সারাদেশ

পুলিশ স্বামীর ইউনিফর্ম পরে স্ত্রীর টিকটক কনস্টেবল প্রত্যাহার

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০২, ২০২৬ 0
কনস্টেবল মো. সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রী পরিচয় দেওয়া সীমা খাতুন। ছবি : সংগৃহীত
কনস্টেবল মো. সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রী পরিচয় দেওয়া সীমা খাতুন। ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ কনস্টেবল স্বামীর ইউনিফর্ম পরে টিকটক ভিডিও তৈরি ও প্রকাশ করার অভিযোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) এক কনস্টেবলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসার পর আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান কনস্টেবল সাইফুজ্জামানকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন।

অভিযুক্ত কনস্টেবলের নাম মো. সাইফুজ্জামান এবং টিকটক ভিডিওগুলো করেছেন তার স্ত্রী সীমা খাতুন। সীমা খাতুনের বাবার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়। তিনি নিয়মিতভাবে স্বামীর পুলিশের পোশাক পরে টিকটক ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছিলেন। সাইফুজ্জামান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ আলী জানান, বৃহস্পতিবার তিনি জানতে পারেন— সাইফুজ্জামান বিয়ে না করে সীমা খাতুন নামের এক নারীকে নিয়ে একই বাসায় ভাড়া থাকছেন এবং ওই নারী পুলিশের ইউনিফর্ম পরে টিকটক ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করছেন। খবর পেয়ে তিনি নিজেই ওই বাসায় যান।

যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, সাইফুজ্জামান তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর সীমা খাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তবে এ সংক্রান্ত কাবিননামার কাগজ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সীমা খাতুন পুলিশের ইউনিফর্ম পরে টিকটক ভিডিও প্রকাশ করেছেন—এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বৃহস্পতিবারই কনস্টেবল সাইফুজ্জামানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর রাতেই তিনি থানা ত্যাগ করে আরএমপির পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত হন।

এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, পুলিশ সদস্যের ইউনিফর্ম তার স্ত্রী বা অন্য কেউ পরিধান করতে পারেন না। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে : তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মানুষ অনেক কষ্টে আছে। প্রয়োজনের সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না, ওষুধ পায় না, সেজন্য আমরা হাসপাতালগুলো মেরামত করব, ডাক্তারের ব্যবস্থা করব। এজন্য আমরা হেলথ কেয়ার নিযুক্ত করতে চাই, যেই হেলথ কেয়ারের কাজ হবে গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে গিয়ে নারী এবং শিশুদের চিকিৎসা সুবিধা দেবে।   বুধবার ( ৪ জানুয়ারি) ফ‌রিদপুর শহ‌রের সরকা‌রি রা‌জেন্দ্র ক‌লে‌জ মা‌ঠে বিএন‌পির বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তারেক রহমান বরিশালে নির্বাচনী জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুর আসেন। তারেক রহমান বলেন, যেসব চিকিৎস্যা সুবিধা ঘরে বসে দেওয়া যায়, ছোটখাটো অসুখ, যাতে করে মা-বোনদের কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে না হয়। ঘরে বসেই তারা ওষুধ পাবে ইনশাআল্লাহ। তি‌নি ব‌লেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে। ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষককার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক পাবে। নারী ও শিশুদের বিষয়ে তা‌রেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, এই জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেবে। বাংলা‌দে‌শের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে। বি‌শেষ একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এক গুপ্ত দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। ইতিহাস সাক্ষী ১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐকবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে দিতে পারি তাহলে ১৩ তারিখ থেকেই বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে তা‌রেক রহমান বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়। জনসভায় ফরিদপুরের ৫টি জেলার ১৫ জন ধানের শীষের প্রার্থীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ার‌ম্যানকে এক নজর দেখ‌তে ও তার বক্তব‌্য শুন‌তে দুপুর ১২টা থে‌কে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভি‌ড়ে কলেজের মাঠ‌টি কানায় কানায় পূর্ণ হ‌য়ে যায়। একপর্যা‌য়ে আ‌শপা‌শের এলাকা লোকে লোকার‌ণ্যে প‌রিণত হয়। উ‌ল্লেখ‌্য, এই প্রথমবার তা‌রেক রহমান ফ‌রিদপু‌রে জনসভা কর‌তে এলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

প্যারোল মেলেনি, এবার কারাগারে ছেলের কাছে গেলেন মৃত বাবা!

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। বুধবার দুপুরে উপজেলার গড্ডিমারী হেলিপ্যাড মাঠে

জনস্রোতে ভেসে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা এখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলছেন: জামায়াতের আমির

গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি প্রার্থী মনজুর এলাহী

নরসিংদী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মনজুর এলাহীর গণসংযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারীদের কাছে নিজের শাপলা কলি প্রতীকে ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার জাফরাবাদ এলাকায়
মাঠে ‘শক্ত’ প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, তবু ঘাম ঝরাচ্ছেন হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়কামতা ইউনিয়নের ছোট্ট একটি বাজার বটতলী। বাজারে সাত বছর ধরে চা বিক্রি করেন পঞ্চাশোর্ধ্ব জীবন চন্দ্র দে। মঙ্গলবার সকালে তাঁর দোকানে ঢুকতেই কানে ভেসে এল ভোটের আলাপ। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভোট দিতে যাবেন না?’ উত্তর এল, ‘ভোট দিলেও যা, না দিলেও তা।’ দুজনের কথোপকথনে বোঝা গেল কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে তেমন নির্বাচনী উত্তাপ নেই। শুধু বটতলী বাজারই নয়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেবীদ্বারের কয়েকটি এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। চা-দোকানি জীবন চন্দ্র দে প্রথম আলোকে বলেন, এ আসনে ভোটে লড়ছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর সঙ্গে লড়াই করার মতো অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী নেই। বিএনপির একজন থাকলেও বাদ পড়েছেন। এ জন্য ভোটাররা মনে করছেন, হাসনাত খুব সহজে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। এ কারণে আসনে ভোটের উত্তাপ সেভাবে নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করায় নির্বাচন কমিশন তা বাতিল করে। পরে আদালতে আপিল করলেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি তিনি। এমন অবস্থায় ‘শক্ত’ প্রতিদ্বন্দ্বী নেই হাসনাত আবদুল্লাহর। অনেকে হাসনাতের বিজয়কে ‘সময়ের ব্যাপার’ বলছেন। তবু ভোটের মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর দাবি, তাঁর কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীই দুর্বল নন; সবাইকে তিনি হেভিওয়েট হিসেবে দেখছেন। গতকাল সকাল সাড়ে সাতটায় উপজেলার মোহনপুর এলাকায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন হাসনাত। সর্বশেষ রাত ৯টায় উপজেলার ছোট আলমপুর এলাকায় উঠান বৈঠকে বক্তৃতা করেন। সারা দিনে মোট ১১টি সভা ও উঠান বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বেলা একটার দিকে বড়কামতা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখাড়া এলাকার বটতলী বাজারে তাঁর নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার এক ফাঁকেই প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘মাঠে অনেক প্রার্থী আছেন। আমার কাছে প্রত্যেক প্রার্থীই চ্যালেঞ্জিং। জনগণের রায় নিয়েই আমাদের সংসদে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভোট কিন্তু জনগণের কাছে। আমাদের প্রত্যেক ভোটারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। শুধু একবার নয়, আমার কর্মী-সমর্থকেরা প্রত্যেক ভোটারের কাছে একাধিকবার করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ভোটের মাঠে যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আছেন, তাঁরাও কিন্তু ঘরে বসে নেই। তাঁরা ভোটারদের কাছে একবার গেলে আমাদের পাঁচবার যেতে হবে।’ নির্বাচিত হলে প্রথমে কোন কাজ করবেন প্রশ্ন করলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাটসহ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে প্রথমে কাজ করব। দেবীদ্বারের অনেক এলাকা শিক্ষায় পিছিয়ে আছে। এখনো অনেক এলাকায় উচ্চবিদ্যালয় নেই। আমি শিক্ষা খাতে বেশি জোর দেব। মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজমুক্ত দেবীদ্বার গড়ব।’ পরে নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অতীতে যেটা হয়েছে, প্রার্থী ভোটারদের খাইয়েছে, টাকা দিয়েছে। ভোটারদের প্রার্থী ঘুষ দিয়েছে, বাড়িতে সিএনজি-অটোরিকশা পাঠিয়েছে কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য। আপনি যখন ভোটের আগেই প্রার্থীর কাছ থেকে ঘুষ খাবেন, তাহলে আপনার কি প্রার্থীর ঘুষ ধরার কোনো অধিকার আছে? আপনার হাতে এক দিনের ক্ষমতা ছিল, আপনি সেটির অপব্যবহার করেছেন। সুতরাং আপনার পাঁচ বছর নেতার দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার অধিকারও থাকবে না। আমরা চাই, জনগণ তাদের হারিয়ে ফেলা ক্ষমতা এই নির্বাচনে পুনরুদ্ধার করবে।’ তিনি বলেন, ‘ভোট আপনার অধিকার। পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের অধিকার আপনাকে বুঝে নিতে হবে। আপনি যদি ভোটের আগে আপনার অধিকার বিক্রি করে দেন, তাহলে পাঁচ বছর আপনাকে গোলাম হয়ে থাকতে হবে। একই সঙ্গে আপনাকে আজাদির জন্য গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।’ হাসনাত ছাড়াও এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবদুল করিম হাতপাখা প্রতীক, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী ইরফানুল হক সরকার আপেল প্রতীক এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. আ. জসিম উদ্দিন ট্রাক প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান দেয়ালঘড়ি বরাদ্দ পেলেও ইতিমধ্যে তিনি হাসনাতকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল দেবীদ্বারের বড়কামতা, ইউসুফপুর, মোহনপুর ও জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে বিভিন্ন এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহর কিছু নির্বাচনী ব্যানার টানানো দেখা গেছে। তবে অন্য প্রার্থীদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। বড়কামতা এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকার ভোটাররা বিশ্বাস করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি হাসনাত বিজয়ী হবেন। কারণ, ভোটের মাঠে তাঁর মোকাবিলা করার মতো তেমন কোনো প্রার্থী নেই। তাঁর বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

আজ যে সব এলাকায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

ছবি: সংগৃহীত

দোয়া আর কান্নায় ভিজল রাত

যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, বাস জব্দ

যাত্রাবাড়ীতে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, বাস জব্দ

এবার জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

মায়ানমার সীমান্তে ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুইবারের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। এর ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে ফের ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। ভূ-পৃষ্ঠের ৬৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে এ কম্পন হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের বিভিন্ন এলাকা। এটির উৎপত্তি স্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমের শেষ জেলা সাতক্ষীরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা সকালে বলেছিলেন, এটি ছিল হালকা মাত্রার ভূমিকম্প; রিখটার স্কেলে ছিল ৪ দশমিক ১ মাত্রা।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
মালেকা বেগম

ভাতা না পেয়ে অফিসে খোঁজ নিতে এসে মালেকা জানতে পারেন তিনি মৃত!

নওগাঁয় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নওগাঁ রণক্ষেত্র

ছবি : সংগৃহীত

তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ

0 Comments