জাতীয়

‘দ্বিতীয় বিয়েতে আগের স্ত্রীর অনুমতি’: যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0

হাইকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেগুলোতে দাবি করা হয়, আদালত বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না’। শিরোনাম ও প্রতিবেদনে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আদালত দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধ্যবাধকতা পরিবর্তন কিংবা শিথিল করেছে।

 

এরকম সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

 

এসব প্রতিবেদনের ইন্ট্রোতে স্পষ্টতই দাবি করা হয়েছে, বহু বিবাহ সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং এতদিন আগের স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যেত না। কিন্তু নতুন রায় অনুযায়ী সেটি করা যাবে।

 

তবে দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ‘দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না’— এই বক্তব্যটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর। হাইকোর্ট পূর্বেকার আইনে কোনো পরিবর্তন আনেনি বা বহু বিয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি কাঠামো শিথিলও করেনি। বরং আদালত মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত পূর্বেকার বিধান বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান একটি রিট আবেদন করেন। আদালত রিট আবেদনটি খারিজ করে পূর্বের বিধান অবিকল বহাল রেখেছে।

 

আইনে কী আছে

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না এবং এমন অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বিয়ে ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশকরণ) আইনের অধীনে নিবন্ধিত হবে না।

 

(২) ১ উপধারায় বলা হয়েছে, অনুমতির ও দরখাস্ত নির্ধারিত ফিসসহ চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট দপ্তরে দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণগুলো এবং এই বিবাহের বিষয়ে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ থাকবে।

 

(৩) ২ উপধারায় বলা হয়, দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীদের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। ওইরূপ গঠিত সালিস কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিয়ে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত বলে মনে করলে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হতে পারে—এমন সব শর্ত থাকলে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।

 

(৪) উপধারায় বলা হয়, দরখাস্তের বিষয় নিষ্পত্তি করার জন্য সালিসি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেকোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নির্দিষ্ট দপ্তরে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনা চেয়ে দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোনো আদালতে এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

 

৬ (৫) উপধারায় বলা হয়েছে যদি কোনো ব্যক্তি সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করে, সে ক্ষেত্রে কী হবে তা আইনের । ৫ (ক) অনুসারে, বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের তলবি ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। এই টাকা ওইরূপ পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে; এবং ৫ (খ) অনুসারে, অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা জরিমানা (দশ হাজার টাকা পর্যন্ত) বা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

 

রায়ের প্রেক্ষাপট

এই রায়টি এসেছে মূলত বহুবিবাহ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে, যেখানে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তা বাতিল এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন নীতিমালার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে ওই রিটটি হাইকোর্টে দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

 

রিটে তার বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইনের ৬ ধারার মাধ্যমে কার্যত বহুবিবাহকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে; কারণ এই ধারার অধীনে গঠিত সালিশি (আরবিট্রেশন) পরিষদ প্রধানত পুরুষ সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় সেখানে আগের স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রতি ন্যায়বিচার ও সম-অধিকার নিশ্চিত না করেই ঢালাওভাবে বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত নারীর মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে।

 

শুনানি শেষে ‘ইশরাত হাসান বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ২০ আগস্ট রায় দেন। হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দিয়ে ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেন, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারার অধীনে বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয় এবং এটি নারী বা পুরুষ—কারও মৌলিক অধিকার হরণ করে না।’

 

রায়ে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর একক অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে, কারণ আইনে স্ত্রীর ব্যক্তিগত অনুমতিকে একমাত্র শর্ত হিসেবে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, এটি নতুন কোনো বিধান নয়; বরং বিদ্যমান আইনই বহাল রয়েছে।

 

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সৈকত জামানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণের কাঠামো শুরু হয় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায়, যেখানে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর পর পুরুষের ক্ষেত্রে এই শাস্তির ধরন পরিবর্তন হয় এবং দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

 

আইনজীবী সৈকত জামান বলেছেন, এই রায়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন হাইকোর্ট নতুন কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অথচ দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির বিধান দীর্ঘদিনের চলমান প্রক্রিয়া। তিনি মনে করেন, সম্পূর্ণ রায় না পড়ে বা বিচারপতির কোনো একটি পর্যবেক্ষণ আলাদা করে তুলে ধরে শিরোনাম করার ফলে জনজীবনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যা আদালতের রায়ের প্রকৃত প্রভাব বিকৃত করে।

 

সূত্র : দ্য ডিসেন্ট

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ঢাকায় এসে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উচ্ছ্বাস প্রকাশ

বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী এমন একটি দেশে ফিরে আসতে পেরে দারুণ আনন্দিত। যে দেশটি আমাদের কাছে বহু সুখস্মৃতির অধিকারী।’   সোমবার (১২ জানুয়ারি) দূতাবাসের এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।   ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য গর্বের বিষয়। এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা করছি।’   এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান।   কূটনীতিক হিসেবে ক্রিস্টেনসেনের বাংলাদেশে আসাটা এবারই প্রথম নয়। চার বছর আগে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি।   গত সেপ্টেম্বরে ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে ‘অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যান্ড প্লেনিপটেনশিয়ারি’ হিসেবে মনোনয়ন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর গত মাসে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পান তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকা মিশনে পিটার হাসের উত্তরসূরি হলেন। তিনি ঢাকায় ১৯তম মার্কিন দূত। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্রিস্টেনসেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0

‘দ্বিতীয় বিয়েতে আগের স্ত্রীর অনুমতি’: যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি দুই লাখ ৩২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক ধাপে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন এই মূল্যহার আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর স্বর্ণের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, ডলার বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা। স্বর্ণ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকার আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানের ওপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪০৮ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। স্বর্ণ ও রুপার এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের গহনা বাজারে নতুন করে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সময়ে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ। ছবি : সংগৃহীত

নতুন জরিপে প্রকাশিত বিএনপি-জামায়াতের ভোট শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

হাদি হত্যা: চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ভোটের আমেজ দেখছে না জাতীয় পার্টি

পুরোনো ছবি
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরাসরি প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকার

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরাসরি প্রচারে নেমেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিতে সরকার সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রচারণার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়েছে। গণভোট ঘিরে সরকারের এ অবস্থান নিয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারও গণভোটের একটি পক্ষ। যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, তাই সরকারের প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাত দিয়ে তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকার নিজেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে এবং এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করবে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করবে। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে। তারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, সরকার চাইলে এ ধরনের প্রচার চালাতে পারে—এতে কোনো আইনগত বাধা নেই।” গতকাল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আটটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হবে। এসব ফটোকার্ডে লেখা রয়েছে— ‘আমাদের সবার স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবে গড়ার জন্য হ্যাঁ-তে সিল দিন।’ এ বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মো. আব্দুল আলীম কালবেলাকে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার মূলত একটি সংস্কার সরকার। এ সরকারের প্রধান এজেন্ডাই ছিল সংস্কার। এজন্য একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে, ঐকমত্য কমিশন হয়েছে এবং জুলাই জাতীয় সনদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই সনদের অন্তত ৩০টি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। সরকার নিজেও এই প্রক্রিয়ার একটি অংশ।” তিনি আরও বলেন, “এর আগের গণভোটগুলোর ক্ষেত্রেও সরকার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। সারা বিশ্বেই সাধারণত সরকার গণভোটের পক্ষে কথা বলে। ফলে এ ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগও নেই।” এদিকে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সত্যিকারের সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি যে দ্বিতীয় ভোটটি দেওয়া হবে, সেটিই হচ্ছে গণভোট। এটি দেশের ক্ষমতার ভার শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে জনগণের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। যারা প্রকৃত সংস্কার চান, তাদের অবশ্যই হ্যাঁ বলতে হবে।” অন্যদিকে, উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “যদি আমরা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও আয়নাঘরের অন্ধকার দিনে ফিরে যেতে না চাই, তাহলে আমাদের গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে এবং হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।” এছাড়া বরিশালে এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গণভোট সাধারণ ভোটের মতো নয়। এটি নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে—তারই রূপরেখা।” উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকবে। প্রতিটি প্রস্তাবের বিপরীতে ভোটাররা শুধু ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’—এই দুই বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নেবেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বই বাণিজ্যে বন্দী পাঠ্যবই বিতরণ

যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতসহ ৪ দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসায় অস্ট্রেলিয়ার কড়াকড়ি

0 Comments