ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন), চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাহারায় অংশ নিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষও।
লাঠিসোঁটা, বাঁশি ও শক্তিশালী টর্চলাইট নিয়ে রাতভর সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মেহেরপুর সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও টহল ও নজরদারিতে সক্রিয় রয়েছেন। অনেককে দলবদ্ধভাবে সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিতে দেখা গেছে।
তিন দিক দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত বেষ্টিত মেহেরপুর জেলার মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এবং বাকি সীমান্ত চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সকল বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এবং একটি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) থেকে প্রতিদিন টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্টে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে লোকসমাগমের তথ্য পাওয়ার পর সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির দাবি, যেসব এলাকা দিয়ে পুশইনের আশঙ্কা থাকে, সেসব স্থানে অনেক সময় ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতার সংলগ্ন আলোগুলো নিভিয়ে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত টহল, পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
কাথুলী সীমান্তের বাসিন্দা রনি বলেন, দেশ সবার, তাই দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদেরও দায়িত্ব। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে আমরা বিজিবিকে সহায়তা করছি। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে সারারাত পাহারা দিচ্ছি।
সহড়াতলা সীমান্তের বাসিন্দা সুজন বলেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমান্তবাসী সবসময় সচেতন। প্রতি রাতেই সাধারণ মানুষ বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি করছেন। সীমান্তের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা বিজিবির পাশে আছি। কোনোভাবেই যেন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা মাদক প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য পাহারায় অংশ নিয়েছি।
কাথুলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. অছিকুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফ নিয়ম না মেনে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। দুই দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই করে কাউকে ফেরত পাঠানো হলে সেটি ভিন্ন বিষয়। তবে অবৈধভাবে লোকজনকে সীমান্ত পার করার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল আহসান বলেন, সীমান্ত রক্ষা শুধু বিজিবির নয়, সবার দায়িত্ব। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশইনের চেষ্টার তথ্য পাওয়ার পর আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, মেহেরপুর সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকা আমাদের দায়িত্বে রয়েছে। বাকি অংশ চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির আওতাধীন। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পাটক্ষেত থাকায় দূর থেকে পর্যবেক্ষণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত সংলগ্ন আবাদি জমির কৃষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক পাচার বা পুশইন যাতে না হয়, সেজন্য স্থানীয়রা দলে দলে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় যোগ দিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাগান গেটের পাশ থেকে একদিন বয়সী মেয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকমৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) লাভলু। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটের দিকে আমরা খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় ওই মেয়ে শিশুকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, কে বা কারা ওই নবজাতক কে ফেলে গেছে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের সিসি ফুটেজ দেখে কে বা কারা নবজাতকের ফেলে গেল সেটিও দেখার চেষ্টা চলছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার পুখরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে জড়িতরা দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের গ্রাম্য আধিপত্যের বিরোধের জেরে হামিরদী ইউনিয়নের মৌজী মহসরদী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মানিকদী ইউনিয়নের পুখরিয়া, ব্রাহ্মণকান্দাসহ পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, পুখরিয়া বাসস্ট্যান্ড ও গ্রাম্য আধিপত্যকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কুমিল্লায় একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে এসে দুই বছরের এক কন্যাশিশুকে রেখে চলে গেছে একটি বিদেশি পরিবার। ওই পরিবারটি কাশ্মির থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে পুলিশ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে সকালে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার ‘জাইতুন রেস্তোরাঁয়’ সকালে নাশতা করার পর ভুলে শিশুসন্তান ফেলে গেছেন ওই ভিনদেশী পরিবার। প্রাথমিক তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, পরিবারটি কাশ্মির থেকে এসেছে। সকালে রেস্টুরেন্টে নাশতা খেয়ে ভুলবশত শিশুটিকে সেখানে রেখে চলে যায়। জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন জানান, ভারতের কাশ্মিরি একটি পরিবার শনিবার সকালে দুটি গাড়িতে করে প্রায় ১৫ জন সদস্য জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেন। তারা চলে যাওয়ার সময় ভুলবশত শিশুটিকে রেখে চলে যান। শিশুটি কথা বলতে পারে না। তার বয়স দেড় থেকে দুই বছর হবে। পরে আমরা থানায় জানিয়েছি। কুমিল্লা দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবরটি পেয়েছি। পরে সমাজসেবা অফিসারের মাধ্যমে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আসছেন, পথে আছেন। এসে পৌঁছালে আইনানুসারে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে। সদর দক্ষিণ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শামীমা শারমিন বলেন, পরিবারটিকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা কোথা থেকে এসেছেন, কোথায় যাচ্ছিলেন বিস্তারিত কিছুই জানতে পারিনি। তবে তারা কাশ্মিরি বলে জানতে পেরেছি। তারা এসে পৌঁছালে বিস্তারিত জানতে পারব।