সোনালি রঙের গরম পরোটা বা পেস্ট্রির আকর্ষণ, আবার টাটকা সবুজ সালাদের সতেজ ভাব– আমরা অনেক সময় বুঝতে না পারলেও, আমাদের চারপাশের রঙ আমাদের মন, সিদ্ধান্ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ক্ষুধার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। কিছু রঙ আমাদের খেতে আরও আগ্রহী করে তোলে, আবার কিছু রঙ ক্ষুধা কমিয়ে দেয়।
যারা বাড়িতে রান্না করেন, তাদের জন্য রঙের এই প্রভাব জানা খুবই কাজে আসে। খাবারের রঙ ঠিকভাবে ব্যবহার করলে খাবার আরও আকর্ষণীয় ও তৃপ্তিদায়ক মনে হয়। আবার বেশি তেল-মশলাযুক্ত বা ভারী খাবার পরিবেশনের সময় এমন রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা অজান্তেই পরিমিত খেতে সাহায্য করে।
পারিবারিক অনুষ্ঠান, উৎসব বা বন্ধুদের আড্ডায় খাবার পরিবেশনের সময় রঙের মনস্তত্ত্ব বুঝলে পরিবেশের আমেজও সহজে ঠিক করা যায়। এই লেখায় আমরা দেখব - কোন কোন রঙ ক্ষুধা বাড়ায়, কোনগুলো কমায় এবং কীভাবে এগুলো রান্না ও পরিবেশনে কাজে লাগানো যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত রঙকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়
উষ্ণ রঙ : লাল, কমলা, হলুদ
ঠান্ডা রঙ : সবুজ, নীল, বেগুনি
একই খাবারকে আলাদা রঙের আলো বা ফিল্টারে দেখিয়ে মানুষের পছন্দ যাচাই করা হলে দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ উষ্ণ রঙের খাবারকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন। অর্থাৎ, উষ্ণ রঙ ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে।
লাল রঙ : ক্ষুধা সবচেয়ে বেশি বাড়ায়
লাল রঙ শরীরের হার্টবিট ও রক্তচাপ সামান্য বাড়ায়, ফলে শরীর সক্রিয় হয় এবং খাওয়ার আগ্রহ বেড়ে যায়। তাই লাল রঙকে সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষুধা উদ্দীপক ধরা হয়। টমেটো, লাল ক্যাপসিকাম, বিট, লাল মরিচ - এই সব খাবার শিশুদের প্লেটে রাখলে সবজি খাওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে।
কমলা রঙ : নজর কাড়ে এবং আড্ডা জমায়
কমলা রঙ আনন্দময় ও প্রাণবন্ত। এটি মানুষকে কথা বলতে, আড্ডা দিতে উৎসাহিত করে, যা পরোক্ষভাবে খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে পারে। গাজর, পাকা পেঁপে, কমলা, কুমড়া– এই রঙের খাবার থালাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
হলুদ রঙ : আনন্দ আর শক্তির প্রতীক
হলুদ রঙ সূর্যের আলো ও সুখের সঙ্গে যুক্ত। এই রঙ মানুষকে ভালো মুডে রাখে, ফলে অনেক সময় মানুষ না ভেবেই একটু বেশি খেয়ে ফেলে। হলুদ সাধারণত লাল বা কমলার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করলে ক্ষুধা ও মেজাজ দুটোই ভালো থাকে। (যেমন : হলুদ ডাল, লেবু, আম)
সবুজ রঙ : সতেজতা ও স্বাস্থ্য
সবুজ মানেই টাটকা, প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যকর। তবে সবুজ রঙ সব খাবারে সমান আকর্ষণীয় নাও লাগতে পারে। শাকসবজি, সালাদ বা ধনেপাতা দিয়ে সাজালে অতিথিদের কাছে খাবার স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর মনে হয়।
কিছু রঙ খাবারে খুব কমই প্রাকৃতিকভাবে দেখা যায়। তাই অবচেতন মনে এগুলো ক্ষুধা কমিয়ে দেয়।
নীল রঙ : খুব কম প্রাকৃতিক খাবারে পাওয়া যায়
প্রকৃতিতে নীল খাবার খুবই বিরল। তাই নীল রঙকে সাধারণত ক্ষুধা কমানোর রঙ ধরা হয়। এটি শান্ত ভাব তৈরি করে, কিন্তু খাওয়ার আগ্রহ বাড়ায় না।
বেগুনি রঙ : রাজকীয় হলেও সবার পছন্দ নয়
বেগুনি রঙের খাবার খুব কম— যেমন বেগুন, বেগুনি বাঁধাকপি, লাল পেঁয়াজ। অনেকেই এই রঙের খাবারে ততটা আকর্ষণ অনুভব করেন না।
কালো রঙ : খাবারে কম আকর্ষণীয়
কালো রঙ সাধারণত খাবারের প্রাকৃতিক রঙ নয়, তাই অনেকেই কালো খাবার এড়িয়ে চলেন। তবে থালা, প্লেট বা টেবিল সাজানোর ক্ষেত্রে কালো রঙ খাবারকে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারে।
বাদামি রঙ : আরামদায়ক বা অরুচিকর দুটোই হতে পারে
বাদামি রঙ রুটি, কেক, বিস্কুটের সঙ্গে মানানসই। তবে বেশি বাদামি দেখালে পোড়া বা অতিরিক্ত রান্না করা মনে হতে পারে। বেক করা খাবার ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে এই রঙ সীমিতভাবে ব্যবহার করাই ভালো।
খাবারের স্বাদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি খাবারের রঙও আমাদের ক্ষুধা ও অভিজ্ঞতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। লাল, কমলা ও হলুদের মতো উষ্ণ রঙ ক্ষুধা বাড়ায় এবং খাবারকে আকর্ষণীয় করে তোলে। অন্যদিকে নীল, বেগুনি বা কালোর মতো রঙ ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ভারতীয় উপমহাদেশে যেখানে খাবার মানেই রঙ, গন্ধ আর আনন্দ - সেখানে রান্না ও পরিবেশনের সময় রঙের সঠিক ব্যবহার খাবারের অভিজ্ঞতাকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। দৈনন্দিন খাবার হোক বা উৎসবের আয়োজন, রঙের ছোট্ট সচেতন ব্যবহারেই খাবার হয়ে উঠতে পারে আরও উপভোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও স্মরণীয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ (অষ্টম শ্রেণি) এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—দুই গ্রেডে মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও একই বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ লিখে ফল জানা যাবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে। জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা (বিষয় কোড ১০১), ইংরেজি (১০৭), গণিত (১০৯), বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ২০২৬।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলের সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য না করার আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-এর মাধ্যমে। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে ভুয়া নাম প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়রা মনোনয়ন পাচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। জামায়াতে ইসলামী বলেছে, দল একটি ইসলামী, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নসহ দলের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেওয়া হয়। আত্মীয়তা বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই। নারী সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া গঠনতান্ত্রিক ও মহিলা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হবে। সংগঠন দেশের মানুষকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। দায়িত্ব পেয়েই কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হলো। নবগঠিত কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে জায়গা পেয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। এই কমিটিতে সকল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ এক্স অফিসিও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন ও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং জেলার নেতৃবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা করবেন। পরে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড; যারা প্রার্থী হতে চান, প্রস্তুতি নিন। আমরা আসছি আপনার খোঁজে...।’