উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক। অভিযোগ উঠেছে, একটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালাল চক্র জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে, যেখানে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তিনজন যুবকও রয়েছেন। তাদের পরিবারগুলো বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার “জাবালে নুর” নামের একটি এজেন্সি এবং স্থানীয় দালাল রেজা ও মিজান তাদের বিদেশে ভালো চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠায়। চুক্তি অনুযায়ী জনপ্রতি প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং এক বছরের জন্য যুদ্ধ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাদের ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় রেখে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী রনি ফকিরের স্ত্রী জানান, তার স্বামীকে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি ফোনে জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং প্রশিক্ষণ চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সৌরভ মোল্লার বোন অভিযোগ করেন, তাদের ভাইকে একই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠায় এবং পরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানান তিনি।
পলাশ শেখের পরিবারও একই ধরনের তথ্য জানিয়ে বলেন, শুরুতে নিরাপদে পৌঁছানোর খবর পেলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, তাদেরও জোর করে সেনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার প্রতারণা কেন্দ্র থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। সোমবার (১৫ জুন) থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে গত তিন দিনে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মোট ১৪৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। ভুক্তভোগীদের একজন ইতোমধ্যে মানবপাচার ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর দালালচক্রের মাধ্যমে অনেককে বিভিন্ন সাইবার প্রতারণা চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়। ফেরত আসা কয়েকজনের দাবি, কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলেও তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো বলে অভিযোগ করেন তারা। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের বাধ্য করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তারা জানিয়েছেন। অভিবাসন ও মানবপাচারবিরোধী কর্মীরা বলছেন, সাইবার স্ক্যাম সেন্টার বর্তমানে মানবপাচারের একটি নতুন ও উদ্বেগজনক রূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই বিদেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, ভিসা ও চাকরির বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের ঘটনা বাড়ছে। তাই বিদেশগামী কর্মীদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মীদের বকেয়া বেতন আদায়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কর্মীরা সরাসরি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাওনা আদায়ের আবেদন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে তার কর্মচুক্তির বৈধতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। যদি চুক্তিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সরকারিভাবে নিবন্ধিত বা হালনাগাদ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি একটি কার্যকর আইনি দলিল হিসেবে গণ্য হবে। এরপর কর্মীকে ‘কিওয়া’ প্ল্যাটফর্মে গিয়ে চুক্তির অবস্থা যাচাই করতে হবে। যদি বেতন পরিশোধের নির্ধারিত সময় অতিক্রম করে ৩০ দিনের বেশি হয়ে যায় এবং নিয়োগকর্তা এখনো পাওনা পরিশোধ না করেন, তাহলে কর্মী ‘নাজিজ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি এনফোর্সমেন্ট বা বাস্তবায়ন আবেদন জমা দিতে পারবেন। নতুন ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো, পাওনা আদায়ের জন্য কর্মীদের আলাদা করে শ্রম আদালতে মামলা করতে হবে না। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বা সমঝোতা প্রক্রিয়ায় যাওয়ার প্রয়োজনও কমে আসবে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসী ও স্থানীয় উভয় কর্মীই দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের আর্থিক অধিকার সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শ্রম অধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনলাইনভিত্তিক এই ব্যবস্থা বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে, কারণ তারা সহজেই নিজ নিজ পাওনা আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।
কুয়েত সরকার নতুন করে ২ হাজার ১৯৩ জন ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাঁদের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া নির্ভরশীল সদস্যদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হবে। দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পুরোনো নাগরিকত্ব ফাইল পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আবেদন ও নথি পর্যালোচনা করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৪৬৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধাপে আরও বহু ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ পর্যন্ত কয়েক দশ হাজার মানুষ এই প্রক্রিয়ার প্রভাবের মধ্যে পড়েছেন। কুয়েতের জাতীয়তা আইন অনুসারে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ, জাল বা ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। এছাড়া বিবাহ বা বিশেষ প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের নথিও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। কুয়েত সরকার বলছে, নাগরিকত্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের একাংশ এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিলের ফলে অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে বসবাসকারী কিছু পরিবার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। নাগরিকত্ব পুনঃযাচাই কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।