হাইকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেগুলোতে দাবি করা হয়, আদালত বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না’। শিরোনাম ও প্রতিবেদনে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আদালত দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধ্যবাধকতা পরিবর্তন কিংবা শিথিল করেছে।
এরকম সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
এসব প্রতিবেদনের ইন্ট্রোতে স্পষ্টতই দাবি করা হয়েছে, বহু বিবাহ সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং এতদিন আগের স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যেত না। কিন্তু নতুন রায় অনুযায়ী সেটি করা যাবে।
তবে দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ‘দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না’— এই বক্তব্যটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর। হাইকোর্ট পূর্বেকার আইনে কোনো পরিবর্তন আনেনি বা বহু বিয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি কাঠামো শিথিলও করেনি। বরং আদালত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত পূর্বেকার বিধান বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান একটি রিট আবেদন করেন। আদালত রিট আবেদনটি খারিজ করে পূর্বের বিধান অবিকল বহাল রেখেছে।
আইনে কী আছে
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না এবং এমন অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বিয়ে ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশকরণ) আইনের অধীনে নিবন্ধিত হবে না।
(২) ১ উপধারায় বলা হয়েছে, অনুমতির ও দরখাস্ত নির্ধারিত ফিসসহ চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট দপ্তরে দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণগুলো এবং এই বিবাহের বিষয়ে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ থাকবে।
(৩) ২ উপধারায় বলা হয়, দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীদের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। ওইরূপ গঠিত সালিস কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিয়ে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত বলে মনে করলে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হতে পারে—এমন সব শর্ত থাকলে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।
(৪) উপধারায় বলা হয়, দরখাস্তের বিষয় নিষ্পত্তি করার জন্য সালিসি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেকোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নির্দিষ্ট দপ্তরে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনা চেয়ে দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোনো আদালতে এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
৬ (৫) উপধারায় বলা হয়েছে যদি কোনো ব্যক্তি সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করে, সে ক্ষেত্রে কী হবে তা আইনের । ৫ (ক) অনুসারে, বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের তলবি ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। এই টাকা ওইরূপ পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে; এবং ৫ (খ) অনুসারে, অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা জরিমানা (দশ হাজার টাকা পর্যন্ত) বা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
রায়ের প্রেক্ষাপট
এই রায়টি এসেছে মূলত বহুবিবাহ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে, যেখানে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তা বাতিল এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন নীতিমালার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে ওই রিটটি হাইকোর্টে দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
রিটে তার বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইনের ৬ ধারার মাধ্যমে কার্যত বহুবিবাহকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে; কারণ এই ধারার অধীনে গঠিত সালিশি (আরবিট্রেশন) পরিষদ প্রধানত পুরুষ সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় সেখানে আগের স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রতি ন্যায়বিচার ও সম-অধিকার নিশ্চিত না করেই ঢালাওভাবে বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত নারীর মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।
শুনানি শেষে ‘ইশরাত হাসান বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ২০ আগস্ট রায় দেন। হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দিয়ে ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেন, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারার অধীনে বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয় এবং এটি নারী বা পুরুষ—কারও মৌলিক অধিকার হরণ করে না।’
রায়ে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর একক অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে, কারণ আইনে স্ত্রীর ব্যক্তিগত অনুমতিকে একমাত্র শর্ত হিসেবে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, এটি নতুন কোনো বিধান নয়; বরং বিদ্যমান আইনই বহাল রয়েছে।
ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সৈকত জামানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণের কাঠামো শুরু হয় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায়, যেখানে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর পর পুরুষের ক্ষেত্রে এই শাস্তির ধরন পরিবর্তন হয় এবং দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
আইনজীবী সৈকত জামান বলেছেন, এই রায়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন হাইকোর্ট নতুন কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অথচ দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির বিধান দীর্ঘদিনের চলমান প্রক্রিয়া। তিনি মনে করেন, সম্পূর্ণ রায় না পড়ে বা বিচারপতির কোনো একটি পর্যবেক্ষণ আলাদা করে তুলে ধরে শিরোনাম করার ফলে জনজীবনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যা আদালতের রায়ের প্রকৃত প্রভাব বিকৃত করে।
সূত্র : দ্য ডিসেন্ট
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় কালশির মুখ সীমান্ত এলাকার 'নো ম্যানস ল্যান্ড'-এ বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমা চেয়ে খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে বলে শুক্রবার বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। স্থানীয় বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিয়ুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিএসএফ প্রায়শই নিষিদ্ধ সীমান্ত বিন্দুতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু বিজিবি টহল দলের দ্রুত ও কঠোর প্রতিবাদের মুখে প্রতিবারই খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশের পক্ষে একতরফাভাবে সীমান্ত এলাকার 'জিরো লাইন' বা 'নো ম্যানস ল্যান্ড' স্পর্শ করে বা অতিক্রম করে খুঁটি, বেড়া বা স্তম্ভ স্থাপন করা অবৈধ। এ ধরনের কাঠামো নির্মাণের আগে সীমান্ত ভাগাভাগি করা সব দেশের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা করতে হয়। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিএসএফের একটি দল নিয়ম লঙ্ঘন করে কালশির মুখ সীমান্ত এলাকায় খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ও বিজিবি ৫১ ব্যাটালিয়ন এই লঙ্ঘন লক্ষ্য করে, যার ফলে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেন। বিজিবি সদস্যরা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবিলম্বে খুঁটি সরিয়ে নিতে বিএসএফের সহকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত খুঁটি সরিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যাহার হয়। ৫১ ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিয়ুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে।
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনসংলগ্ন কালশী রোডের পাশের বাউনিয়াবাঁধ মৌজায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রায় ১৩ একর সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে মঙ্গলবার অভিযান পরিচালনার সময় দখলকারীদের বাধার মুখে পড়ে অভিযান আংশিকভাবে ব্যাহত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরদিন অতিরিক্ত পুলিশ ও জনবল নিয়ে পুনরায় অভিযান চালানো হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সচিব মনদীপ ঘরাই জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা জমিটি দুই দিনের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ণের ঢাকা ডিভিশন-১ এর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেয়। অভিযানের সময় অস্থায়ী ছাপড়া ঘর, টং দোকান, আধাপাকা টিনশেড স্থাপনা এবং কয়েকটি দ্বিতল ভবনসহ আনুমানিক ১৮০ থেকে ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জমিটি এলএ (LA) কেস নং ৫/৭২–৭৩ অনুযায়ী সরকার আইনগতভাবে অধিগ্রহণ করেছিল। জমিটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন 'মিরপুরস্থ ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ' প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অবস্থিত কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করে জমিটি দখলে রেখেছিল। এতে সরকারি সম্পদের ব্যবহার, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উদ্ধারকৃত জমি পরিকল্পিত আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদী থেকে গত ৭ দিনে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় তিনটি হত্যা মামলাসহ মোট ৯৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নৌ পুলিশ। নৌ পুলিশ জানায়, গত সাত দিন দেশের বিভিন্ন নদীতে অভিযানে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৫ মিটার অবৈধ জাল, ২ হাজার ৮৯৬ কেজি মাছ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ বাগদা চিংড়ি রেণু, ৪৯০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয় এবং নদী থেকে ১৭৯টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া নৌ পুলিশের এই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় ১০৪টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ-আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানকালে ২টি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সাত দিনব্যাপী এই অভিযানে ৩০২ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৬৩টি মৎস্য আইন, ১৩টি বেপরোয়া গতি আইন, ১টি বালুমহাল এবং ১টি মাদক, ১১টি অপমৃত্যু, ১টি ডাকাতি, ১টি অপহরণ, ১টি চাঁদাবাজি, ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ৩টি হত্যা মামলাসহ মোট ৯৬টি মামলা দায়ের এবং ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।