বিশ্ব

পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করেনি সৌদি আরব: মার্কিন প্রতিবেদন

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন তথ্য সামনে আসার পরই মার্কিন কংগ্রেসে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদির একটি পরমাণু শক্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়।

 

 

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদিতে কোটি কোটি ডলারের পারমাণবিক প্রকল্প করার সুযোগ পাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, এতে রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং সৌদি আরব পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য রাশিয়া বা চীনের ওপর ঝুঁকে পড়ার সুযোগ পাবে না।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, ওয়াশিংটন কখনোই কোনো দেশের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। অন্যদিকে, সৌদি আরব বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও তাদের জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন যে দেশের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে।

 

 


চুক্তির প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী সৌদি ৫ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে, যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রা সরাসরি অস্ত্র তৈরির মতো না হলেও, এর মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা বানানোর পথ ও সময় অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

 

 

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে এই চুক্তি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন সৌদির কাছে অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখাচ্ছে। বর্তমানে চুক্তিটি কংগ্রেসের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। 

 

 

 

এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শর্ত দিয়েছেন যে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেই কেবল এই পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে। তবে রিয়াদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হলে তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়বে না।

 

সূত্র: গালফ নিউজ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র পাচারের চেষ্টার পর একটি ড্রোন জব্দ। ছবি : আইডিএফ
জর্ডান সীমান্ত থেকে অস্ত্রভর্তি ড্রোন জব্দ করল ইসরায়েলি বাহিনী

জর্ডান সীমান্ত দিয়ে ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। রাতভর পরিচালিত অভিযানে অস্ত্রসহ ড্রোনটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।     আইডিএফের দাবি, নজরদারি ক্যামেরা এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করা ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। পরে দক্ষিণাঞ্চলীয় জর্ডান সীমান্তের দায়িত্বে থাকা ইয়োয়াভ আঞ্চলিক ব্রিগেডের সেনাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।       সেনারা সেখানে ড্রোনটি খুঁজে পায়। এতে নয়টি কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেল, সেগুলোর ম্যাগাজিন এবং একটি পিস্তল ছিল বলে জানিয়েছে আইডিএফ। জব্দ করা অস্ত্র ও ড্রোন পরবর্তী তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।     ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জর্ডান ও মিসর সীমান্ত দিয়ে ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলে অস্ত্র এবং কখনো মাদক পাচারের চেষ্টা হয়েছে।     এদিকে দক্ষিণ লেবাননের মানসৌরি শহরে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসে বড় ধরনের অভিযান শেষ করার দাবি করেছে আইডিএফ।       মানসৌরি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ লেবাননের বাফার জোনের মধ্যে অবস্থিত। প্রায় দুই মাস আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।     আইডিএফের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ৫৫তম রিজার্ভ প্যারাট্রুপার্স ব্রিগেড এবং অভিজাত ইয়াহালোম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের সদস্যরা মানসৌরিতে অভিযান চালান। এতে হিজবুল্লাহর ৬০০টির বেশি অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি সুড়ঙ্গও রয়েছে।       সেনারা নিরাপত্তা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে হিজবুল্লাহর ফেলে যাওয়া কয়েক ডজন রকেট লঞ্চারও খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি করেছে আইডিএফ।     ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মানসৌরিতে পরিচালিত এই ‘ব্রিগেড পর্যায়ের অভিযান’-এর লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা অঞ্চলে হিজবুল্লাহকে পুনরায় সংগঠিত হতে না দেওয়া।   সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইরান ইস্যু নিয়ে আমিরাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর গোপন সফর

সংগৃহীত ছবি

মঙ্গল গ্রহে নাসার কিউরিওসিটি রোভারে অদ্ভুত ছোট গর্তের সন্ধান

ইরাকে আমদানি করা পেট্রোল পাঠানো শুরু করেছে সিরিয়া

আকাশসীমার অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান, থমকে আছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউরেনিয়াম পরিবহনে বিঘ্ন ঘটেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা থাকলেও আকাশসীমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি।   বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে ফোনে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম আসেনি। পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, সেই সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি বলে জানান তিনি।    মন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়াম আসার নতুন তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।   বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে টেলিফোনে জানান, আমরা বিমানবন্দরে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা আমাদের জানান যে আকাশসীমা পরিষ্কার নয়। ফলে ইউরেনিয়াম পাঠানো সম্ভব হয়নি। এটি নতুন করে সময় নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন দেশ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, তা তারা জানাতে পারেননি।   রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি জানতে রোসাটমের এক প্রতিনিধিকে ইমেইল করেছে এএনআই। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পদ্মার তীরে রূপপুর গ্রামে নির্মিত হচ্ছে। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এটমিক এনার্জি কর্পোরেশনের (রোসাটম) কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পে দুটি তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ রিয়াক্টর ইউনিট নির্মিত হচ্ছে, যা সম্মিলিতভাবে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে।   এর আগে রাশিয়ার রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি তাজা জ্বালানি সমাহার বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভারী রুশ কার্গো বিমানে সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিল এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে তা হস্তান্তর করা হয়েছিল।    সূত্র: এএনআই

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করলেন নেতানিয়াহু: ইসরাইলি গণমাধ্যম

ইয়েমেনের তাইজ শহরে সৌদি হামলায় বহু হতাহত, দাবি হুথিদের

এক সেতুতে বদলে গেছে খুলনার সাত ইউনিয়নের চিত্র

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর টানা অভিযান, নিহত ৭১

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গত ৯৬ ঘণ্টায় ৭১ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, শাবানসহ বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এসব সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।   আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর জিয়ারাত ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর অভিযান আরও জোরদার করা হয়। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন শাবান’ ও বেলুচিস্তানের অন্যান্য এলাকায় গত ৯৬ ঘণ্টায় ৭১ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোয়েটার শাবান এলাকায় ভারতীয় মদতপুষ্ট ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর একাধিক আস্তানা শনাক্ত করে। আইএসপিআর দাবি করেছে, এসব আস্তানা স্থানীয় জনগণের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।   শাবানে অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং একাধিক আস্তানা ধ্বংস করে। তীব্র গোলাগুলির পর ৩৩ জন ‘ভারতীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর। এসময় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়।   আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় অভিযান আরও জোরদার করা হলে আরও ২৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সন্ত্রাসীদের হুমকি থেকে মুক্ত করেছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও জানানো হয়েছে।   এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর শাবান অভিযানে নিহত সন্ত্রাসীর সংখ্যা ১৩ জনে পৌঁছেছিল। পরদিন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ জনে। এছাড়া ২৫ সেপ্টেম্বর নোশকিতে পৃথক একটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে আরও ১১ জন ‘ভারতীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করে আইএসপিআর। ম্যান্ড এলাকায় আরও ৬ জন ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।   বিবৃতিতে পাকিস্তানের আইএসপিআর আরও দাবি করে, ভারতে সমর্থন ও মদতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আফগান তালেবান সরকারের সংশ্লিষ্টতা অব্যাহত রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে প্রাণহানি ঘটার পাশাপাশি পাকিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।   ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ শক্তি নিয়ে চলবে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিদেশী মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।   এদিকে, বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক অভিযানের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। প্রেসিডেন্সির এক বিবৃতিতে তিনি প্রদেশটির একাধিক সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংসকে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। বিদেশী পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশী সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল করতে পাকিস্তান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সন্ত্রাসীদের ‘অশুভ পরিকল্পনা’ নস্যাৎ করা হয়েছে। ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ ও ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’-এর সন্ত্রাসীদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।   সূত্র: ডন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করেনি সৌদি আরব: মার্কিন প্রতিবেদন

রাজনাথ সিং। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তায় ছাড় দেওয়া হবে না, পাকিস্তানকে কড়া বার্তা রাজনাথের

প্রতীকী ছবি

জার্মানির শ্রমবাজারে দক্ষ পেশাদারদের জন্য সাড়ে ছয় লাখ শূন্যপদ

0 Comments