সারাদেশ

প্রশাসন নিরপেক্ষ না থেকে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে : হাসনাত

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রশাসনের দ্বিচারিতামূলক ভূমিকায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

 

তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না থেকে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, কারণ পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির মনোনীত মনজুরুল আহসান মুন্সী বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করলেও তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি। নির্বাচন আচরণবিধিতে তথ্য গোপনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান থাকলেও প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়নি। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করার পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েই তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনজুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে হলফনামায় ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবী, প্রস্তাবকারী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী যুক্তিতর্ক চলে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মনজুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।

বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলায় উভয়পক্ষের মধ্যে অন্তত আধাঘণ্টা বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদেরকে নিয়মানুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযোগ করতে বলেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে দুইজনেরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচনে প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত যুক্তি ও তথ্য থাকার পরেও আমাদের একজন প্রার্থী ব্যাংক ডিফল্টার, তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েও শোধ করেননি। তিনি এই তথ্যটি গোপন করেছেন এবং হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ গোপন করেছেন— এটি ব্যক্তিগত তথ্য গোপনের পর্যায়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী বিধিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, যদি কোনো প্রার্থী চাহিদা মোতাবেক তাদের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করে -তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করার পরও, সেখানে প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ আচরণ করতে পেরেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা প্রত্যাশা করি, কিন্তু মনে হয় প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সহজ কথা।

তবে যাচাই-বাছাই শেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দুইজনই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি প্রার্থী মনজুর এলাহী
নরসিংদী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মনজুর এলাহীর গণসংযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে প্রচার প্রচারণা জমে উঠেছে। গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি প্রার্থী মনজুর এলাহী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান তিনি। চক্রধা ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার পাড়া মহল্লা, দোকান পাট এবং বিভিন্ন পয়েন্টে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালান বিএনপি প্রার্থী মনজুর এলাহী। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে স্লোগান দেন ধানের শীষের কর্মী ও সমর্থকরা। নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ এবং পথ সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিস রিকাবদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মৃধা, সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুম মোল্লা, সদস্য সচিব আবেদ হাসান জজ মিয়াসহ উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনায় পাড়ায়-মহল্লার বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়, সমাজের এমন কিছু প্রভাবশালী লোকজনও উন্নয়নের পক্ষে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
কুমিল্লার দেবীদ্বারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারীদের কাছে নিজের শাপলা কলি প্রতীকে ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার জাফরাবাদ এলাকায়

মাঠে ‘শক্ত’ প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, তবু ঘাম ঝরাচ্ছেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

আজ যে সব এলাকায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

ছবি: সংগৃহীত

দোয়া আর কান্নায় ভিজল রাত

যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, বাস জব্দ
যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, বাস জব্দ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়। তাদের বিশেষ অভিযানে একটি বাসের ভেতর ও ২ ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে ১১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. ইমরান (২৭) ও মো. মাহমুদুল হাসান (৪৬) নামের ২ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত ‘টুডে ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডিএমপি যাত্রাবাড়ী থানাধীন গুলিস্তান টোল প্লাজার দক্ষিণ পাশে সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকার সিটি মাঠে এ অভিযান চালানো হয়। ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘টুডে ট্রাভেলস’ নামের বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দেহ তল্লাশি ও বাসের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়—দুই আসামির দেহ থেকে পৃথকভাবে ৬ হাজার পিস ইয়াবা, বাসের পেছনের একটি তালাবদ্ধ বক্স থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ সবমিলিয়ে উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ১১ হাজার পিস উদ্ধার করা হয়। যার মোট ওজন প্রায় ১ কেজি ৮৫ গ্রাম। এ ছাড়াও অভিযানে কয়েকটি মোবাইল ফোন, বাসের কাগজপত্র ও গাড়ির চাবি জব্দ করা হয়। ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটি ঘটনাস্থল থেকেই জব্দ করা হয়েছে। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ইমরান পরিবহন সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত ছিলেন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মাদক পাচার করে আসছিলেন। উদ্ধার ইয়াবাগুলো বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তারা স্বীকার করেছে। ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ মামলার এজাহারটি দায়ের করেন। এদিকে উদ্ধার ইয়াবার নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ডিএনসি কর্তৃপক্ষ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে কোনো ছাড় নেই, পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে যারা মাদক ব্যবসা করছে—তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0

এবার জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

মালেকা বেগম

ভাতা না পেয়ে অফিসে খোঁজ নিতে এসে মালেকা জানতে পারেন তিনি মৃত!

নওগাঁয় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নওগাঁ রণক্ষেত্র

ছবি : সংগৃহীত
তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর আগে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়া বা আলোচনার কোনো উদ্যোগ না আসায় মঙ্গলবার থেকে কর্মসূচির সময়সীমা বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হয়। শ্রমিক-কর্মচারীদের তিন দফা দাবি হলো—আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বদলি হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল, বিডিএ বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দেওয়া। কর্মবিরতির কারণে এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থসহ বন্দরের সব টার্মিনালেই কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরের সামগ্রিক অপারেশন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সকালে শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হলে পুলিশ বাধা দেয়। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বদলি হওয়া ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। কর্মবিরতির ফলে বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ, সিসিটি, এনসিটি ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনারবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজ অপেক্ষায় থাকায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি চলছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল এনসিটিকে কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তারা এনসিটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিও জানান। বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, সকালে সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম চললেও বিক্ষোভ শুরুর পর তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। কর্মবিরতির কারণে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানিকৃত পণ্য ও কনটেইনার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা, আহত ৬

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক

সাইফুল ইসলাম রনি

ঢামেকে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ জাবি শিক্ষার্থী রনির মৃত্যু

0 Comments