খাদ্যে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান, মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই মহাপরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মজিবুর রহমানও অংশ নেন।
বৈঠকে খাদ্যবাহিত রোগ, খাদ্যে দূষণের ধরন ও এর ঝুঁকি এবং সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খাদ্যে বিভিন্ন দূষণের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা জানি; এখন এটিকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেই ব্যবস্থাই জরুরি। আমাদের সন্তান, বাবা-মা—সবারই ঝুঁকি রয়েছে। তাই আমাদের সবার স্বার্থেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্যে দূষণ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রমসংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। জরুরি উদ্যোগগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।
বৈঠকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্যবাহিত রোগ ও দূষণের বিভিন্ন উপাত্ত তুলে ধরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর ১০ জনের ১ জন শিশু অন্তত একবার খাদ্যবাহিত রোগে অসুস্থ হয়। আক্রান্ত প্রতি তিন শিশুর একজন মৃত্যুবরণ করে। বিশ্বে বছরে ৬০ কোটি এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি শিশু এসব রোগে আক্রান্ত হয়।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, খাবারে সাধারণত চার ধরনের দূষক পাওয়া যায়—ভারী ধাতু, কীটনাশক-জীবনাশকের অবশিষ্টাংশ, তেজস্ক্রিয়তা ও জৈব দূষক। গত অর্থবছরে ১,৭১৩টি এবং চলতি অর্থবছরে ৮১৪টি নমুনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। পরীক্ষাকৃত ১৮০টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে সিসা শনাক্ত হয়েছে।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউএমইএ সুইডেনের গবেষণায় পানি ও মাছের নমুনায় ৩০০ ধরনের ওষুধ, ২০০ ধরনের কীটনাশক এবং ১৬ ধরনের পিএফএএস পাওয়া গেছে। ইউনিসেফের জরিপে বলা হয়, বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটি শিশু সিসা সংক্রমণে আক্রান্ত। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, সিসা দেহে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক, যকৃত, কিডনি, হাড় ও দাঁতে জমা হয়। শিশুদের হাড় নরম হওয়ায় সিসা সরাসরি মস্তিষ্কে গিয়ে মানসিক বিকাশ ব্যাহত করে।
এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৫ শতাংশ গর্ভবতী নারীর শরীরেও সিসার সংক্রমণ রয়েছে। সিসা দূষণ কমাতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ১০ বছরের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানান, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রয়োজনীয় ল্যাব ও সক্ষমতা রয়েছে। খাদ্যে সিসার মাত্রা নিয়ে সমন্বিত গবেষণা শুরু করলে খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় প্রতিনিধিরা হাঁস-মুরগি, দুগ্ধজাত খাবার ও মাছের মাধ্যমে মানবদেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা জানান, অনেক পোলট্রি খামারে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক দিলে তা ৭ থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত দেহে থাকে। ২৮ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই মুরগি বাজারজাত করা হলে মানুষের দেহে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে।
বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে সতর্ক থাকলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নজরদারি এড়িয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পোলট্রি ফার্ম পরিচালনা করছে বলেও জানা যায়। কৃষিতে অবৈধ কীটনাশকের ব্যবহার রোধে ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ এবং আরও কীভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়—বৈঠকে এই বিষয়েও আলোচনা হয়।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে গিয়ে কখনো কখনো খাদ্যের নিরাপত্তার দিকটি উপেক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাঠ্যপুস্তকেও খাদ্য নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। এরপরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় নান্দাইল উপজেলা পরিষদে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় ডিলারদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকেও সার আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তাই সারের সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যাতে নির্ধারিত নিয়মে এবং ন্যায্য দামে সার পান, তা নিশ্চিত করতে ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হবে। সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন হলে নতুন ডিলার নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আসন্ন আমন মৌসুমে মাঠপর্যায়ে সারের সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাঈমা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলার এবং স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ১৫ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে ঘাটে আটকে থাকা পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে চিলমারী নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত চ্যানেল ড্রেজিং না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এ নৌপথে প্রায়ই ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। এতে পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে ঘাটে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় চালকদের। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। শুরুতে দুটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার করা হতো। একটি ফেরিতে ট্রিপপ্রতি ৮ থেকে ১৩টি পর্যন্ত পণ্যবাহী যান পারাপার করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে এ রুটে ‘কদম’ নামের একটি ফেরি থাকলেও নাব্যতা সংকটের কারণে সেটিও ১৪ আগস্ট থেকে চলাচল বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে ৫৪১ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ভোগান্তির বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা ট্রাকচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় প্রায় ১৫টি ট্রাক ফিরে গেছে। তিনি ঘাটে এসে ফেরি বন্ধ দেখে তাকেও ফিরে যেতে হচ্ছে। রংপুর থেকে আসা ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি সাত দিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছেন। ফেরি চালু হওয়ার কথা শুনলেও এখন পর্যন্ত তা চালু হয়নি। ফেরি না চললে ঢাকা যেতে তাকে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হবে, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে। স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আন্ধার মানিক’ নামের একটি শক্তিশালী ড্রেজিং মেশিন রয়েছে। সেটি দিয়ে নৌপথ খনন করা হলে দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট ও দুইশ বিঘা এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চললেও প্রয়োজনীয় আরও দুটি ড্রেজার পাঠানোর কথা থাকলেও তা এখনো পাঠানো হয়নি। কয়েক দিন আগে রৌমারী ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে তিনি ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ দেখতে পেয়েছেন বলেও জানান। অন্যদিকে ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর)-১০ চিলমারীর সমীর চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে ড্রেজিং বন্ধ রয়েছে। তবে দুইশ বিঘা এলাকায় খননকাজ চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আসাদুল ইসলাম, আনিছুর রহমান ও জাহিদসহ স্থানীয়দের দাবি, ড্রেজিংয়ের কাজে কেউ বাধা দেয়নি। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই খননকাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। তাদের ভাষ্য, এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধের পেছনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফেরি বন্ধ থাকলে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফেরি সার্ভিসটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে আধুনিক আবাসন নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে চীন। একবারে পুরো অর্থ দেওয়া সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় চীনের কাছে আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব তুলে ধরা হলে রাষ্ট্রদূত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চীনের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবটি তারা পর্যালোচনা করে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। মীর শাহে আলম বলেন, প্রকল্পের পুরো অর্থ একসঙ্গে বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অর্থায়ন করার কথা জানিয়েছে চীন। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনে ছোট আকারের আবাসিক ইউনিট থাকবে, যার আয়তন আনুমানিক ৬০০ থেকে ৬৫০ বর্গফুট। এসব ইউনিটে বর্তমানে বস্তিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে পুনর্বাসন করা হবে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসিত বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসিক কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের খরচ বাসিন্দাদের নিজেদের বহন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বস্তিগুলোতে যারা বসবাস করছেন তাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তালিকাভুক্ত কেউ যেন পুনর্বাসন কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে নতুন আবাসনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে বস্তিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও আধুনিক আবাসনের সুযোগ তৈরি হবে।