বিশ্ব

পদত্যাগ করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম

মারিয়া রহমান জুন ০৬, ২০২৬
ফিরহাদ হাকিম। ছবি: সংগৃহীত
ফিরহাদ হাকিম। ছবি: সংগৃহীত

 

কলকাতা পৌরসংস্থার (কেএমসি) মেয়র হিসেবে দীর্ঘ আট বছরের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিলেন ফিরহাদ হাকিম। 


২০১৮ সালে যখন তিনি কলকাতার মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন শহরের একটা বিস্তীর্ণ অংশ, বিশেষ করে টালিনালা সংলগ্ন টালিগঞ্জ-যাদবপুর বেল্ট, বেহালার একাংশ এবং ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকাগুলো মারাত্মক পানীয় জলের সংকটে ভুগছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় দায়িত্ব নিয়েই তিনি এই সংকট দূরীকরণকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেন। 


সে সময় টালিগঞ্জ-যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তত ২০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ২৪.৩ মিলিয়ন গ্যালন ভূগর্ভস্থ জল তুলতে হতো। ভূগর্ভস্থ জলের ওপর এই নির্ভরশীলতা আগামী দুই বছরে ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল পৌরসংস্থা। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কেএমসি জল বৃদ্ধির বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে। 


যদিও কাজটি এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি, তবে এই বিশেষ প্রকল্পের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।


নাগরিকদের ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে মেয়রের উদ্যোগে ধাপা জল শোধনাগারের সম্প্রসারণ এবং গড়িয়ার ঢালাই ব্রিজে একটি নতুন জল শোধনাগার নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। টালিগঞ্জ-যাদবপুর বেল্টের বাসিন্দারা যাতে এই প্রকল্পের সুফল পান, তা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে এই অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৪০টি সেমি-আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার এবং ক্যাপসুল ওয়াটার বুস্টার পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। 


বিদায়লগ্নে নিজের এই কর্মযজ্ঞ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, তিনি নাগরিকদের, বিশেষ করে যারা এখনো ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়ার জন্য নিজের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন যে প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ শেষ করে যেতে না পারলেও ধাপা এবং ঢালাই ব্রিজের জল শোধনাগার দুটি প্রায় সমাপ্তির পথে এবং অদূর ভবিষ্যতেই নাগরিকরা এর সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেন।


পানীয় জলের পাশাপাশি কলকাতার দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলমগ্নতা’ বা ওয়াটারলগিং সমস্যা দূরীকরণেও বিদায়ী মেয়র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিশেষ তহবিল এনে গত তিন বছরে কলকাতার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করেছে কেএমসি-র ড্রেনেজ বিভাগ। খিদিরপুর-একবালপুর অঞ্চলের মানুষকে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ইতোমধ্যে একবালপুরের নবাব আলী পার্ক ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও তারাতলা, গার্ডেনরিচ এবং আমহার্স্ট স্ট্রিটে আরও তিনটি পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ বর্তমানে চালু রয়েছে।


তবে বিদায়ের মুহূর্তে ফিরহাদ হাকিম তার স্বপ্নের প্রকল্প ‘হৃষিকেশ পার্ক ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন’-এর উদ্বোধনকালে মেয়র পদে থাকতে না পারায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ঠনঠনিয়া, সুকিয়া স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট এবং কলেজ স্ট্রিটের বাসিন্দাদের তীব্র জল জট থেকে মুক্তি দিতেই তিনি আমহার্স্ট স্ট্রিটে এই পাম্পিং স্টেশনটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি জানতে পেরেছিলেন যে কলকাতার তৎকালীন মেয়র নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জলমগ্নতা থেকে মুক্তি দিতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাই এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই তিনি নিজে এই ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।


শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়েও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন বিদায়ী মেয়র। কলকাতার একমাত্র বর্জ্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড ধাপার আধুনিকীকরণের প্রস্তাব তিনি অনুমোদন করে গেছেন। কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, তা থেকে যাতে সম্পদ তৈরি করা যায়, তার জন্য একটি ‘নতুন ধাপা’ গড়ে তুলতে রাজ্য অর্থ দপ্তরের কাছে তহবিল বরাদ্দের চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। 


পৌরসংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ইতিমধ্যে আবর্জনাকে সার, কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) এবং প্লাস্টিকের আসবাবে রূপান্তরিত করার বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই ধরণের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ আরও বাড়িয়ে তুলতে ধাপার পাশেই আরও একটি বড় জমি চিহ্নিত করা হয়েছে, যা কলকাতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে। জনমুখী উদ্যোগ, ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি নাগরিক সংযোগ এবং কলকাতার পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের এই আট বছরের মেয়াদ কলকাতার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সংগৃহীত ছবি
'ইরান না পারলে এই অঞ্চলের কেউ তেল রপ্তানি করতে পারবে না'- আলি আকবর দারেইনি

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক ও লেখক আলি আকবর দারেইনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং অঞ্চলটি একটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে তাহলে এই অঞ্চলের কেউ তা পারবে না। আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানান তিনি। শনিবার (৬ মে) সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকারে আলি আকবর দারেইনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান কার্যকলাপ আমাদের একটি বৃহত্তর যুদ্ধের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তেও আমরা একটি স্বল্প মাত্রার যুদ্ধের মধ্যে আছি, ফলে এখন কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। ইরান তিনটি জিনিস চাইছে বলে জানান দারেইনি। বলেন, ‘প্রথমত, জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক থেকে প্রবেশ এবং দক্ষিণ দিক থেকে বের হওয়ার জন্য ইরানের নির্ধারিত করিডোর দিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরান যে পরিষেবা দিচ্ছে তার জন্য ট্যাক্স দিতে হবে এবং তৃতীয়ত, জাহাজগুলো এমন কোনো পণ্য বহন করতে পারবে না, যা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে অথবা দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান এই শর্তে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে যেতে দিচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে ইরান এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিক, আর একারণেই বাড়ছে উত্তেজনা।’ ইরানের সক্ষমতার বিষয়েও মন্তব্য করেন এই গবেষক। বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের লঙ্ঘনকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়ার চেয়ে ইরান তার প্রতিশোধের পরিধি বাড়াতেই বেশি পছন্দ করছে, এমনকি তা বড় আকারের যুদ্ধের দিকে গড়ালেও ইরান তা করবে। ইরানের রেড লাইন স্পষ্ট, আর তা হলো- ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তবে এই অঞ্চলের কেউই তা পারবে না।’

মারিয়া রহমান জুন ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জয়সওয়াল

ছবি : সংগৃহীত

আসছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, দিনেও নেমে আসবে অন্ধকার

ছবি : সংগৃহীত

গাজায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫

ছবি : সংগৃহীত
দলীয় বিদ্রোহের আবহে মমতার রুদ্ধদ্বার বৈঠক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক চাপে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সীমিতসংখ্যক নেতাকে নিয়ে তার কালীঘাটের বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। আমন্ত্রিত নেতাদের সংখ্যা সীমিত থাকায় বৈঠকটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায় সাবেক বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেন, স্বরূপনগরের বিধায়ক বীণা মণ্ডল, লোকসভার সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবেক মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্ধ্র প্রদেশের দুই সাবেক বিধায়ককে। ক্ষমতা হারানোর পর ২ জুন কলকাতায় বড় ধরনের এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজপথে আন্দোলনে ফেরার পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। ওই সমাবেশে তিনি ‘লড়ব অথবা মরব’ বলে অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল নেতাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং দলীয় কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নির্বাচনে ‘ভোট লুট’ করার পর বিজেপি তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ২ জুনের ওই কর্মসূচিতে দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র আটজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন সোভানদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, অসীমা পাত্র, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষ।   এ ছাড়া দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, মানেকা গুরস্বামী এবং নাদিমুল হককেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যায়। সমাবেশে বিধায়ক ও সাংসদদের কম উপস্থিতিকে দলের ভেতরের সংকটের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪ মে বিজেপির কাছে নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।   এ সংকট এখন পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি পেরিয়ে সংসদীয় দলেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে,  দলের ২৩ জন সাংসদ বিদ্রোহী বিধায়ক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংসদীয় দলেও ভাঙন দেখা দিতে পারে।   দলের এই বিভাজনের সূত্রপাত হয়, যখন ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা হিসেবে তুলে ধরেন। পরে বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ গেল ৭ মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প-খামেনি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করলেন আরাগচি

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত ৫ দেশ

ছবি: সংগৃহীত
পুতিনের সামনে কেন সম্মানজনক বিদায়ের পথ নেই

 জঁ–পল সার্ত্রের অন্তহীন নরক নিয়ে অস্তিত্ববাদী নাটক ‘নো এক্সিট’ ১৯৪৪ সালের মে মাসে প্যারিসে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন পঞ্চম বছরে পা দিতে যাচ্ছে। নাটকে দেখা যায়, সদ্য মৃত তিন লোক নরকের এক কক্ষে বন্দী হয়ে আছেন, নিজেদের জীবনের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন। সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।   ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে রুশ কর্তৃপক্ষ যদি মস্কোতে সার্ত্রের এই নাটক মঞ্চস্থ করার অনুমতি দিত, তাহলে যে কেউ জিজ্ঞেস করতে পারেন, ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সাধারণ রুশরা নাটকটি দেখে কী ভাবতেন।   প্রায় সিকি শতাব্দী ধরে পুতিন রাশিয়াতে যে চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা জারি রেখেছেন, সেটা ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর যেন অদ্ভুত স্থিতিশীলতায় পৌঁছে গেছে। গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, এটা যে সবার জন্যই ফাঁদ।    আপাতদৃষ্টিতে সব শান্ত বলে মনে হবে। পুতিন এই ব্যয়বহুল যুদ্ধের অর্থ জোগানোর পথ খুঁজে পেয়েছেন, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকিয়েছেন, এবং নগদ বোনাসের লোভ দেখিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন নিয়োগ দিচ্ছেন। রাশিয়াও সবার সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। যদিও সম্প্রতি কিছু অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে, তবু পুতিন আত্মবিশ্বাসী যে এসব এখনো তাঁর নিয়ন্ত্রণে।   সেনাবাহিনীতে নতুন নিয়োগ রাশিয়াকে কিছুটা সুবিধা দিলেও, এটা রুশদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার তো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত হবে। এ ধরনের কিছু বিজয় নিশ্চিত তো করবেই না, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পক্ষ থেকে তীব্র সামরিক জবাবের ঝুঁকি থাকবে। এমনকি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে।   পুতিন ইউক্রেন থেকে চাইলেই সেনা প্রত্যাহার করতে পারছেন না। রাশিয়া যদি বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী কোনো সমঝোতা মেনে নেয়, তবে কেবল দক্ষিণ ইউক্রেনের সংকীর্ণ এক ফালি ভূখণ্ড ছাড়া পুতিনের ঝুলিতে দেখানোর মতো তেমন কিছুই থাকবে না। কেবল তাঁর আত্মম্ভরিতায় আঘাতই নয়, এত স্বজন হারানোর পর এই ছোট অর্জন রুশ নাগরিকদের সামনে উল্টো এই যুদ্ধের অর্থহীনতাকেই প্রমাণ করবে। তখন তাঁর দুর্বল কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং আত্মম্ভরিতা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড় সংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে।     পুতিন নিজেকেই কৌশলের ফাঁদে ফেলে দিয়েছেন। কেবল নিজেকেই নয়, পুতিনবাদের পুরো প্রকল্প যদি তাঁর মেয়াদের পরও টিকে থাকে, সেখানেও অন্তহীন যুদ্ধের বোঝা রয়ে যাবে। পুতিনের আদর্শের যেকোনো ভবিষ্যৎ নেতাই যখন দেখবেন একটি ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ইউক্রেন পশ্চিমা নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং পুরো ইউরোপ সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবেন না।   যদি পুতিনের যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ না থাকে, তাহলে রাশিয়ার সাধারণ জনগণের পুতিনবাদের বাইরেও যাওয়ার উপায় নেই আর। রাশিয়ার সাম্প্রতিক গণ-অসন্তোষকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এই অসন্তোষ বাস্তব, কিন্তু এর মূল নির্যাস হলো এই হতাশা যে পুতিনবাদ তার সব ব্যর্থতা সত্ত্বেও যেন এক অন্তহীন সত্য বলে মনে হচ্ছে।   আজ প্রেসিডেন্টকে কোনো যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন সামলাতে হচ্ছে না, কোনো বিরোধী দলও নেই। ইচ্ছামতো রুশ নাগরিকদের দমন করতে পারেন। এমনকি দৈনন্দিন কাজকারবারও এই শাসনব্যবস্থাকে যুদ্ধ এগিয়ে নিতে ও নিপীড়নকে প্রশ্রয় দিতে সহায়তা করে। অধিকাংশ রুশকে কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রের কাজ করতে হয়। বেসরকারি খাতও সরকারের অধীন। তবু রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে তাদের কোনো মতামত নেই।   সামগ্রিকভাবে এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব। প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেই। তাঁর শাসনের অবসান বা প্রতিস্থাপন করার কোনো দৃশ্যমান পথ নেই। এই পরিস্থিতিতে মৌখিক প্রতিবাদের ঝলক দেখা দিলেও সেগুলোকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।   ১৮ এবং ১৯ শতকের বিপ্লবের তাত্ত্বিকেরা ‘ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা’র গুরুত্বকে অনুঘটক হিসেবে দেখতেন। মানুষ যখন বুঝতে পারে যে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ সম্ভব, তখন তারা সেই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়। উদাহরণস্বরূপ ১৯৮৯ সালের পূর্ব ইউরোপীয় বিপ্লবগুলোর কথা বলা যায়। মিখাইল গর্বাচেভের গ্লাসনস্ত এবং পেরেস্ত্রোইকার প্রতিশ্রুতির পরপরই এটা সংগঠিত হয়েছিল।   রুশ জনগণের প্রত্যাশা যেন সীমিত থাকে, সে ব্যাপারে পুতিন তৎপর। আধুনিক, সমৃদ্ধ ও উন্মুক্ত রাশিয়ার যে ওয়াদা ছিল, সেটা স্বৈরতন্ত্র ও অন্তহীন যুদ্ধের চাপে তলিয়ে গিয়েছে। এই অস্বস্তিকর ভারসাম্য চিরকাল চলতে পারে না। সোভিয়েত পতনের পর পুতিন ও পুতিনবাদের প্রাথমিক ওয়াদা ছিল—প্রকৃত স্বাধীনতা না মিললেও, একটি আরামদায়ক পরিবেশ ও উন্নত জীবনযাত্রা এবং দক্ষ শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু পুতিন নিজেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে চরম কর্তৃত্ববাদী হিসেবে গড়ে তুলেছেন, মাঝারি মানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।   অন্যদিকে, দুর্বল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছেন, যা বুমেরাং হয়ে খোদ রাশিয়ার দিকেই আঘাত হানছে। রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের একেকটি আঘাত যেন রুশ নাগরিকদের ভালো থাকাটাকেও ক্রমশ ক্ষয় করে দিচ্ছে।   রাশিয়ায় একটি দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য এখন ‘পুতিনবাদে’র সম্পূর্ণ অবসান প্রয়োজন। বর্তমান ব্যবস্থাটি যতই তার বৈধতা ও কার্যকারিতা হারাবে, পুতিন-পরবর্তী ক্ষমতার দখল নেওয়ার লড়াই ততই তীব্র রূপ ধারণ করবে। যখন সেই সময় আসবে, তখন সেই বছর বিশেক আগে যে স্থিতিশীলতাকে পুতিন চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, সেটাও পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পরিস্থিতি সামাল দিতে আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি : ট্রাম্প

যুদ্ধের প্রভাবে আরও কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে : জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের এলপিজি রপ্তানি নেটওয়ার্কে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

0 Comments