বিশ্বকাপের বছরে দেশের হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পারেননি গোল করতে। মূল মঞ্চে এসে সেই খরা কী দারুণভাবেই না কাটালেন আর্লিং হলান্ড। তার কাঁধে চড়ে, ইরাককে সহজেই হারিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার উপলক্ষ রাঙাল নরওয়ে।
ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ‘আই’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতেছে ইউরোপের দেশটি। নরওয়ের দুটি গোল করেন হলান্ড, একটি লিও আস্টিগোর।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে এই নরওয়ে দলটি হয়ে উঠতে পারে টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স।’ দাপুটে জয়ে শুরুতেই এর প্রমাণ দিল তারা।
দেশটিকে এর আগে সবশেষ বিশ্বকাপ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স আসরে। এদিনের নরওয়ের একাদশের পাঁচ জনেরই সেই সময় জন্মই হয়নি, তাদের একজন হলান্ডও।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দেশের মানুষকে ২০তম মিনিটেই গোল উপহার দিতে পারতেন হলান্ড; তবে ভালো পজিশনে বল পেয়েও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। দলকে এগিয়ে নিতে খুব বেশি সময় অবশ্য নেননি ম্যানচেস্টার সিটি তারকা।
প্রথম ‘কুলিং ব্রেকের’ পর পুনরায় খেলা শুরু হতেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের গোলমুখে বাড়ানো বল কিছুটা স্লাইডের মতো করে জালে পাঠান হলান্ড।
আধুনিক ফুটবলের এই গোলমেশিনের জাতীয় দলের হয়ে গোল হলো ৫৬টি, ৫১ ম্যাচেই।
১০ মিনিট পরেই অবশ্য দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে সমতা টানে ইরাক। বাঁ দিকের বাইলাইনে থেকে সতীর্থের কাটব্যাক ক্রস পেয়ে, সবার ওপরে লাফিয়ে জোরাল হেডে গোলটি করেন আইমেন হুসেইন।
জাতীয় দলের হয়ে এই স্ট্রাইকারের গোল হলো ৩৩টি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা দেশটির দ্বিতীয় গোল। এর আগে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছে তারা, ১৯৮৬ আসরে। সেবার তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারের পথে একবার বল জালে পাঠিয়েছিল দলটি।
নিজেদের ভুলে চার মিনিটের মধ্যে আবার পিছিয়ে পড়ে ইরাক। সতীর্থের দুর্বল ব্যাক পাস ক্লিয়ার করতে বিলম্ব করেন দলটির গোলরক্ষক জালাল হাসান। ছুটে গিয়ে বলে আলতো একটা টোকা দেন হলান্ড এবং সেই মুহূর্তে শট নেন জালাল। ফলাফল, বল হলান্ডের পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
আত্মঘাতী ওই ভুলের পর যেন তেতে ওঠে ইরাক। বিরতির আগের কয়েক মিনিটে একের পর এক আক্রমণ করে তারা। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আকরাম হাশিমের জোরাল ভলি ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে পারে নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার খেলার গতি কমে যায়। তেমন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই দ্বিতীয় পানি পানের বিরতি চলে আসে।
প্রথমার্ধের মতো এবারও বিরতি শেষে পুনরায় খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে গোলের দেখা মেলে। মার্টিন ওদেগোরের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান লিও আস্টিগোর।
কিছুক্ষণ পর হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারতো হলান্ডের। তবে তার কোনাকুনি শট আটকে দেন গোলরক্ষক।
যার গোলে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল ইরাক, সেই আইমেন হুসেইনের নাম শেষ দিকে স্কোরলাইনে ওঠে আত্মঘাতী গোলদাতা হিসেবে। গোলরক্ষক বল পাঞ্চ ঠিকমতো করতে পারেননি, গোলমুখেই বল হুসেইনের গায়ে লেগে গোললাইনে পেরিয়ে যায়।
১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হলান্ড। ৩২ বছর পর, আরেকটি বিশ্বকাপে সেই যুক্তরাষ্ট্রেই আলো ছড়ালেন তার ছেলে আর্লিং হলান্ড।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ। এবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হচ্ছে টি-টোয়েন্টিতে। একপাশে ফর্মে থাকা বাংলাদেশ, আরেক পাশে কিছুটা টালমাটাল অস্ট্রেলিয়া। তবে অস্ট্রেলিয়া তো অস্ট্রেলিয়াই। বরাবরের মতই শক্তিশালী দল অজিরা। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশও কম যাচ্ছে না। ঘরের মাঠে এই ফরম্যাটে বেশ ভালো ফর্মে আছে টাইগাররা। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজ করেছে ১-১ ড্র। তবে এর আগে নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ইতিহাস আছে বাংলাদেশের। এশিয়া কাপেও প্রায় ফাইনালে চলেই গিয়েছিল। যদিও পাকিস্তানের কাছে হেরে তা করা হয়নি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা বরাবরের মতই পেস বোলিং ইউনিট। কিউই সিরিজে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানা না থাকলেও এবার ফিরছেন সবাই। সাথে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আবদুল গাফফার সাকলাইন হতে পারেন ট্রাম্পকার্ড। ফর্মে আছেন শরিফুল ইসলামও। এই পাঁচজনের মধ্যে কোন ৩ জনকে খেলানো হবে তা বড় এক চিন্তার ব্যাপার টাইগার টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য। যদিও এই চিন্তা ভালো চিন্তাই। আপাতদৃষ্টিতে তাসকিন, মুস্তাফিজের সাথে তৃতীয় পেসার হিসেবে শরিফুল ইসলাম কিছুটা এগিয়ে। তবে নাহিদ রানাকেও ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। লিটন দাস কিছুটা চোটে ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেছেন খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। ভাইরাল জ্বরে ভুগছেন পারভেজ হোসেন ইমনও। লিটন খেলতে না পারলে অধিনায়কের দায়িত্বে দেখা যাবে তাওহিদ হৃদয়কে। স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে সৌম্য সরকারকেও। তবে লিটন ইমন দুজনই খেললে ৩ এবং ৪ নম্বরে থাকবেন দুজন। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সাথে সাইফ হাসান খেলছেন প্রায় নিশ্চিত। পাঁচে হৃদয়ের সাথে ছয়ে থাকবেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ৩ পেসারের সাথে ২ স্পিনার হতে দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন শেখ মেহেদী হাসান এবং রিশাদ হোসেন। বেঞ্চে থাকতে হতে পারে নাসুম আহমেদ। টাইগার পেস ইউনিটের সাথে স্পিন ইউনিটও দারুণ ছন্দে আছে। রিশাদ, মেহেদীরা ঘরের মাঠে দারুণ ধারাবাহিক। মেহেদী পাওয়ারপ্লের সাথে কার্যকরী ডেথেও। রিশাদের লেগ স্পিন সামলানোও কঠিন হবে। অজি শিবিরে স্বস্তির বাতাস মিচেল মার্শের ফেরা, সাথে দলে আছেন টিম ডেভিডও। বিগ ব্যাশে রিশাদের সাথে হোবার্ট হারিকেন্সে খেলা নিখিল চৌধুরী আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। বিগ ব্যাশে হোবার্টের জার্সিতে দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন নিখিল। অভিষেকটা হয়ে যেতেই পারে। পেস ইউনিটে জাভিয়ের বার্টলেট, নাথান এলিস, স্পেনসার জনসনরা কার্যকরী হতে পারেন চট্টলায়। লেগি অ্যাডাম জাম্পা তো থাকছেনই। চট্টগ্রামের উইকেট বরাবরই রানপ্রসবা। এবারও সেরকম উইকেটই থাকার কথা। সেক্ষেত্রে আগে ব্যাট করলে বড় রান তোলা এবং পরে ব্যাট করলে বড় পুঁজি তাড়া করা – দুই কাজেই নিজেদের পারদর্শী করতে হবে বাংলাদেশকে। সর্বশেষ বেশ কিছু সিরিজে ব্যাটাররা ভালোই ঝলক দেখিয়েছেন। সেই ধারা অজি সিরিজেও ধরে রাখার পালা এবার। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ দুপুর ২টায় মাঠে গড়াচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ। একনজরে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ বাংলাদেশ : সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক এবং অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা/শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়া : মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জশ ইংলিস (অধিনায়ক), কুপার কনোলি, ম্যাট রেনশ, নিখিল চৌধুরী/জোয়েল ডেভিস, টিম ডেভিড, অ্যারন হার্ডি, জাভিয়ের বার্টলেট, নাথান এলিস, স্পেনসার জনসন, অ্যাডাম জাম্পা।
বিশ্বকাপের বছরে দেশের হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পারেননি গোল করতে। মূল মঞ্চে এসে সেই খরা কী দারুণভাবেই না কাটালেন আর্লিং হলান্ড। তার কাঁধে চড়ে, ইরাককে সহজেই হারিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার উপলক্ষ রাঙাল নরওয়ে। ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ‘আই’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতেছে ইউরোপের দেশটি। নরওয়ের দুটি গোল করেন হলান্ড, একটি লিও আস্টিগোর। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে এই নরওয়ে দলটি হয়ে উঠতে পারে টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স।’ দাপুটে জয়ে শুরুতেই এর প্রমাণ দিল তারা। দেশটিকে এর আগে সবশেষ বিশ্বকাপ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স আসরে। এদিনের নরওয়ের একাদশের পাঁচ জনেরই সেই সময় জন্মই হয়নি, তাদের একজন হলান্ডও। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দেশের মানুষকে ২০তম মিনিটেই গোল উপহার দিতে পারতেন হলান্ড; তবে ভালো পজিশনে বল পেয়েও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। দলকে এগিয়ে নিতে খুব বেশি সময় অবশ্য নেননি ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। প্রথম ‘কুলিং ব্রেকের’ পর পুনরায় খেলা শুরু হতেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের গোলমুখে বাড়ানো বল কিছুটা স্লাইডের মতো করে জালে পাঠান হলান্ড। আধুনিক ফুটবলের এই গোলমেশিনের জাতীয় দলের হয়ে গোল হলো ৫৬টি, ৫১ ম্যাচেই। ১০ মিনিট পরেই অবশ্য দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে সমতা টানে ইরাক। বাঁ দিকের বাইলাইনে থেকে সতীর্থের কাটব্যাক ক্রস পেয়ে, সবার ওপরে লাফিয়ে জোরাল হেডে গোলটি করেন আইমেন হুসেইন। জাতীয় দলের হয়ে এই স্ট্রাইকারের গোল হলো ৩৩টি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা দেশটির দ্বিতীয় গোল। এর আগে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছে তারা, ১৯৮৬ আসরে। সেবার তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারের পথে একবার বল জালে পাঠিয়েছিল দলটি। নিজেদের ভুলে চার মিনিটের মধ্যে আবার পিছিয়ে পড়ে ইরাক। সতীর্থের দুর্বল ব্যাক পাস ক্লিয়ার করতে বিলম্ব করেন দলটির গোলরক্ষক জালাল হাসান। ছুটে গিয়ে বলে আলতো একটা টোকা দেন হলান্ড এবং সেই মুহূর্তে শট নেন জালাল। ফলাফল, বল হলান্ডের পায়ে লেগে জালে জড়ায়। আত্মঘাতী ওই ভুলের পর যেন তেতে ওঠে ইরাক। বিরতির আগের কয়েক মিনিটে একের পর এক আক্রমণ করে তারা। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আকরাম হাশিমের জোরাল ভলি ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে পারে নরওয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার খেলার গতি কমে যায়। তেমন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই দ্বিতীয় পানি পানের বিরতি চলে আসে। প্রথমার্ধের মতো এবারও বিরতি শেষে পুনরায় খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে গোলের দেখা মেলে। মার্টিন ওদেগোরের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান লিও আস্টিগোর। কিছুক্ষণ পর হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারতো হলান্ডের। তবে তার কোনাকুনি শট আটকে দেন গোলরক্ষক। যার গোলে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল ইরাক, সেই আইমেন হুসেইনের নাম শেষ দিকে স্কোরলাইনে ওঠে আত্মঘাতী গোলদাতা হিসেবে। গোলরক্ষক বল পাঞ্চ ঠিকমতো করতে পারেননি, গোলমুখেই বল হুসেইনের গায়ে লেগে গোললাইনে পেরিয়ে যায়। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হলান্ড। ৩২ বছর পর, আরেকটি বিশ্বকাপে সেই যুক্তরাষ্ট্রেই আলো ছড়ালেন তার ছেলে আর্লিং হলান্ড।
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, জীবনেরই অংশ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের দুই স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই খেলাটি সাধারণত অন্য নামে পরিচিত। সেখানে ফুটবলকে বলা হয় ‘সকার’। কিন্তু কেন? আর এই শব্দটি কি অন্যান্য ফুটবলপ্রেমী দেশের মানুষের কাছে বিরক্তিকর? এ বিষয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক স্টেফান শিমানস্কি। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই গবেষক বলেন, ‘ফুটবল’ ও ‘সকার’ শব্দ নিয়ে বিতর্কটি তার কাছে সবসময়ই অদ্ভুত মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বন্ধুদের জিজ্ঞেস করতে শুরু করি—তোমাদের কি মনে আছে? হয়তো আমার স্মৃতি ভুল। শব্দটি নিয়ে কি কখনও সমস্যা ছিল? আমি অনেকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলি। সবার মতামত ছিল, ১৯৭০-এর দশকে ‘‘সকার’’ শব্দটি নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না।’ এই কৌতূহলই পরে তার গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে। শিমানস্কির মতে, ফুটবলের শুরুর যুগে এটি ছিল বেশ ‘অভিজাত’ একটি খেলা। তিনি বলেন, ‘১৮৬৩ সালে ইংল্যান্ডে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা, যারা দেশের অভিজাত পাবলিক স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করেছিলেন।’ ‘এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা’র লেখক জন এম কানিংহামের তথ্য অনুযায়ী, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নিয়মে খেলা এই খেলাটি পরিচিতি পায় ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’ নামে। এই নামের আরেকটি উদ্দেশ্যও ছিল। সেটি হলো তখনকার আরেক জনপ্রিয় খেলা রাগবি থেকে এটিকে আলাদা করে চিহ্নিত করা। শিমানস্কি বলেন, ‘তখন দুটি খেলা ছিল। একটি ছিল রাগবি ফুটবল এবং অন্যটি ছিল অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল।’ ‘ব্রেকার’, ‘রাগার’ থেকে ‘সকার’ ১৮৮০ ও ১৮৯০-এর দশকে ধনী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে শেষে ‘-er’ যোগ করার একটি চল ছিল। এটি ছিল এক ধরনের ছাত্র-স্ল্যাং। শিমানস্কি বলেন, ‘তারা ‘‘ব্রেকফাস্ট’’ না বলে বলত ‘‘ব্রেকার’’ (brekker)।’ একইভাবে রাগবিকে তারা ‘রাগার’ (rugger) বলতে শুরু করে। তাহলে ‘সকার’ শব্দটি কোথা থেকে এল? শিমানস্কি বলেন, এ নিয়ে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, যদিও তিনি সতর্ক করে দেন, ‘এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত কেউ নন।’ ধারণা করা হয়, সেই সময়ের শিক্ষার্থীরা ‘association’ শব্দের মাঝখান থেকে ‘soc’ অংশটি নিয়ে তার সঙ্গে ‘-er’ যোগ করেন। এভাবেই তৈরি হয় ‘soccer’ শব্দটি। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে কেউ জানে না। তবে সবাই একমত যে শব্দটির উৎপত্তি অক্সফোর্ডে। বিভিন্ন নথিপত্রে প্রমাণ পাওয়া যায় যে অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরাই শব্দটি তৈরি করেছিলেন।’ ইংল্যান্ড থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে ক্রীড়া ইতিহাসবিদ অ্যান্ডি মিচেলের মতে, ১৮৮৫ সালের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্তত তিনটি স্কুল ম্যাগাজিনে ‘soccer’ বা ‘socker’ শব্দের ব্যবহার পাওয়া গেছে। নিজের ব্লগ ‘স্কটিশ স্পোর্ট হিস্ট্রি’-তে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ধারণা, ‘‘soccer’’ ও ‘‘rugger’’ শব্দ দুটি এরও আগে কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হতো এবং ১৮৮৫ সালের শুরুতেই কোনো এক অজানা প্রকাশনায় ছাপা হয়েছিল।’ সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘socker’ বানানটি হারিয়ে যায়, কিন্তু ‘soccer’ টিকে থাকে। খেলাটির মতোই শব্দটিও বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং কানাডাসহ অনেক দেশেই ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কেন ‘ফুটবল’ নয়? যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফুটবল’ বলতে বোঝানো হয় আমেরিকান ফুটবলকে। শিমানস্কি বলেন, ‘সবকিছুই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমেরিকান ফুটবল রাগবি থেকে বিকশিত হয়েছে, তবে এতে সকারেরও কিছু উপাদান রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুটি খেলা অনেকটা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মতো। আর এ কারণেই ১৮৮০ ও ১৮৯০-এর দশকে যখন ‘সকার’ শব্দটি তৈরি হচ্ছিল, প্রায় একই সময়ে আমেরিকান ফুটবলও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।’ গবেষণা অনুযায়ী, ব্রিটিশ সংবাদপত্রগুলো ‘ফুটবল’ শব্দকে বেশি গুরুত্ব দিলেও ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত ‘সকার’ শব্দটিও নিয়মিত ব্যবহার করত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ফুটবল’ শব্দটিই প্রধান পরিচয়ে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের সময় এখনও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ওঠে বলে জানান শিমানস্কি। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রায়ই ‘সকার’ শব্দ ব্যবহার করার পর ক্ষমা চেয়ে বলে, ‘দুঃখিত, আমি আসলে ফুটবল বলতে চেয়েছিলাম।’ কারণ তারা মনে করে ব্রিটিশরা এ বিষয়ে সংবেদনশীল। ‘আর তারা ভুলও নয়—কিছু ব্রিটিশ সত্যিই এ বিষয়ে সংবেদনশীল।’