সারাদেশ

চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আইনি বাধা নেই

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬

শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজনে বর্তমানে কোনো আইনগত বাধা নেই— এমন অবস্থান জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়েছেন চেম্বার প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী।

 

রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানান তিনি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনে গত ১১ ডিসেম্বর দেওয়া রায় এবং চলতি বছরের ৭ জানুয়ারির আদেশের কপি চেম্বার কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে।

 

ওই রায়ের আলোকে চেম্বারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ কাশেম চৌধুরীর আইনগত মতামত নেওয়া হয়। তিনি মত দেন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির ৬টি পদ বহাল রেখে মোট ২৪ পরিচালক পদে নির্বাচন করতে কোনো আইনগত বাধা নেই।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ নভেম্বর বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৪ পরিচালক পদে চেম্বারের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও মামলাজনিত জটিলতায় তা স্থগিত হয়। তপশিল অনুযায়ী অর্ডিনারি মেম্বার শ্রেণি থেকে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট মেম্বার থেকে ছয়জন, ট্রেড গ্রুপ থেকে তিনজন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে তিনজন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

 

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন সিসিসিআই দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২ সেপ্টেম্বর চেম্বারের পূর্ণ পর্ষদ পদত্যাগ করে। এরপর থেকে প্রশাসক দ্বারা চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ১১ মাস পর গত ১১ আগস্ট নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হলেও বিষয়টি আদালতেই ঝুলে রয়েছে।

 

নির্বাচন নিয়ে জটিলতার সূত্রপাত হয় টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির অংশগ্রহণ নিয়ে। শুরুতে এসব শ্রেণির আটটি সংগঠনকে বাদ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় চেম্বার। পরে ৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় ওই সংগঠনগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদ বেলাল নামের এক ব্যবসায়ী রিট করলে ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে আপিল, স্থগিতাদেশ ও নির্দেশনার পর গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন—টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির ছয়জন প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধেও আবার আপিল করা হয়েছে।

 

এদিকে চট্টগ্রাম চেম্বারসহ অন্তত ৭টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা নির্বাচন বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে নেতৃত্ব না থাকায় সরকারি বিভিন্ন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া কার্যকরভাবে তুলে ধরার মতো কোনো প্রতিনিধি নেই। জাতীয় নির্বাচনের অজুহাত দেখানো হলেও অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনে নির্বাচন হচ্ছে—এ কারণে তারা চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন বিলম্বকে সদিচ্ছার অভাব বলেই মনে করছেন।

 

নির্বাচনের পথ আংশিকভাবে সুগম হলেও এখনো নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটেনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে, ফুল দিয়ে বরণ করল প্রশাসন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।   বুধবার সন্ধ্যায় মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। পরে অস্ত্র হস্তান্তরকারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানিয়ে মানবিক ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রশাসন। এ সময় ২৩টি দেশীয় তৈরি ঢাল ও সড়কি জমা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।  উপস্থিত বক্তারা বলেন, ভয়ভীতি বা শাস্তির পরিবর্তে সম্মান ও সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা সম্ভব। এ উদ্যোগ সেই বিশ্বাসেরই বাস্তব প্রতিফলন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্বীকৃতি মানুষের আচরণ পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অস্ত্র জমাদানকারীদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে প্রশাসন একটি ইতিবাচক, মানবিক ও দূরদর্শী বার্তা দিয়েছে, যা এলাকায় শান্তির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে। সালথা থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন- সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ, পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রজিৎ মল্লিক এবং সালথা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফসার মাতুব্বর, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান শাহিদ, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আ. রাজ্জাক মোল্লা, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবি, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মাতুব্বর, যুবদল নেতা ইমরান হোসেন, সজিব মাতুব্বর, কৃষক দল নেতা ফারুক হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বক্তারা আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সমাজে সহিংসতা, অপরাধ ও অস্থিরতা বাড়ায়। তাই অস্ত্রমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার এ উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপস্থিত সবাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসম্পৃক্ত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ভোজ্যতেল কারসাজির অভিযোগে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে ৩২ কোটি টাকার জরিমানা

ছবি : সংগৃহীত

মেডিকেলে সুযোগ পেয়েও অনিশ্চয়তায় মাহমুদার স্বপ্ন

ছবি: সংগৃহীত

ধানক্ষেতেই রঙিন আমের বাগান, চাষির সাফল্যের গল্প

ছবি : সংগৃহীত
গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রী অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ১

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাকিরুল ইসলাম (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।   মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কামদিয়া কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফিরছিল কামদিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। পথে একই শ্রেণির ছাত্র ও কামদিয়া গ্রামের হারুন-অর-রশিদের ছেলে হুমায়ুন কবির (১৮) তার সহযোগীদের নিয়ে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় করে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে। তারা মেয়েটিকে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়নের পূর্ব বাহিয়াল পালশা গ্রামে শাহাজান আলীর ছেলে সাকিরুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে হুমায়ুন ও সাকিরুল ছাড়াও কামদিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে অনিক মিয়া (১৮) এবং আলীগাঁও গ্রামের নুরুন্নবীর ছেলে সাব্বির মিয়া (১৯) মিলে মেয়েটিকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে আটকে রাখে। পরে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে ভুক্তভোগী ছাত্রীটি তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাকিরুল ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে সাকিরুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নির্যাতিতা স্কুলছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১১, ২০২৬
আম। প্রতীকী ছবি

বাজারের আম খেয়ে খুলনায় এক নারীর মৃত্যু, অসুস্থ ৪

ছবি : সংগৃহীত

আমের বাজারে ‘ঢলন’ প্রথা বন্ধ, এখন থেকে কেনাবেচা কেজিতে

ছবি : সংগৃহীত

৩ হাজার কোটি টাকা বাঁচিয়েও ২৪ দিনে ৩ বার বদলি সেই এডিসি

‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’ নামের সাব-পোস্ট অফিস।
প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে আবার চালু হলো ডাকঘর

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার বিরাহিমপুরে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়িতে ডাকঘরের (টাউন সাব-পোস্ট অফিস) কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে এর উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (ডিপিএমজি) সুজিত চক্রবর্তী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের নিকটজন, ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন দুপুর ১২টায় ফিতা কেটে ‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’ নামের এই সাব-পোস্ট অফিসের নব-কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এর আগে সিলেট প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল কাম পোস্টমাস্টার মো. আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এবং পোস্ট অফিস পরিদর্শক (শহর) রুনু চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় প্রধান অতিথি ডিপিএমজি সুজিত চক্রবর্তী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খাঁনের দাদা মরহুম খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলী জীবদ্দশায় তার এই বাড়িতে ডাকবিভাগকে ১৬ শতক জমি দান করেছিলেন। সেখানে একটি শাখা ডাকঘর স্থাপন করা হয়।  পরবর্তী সময়ে ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ২০১৩ সালে এ ডাকঘরের কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী সিলাম সাব-পোস্ট অফিসে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০২৪ সালে এটিকে টাউন সাব-পোস্ট অফিস হিসেবে উন্নীত করে পুনরায় কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্প্রতি ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কাজী আসাদুল ইসলামের নির্দেশনা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (পিএমজি) মো. আবু তালেবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সিলেট বিভাগীয় ডাকঘরের ব্যবস্থাপনায় ভবনের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়। মরহুম খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলীসহ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ির সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সুজিত চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় মানুষের ডাকসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা বহু বছর আগে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজ আমরা সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং স্থানীয়দের আধুনিক ডাকসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ‘খাঁন বাহাদুর ডা. আছদ্দর আলী ওয়াকফ এস্টেট’র মুতাওয়াল্লি বাবর আলী খাঁন, সমাজসেবক আসাদ উদ্দিন, সিলেট প্রধান ডাকঘরের এপিএম লিপ্টন রঞ্জন রায় ও এপিএম মুজিবুর রহমান খান পাঠান। সভা শুরুর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন স্থানীয় মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা আনোয়ার হোসেন এবং গীতা পাঠ করেন ডাকবিভাগ কর্মকর্তা চুমকি রানী তালুকদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট প্রধান ডাকঘরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ‘বিরাহিমপুর ডাকঘর’র পোস্টমাস্টার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীতে শেখ মুজিব ও আ.লীগ নেতাদের ৩০০ বই জব্দ

রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার রাতে, রাজধানী কাকলী এলাকায়।ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর পর এবার রাতে বর্জ্য তদারকিতে প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে রেলের ১৬০ যন্ত্রপাতি এখন এক উপজেলাতেই

0 Comments