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথকভাবে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। পরিবারগুলোর পক্ষ থেকেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানানো হয়। ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে দায়–দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও থাকবে।

মারিয়া রহমান মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কারাভোগ শেষে ভারতে থেকে দেশে ফিরলেন ৩৬ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত

এস আলম গ্রুপের সম্পদ জব্দ করল সাইপ্রাস

বাস্তবায়নের আগ মুহূর্তে পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন যারা। সংগৃহীত ছবি

বাস্তবায়নের আগ মুহূর্তে পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন যারা

0 Comments