উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একের পর এক গোপন 'শিপ-টু-শিপ' তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে আকাশ ও নৌ ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কনভয়গুলোকে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারের দিকে পথ দেখানো হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির প্রান্তে পরিচালিত এই কার্যক্রমে এমন একটি কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহার করে আসছে ইরান।
এই তেল স্থানান্তরের দুটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা জানিয়েছেন এই কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত ১১ জন ব্যক্তি। এর একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল এবং অন্যটি ওমানের সোহার বন্দর সংলগ্ন এলাকা। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা শিপিং ডেটা ও স্যাটেলাইট চিত্র অনুসারে, গত মে মাসের শুরুতে এই কার্যক্রম শুরু হয় এবং অন্তত ১১৬টি জাহাজ এতে অংশ নেয়।
স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি মঙ্গলবার সকালেও ওমান উপসাগরে ১২ জোড়া জাহাজ পাশাপাশি দেখা গেছে: আটটি ওমানের সোহার উপকূলে এবং চারটি ফুজাইরাহর কাছাকাছি। গত ১১ জুন যখন এই কার্যক্রম সর্বোচ্চে পৌঁছায়, সেদিনের চিত্র অনুযায়ী দুটি স্থানে একসঙ্গে ১৭ জোড়া জাহাজকে তেল স্থানান্তর করতে দেখা যায়।
গত ৯ জুন একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধমূলক বোমা হামলা চালায়। চারজন সূত্রের মতে (যাদের মধ্যে হামলার বিষয়ে অবগত একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাও রয়েছেন), ওই হেলিকপ্টারটি এই মিশনের সঙ্গেই যুক্ত ছিল। রয়টার্স স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছে, যেদিন অ্যাপাচি ভূপাতিত হয়, সেদিন সোহার বন্দরের অদূরে একটি ছোট এলাকায় ছয় জোড়া ট্যাংকার জড়ো করা ছিল।
তবে এই কার্যক্রমে অ্যাপাচি কী ভূমিকা পালন করেছিল, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, সমুদ্রের বুকে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের কোনো কার্যক্রমে সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বাহিনী অংশ নিচ্ছে না। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন নৌকার সাহায্যে হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
এই স্থানান্তরের মাত্রা, কীভাবে কাজ করে এবং এতে অ্যাপাচির ভূমিকা নিয়ে আগে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। হোয়াইট হাউস এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, এই স্থানান্তর নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ইরান সরকার কোনো সাড়া দেয়নি।
ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালির প্রস্থানপথের কাছাকাছি যে দুটি স্থানে এই স্থানান্তর ঘটে, তা 'পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ'-এর (হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য গঠিত নতুন ইরানি সংস্থা) টানা সীমানার খুব কাছে অবস্থিত। ইরানের নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে থাকে।
যেভাবে উপসাগরীয় তেল সচল রাখছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই কার্যক্রম চলাকালে ফুজাইরাহ বন্দরটিতে বারবার ইরানি হামলা হয়েছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে ওমান উপকূলে একটি ট্যাংকারে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। ভ্যানগার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ক্রুরা নিরাপদে আছেন এবং আঘাতের কারণে কিছু কার্গো লিক হলেও কোনো পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি। তবে ট্যাংকারটি তেল স্থানান্তরে জড়িত ছিল কিনা, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়, যেখান দিয়ে সাধারণত বৈশ্বিক তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে ইতিহাসে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়।
এই 'শিপ-টু-শিপ' স্থানান্তরগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও অকার্যকর হলেও, এটি মূলত উপসাগর থেকে স্বাভাবিক তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে ঘোষিত ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির কাঠামোর আওতায় শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, তবে এর বিস্তারিত এখনও অস্পষ্ট। এই চুক্তি তেল স্থানান্তর কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলেছে কিনা, তা রয়টার্স নির্ধারণ করতে পারেনি।
গত ২০ মে প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রণালির অপর প্রান্ত দিয়ে জাহাজ পারাপারের জন্য ইরান তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে দ্বীপ চেকপয়েন্ট, কূটনৈতিক চুক্তি এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফি আদায়।
ধাপে ধাপে যাত্রা ও ওয়েপয়েন্ট
তেল স্থানান্তরের এই কার্যক্রম পুরোপুরি মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে বলে আটজন সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে একজন বেসরকারি নিরাপত্তা ঠিকাদারও রয়েছেন, যিনি এই কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
সূত্র ও স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ট্যাংকারগুলোকে প্রণালিতে পৌঁছানোর আগে একটি নির্দিষ্ট মিলনস্থলে যেতে হয়। এরপর তারা ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ধাপে ধাপে যাত্রা করে।
সূত্রের মতে, এসময় জাহাজগুলোর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ এবং আলো নিভিয়ে রাখা হয়।
নির্ধারিত ট্যাংকারগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকটি 'ওয়েপয়েন্ট' ব্যবহার করে। এক সূত্র জানায়, তারা (আমেরিকানরা) স্পষ্টভাবে সবসময় আপনার ওপর নজর রাখছে।
ইরানের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ঠিক বাইরে প্রণালি পার হওয়ার পর, ট্যাংকারগুলো প্রাপক জাহাজের (যার বেশিরভাগই ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার বা ভিএলসিসি) পাশে ভিড়ে তেল স্থানান্তর শুরু করে। এটি সম্পন্ন হতে ২৪ থেকে ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর খালি ট্যাংকারগুলো প্রণালি দিয়ে ফিরে যায় এবং নতুন বোঝাই করা ভিএলসিসিগুলো গন্তব্যের দিকে যাত্রা করে।
ইরানের অবরোধ সত্ত্বেও এই কার্যক্রম সম্ভব হচ্ছে কারণ কিছু শিপার ঝুঁকি নিয়েও অপেক্ষমাণ ট্যাংকারগুলোতে তেল পৌঁছে দিতে রাজি হচ্ছেন। তবে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মেরিটাইম ঝুঁকি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নোয়াম রাইদান বলেন, ইরান কখন ড্রোন বা গানবোট ব্যবহার করে এসব জাহাজের প্রণালি পারাপার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেবে, তা কেউ জানে না।
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান বছরের পর বছর ধরে এই কৌশল ব্যবহার করে আসছে, কারণ এর মাধ্যমে তেলের উৎস গোপন রাখা যায়। ইরান সাধারণত ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে এবং যুদ্ধপূর্ব রপ্তানির পরিমাণ কম হওয়ায় একবারে এক জোড়া জাহাজ ব্যবহার করত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমে ব্যাপক পরিসরে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যা উপসাগরীয় উৎপাদকদের ইরানি হামলা থেকে সুরক্ষা দেয়।
প্রণালির ভেতর দিয়ে
শিপিং রেকর্ড অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ট্যাংকার অপারেটররাই মূলত এই তেল গ্রহণ করছে। এর মধ্যে অন্যতম গ্রিসভিত্তিক ডায়ানাকম ট্যাংকার ম্যানেজমেন্ট। ১ জুন এথেন্সে এক শিপিং সম্মেলনে ডায়ানাকমের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ প্রোকোপিউ বলেন, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা অপরিহার্য এবং কেউ টোল বা অন্য কোনো বোঝা চাপাতে পারে না। আমরা সেবা দিতে এসেছি এবং প্রাচীনকাল থেকেই গ্রিসের অবরোধ ভাঙার ঐতিহ্য রয়েছে।
তবে অন্য একটি মেরিটাইম সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা তাদের শিল্পে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। জাহাজের অবস্থান জানান দেওয়ার ট্রান্সপন্ডারগুলো বন্ধ থাকে এবং কোম্পানিগুলো সাধারণ রিপোর্টিং কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে রিপোর্ট করছে না। রাতের অন্ধকারে আলো নিভিয়ে চলার কারণে জাহাজগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের প্রবল ঝুঁকি থাকে।
এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত চারটি সূত্র জানায়, যে অপারেটররা এই সিস্টেমে যুক্ত হতে চায়, তাদের ট্রানজিট উইন্ডো পাওয়ার আগে একটি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ জিওস্পেশিয়াল ট্র্যাকিং ইতিহাস, মালিকানার তথ্য এবং কার্গো ডকুমেন্টেশন জমা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। অনুমোদন পেলে, এসব জাহাজ বাহরাইনের মার্কিন সামরিক কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখে যাত্রা করে।
শিপিং রেকর্ড অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থানান্তর কার্যক্রমে আরব আমিরাতের রপ্তানি একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। কুয়েত অয়েল ট্যাংকার কোম্পানিও এতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষজ্ঞ রাইদান বলেন, আমি এর মধ্যে কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না। এটি কেবল একটি ব্যতিক্রমী সময়ের অস্থায়ী সমাধান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তুরস্কের কাছে উন্নত অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি বিক্রিতে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বিক্রির বিষয়ে সতর্ক থাকতে। চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে। বৈঠকে তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এস-৪০০ থাকলে এফ-৩৫-এর গোপন প্রযুক্তি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আইনগত শর্ত পূরণ হলে তুরস্কের কাছে আবারও এফ-৩৫ বিক্রির সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পেন্টাগন। নেতানিয়াহুর অভিযোগ, এরদোয়ান ও তুরস্কের শীর্ষ নেতারা ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। তাই এমন একটি সরকারের হাতে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র তুলে দেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী চরমপন্থি আদর্শে প্রভাবিত একটি সরকারকে এফ-৩৫ বা যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন দেওয়া উচিত নয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও হোয়াইট হাউস। গত দুই বছরে গাজা যুদ্ধ ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এরদোয়ান সম্প্রতি জায়নবাদকে গণহত্যার মতাদর্শ বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। সূত্র: অ্যাক্সিওস
নিজেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী গৌরব শ্রীবাস্তব। এই পরিচয়ের জোরেই তিনি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বেশ কয়েকটি প্রাথমিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাগিয়ে নেন, যদিও শেষ পর্যন্ত জালিয়াতি ফাঁস হওয়ায় চুক্তিগুলো বাতিল হয়ে যায়। ওসিসিআরপি এবং ইন্দোনেশীয় গণমাধ্যম টেম্পো’র যৌথ অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। লখনউতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা গৌরব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ২০২০ সালে প্রাবোও সুবিয়ান্তো যখন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই গৌরব সে দেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেন। গৌরবের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ও ডাচ ব্যবসায়ী নিলস ট্রুস্ট মার্কিন আদালতে গৌরবের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। ট্রুস্টের দাবি, গৌরব নিজেকে সিআইএ’র এজেন্ট দাবি করে প্রভাব খাটাতেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাবোওর ওপর থাকা ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতেও তিনি সাহায্য করেছেন বলে বড়াই করতেন। প্রাবোও তাকে নিজের ‘সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে সাবেক ভারপ্রাপ্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব ক্রিস্টোফার মিলার স্পষ্ট জানিয়েছেন, গৌরব কোনও সরকারি প্রতিনিধি ছিলেন না, বরং তিনি একজন ‘প্রতারক’, যিনি ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতেন। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে গৌরবের কোম্পানিগুলো ৩৬টি এফ-১৫ ফাইটার জেট ও ৩০টি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ক্রয়সহ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচটি প্রাথমিক চুক্তি পেয়েছিল। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অর্বিমো, জেগাসাস ও কনস্টেনটিসের মতো যেসব কোম্পানি এই চুক্তি পেয়েছিল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের কোনও অভিজ্ঞতাই তাদের ছিল না। এমনকি ইন্দোনেশিয়া যেদিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, সময়ের ব্যবধানের কারণে ঠিক সেই দিনই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইমিং রাজ্যে গৌরবের দুটি কোম্পানি প্রথম নিবন্ধিত হয়! পরে কর ফাঁকির কারণে কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। পিটি দিরগান্তারা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তিও গৌরবের জালিয়াতি ধরা পড়ার পর বাতিল করা হয়। প্রতিরক্ষা খাতের বাইরে প্রাবোওর ছোট ভাই হাশিম জোজোহাদিকুসুমোর মালিকানাধীন আরসারি গ্রুপ-এর সঙ্গেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন গৌরব। সিআইএ’র গোপন অভিযানের কথা বলে আরসারি গ্রুপ থেকে ৫১ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি, যার অর্ধেক টাকা ঘুরিয়ে গৌরব লস অ্যাঞ্জেলেসে ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনতে ব্যবহার করেন। সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আরসারি গ্রুপ পরবর্তীতে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ কেন্দ্র এই অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্ত করছে। অন্যদিকে নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে গৌরব ২০২২ ও ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন। অবশ্য গৌরব শ্রীবাস্তব তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং অডিও রেকর্ডগুলোকে ‘বানানো’ দাবি করে ট্রুস্টের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনেছেন।
ন্যাটো সম্মেলন শুরুর একদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন কিয়েভ শহরের এবং একজন বুচা জেলার বাসিন্দা। কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, সোমবার ভোরে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে জরুরি সেবাকর্মীরা। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, শহরের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তিনি বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের আগে এ হামলাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ জানান, ইউক্রেনের হামলায় একটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। অন্যদিকে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা কয়েকটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। এদিকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ান্তিনিভকাকে ঘিরেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া শহরটি দখলের দাবি করলেও ইউক্রেন তা অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনো শহরটি রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান