রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে তার মেস থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে থাকা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, সাবেক শিক্ষার্থীর নাম আকাশ চন্দ্র সরকার। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে।
সহপাঠীরা জানিয়েছে, আকাশ চন্দ্র সরকারের মেস পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া থানার ভাট্টিখানা এলাকায়।
আকাশ চন্দ্রের মৃত্যুর বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী আকাশ চন্দ্র সরকার ভাই কিছুক্ষণ আগে ইন্তেকাল করেছেন। আকাশ ভাইয়ের লাশ নিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে যাওয়া হচ্ছে। এখানে ময়নাতদন্ত (Post-mortem) শেষে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যোগ দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্তকে আটক করে সিএমপির ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডিবি সূত্র। র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) এমদাদুল হক বলেন, শহরে র্যাবের নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির খবর পেয়ে র্যাবের পেট্রোল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র্যাব সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।’ স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে চেয়ারম্যানঘাটার বিসমিল্লাহ ম্যানশন নামের একটি ভবনের সিঁড়িঘরে তিন বছরের এক শিশুকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে আসেন এবং অভিযুক্তকে আটকে ভবনটি ঘিরে ফেলেন। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা শুরু হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়িটি অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার জন্য তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত ৮টার দিকে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। জবাবে এলাকাবাসীও পুলিশকে লক্ষ্য করে চারদিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
ফুটবল বিশ্বকাপের এখনও বাকি প্রায় তিন সপ্তাহ। তবে ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের হাওয়া। চলছে উন্মাদনা। সমর্থকরা জানান দিতে শুরু করেছে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। কাজেই দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। তাই আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপকে ঘিরে নওগাঁতেও শুরু হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। তবে এবার শত্রুতা নয়, বরং এক অনন্য সম্প্রীতির চিত্র দেখা গেল জেলার পোরশা উপজেলায়। সেখানকার কাচারী পাড়া গ্রামের ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ প্রিয় দল ব্রাজিলের সমর্থনে টানিয়েছে ৪০০ ফুট দীর্ঘ একটি পতাকা। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো পতাকাটি তৈরিতে ব্রাজিলের পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। আমাদের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই যেখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কথার লড়াই আর উত্তেজনা, সেখানে কাচারী পাড়া গ্রামের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই পতাকা নির্মাণ ও টাঙানোর পেছনে অবদান রেখেছেন আল আমিন, নাকিব, শামীমের মতো কট্টর ব্রাজিল ভক্তরা; আবার সমান তালে সহযোগিতা করেছেন মঞ্জিল ও মাসরুলের মতো কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও। উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সবার সামনে ও সম্মানের স্থানে রেখে তার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ব্রাজিলের পতাকাটি। উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের কাচারী পাড়া গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকার ছোট-বড় সবাই মিলে নিজেদের পকেট থেকে চাঁদা তুলে সাড়ে আট হাজার টাকা ফান্ড তৈরি করেন। সেই অর্থ দিয়েই তৈরি করা হয় ৪০০ ফুটের বিশাল এই ব্রাজিলিয়ান পতাকা। এলাকার আমিনুল ইসলাম বাচ্চু মাস্টারের বাড়ি থেকে শুরু করে রাশেদা মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত পুরো এলাকা এখন এই পতাকা শোভা পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রিয় তারকা ও স্ট্রাইকার নেইমার জুনিয়র দলে থাকায় স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এখন আকাশচুম্বী। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা বলেন- এখানে আমরা যারা কাজ করেছি, সবাই শুধু ব্রাজিলের সমর্থক নই। আমাদের মধ্যে আর্জেন্টিনার সমর্থকও আছেন। বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ। আমরা সবাই মিলেমিশে একসাথে খেলা উপভোগ করতে চাই এবং এই আনন্দঘন মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই সকলে মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছি। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের প্রচলিত নিয়ম মেনে এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সমুন্নত ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে যদি কেউ নিজ পছন্দের দলের পতাকা টাঙায়, তাতে কোনো আইনি বাধা নেই। আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধের জায়গা থেকে ফুটবলকে ঘিরে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে তিনি স্বাগত জানান। তবে একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে ইউএনও বলেন, সমর্থকদের প্রিয় দল নিয়ে কোনো ধরনের হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগেই নওগাঁর পোরশার এই সম্প্রীতির বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। ফুটবল যে কেবল বিভেদ নয়, বরং মিলনমেলাও তৈরি করতে পারে তা-ই প্রমাণ করল কাচারী পাড়ার যুবসমাজ।
বিকেলের নরম আলো তখন সাতাশ মৌজার মাঠজুড়ে। আর এই মাঠে মঞ্চে দেশের প্রথম ‘জাতীয় দুর্যোগ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছে। চারদিকে উৎসবের আমেজ, স্লোগান আর করতালির শব্দ। কিন্তু ঠিক তার পরের মুহূর্তেই যেন পুরো আয়োজনটির আবহ বদলে গেল। একটি সাধারণ উপহার কীভাবে একটি আস্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে এক মুহুর্তেই আবেগ আর ইতিহাসের মহাকাব্যে রূপ দিতে পারে, আজ বুধার গাজীপুরবাসী দেখল তারই এক পরম দৃশ্যপট। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন একটি বিশেষ স্মারক। মখমলের আবরণে ঢাকা সেই উপহারটি যখন উন্মোচন করা হলো, তখন মঞ্চে বসা খোদ সরকারপ্রধানও হয়তো ভাবেননি তার জন্য কী বিস্ময় অপেক্ষা করছে। সেটি ছিল ১৯৭৮ সালের এক খণ্ড জীবন্ত দলিল— তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এক ঐতিহাসিক স্মারক চিহ্ন। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান গাজীপুরকে মহকুমা ঘোষণা করে এই অঞ্চলের আধুনিকায়নের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ের একটি স্মারক যখন তারই পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে পৌঁছাল, তখন চারপাশের প্রটোকলের দেয়াল যেন নিমেষেই ভেঙে গেল। প্রধানমন্ত্রী স্মারকটি হাতে নিয়ে আলতো করে আঙুল বুলালেন। রাষ্ট্রনায়কের চাদর গলে তখন বেরিয়ে এলেন এক আকুল পুত্র। পরম মমতায় তিনি পিতার স্মৃতিচিহ্নটি ছুঁয়ে দেখলেন, যেন ওই জড় বস্তুর ভেতরেই তিনি খুঁজে ফিরছিলেন তার বীর পিতার অস্তিত্ব, তার কর্মময় জীবনের সেই চিরচেনা অনুভূতি। উপস্থিত হাজারো মানুষ দেখল, কিছুক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্তব্ধ হয়ে রইলেন, তার চোখ জুড়ে নেমে এলো স্মৃতিকাতরতার এক অবাধ্য আবেগ। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সাধারণত দামী বা প্রথাগত ক্রেস্ট দেওয়ার যে চল, তার বাইরে গিয়ে জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগটি ছিল অনন্য। উপহারদাতার এই গভীর সংবেদনশীলতা ও দূরদর্শিতার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে মঞ্চেই তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। গাজীপুরের সাতাশ মৌজা থেকে যখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিল, তখন তার সাথে ছিল এক নতুন ইনস্টিটিউটের স্বপ্ন, আর হৃদয়ের খুব কাছে যত্ন করে রাখা পিতার এক টুকরো অমলিন স্মৃতি।