জয় থেকে তখন ৩ রান দূরে পাঞ্জাব কিংস, সেঞ্চুরির জন্য শ্রেয়াস আইয়ারের প্রয়োজন ৫ রান। মহসিন খানের লেংথ ডেলিভারি ওয়াইড লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে হেলমেট ও ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন শ্রেয়াস। তার মুখে চওড়া হাসি। আইপিএল ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার আনন্দই শুধু নয়, প্রায় দুইশ রান তাড়ায় দলকে জিতিয়ে প্লে-অফে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখলেন পাঞ্জাব অধিনায়ক।
আইপিএলে শনিবার লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে পাঞ্জাবের জয় ৭ উইকেটে। লখনৌতে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দুই ওভার হাতে রেখে পেরিয়ে যায় শ্রেয়াসের দল।
জয়ের নায়ক শ্রেয়াস নিজেই। চার নম্বরে নেমে ১১ চার ও পাঁচ ছক্কায় ৫১ বলে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ ৩১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
আইপিএলে অধিনায়কদের ১৭তম সেঞ্চুরির ঘটনা এটি। তবে শ্রেয়াসই প্রথম অধিনায়ক, যিনি তিন অঙ্ক ছুঁলেন চার নম্বরে বা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে।
এই প্রতিযোগিতায় রান তাড়ায় সেঞ্চুরি করা চতুর্থ অধিনায়ক শ্রেয়াস। তার আগে ভিরেন্দার শেবাগ, ভিরাট কোহলি ও সাঞ্জু স্যামসন পান এই স্বাদ।
২০১৫ সাল থেকে আইপিএলে খেলছেন শ্রেয়াস। ১৪৭তম ম্যাচে এসে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। তার আগের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল গত আসরে অপরাজিত ৯৭।
এ দিন সাত চার ও দুই ছক্কায় ৩৯ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে পাঞ্জাবের জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন ওপেনার প্রাভসিমরান সিং।
তৃতীয় উইকেটে এই দুজনে গড়েন ৭৬ বলে ১৪০ রানের জুটি। আইপিএলে যেকোনো উইকেটে পাঞ্জাবের পঞ্চম সর্বোচ্চ জুটি এটি।
এবারের আইপিএলে প্রথম সাত ম্যাচের ছয়টিই জিতেছিল পাঞ্জাব, পরিত্যক্ত হয় অন্যটি। কিন্তু এরপর থেকে হারের বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ে তারা। টানা ছয় পরাজয়ের পর অবশেষে আরেকটি জয়ের স্বাদ পেল শ্রেয়াসের দল।
প্লে-অফের চার দলের প্রথম তিনটি নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই। একটির জন্য চলছে লড়াই। ১৪ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে এখন তালিকার চারে আছে পাঞ্জাব। তবে দলটির প্লে-অফে যাওয়া নির্ভর করছে রোববার প্রাথমিক পর্বের শেষ দুই ম্যাচের ফলের ওপর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
লক্ষ্যে অবিচল থাকার পুরস্কার পেয়েছেন জিনেদিন জিদান। রেয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর, শুধু ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচই হতে চেয়েছেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর ফরাসি কিংবদন্তি জানিয়েছেন, এজন্য গত পাঁচ বছর অন্য কোনো দলের দায়িত্ব নেননি তিনি। জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে মঙ্গলবার জিদানকে নিয়োগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করে তারা। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলের সঙ্গে কাজ করবেন জিদান। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে যাওয়ার অনেক আগেই দিদিয়ে দেশোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, ফ্রান্সের ডাগআউটে এটাই হবে তার শেষ টুর্নামেন্ট। সেই ধারাবাহিকতায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করা বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের স্থলাভিষিক্ত হলেন জিদান। খেলোয়াড়ি জীবনের পর কখনও কোনো মূল দলের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা ছাড়াই, ২০১৬ সালে রেয়ালের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন জিদান। প্রথম দফায় প্রায় আড়াই বছরে তার হাত ধরে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি। পরে আরেক দফায় মাদ্রিদের ক্লাবটিতে কোচ হিসেবে ফেরেন জিদান। সেবারও পান শিরোপার স্বাদ। দুই দফায় রেয়ালের হয়ে দুটি লা লিগা ও তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১১টি ট্রফি জয় করেন তিনি। ২০১৭ সালে জেতেন ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারও। ২০২১ সালে রেয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করার পর, আর কোনো দলের দায়িত্ব নেননি জিদান। মাঝে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেন তিনি। সেই অপেক্ষায় কাটিয়ে দেন পাঁচটি বছর। স্বপ্নের দায়িত্ব পেয়ে জানালেন নিজের অনুভূতি। “আমি কেবলই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হতে চেয়েছিলাম। সবসময় এই দলকে এর ভবিষ্যৎ কোচের চোখে দেখেছি। ঠিক এই কারণেই কোনো ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। রেয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর, আমি শুধুই ফ্রান্স জাতীয় দলকে কোচিং করাতে চেয়েছিলাম। “আমি চাইলে তিন বছরের জন্য (অন্য কোনো দলের) দায়িত্ব নিতে পারতাম, কারণ তখনও দেশোঁ ফ্রান্স দলের দায়িত্বে ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার সিদ্ধান্ত জানান, এর ঠিক পরদিনই বুঝে যাই, পরবর্তী কোচ আমিই হতে চাই। এরপর সভাপতির সঙ্গে দেখা করি এবং চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়।” জিদান ও দেশোঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা ফ্রান্স দলের সতীর্থ ছিলেন দুজন। ওই আসরে ফরাসিদের নেতৃত্ব দেন দেশোঁ। আর দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জিদান। ওই বছর ব্যালন দ’রও জেতেন তিনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে ফাইনালে টাইব্রেকারে ইতালির বিপক্ষে হেরে যায় ফরাসিরা। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের জার্সিতে ১০৮ ম্যাচ খেলে ৩১ গোল ও ২৯ অ্যাসিস্ট করেন এই গ্রেট প্লেমেকার। কোচ হিসেবে দেশোঁর মতো অতোটা অভিজ্ঞ না হলেও, তার মধ্যে যে একটা জাদু আছে, সেটার প্রমাণ ক্লাব ফুটবলে এরই মধ্যে দিয়েছেন জিদান। জাতীয় দলের দায়িত্বেও নিজের ছাপ রাখতে মুখিয়ে আছেন তিনি। “খুব শিগগিরই আমার কোচিংয়ের ধরন দেখতে পাবেন। ফুটবলই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আমি একজন নাম্বার টেন ছিলাম, আর আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে গোল করা। ২৫ বছর স্পেনে কাটিয়েছি, এর অর্থ কী তা আপনারা জানেন। মাঠে একজন নেতা ছিলাম। এখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নেতা হয়ে উঠছি। “১৯৯৮ সালে সতীর্থদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয় ছিল আমার জীবনের সেরা ঘটনা। সেই দিনের জন্য চার-পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছিলাম। (এই মুহূর্তে) আমি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে আছি; আপনারা হয়তো তা বুঝতে পাচ্ছেন না, তবে আমি সত্যি ভীষণ রোমাঞ্চিত। খুব খুশি।” ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জিদানের পথচলা শুরু হতে পারে তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্সে লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২ অক্টোবর ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে খেলার কথা রয়েছে ফরাসিদের।
জিম্বাবুয়ে সফরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামার কথা ছিল লিটন কুমার দাসের। অথচ আগামী মাসের অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টেও তিনি খেলতে পারবেন না। এই দুই সময়ের ব্যবধান প্রায় পাঁচ সপ্তাহ! তাহলে লিটনের সমস্যা কোথায়? কেন সেরে উঠছে না তার চোট? এই গোলকধাঁধায় বিসিবির খরচ হয়ে গেছে ২৫ লাখ টাকার আশেপাশে। শুধু দেদার অর্থ খরচই নয়, লিটনকে জিম্বাবুয়েতে পাঠানো ও ফেরত আনা, সমস্যা ঠিকমতো চিহ্নিত করতে না পারা, সবকিছুতেই বিসিবি বিব্রত হয়েছে ব্যাপকভাবে। ক্ষুণ্ন হয়েছে ভাবমূর্তি। তাই বিসিবির মেডিকেল বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভঅবে ব্যাখ্যা চেয়েছে বোর্ড। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তাদেরকে কড়া বার্তাও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে কাফ মাসলের এই চোট পেয়েছিলেন লিটন। তখন মেডিকেল বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চোট গুরুতর নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলেও তাকে রাখা হয়েছিল। তবে একটি ম্যাচেও তিনি খেলতে পারেননি। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে তাকে রাখা হয়। চোট সেরে না ওঠায় সেই দল থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওয়ানডে সিরিজের দলে তাকে রাখা হয়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি মাঠে নামতে পারবেন বলেও জানানো হয়। কিন্তু জিম্বাবুয়ে পাঠিয়েও লাভ হয়নি। তার চোট সারেনি। ফিরে আসতে হয় তাকে দেশে। শেষ পর্যন্ত আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলেও তাকে রাখা হয়নি। বিসিবির মেডিকেল বিভাগের ব্যাখ্যা ছিল, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লিটনের এমআরআই স্ক্যান করিয়ে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। সেভাবেই তার পুনর্বাসন শুরু হয়। কিন্তু অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার বারবারই অভিযোগ করেন, তার ব্যথা রয়েই গেছে। দেশের বারবার তার স্ক্যান করিয়েও কিছু ধরা পড়েনি। শেষ পর্যন্ত তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে স্ক্যান করানো হয় এবং সেখানে তার পায়ে ফোলা ধরা পড়ে। এখন সেটি কাটিয়ে ওঠার পথে আছেন তিনি। এই সময়ে তার জিম্বাবুয়েতে আসা-যাওয়া, সিঙ্গাপুরে আসা-যাওয়া, চিকিৎসার খরচসহ সবকিছু মিলিয়ে বিসিবির খরচ হয়ে গেছে ২৫ লাখ টাকার মতো। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে বোর্ডকে বারবারই বলা হয়েছে, লিটনের চিকিৎসার প্রটোকলে তাদের কোনো ভুল হয়নি এবং তাকে এমন কোনো অনুশীলন দেওয়া হয়নি, যেটির কারণে চোট বেড়েছে বা আরও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তিনি। কিন্তু সামগ্রিক সমন্বয়হীনতার দায় তাদের ওপরই দিচ্ছে বোর্ড। দেশে স্ক্যানে কিছু ধরা পড়েনি, এটা সত্য। তবে এভারকেয়ার হাসপাতালের স্ক্যানের মান নিয়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগেরই সংশয় ছিল। তাহলে সেখানেই কেন স্ক্যান করানো হলো, বোর্ড কর্তাদের সেই প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয়েছে মেডিকেল বিভাগকে। দল ঘোষণার পর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বললেন, তারা মেডিকেল বিভাগের সবুজ সঙ্কেত পেয়েই জিম্বাবুয়েতে দলে রেখেছিলেন লিটনকে। “লিটনের ঘটনায় যদি একদম প্রথম থেকে যাই… লিটন প্রথম খেলল ইনজুরড হলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে, এরপর কিন্তু টি-টোয়েন্টি সিরিজেও সে দলে ছির। তখন যে চিকিৎসা হয়েছিল যে, কাফ মাসলে ইনজুরি, কিন্তু অত বড় কিছু নয়। পরে সে যখন টি-টোয়েন্টি খেলতে পারেনি, তখন আরেকটা স্ক্যান হয়, সেখানে গ্রেড ওয়ান টিয়ার ধরা পড়ে। মেডিক্যালি এই ধরনের চোট সারতে তিন সপ্তাহের বেশি লাগার কথা নয়। সেই তিন সপ্তাহ কিন্তু জুন মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপর যেটা হলো, টি-টোয়েন্টির সময় কথা হলো যে, যেহেতু সংশয় আছে তো, সেহেতু আমার টেস্ট ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই ওকে পাঠিয়ে দেয়া উচিত, এসে একটু পুনর্বাসন করে যেন প্রস্তুত হতে পারে।” প্রধান নির্বাচক অবশ্য এখানে স্ক্যান রিপোর্টের কথাই বললেন, মেডিকেল বিভাগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন না তিনি। “এটা আসলে মেডিকেল বিভাগের দোষ দিতে পারছি না। কারণ যখন স্ক্যানগুলি এসেছে, তখন কিন্তু স্ক্যানে তেমন কিছু ধরা পড়েনি। যেটা প্রথমে ধরা পড়েছিল, সেটাই ছিল। কিন্তু লিটনের ব্যথাটা যাচ্ছিল না। আবার যখন এখানে ইয়ে (স্ক্যান) করেছে, তখনও কিছু আসেনি। তারপর আমরা টেস্ট ম্যাচটা থেকে ওকে সরিয়ে নিয়েছি। ওয়ানডে সিরিজে খেলতে যখন চলে গেছে, তার পরও অভিযোগ করছিল যে, ওর ব্যথা আছেই। এই ব্যাপারটা আসলে মেডিকেল বিভাগের ভুল কি না, বলতে পারব না। কারণ স্ক্যানে তো তারা কিছু পাননি। তারা তো আসলে প্রমাণেই যান। কিন্তু সেখানে কিছু খুঁজে না পেয়ে এর ভিত্তিতেই লিটনকে নেওয়া হয়েছে। পরে আবার একটা স্ক্যান করেছে। বারবার স্ক্যানে পরবর্তী কিছু ধরা পড়েনি। পরের যে স্ক্যানটা সিঙ্গাপুরে হয়েছে, সেটাতে আসলে ফোলা ধরা পড়েছে, টিয়ার নেই। এখন হয়তো সে ঠিক আছে, তবে তাকে একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে হবে। লিটনের চোট নিয়ে ধাঁধায় ছিল সবাই। তবে সমস্যা তো শুধু তারই নয়। নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসানও এখন চোটের কারণে মাঠের বাইরে। সব মিলিয়েই এবার কঠিন জবাবদিহিতার মুখে পড়েছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। একজন পরিচালককে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে সবকিছু খতিয়ে দেখতে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বোর্ডকে অবহিত করবেন বিস্তারিত।
জাতীয় দলে ‘সাবেক’ হয়ে যাওয়া সাকিব আল হাসান বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে সময় পার করছেন। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলা সাকিব এবার নাম লিখিয়েছেন নেপাল প্রিমিয়ার লিগে। নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসরে সাকিব খেলবেন পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে। নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি লিখেছে, ‘বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চ থেকে এখন পোখারার চূড়ায়। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসরে খেলবেন পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে। পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স পরিবারে স্বাগত সাকিব আল হাসান।’ ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা হচ্ছে না সাকিবের। এমনকি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও খেলা হয়নি তাঁর। আর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) সবশেষ তিনি খেলেছেন ২০২১ সালে। বিপিএল-আইপিএলে না খেলতে পারা সাকিব পিএসএল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাইনর লিগেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছেন। এবারের এলপিএলে তিনি জাফনা কিংসের হয়ে ৪ ম্যাচে ৬.৩৩ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর ২০২৪ সালে প্রথমবার আয়োজিত নেপাল প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জনকপুর বোল্টস। সেবার রানার্সআপ হয়েছিল সুদূরপশ্চিম রয়্যালস। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ২০২৫ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি। তাদের এবার কাঁদিয়ে শিরোপা জেতে লুম্বিনি লায়নস।