দুই দশকের বেশি সময় ডব্লিউডব্লিউই-র ‘পোস্টার বয়’ জন সিনা। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে রেসলিং দুনিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করা এই মার্কিন সুপারস্টার এবার নামছেন ক্যারিয়ারের শেষ লড়াইয়ে।
‘দ্য লাস্ট টাইম ইজ নাউ’—নামের আসন্ন এই টুর্নামেন্টে সিনার সাথে লড়াই করতে ইচ্ছা পোষণ করেছেন ১৬ জন শীর্ষ রেসলার। আর সেই চূড়ান্ত লড়াই শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসিতে।
২০০২ সালে অভিষেকের পর ৮ হাজার ৫৭০ দিনে জন সিনা জিতেছেন রেকর্ড ১৭টি শিরোপা। ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’—এই ক্যাচফ্রেজ তাকে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী আলাদা পরিচিতি।
রেসলিং বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ডব্লিউডব্লিউই–এর সবচেয়ে বড় উপার্জনের মাধ্যম ছিলেন জন সিনা। টিভি রেটিং, ভিউ রাইটস বিক্রি এবং মার্চেন্ডাইজ—সবখানেই শীর্ষে ছিলেন তিনি।
অবসর নেয়ার প্রসঙ্গে সিনা বলেন, ‘এত বছর যখন একটা খেলার মধ্যে থাকবেন, তখন আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, আপনার শরীর ছেড়ে দিচ্ছে। তখন নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করবেন, এটার সঙ্গে ঠিক কত দিন লড়ব? আমার কাছে মনে হয়, তরুণদের জন্য মঞ্চটা ছেড়ে দেয়া উচিত।’
ভক্তদের কাছে সিনা শুধু একজন রেসলার নন—তিনি একজন অনুপ্রেরণা'র নামও বটে। দীর্ঘদিন ধরে কঠিন শারীরিক ও মানুষিক চাপ সহ্য করে রিংয়ে টিকে থাকাই তাকে করে তুলেছে ব্যতিক্রম।
রিংয়ের বাইরেও জন সিনা অনন্য। মেক-এ-উইশ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৬৫০টির বেশি শিশুর স্বপ্ন পূরণ করে সিনা গড়েছেন গিনেস রেকর্ড। চলচ্চিত্র, সংগীত ও শিশুতোষ বইয়েও রেখেছেন সরব উপস্থিতি।
বারবার অস্ত্রোপচার ও শারীরিক সমস্যার কারণেই অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। জন সিনা ঘোষণা দিয়েছেন—২০২৫ সালই রেসলার হিসেবে তার শেষ বছর।
শেষ ম্যাচে সিনার প্রতিপক্ষ—সাবেক বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন গান্থার। এই ম্যাচে কোনো সময়সীমা না থাকার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
‘ইউ ক্যান্ট সি মি’—এই ক্যাচফ্রেজ হয়তো আবার শোনা যাবে। তবে, জন সিনার শেষ লড়াই শুধু দেখা নয়, স্মরণীয় হয়ে থাকবে রেসলিং ইতিহাসে বলে আশা করছেন তার অগণিত ভক্তরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দীর্ঘ চার বছর পর পর বিশ্বকাপ আসে। আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা এবং স্পেন। ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি - বিশ্বকাপ। কিন্তু এই সোনালি, ঝকঝকে, আকর্ষণীয় ট্রফির উৎস, ইতিহাস বা ব্যাকগ্রাউন্ড কখনও জানার চেষ্টা করেছেন? গত ৯৬ বছর ধরে এই ট্রফি বিশ্বকাপজয়ী দলের হাতে উঠছে। এই ট্রফির নকশার নেপথ্যে রয়েছে এক ইতালীয় ভাস্করের অনন্য সৃষ্টিশীলতা এবং এক দীর্ঘ ইতিহাস। এই ট্রফির মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে তিন আবেগকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন ভাস্কর - ফুটবলারদের সংগ্রাম, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং জয়ের মুহূর্ত। মিলানের ব্রেরা এলাকার নিজের স্টুডিয়োতেই বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা তৈরি করেছিলেন ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৯৭০ সালে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল চিরস্থায়ীভাবে আগের ট্রফি নিজেদের দখলে করে নেওয়ার পর নতুন ট্রফির নকশার জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ফিফা। সেই প্রতিযোগিতায় গাজ্জানিগার নকশাই শেষপর্যন্ত নির্বাচিত হয়। তার নকশায় দেখা যায়, দুটি মানবমূর্তি সর্পিলভাবে উঠে গিয়ে পৃথিবীর মতো গোলাকার একটি জিনিসকে ধরে আছে। গাজ্জানিগার ছেলে জর্জিওর কথায়, তার বাবা অসংখ্য স্কেচ তৈরি করার পর এমন একটি নকশার কথা ভাবেন, যেখানে পৃথিবী এবং ডিএনএ-র মতো দুটি রেখা একসঙ্গে ফুটে উঠবে। সিলভিও গাজ্জানিগা ২০১৬ সালে প্রয়াত হন। তিনি জিডিই বের্তোনি সংস্থায় কাজ করতেন। শুধু বিশ্বকাপ নয়, উয়েফা কাপ এবং ইউরোপিয়ান সুপার কাপের মতো একাধিক মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিরও সৃষ্টিকর্তা তিনি। বিশ্বকাপের আগের ট্রফির ইতিহাসও কম রোমাঞ্চকর নয়। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের জন্য তৈরি সেই ট্রফিতে গ্রিক দেবী নাইকির প্রতিকৃতি ছিল। বিশ্বকাপের প্রতিষ্ঠাতা জুলে রিমের নামে ট্রফিটির নাম ছিল 'জুলে রিমে ট্রফি'। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রদর্শনীর সময় ট্রফি চুরি হয়ে যায়। পরে 'পিকলস' নামে একটি কুকুর দক্ষিণ লন্ডনের একটি ঝোপের নীচে ট্রফিটি খুঁজে পায়। তবে ১৯৮৩ সালে ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের সদর দফতর থেকে দ্বিতীয়বার চুরি যাওয়ার পর ট্রফিটি আর উদ্ধার হয়নি। ধারণা করা হয়, ট্রফি গলিয়ে ফেলা হয়েছে। গাজ্জানিগার নকশায় ফুটে উঠেছে জয়। ৫০টিরও বেশি নকশা জমা পড়লেও একমাত্র গাজ্জানিগাই পূর্ণাঙ্গ মডেল তৈরি করেছিলেন। তার ছেলে জর্জিও জানান, ‘ট্রফির নকশায় পৃথিবীকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। ফুটবলারদের শরীরের রুক্ষতা, পরিশ্রম, সংগ্রাম এবং জয়ের জন্য লড়াই ফুটে উঠেছে সেই ভাস্কর্যে। আর হাতগুলো একইসঙ্গে বিজয়ের প্রতীক এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে তুলে ধরেছে।’ বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফি ৩৬ সেন্টিমিটার উঁচু এবং ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। এর নীচের অংশে সবুজ ম্যালাকাইটের দুটি বলয় রয়েছে, যা ফুটবল মাঠের প্রতীক। তবে বিজয়ী দল আসল ট্রফিটি চিরস্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারে না। ফাইনালের পর ট্রফিটি ফিফার সুইজারল্যান্ডের সদর দফতরে ফিরে যায়। বিজয়ী দলকে দেওয়া হয় বিশ্বকাপ ট্রফির একটি রেপ্লিকা। ব্রাজিল তিনবার বিশ্বকাপ জেতার পর আগের ট্রফি পাকাপাকিভাবে নিজেদের করে নিয়েছিল। তবে ফিফা এখন আর তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের আসল ট্রফি দিয়ে দেয় না। ২০২৬ বিশ্বকাপ সহ এখনও পর্যন্ত ১৪টি বিশ্বকাপে গাজ্জানিগার নকশার ট্রফিই ব্যবহার করা হয়েছে। ফিফা অন্তত ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই ট্রফি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ ফাইনাল টেলিভিশনে পরিবারের সঙ্গে দেখেছিলেন জর্জিও গাজ্জানিগা। সেটাই ছিল তার বাবার তৈরি ট্রফি বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার তুলে ধরার মুহূর্ত। তবে তার মতে, আসল বিস্ফোরণ ঘটেছিল যখন মিউনিখে জার্মান দল ট্রফিটি তুলে ধরে এবং গোটা স্টেডিয়াম আনন্দে ফেটে পড়ে। তাঁর কথায়, ‘সেই মুহূর্তেই একটি বস্তু আইকনে পরিণত হয়।’
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। এই ম্যাচকে অনেকেই বলে থাকেন সান্ত্বনার লড়াই। দলগুলোর পাশাপাশি দর্শকেরও ম্যাচটি নিয়ে আগ্রহ কম থাকে। ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল তো জানিয়েই দিয়েছেন, তার দলের কোনো খেলোয়াড় ম্যাচটা খেলতে চায় না। তবে এবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি একেবারে গুরুত্বহীন নয়। দুই দলের অন্তত চার খেলোয়াড়ের কাছে ম্যাচটি গুরুত্ব পাচ্ছে। সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হলেও টুর্নামেন্টের অন্যতম মর্দাযাপূর্ণ পুরস্কার গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি তাদের। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের সামনে এখনও সুযোগ রয়েছে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি নিজের করে নেওয়ার। কারণ, এই ম্যাচের গোলও যোগ হয় টুর্নামেন্টের মোট গোলসংখ্যায়। অর্থাৎ, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও গোল্ডেন বুটের হিসাবেই ধরা হয়। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাদের দুজনেরই গোল ৮টি করে। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আপাতত এগিয়ে আছেন মেসি। নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের গোল ৭টি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই তার দলের বিদায় হওয়ায় আর গোল বাড়ানোর সুযোগ নেই এই ম্যানসিটি তারকার। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের গোলসংখ্যা ৬টি করে। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের গোল ৫টি করে। তাই ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচটি শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণের লড়াই নয়। এই ম্যাচটি গোল্ডেন বুটের ভাগ্যও অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে। ফিফার নিয়মানুযায়ী, একাধিক খেলোয়াড়ের গোল সমান গোল হলে প্রথমে তাদের অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। সেখানেও সমতা থাকলে দেখা হয় কে কম সময় খেলে সেই গোল করেছেন। অর্থাৎ, গোল্ডেন বুট নির্ধারণে ফিফার ক্রম হলো- সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট এবং সবচেয়ে কম খেলার সময়। এ কারণে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম এখনও গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে টিকে আছেন। এর আগেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী এই ম্যাচে গোল করেছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন জার্মানির টমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর (১৯৯৮), ইতালির সালভাতোরে শিলাচি (১৯৯০) ও ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন। এ ছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো (১৯৭৪), পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬) ও ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও (১৯৫৮) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও ওই গোল ছাড়াও তারা গোল্ডেন বুট জিততেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ চরমে। শিরোপার লড়াইয়ে স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম ও রিকার্ডো কাকা। শুক্রবার নিউইয়র্কে ফিফার এক অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রাজিলের সাবেক তারকা কাকা নির্দ্বিধায় স্পেনকে এগিয়ে রাখেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম কূটনৈতিক উত্তর দিলেও ব্যক্তিগতভাবে লিওনেল মেসির প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানান। বেকহ্যাম বলেন, স্পেন ও আর্জেন্টিনা—দুই দলই দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। তিনি ভালো একটি ফাইনাল দেখতে চান। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার প্রত্যাশা, মেসি যেন নিজের সেরাটা উপহার দিতে পারেন। বর্তমানে মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক বেকহ্যাম স্মরণ করিয়ে দেন, মেসি এখন তার ক্লাবের খেলোয়াড়। তিনি বলেন, এমন একজন কিংবদন্তিকে দলে পাওয়া ক্লাবের জন্য গর্বের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের প্রসার নিয়েও কথা বলেন বেকহ্যাম। তার মতে, তিনি যখন এমএলএসে খেলতে এসেছিলেন তখন লিগে দলের সংখ্যা ও অবকাঠামো ছিল সীমিত। এখন ক্লাব ও আধুনিক স্টেডিয়াম—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বকাপ এই উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে কাকা বলেন, লিওনেল মেসির মতো একজন ফুটবলার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। তবুও তার বিশ্বাস, এবারের স্পেন দল সামগ্রিকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। কাকার ভাষায়, ফ্রান্সের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করে স্পেন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। অনেকেই যেখানে ফ্রান্সকে ফেবারিট ভাবছিলেন, সেখানে স্পেন জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে উঠেছে। তাই শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় তিনি স্পেনকেই এগিয়ে রাখছেন।