রাজধানীতে শুক্রবার ছুটির দিনে অন্তত সাতটি স্থানে হাতবোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এরমধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক হাতবোমা ফাটানো হয়েছে। কাফরুল থানার সামনে একটি বাস আগুনে পুড়েছে।
এসব ঘটনায় একজন রিকশাচালক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কারা এসব ঘটাচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগ রেলগেইট সংলগ্ন সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশের সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এরপর মধ্যরাত পর্যন্ত অন্তত আটটি জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
সন্ধ্যায় মহাখালী ও আগারগাঁও এলাকায় ককটেল ফাটানোর খবর জানায় পুলিশ।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর থেকে একটি হাতবোমা নিচে ফেলা হলে সেটি বিস্ফোরিত হয় বলে জানান বনানী থানার এসআই মো. তারেক।
তিনি বলেন, “কেউ উপর থেকে ককটেল নিচে মেরেছে। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে।”
প্রায় একই সময়ে আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে একটি হাতবোমা বিস্ফোরণের তথ্য দেন শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “একটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়েছি। পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে, বিস্তারিত তথ্য এখনো পাইনি।”
রাত পৌনে ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. হাসানুর বলেন, “একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছি, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।”
তবে কোন দিক থেকে কে বা কারা হাতবোমা ছুড়েছে, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

এরপরে রাতে মগবাজার চৌরাস্তা, বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ও রামপুরায় হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
হাতিরঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, রাত সোয়া ৯টার দিকে মগবাজার মোড় জামে মসজিদের পাশে একটি হাতবোমা বিস্ফোরণ হয়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা নেই।
বাবুবাজার ব্রিজের নিচে রাত ৮টার দিকে একটি হাতবোমা বিস্ফোরণ হয় বলে তথ্য দেন কোতোয়ালি থানার ওসি মো. রবিউল।
তিনি বলেন, “একটি বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। তবে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি।”
রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান ফটকের বিপরীত পাশের সড়কেও জোড়া হাতবোমা বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রাত ১১টার দিকে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, যেটি হাতিরঝিল থানা এলাকায় পড়েছে।”
এসব বোমাবাজির ঘটনার মধ্যে রাত সোয়া ১০টার দিকে কাফরুল থানার সামনে মিরপুর লিংক পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়ার কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মো. শাহজাহান ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার আট মিনিটের মধ্যে তাদের ইউনিট সেখানে পৌঁছায়। রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।”
কাফরুল থানার ডিউটি অফিসার রাতে বলেন, বাসটিতে কী করে আগুন লাগল, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কেটের আশপাশে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- তৈতুয়া গ্রামের মালু খার ছেলে শহিদুল খা, দক্ষিণ কসবা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে জুয়েল মিয়া, খারপাড়া গ্রামের রাব্বি মিয়া ও চড়নাল গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে রাশিদুল ইসলাম রাসেল। আহতদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল হক ইমুকে সভাপতি করে কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত একটি পক্ষ প্রতিবাদ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। বুধবার নতুন কমিটির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন নবগঠিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিরাজুল হক ইমু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের ছাত্রদলের আনন্দ মিছিলে বর্তমান কসবা-আখাউড়ার সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত চারজনই সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী। তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কসবা থানার ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবিতে ১৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিগবা, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা। তবে জুলাই সনদের আলোকে প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, গণভোটে ৬৯ শতাংশ মানুষের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। পিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিচার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন শিবির সভাপতি। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর প্রদান, পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে প্রার্থী বাদ দেওয়া এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পিএসসির সংস্কার উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, লিখিত পরীক্ষার খাতা কোডিং পদ্ধতিতে মূল্যায়ন, যোগ্যতাভিত্তিক সাক্ষাৎকার, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার এবং ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সহায়ক। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশের আহ্বান জানান। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত এক হাজার ২০০ জনের বেশি প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলেও অভিযোগ করেন শিবির সভাপতি। তার ভাষ্য, বাদ পড়া প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের প্ল্যাটফর্ম দাবি করছে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তও দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য ১৩টি প্রস্তাব তুলে ধরে ছাত্রশিবির। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদ অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার, নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রভাব বন্ধ, নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ। এ ছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে লিখিতভাবে কারণ জানানো এবং আপিল ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। মৌখিক পরীক্ষায় অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো চালু, অস্বাভাবিক নম্বর পর্যালোচনা, ভাইভার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং প্রশ্নফাঁস ও প্রক্সি ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। ছাত্রশিবিরের মতে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ভিত্তি হওয়া উচিত প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততা; রাজনৈতিক আনুগত্য বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়।
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম, এক সাংবাদিক এবং কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় ও ঢাকা আরিচা মহাসড়কে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে তারা পদ্মার মোড় ও মহাসড়কের পাশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শ্রমিকরা আশপাশের বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নেন। সেখান থেকে আবার সংগঠিত হয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে অবরোধ করেন তারা। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা সড়কে আটকা পড়েন। পুরো হেমায়েতপুর শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের মধ্যে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া দৈনিক কালবেলার সাভার প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির কাঁদানে গ্যাসের কারণে আহত হয়েছেন। কয়েকজন আন্দোলনকারীও একই কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালানোর ঘোষণা আন্দোলনরত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছেন। কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেশাররফ হোসেন বলেন, শ্রমিকরা হেমায়েতপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হেমায়েতপুর শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।