ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোটের কট্টর ডানপন্থী সদস্যরা রবিবার গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটি সংযুক্ত না করা এবং সেখানে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপন না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন।
হোয়াইট হাউস তথাকথিত গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে যেসব বিশ্বনেতাকে বেছে নিয়েছে, তাদের নাম ঘোষণার পর—যার মধ্যে তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন এবং এই দুই দেশই গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচক—ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ নেতানিয়াহুর ‘গাজার দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছা’-কে ‘মূল পাপ’ বলে আখ্যা দেন।
নিজে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে একজন বসতি স্থাপনকারী স্মোটরিচ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরং সেখানে ‘একটি সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা, অভিবাসন ও বসতি স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া এবং এভাবেই বহু বছরের জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’ উচিত।
এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউস ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দেয়, যা যুদ্ধ শেষ করতে ঘোষিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার সভাপতিত্বে বৃহত্তর ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে কাজ করবে।
পরামর্শমূলক ভূমিকা রয়েছে বলে বর্ণিত এক্সিকিউটিভ বোর্ডে অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
কাতার ও তুরস্কের প্রতি ইঙ্গিত করে স্মোটরিচ এক্সে লেখেন, ‘যে দেশগুলো হামাসকে অনুপ্রাণিত করেছে, তারাই তাকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। যারা এটিকে সমর্থন করে এবং এখনো আশ্রয় দেয়, তাদের গাজায় কোনো অবস্থান দেওয়া হবে না।
শেষ কথা।’
তিনি আরো লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দৃঢ় থাকতে হবে, এমনকি যদি এতে আমাদের মহান বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে বিরোধও সামলাতে হয়।’
উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা ও পরবর্তী পদক্ষেপ মূল্যায়নের লক্ষ্যে নেতানিয়াহু জোটসঙ্গীদের সঙ্গে রবিবার একটি বৈঠক আহ্বান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় চ্যালেঞ্জ হলো তার কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের সামাল দেওয়া।
তাদের সরকারে থাকা তার রাজনৈতিক টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং তারা গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতেও কখনো সম্মত হননি।
নেতানিয়াহু নিজেও শনিবার পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কিছু নিয়োগ ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি এবং তার নীতির পরিপন্থী’, তবে কারা তা নির্দিষ্ট করেননি। তিনি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ইসরায়েল এর আগেও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় তুরস্কের কোনো ভূমিকার কড়া বিরোধিতা করেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতা সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের বার্ষিক বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং-এর বার্ষিক বেতন বাড়বে ১৪ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলার (প্রায় ১১ লাখ মার্কিন ডলার)। তবে তিনি আগামী পাঁচ বছর বেতনের এই বর্ধিত অংশ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ওং জানান, যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিত্বদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করার জন্যই মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারের দাবি, উচ্চ বেতন দিলে দুর্নীতি দমন সহজ হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওং-এর বার্ষিক বেতন ২২ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলার থেকে ৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলারে (প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলার)। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী নেতা হিসেবে তিনি নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন। তালিকায় তার পরেই রয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি (৭ লাখ ১৯ হাজার ডলার), সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন (৬ লাখ ৬ হাজার ডলার), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (৪ লাখ ডলার) এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম (২ লাখ ৩০ হাজার ডলার)। সিঙ্গাপুরের সাধারণ মানুষের গড় মাসিক আয় যেখানে ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুরী ডলার, সেখানে মন্ত্রীদের এই বিশাল বেতন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ছাঁটাই এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে যখন নাগরিকেরা চিন্তিত, তখন এই পদক্ষেপকে অনেকেই ‘অসংবেদনশীল’ বলে সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার ওং স্বীকার করেন যে সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় মন্ত্রীদের বেতন অনেক বেশি হওয়ায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী নেতা বা জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনীতিতে আসতে রাজি করানো বেশ কঠিন। তাই তাদের জন্য আর্থিক বাধা দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত। বর্তমানে মন্ত্রীদের মূল বেতন প্যাকেজ ১১ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলার, যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ লাখ ডলারে। ওং জানান, পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এই মেয়াদ শেষ হতে হতে অনেক মন্ত্রী ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পাবেন। উনসত্তরের স্বাধীনতা থেকে ক্ষমতায় থাকা পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) জন্য মন্ত্রীদের এই মোটা অঙ্কের বেতন বহু দিন ধরেই একটি সংবেদনশীল ইস্যু। ২০১১ সালের নির্বাচনে ক্ষোভের মুখে বেতন কমানো হলেও সরকার বরাবরের মতোই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে এই উচ্চ বেতন কাঠামোকে যৌক্তিক মনে করছে। সূত্র: বিবিসি
বাহামা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার পথে চার আরোহী নিয়ে একটি ছোট বিমান নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বাহামা ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাহামা পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচ আসনের বিমানটি সোমবার ‘গ্রেট হারবার কে’ থেকে ফ্লোরিডার ওপা-লকায় উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। পরে বাহামার সবচেয়ে বড় দ্বীপ অ্যান্ড্রোস আইল্যান্ডের প্রায় ১৩ মাইল (২১ কিলোমিটার) পশ্চিমে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ বিমানে একই পরিবারের চারজন ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের এক সদস্য সিলভি লারিউ। তারা হলেন মারিও লামার, তার স্ত্রী লিলি লামার এবং তাদের দুই নাতি-নাতনি ক্রিশ্চিয়ান সোশা ও সোফি সোশা। পুলিশ জানায়, অ্যান্ড্রোস আইল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রেড বে এলাকার উপকূলীয় পানিতে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে, এমন খবর পাওয়ার পর তারা তল্লাশি শুরু করে। তবে এখনো হদিস মেলেনি। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি বাহামার উপকূলের কাছে কিছু সময় চক্কর দেওয়ার পর রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। ওই সময় এলাকায় ভারী বজ্রঝড় হচ্ছিল। তবে দুর্ঘটনার সঙ্গে খারাপ আবহাওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তল্লাশি অভিযানে বাহামার প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। অ্যান্ড্রোস আইল্যান্ডের প্রায় ১৫ মাইল (২৪ কিলোমিটার) দূরের সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য কোস্ট গার্ড একটি নজরদারি বিমান মোতায়েন করেছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রাথমিক তল্লাশি কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হয়। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হলে অভিযান পুনরায় শুরু করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাহামা পুলিশ বলেছে, নিখোঁজ বিমান ও এর আরোহীদের সন্ধান করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মুখে গত আগস্ট মাসে চীনের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার এবং এআই সম্পর্কিত অন্যান্য প্রযুক্ত পণ্যের জোরালো বৈশ্বিক চাহিদার ওপর ভর করে চীনের এই পরাক্রমশালী বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে দেশটির রফতানি বার্ষিক ভিত্তিতে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ব্লেুমবার্গের অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস দেওয়া ২৫ দশমিক ৯ শতাংশের চেয়ে রফতানি বৃদ্ধি সামান্য কম ছিল। অন্যদিকে আগস্টে আমদানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ২ শতাংশ। জুলাইয়ে আমদানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অবশ্য ব্লুমবার্গের জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া ৩১ শতাংশের চেয়ে আমদানির পরিমাণও কিছুটা কম ছিল। চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শক্তিশালী এই বৈদেশিক বাণিজ্যই দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। চলতি বছর ইলেকট্রিক ভেহিকল, ভোগ্যপণ্য ও শিল্প যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বৈশ্বিক এআই খাতের দ্রুত বিস্তার চীনের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির নতুন গতি এনে দিয়েছে। কাস্টমস ডাটা বা শুল্ক তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে চীনে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশ রফতানির মূল্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিওয়েই ঝাং বলেন, চীন তার অর্থনীতিকে সচল রাখতে এখনও রফতানিকারকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। তবে বেশ কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের সঙ্গে চীনের বড় অঙ্কের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নতুন রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি করছে। বিদেশি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাজারে চীনা পণ্যের এই প্রভাব স্থানীয় প্রতিযোগিতা ও ব্যবসাকে চেপে ধরছে। ঝিওয়েই ঝাং আরও জানান, জি২০ সম্মেলনে মার্কিন সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা চীনের সাথে থাকা এই বাণিজ্য ভারসাম্যের ঘাটতি বা বৈষম্য নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্য রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে জুলাইয়ে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ। চলতি মাসেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের আগেই চীনের বাণিজ্যের এই নতুন পরিসংখ্যান সামনে এলো। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও চীন ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুল্কযুদ্ধের কারণে মার্কিন বাজারে পণ্য রফতানি আশঙ্কাজনকভাবে কমলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকায় শক্তিশালী রফতানি প্রবৃদ্ধি সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে দুর্লভ খনিজ বা রেয়ার আর্থস রফতানিতে চীন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে ওয়াশিংটন ও বেইজিং একে অপরের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক সাময়িকভাবে শিথিল করতে বাধ্য হয়।