দক্ষিণ আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। মাঠের চিরবৈরী এই দুই প্রতিবেশীর বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে অবস্থানও সম্পূর্ণ বিপরীত। মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক সংকট ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল ইস্যুতে লাতিন আমেরিকার এ দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই সুর বাজাচ্ছে।
একদিকে, ব্রাজিল (Brazil) যখন ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও গাজায় চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে; তখন আর্জেন্টিনা (Argentina) বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বরাজনীতিতে দুই প্রতিবেশীর এই কূটনৈতিক বৈরিতা এখন আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে থাকার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ব্রাজিলের। বিশেষ করে বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভার আমলে এই অবস্থান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট রূপ নিয়েছে।
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি
ব্রাজিলের ফিলিস্তিনপিন্থি অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ ছিল ২০১০ সাল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভার সরকার ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে (Palestine) একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। ব্রাজিলের এই সিদ্ধান্তের পর লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, যাদের মধ্যে আর্জেন্টিনাও ছিল। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের পক্ষে একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় ছিল।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই
২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের (Israel) বিরুদ্ধে অন্যতম সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে ব্রাজিল। প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ (Genocide) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এটি কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, এটি একটি আধুনিক যুগের সুপরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
২০২৪ সালের শুরুতে ইথিওপিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে লুলা ডি সিলভা গাজার পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের ইহুদি নিধনের (হলোকস্ট) সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের পর ইসরায়েল লুলাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিল সরকার তেল আবিব থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ব্রাজিলে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে নেমে আসে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ‘গণহত্যা’ মামলায় সমর্থন
২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা দায়ের করে, ব্রাজিল শুরু থেকেই তাতে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়। শুধু মুখে সমর্থন দিয়েই ব্রাজিল ক্ষান্ত থাকেনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিজে (ICJ) বিধির ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে এই মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করে। এর মাধ্যমে ব্রাজিল ‘গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার’ আইনি লড়াইয়ে সরাসরি অংশীদার হয়।
আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলপন্থি অবস্থান সবসময় এমন ছিল না। তবে অতি-ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ক্ষমতায় আসার পর আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আসে। মিলেই নিজেকে ইসরায়েলের একজন ‘কট্টর মিত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
মিলেইয়ের ইসরায়েল সফর এবং কান্নায় ভেঙে পড়া
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাভিয়ের মিলেই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরের জন্য ইসরায়েলকে বেছে নেন। জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেওয়ালে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ঘোষণা করেন, আর্জেন্টিনা কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, আধ্যাত্মিকভাবেও ইসরায়েলের পাশে রয়েছে। এমনকি মিলোই নিজে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর
ইসরায়েল সফরকালে মিলেই একটি বড় কূটনৈতিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আর্জেন্টিনার দূতাবাস তেল আবিব থেকে বিতর্কিত শহর জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করা হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হলেও মিলেই যুক্তরাষ্ট্রের (ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের সিদ্ধান্ত) পথ অনুসরণ করে ইসরায়েলকে খুশি করতে এই সিদ্ধান্ত নেন।
হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে আর্জেন্টিনার সরকার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে হামাসের সব আর্থিক সম্পদ আর্জেন্টিনায় ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর্জেন্টিনা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার অবস্থান স্পষ্ট।
জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘না’ ভোট
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যখনই গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতি বা ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো প্রস্তাব আনা হয়েছে, আর্জেন্টিনা হয় তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, নয়তো ভোটদানে বিরত থেকেছে। যেমন—২০২৫ সালের জুনে সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনকে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে আনা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা সরাসরি বিপক্ষে ভোট দেয়। এছাড়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্ব বন্ধের আন্তর্জাতিক প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয় বুয়েনস আয়ার্স।
আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রশাসন মনে করে, ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার’ রয়েছে এবং এই অধিকারের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক চাপ থাকা উচিত নয়।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এই সম্পূর্ণ ভিন্নমুখী অবস্থানের পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:
আদর্শিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা
ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা একজন প্রগতিশীল বামপন্থি নেতা। লাতিন আমেরিকার বামপন্থিদের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি একটি আত্মিক ও রাজনৈতিক সহমর্মিতা রয়েছে, যা তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেখে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই একজন কট্টর ডানপন্থি এবং উগ্র-পুঁজিবাদী নেতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে ‘মুক্ত পৃথিবীর’ বাতিঘর মনে করেন এবং তাদের সঙ্গে কৌশলগত জোট বাঁধাকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছেন।
জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি
ব্রাজিল এবং চিলির মতো লাতিন দেশগুলোতে বিশাল আরব ও ফিলিস্তিনি অভিবাসী (Diaspora) জনগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। এর বিপরীতে, আর্জেন্টিনায় লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস (প্রায় আড়াই লাখ)। ফলে আর্জেন্টিনার রাজনীতিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বেশ জোরালো। তাছাড়া, প্রেসিডেন্ট মিলেই নিজে খ্রিষ্টধর্মে বড় হলেও ইহুদি ধর্মের প্রতি তার গভীর অনুরাগ রয়েছে, এমনকি প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হতে চান বলে জানিয়েছেন।
ইতিহাসের ক্ষত
আর্জেন্টিনা অতীতে সরাসরি দুটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিল। ১৯৯২ সালে বুয়েনস আয়ার্সে ইসরায়েলি দূতাবাসে এবং ১৯৯৪ সালে একটি ইহুদি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভয়াবহ বোমা হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হন। আর্জেন্টিনা সরকার এই হামলার জন্য ইরান ও হিজবুল্লাহকে দায়ী করে থাকে। মিলেই প্রশাসন এই ঐতিহাসিক ক্ষতকে সামনে এনে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তামূলক জোটকে বৈধতা দিচ্ছে।
লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তির ভিন্ন ভিন্ন নীতি পুরো অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। ব্রাজিল যখন গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, আর্জেন্টিনা তখন লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থের প্রধান পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে।
ফুটবলের মাঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ দর্শকদের আনন্দ দিলেও, বিশ্বরাজনীতির এই মঞ্চে তাদের মধ্যকার ফিলিস্তিন-ইসরায়েল কেন্দ্রিক কূটনৈতিক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লাতিন আমেরিকার ভূমিকাকে এক নতুন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেসে (ডিসিএএস) চুপিসারে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করে হতাহতের এই হিসাবে পরিবর্তন এনেছে। গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নতুন হিসাবকে মূলত মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, কাকতালীয়ভাবে ঠিক ওই দিনটিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর দাবি করেছিলেন। শনিবার হালনাগাদ করা পেন্টাগনের নতুন তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে সিএনএনের পর্যবেক্ষণে আহতের সংখ্যা ৪৮২ জন থাকলেও, নতুন তালিকায় তা এক লাফে ১৪০ জনের বেশি বেড়েছে। ফিরে এসেছে বাদ পড়া নিহত চার সেনার নামও। জর্ডান ও উত্তর ইরাকে প্রাণ হারানো সেনারাও এই তালিকায় রয়েছেন। গত সপ্তাহে ডেটাবেসে হতাহতের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেলে ১২ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চান। জবাবে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ সামাজিক মাধ্যমে এটিকে নিছক ‘সাময়িক ডেটা বিভ্রাট’ বলে দাবি করেন। তবে শুক্রবার সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও রোববার পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি। পেন্টাগনের এই ৭ জুলাইয়ের নতুন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, প্রশাসন মূলত কৌশলে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে। তবে গত মে মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা এই আইনটিকে পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছিলেন।
শক্তিশালী টাইফুন নউল উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় চীনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রেল চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রোববার (২৬ জুলাই) সকালের মধ্যে হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে। শনিবারও আবহাওয়া কেন্দ্র চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর ‘কমলা সতর্কতা’ বহাল রেখেছে। এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু এলাকায় প্রবল ঝোড়ো বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গুয়াংডং প্রদেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌযানগুলো ঝড় থেকে নিরাপদ থাকতে বন্দরে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে সিসিটিভি। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ে কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে এবং রোববার প্রদেশটির সব ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকবে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চলতি মাসেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চরম আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন মায়সাকের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। মায়সাকের প্রভাবে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শক্তি। ২০৬০ সালের মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে কার্বন-নিরপেক্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এবং যুদ্ধবিরতির সময়েও ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, এই সময়ে তেল বিক্রি থেকে যে আয় হয়েছে, তা চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত তেল আয়ের লক্ষ্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির পর তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমে যাওয়ায় ইরানের তেল রপ্তানি বেড়েছে। এর ফলে মজুত থাকা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কনডেনসেটের একটি অংশও বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। ইরানের দাবি, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রেখে তারা উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। সূত্র: আল জাজিরা