ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রোবার্তা মেতসোলা পার্লামেন্ট ভবনে ইরানের সব কূটনীতিক ও ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের যে কোনো প্রতিনিধি’র প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেতসোলা বলেন, ইরানের সাহসী জনগণ যখন নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য দাঁড়িয়ে আছে, তখন আগের মতো স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এই সংসদ এমন কোনো শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দিতে সহায়তা করবে না, যা নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও হত্যার মাধ্যমে টিকে আছে।
এর আগে ইইউ জানিয়েছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় প্রয়োজনে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে তারা প্রস্তুত। সংস্থাটির মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমনপীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নতুন ও আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আছি।
ইইউ ইতোমধ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘন, পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একদিকে যেমন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি এবং দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে আরাঘচি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করে বলেন, আমরা আলোচনার জন্যও প্রস্তুত, তবে সেই আলোচনা হতে হবে ন্যায্য, সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ চাচ্ছে। তিনি একাধিকবার সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এরই মধ্যে এ তথ্য সামনে এসেছে।
আরাঘচি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে চলমান বিক্ষোভ ‘সহিংস ও রক্তক্ষয়ী’ রূপ নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই অস্থিরতাকে বিদেশি হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সহিংসতার মাত্রা গত সপ্তাহান্তে বেড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের দমন করতে ইসলামাবাদ রেশন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করেছে জানিয়ে সেখানকার স্থানীয় নেতা আমান খান নয়াদিল্লিকে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনাভিযান ও অর্থনৈতিক অবরোধের অভিযোগ তুলে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’র (জেএএসি) নেতা সর্দার আমান খান। কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের দমন করতে ইসলামাবাদ রেশন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করেছে জানিয়ে তিনি নয়াদিল্লিকে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ মানুষের যেন ভারতে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আমান খানকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। এখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, আমাদের আপনাদের সাহায্য দরকার।” তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন তীব্র হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যা সেখানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল সমাবেশে আমান খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত কি না। জবাবে সমবেত জনতা বারবার চিৎকার করে বলে, “সামনে এগিয়ে চলুন।” আমান খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি জনগণের ন্যায্য দাবির জবাব বুলেট দিয়ে দেয়, তবে “আমাদের সামনেও অন্য পথ খোলা আছে।” একইসঙ্গে তিনি পুঞ্চ ও দোদা সেক্টরে এলওসি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে ৩০ জুনের ওই সমাবেশের ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। গত মাস থেকে পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, যাতে ইতিমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। গত সপ্তাহে ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সমবেত জনতা “পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়” এবং “আমরা স্বাধীনতা চাই” বলে স্লোগান দেয়। স্থানীয় কিছু সংস্কারের দাবি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার বা স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাজনৈতিক সংকট স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ইসলামাবাদের অনুগত ও ‘ক্ষমতাহীন’ আঞ্চলিক প্রশাসনের গভীর দূরত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে। গত ৫ জুন পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তৃণমূল স্তরের এই জেএএসি সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করার পর এই অসন্তোষ আরও তীব্র হয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাদের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে এই অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার খর্ব করেছে। এমনকি ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, পিওকে ও গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচনে বরাবরই সেই দল জয়ী হয়, যা কোনো সাধারণ কাকতালীয় বিষয় নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী তেহরানের মেট্রোতে রেকর্ডসংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত হয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে রোববারের মধ্যে মেট্রো নেটওয়ার্কে ৭০ লাখের বেশি যাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আয়োজিত শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মেট্রো ব্যবহার করেন। এ কারণে দুই দিনের ব্যবধানে যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান সংঘাতের কারণে তার দাফন ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠান কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার থেকে ইরান কখনো পিছু হটবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। রোববার (০৫ জুলাই) তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় জানাজার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। আমির হাতামি বলেন, যারা এই অপরাধ করেছে, তারা জেনে রাখুক ইরানের জনগণ এবং আমরা কখনো ন্যায়বিচারের দাবি ও প্রতিশোধের অনুসন্ধান থেকে সরে আসব না। আমরা তাদের ছেড়ে দেব না। এটি আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ফল না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই পথেই থাকব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজের কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। হামলায় তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ, ৪ বছরের নাতনি এবং ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাও নিহত হন। এর জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশাপাশি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ বারবার বলেছে, খামেনির হত্যার চূড়ান্ত ও নির্ধারক প্রতিশোধ এখনো বাকি রয়েছে। উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ তেহরানের মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন। তিন দিনের শোকযাত্রা শেষে বৃহস্পতিবার তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে। সূত্র : প্রেস টিভি