হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স (জেনারেল লাইসেন্স) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এর জন্য তেহরানকে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। এ মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
এর আগে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বাতিল হওয়া লাইসেন্সের আওতায় অনুমোদিত ইরানি তেল-সংক্রান্ত লেনদেন শেষ করার জন্য ১৭ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন আলোচকরা আন্তরিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দোহা।
অন্যদিকে, সৌদি আরবও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে নৌচলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলে এমন সব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এসব হামলার দায় এবং এর সব ধরনের পরিণতির জন্য তেহরানকেই দায়ী করেছে রিয়াদ।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পর থেকে ইরান আন্তরিকতার সঙ্গে সব প্রতিশ্রুতি পালন করেছে। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সেই সমঝোতা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন বলেও অভিযোগ করেছে তেহরান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। রাশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় শহর নোভোরোসিস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রেতিয়েভ। শহরের মেয়র আন্দ্রে ক্রাভচেঙ্কো জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি আবাসিক ভবনের কাছে এসে পড়ে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রাতভর ইউক্রেনের ৫৯৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেনেও রাশিয়ার হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ কিপার জানান, মলদোভা সীমান্তের স্টারোকোজাচে আন্তর্জাতিক সড়ক চেকপয়েন্টে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং তিনজন আহত হন। এই হামলার পর ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী চেকপয়েন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। যুদ্ধের অবসানে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ইউরোপের প্রতি রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা নেই বলে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন পুতিন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, ওয়াশিংটন এখন ভূমির বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করে নিচ্ছে এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতা করছে। লাভরভের মতে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়া অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নরওয়ে সফর করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো হিমবাহ ধসের আগে ওই এলাকায় বছরের এই সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। এক গবেষকের আবহাওয়া-সংক্রান্ত বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় থাকা পাহাড়ের হিমবাহ এলাকায় ২১ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ওই সময়ের জন্য অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা। গত ৫৫ বছরেরও বেশি সময়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে সেখানে তাপমাত্রা কখনোই ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়নি। তবে এই অস্বাভাবিক গরমের সঙ্গে হিমবাহধসের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্কলি আর্থের প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোডে এই তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী,হিমবাহধসের স্থানে ২১ থেকে ২৬ আগস্টের গড় তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। রোডের হিসাব বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত উষ্ণতা না থাকলে এমন তাপমাত্রার পরিস্থিতি কয়েক হাজার বছরে একবার ঘটার মতো বিরল হতে পারত। ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ সংস্থার ১৯৭০ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হিমবাহধসের সময় লাংটাং অঞ্চলে ওই বছরের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ডের মধ্যে চতুর্থ উষ্ণতম। অতিরিক্ত গরম কি হিমবাহধসের কারণ? ফরাসি জলবায়ুবিদ ভ্যালেরি ম্যাসোঁ-দেলমোত বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পাহাড়ের জমাট মাটি বা ‘পারমাফ্রস্ট’ গলে যেতে পারে, যার ফলে পাহাড়ের ঢাল ও হিমবাহ একসঙ্গে ধসে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পারমাফ্রস্ট অনেকটা বরফের সিমেন্টের মতো কাজ করে, যা পাহাড়ের পাথর ও ঢালকে শক্ত করে ধরে রাখে। এটি গলে গেলে পাহাড় আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। দুর্যোগের কয়েক দিন আগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফ গলার প্রমাণও পেয়েছে স্যাটেলাইট। ফ্রান্সের সিএনআরএসের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এতিয়েন বের্তিয়ের বলেন, গলা বরফের পানি পাহাড়ের ফাটলে ঢুকে ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত করে বলছেন না যে তাপপ্রবাহই পাহাড়ধসের সরাসরি কারণ। গ্রেনোবল আল্পস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রূপ বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টেন কুক বলেন, শুধু তাপমাত্রা বেড়ে গেলেই পাহাড়ধস হয়—বিষয়টি এত সরল নয়। তার মতে, তাপমাত্রা যদি ধসের ট্রিগার হয়ে থাকে, তাহলে পাহাড়টি আগে থেকেই ধসের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল। গবেষকেরা এখন পাহাড়ধসের আগের বছরগুলোতে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নড়াচড়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখছেন। রবার্ট রোডের মতে, গলা বরফের পানি বা পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের ফাটলের আশপাশের পাথর উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটিই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হতে পারে।
ইরানের বিমান খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার আরোপ করা এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের বিমান সংস্থা এবং তেহরানের বিমান খাতকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানি ও মধ্যস্থতাকারীরাও রয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির নিষেধাজ্ঞা ও সন্ত্রাসবিরোধী দপ্তর ইরানের সক্রিয় বিমান সংস্থাগুলোর পাশাপাশি মাহান এয়ারকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানি ও মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উড়োজাহাজ, যন্ত্রাংশ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফ্রন্ট কোম্পানি, বিদেশি মধ্যস্থতাকারী এবং পণ্য পরিবহনের পথও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও ইরানের বিমান চলাচল নেটওয়ার্ককে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, সংগ্রহে সহায়তা ও সরবরাহসেবা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থাও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সতর্কতা জারি করেছে। এতে ইরানের বিমান খাতের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট এই অভিযান শুরু করে ওয়াশিংটন। এর লক্ষ্য ইরান সরকারের অর্থনৈতিক সম্পদ ও আর্থিক সহায়তার উৎসগুলো বিচ্ছিন্ন করা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি রয়েছে। মাহান এয়ারের ওপর এর আগেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১১ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সকে আর্থিক, বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে সংস্থাটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি