সারাদেশ

চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আইনি বাধা নেই

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬

শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজনে বর্তমানে কোনো আইনগত বাধা নেই— এমন অবস্থান জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়েছেন চেম্বার প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী।

 

রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানান তিনি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনে গত ১১ ডিসেম্বর দেওয়া রায় এবং চলতি বছরের ৭ জানুয়ারির আদেশের কপি চেম্বার কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে।

 

ওই রায়ের আলোকে চেম্বারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ কাশেম চৌধুরীর আইনগত মতামত নেওয়া হয়। তিনি মত দেন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির ৬টি পদ বহাল রেখে মোট ২৪ পরিচালক পদে নির্বাচন করতে কোনো আইনগত বাধা নেই।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ নভেম্বর বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৪ পরিচালক পদে চেম্বারের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও মামলাজনিত জটিলতায় তা স্থগিত হয়। তপশিল অনুযায়ী অর্ডিনারি মেম্বার শ্রেণি থেকে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট মেম্বার থেকে ছয়জন, ট্রেড গ্রুপ থেকে তিনজন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে তিনজন পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

 

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন সিসিসিআই দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২ সেপ্টেম্বর চেম্বারের পূর্ণ পর্ষদ পদত্যাগ করে। এরপর থেকে প্রশাসক দ্বারা চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ১১ মাস পর গত ১১ আগস্ট নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হলেও বিষয়টি আদালতেই ঝুলে রয়েছে।

 

নির্বাচন নিয়ে জটিলতার সূত্রপাত হয় টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির অংশগ্রহণ নিয়ে। শুরুতে এসব শ্রেণির আটটি সংগঠনকে বাদ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় চেম্বার। পরে ৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় ওই সংগঠনগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদ বেলাল নামের এক ব্যবসায়ী রিট করলে ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে স্থগিতাদেশ দেন। পরবর্তীতে আপিল, স্থগিতাদেশ ও নির্দেশনার পর গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন—টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণির ছয়জন প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধেও আবার আপিল করা হয়েছে।

 

এদিকে চট্টগ্রাম চেম্বারসহ অন্তত ৭টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা নির্বাচন বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে নেতৃত্ব না থাকায় সরকারি বিভিন্ন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া কার্যকরভাবে তুলে ধরার মতো কোনো প্রতিনিধি নেই। জাতীয় নির্বাচনের অজুহাত দেখানো হলেও অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনে নির্বাচন হচ্ছে—এ কারণে তারা চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন বিলম্বকে সদিচ্ছার অভাব বলেই মনে করছেন।

 

নির্বাচনের পথ আংশিকভাবে সুগম হলেও এখনো নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটেনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
পদ্মা সেতু রেলপথে বাড়ছে চুরি ও দুর্ঘটনা, আড়াই বছরে মৃত ২৫

যন্ত্রাংশ চুরিতে ঝুঁকিতে রেলপথ আড়াই বছরে প্রাণ গেছে ২৫ জনের   স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে যোগ হয় রেলপথ। এটি শিবচরসহ এই এলাকার মানুষজনের অনেক কাঙ্ক্ষিত। অথচ চালুর পর থেকে কিছুতেই থামছে না রেলপথের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা। রেলপথের সিগন্যাল ব্যবস্থার মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির ফলে বাড়ছে ঝুঁকি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে রেলপথ অনেকটাই আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।   শিবচর রেলওয়ে স্টেশনসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণ। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলে এ অঞ্চলের মানুষজনের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। এরপর ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর চালু হয় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত রেল। এরপর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে রেলগাড়িতে। এতে করে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হয়ে যায়।   তবে এই সহজ যাত্রার সঙ্গে যোগ হয় কিছু ভোগান্তি ও দুর্ভোগ। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে রেলপথের বিভিন্ন এলাকায় সিগন্যালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও ক্যাবল চুরি। আরেকটি হচ্ছে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু।   সিগন্যালের যন্ত্রাংশ-ক্যাবল চুরি শিবচর রেলওয়ে স্টেশনসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন রাতে মাদারীপুর শিবচরের অংশের পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্টের কয়েকটি ট্র্যাক পট (ট্র্যাক সার্কিটের যন্ত্রাংশ) খুলে নিয়ে যায় চোরচক্র।   এর আগে ৯ জুন একই স্টেশনের শিবচর প্রান্তের সিগন্যাল পয়েন্টের সবগুলো ট্র্যাক পট চুরি হয়ে যায়। এছাড়াও গত ১৮ মার্চ শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের ট্র্যাক পট খুলে নিয়ে যায় চোরচক্র। এভাবেই মাঝে মধ্যেই চোরচক্র রেললাইনের বিভিন্ন স্থানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকবার চোরদের আটক করলেও কোনোভাবেই এই চুরির ঘটনা থামছে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চলাচল করছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গত ছয় মাসে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ট্র্যাক পটসহ সিগন্যাল ব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা অনেক বেড়েছে। এসব যন্ত্রাংশ চুরির ফলে ট্রেন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে। এছাড়াও ট্রেন চলাচলেও অতিরিক্ত সময় লাগছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ের কর্মীদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ‘লুক স্টিক’ ব্যবহার করে পেপার লাইন ক্লিয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তাই এই চুরি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।   শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, এই রুটের ট্র্যাক পট চুরির কারণে ট্রেন চালাতে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেইসঙ্গে সময়ও বেশি লাগছে। এই চুরি জরুরিভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে।   শিবচরের পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, শিবচরের এই রুটে সিগন্যালের ট্র্যাক পটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। তাই এই রুটে ট্রেন চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।   ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. শাহ-জালাল বলেন, ভাঙ্গা জংশন থেকে শিবচর ও পদ্মা স্টেশনের দূরত্ব বেশি। তাই নিয়মিত টহলে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তাই এই রুটে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা খুব বেড়েছে। এরই মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। এতে করে ট্রেন চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে এসব চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকজন চোরকে গ্রেফতার করাও হয়েছে। তবুও চুরির ঘটনা কমছে না। তাই এই চুরি প্রতিরোধ করার জন্য টহল আরও জোরদার করা হবে। যাতে করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা পায় আর ট্রেন চলাচল নিরাপদ হয়।   নতুন সমস্যা ট্রেনে কেটে মৃত্যু গত আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে মাদারীপুর জেলার শিবচরে ট্রেনে কাটা পড়ে কমপক্ষে ২৫ জন মারা গেছে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনা সন্ধ্যার পর ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে পদ্মা সেতু হয়ে আংশিক ট্রেন চলাচল শুরু করে। এরপর ডিসেম্বরে পুরোপুরিভাবে এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্ট থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে শিবচরে পদ্মা ও শিবচর স্টেশন আছে। ঢাকার কমলাপুর থেকে রাজশাহী, খুলনা পর্যন্ত ট্রেন চলে এই রুটে।   মাদারীপুরের শিবচরে প্রথমবারের মতো রেললাইন চালু হওয়ায় এই এলাকার মানুষজনের মধ্যে কৌতুল ও আগ্রহ বেশি ছিল। তাই রেললাইন ও রেলগাড়িকে কেন্দ্র করে এই এলাকার মানুষজনের মধ্যে একটি উৎসব ও আনন্দ দেখা যায়। অনেক স্থানে রেললাইনের কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় অনেকেই বিকেল হলে ঘুরতে আসেন। তাছাড়া অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষজন ঘুরতে আসেন। সন্ধ্যার পর ভিড় আরও বাড়ে। তাই অসাধনতাবশত দুর্ঘটনাও অনেকে বেড়েছে।   স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ২০ জুন সকালে শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর এলাকার তেলের পাম্প সংলগ্ন স্থানে রেলে কাটা পড়ে একই উপজেলার বাচামারা গ্রামের মোকশেদ হাওলাদারের স্ত্রী শুকরণ বেগম মারা যান। এই বছর কমপক্ষে আরও ৩ জন মারা গেছেন।   ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় মাদারীপুরের শিবচরে উপজেলার মোল্লা বাজার এলাকায় পদ্মা রেলস্টেশনের কাছাকাছি ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তি মারা যান। ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কেশবপুর এলাকার রেলসড়কের ৫ নম্বর সেতুতে ট্রেনের ধাক্কায় শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কেশবপুরের বেপারীর কান্দি গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার ছেলে ও একই এলাকার স্থানীয় ইক্বরা রওজাতুল উলুম মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদুল ইসলাম (১০) মারা যান। একই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শিবচরের পাঁচ্চরবাজার সংলগ্ন মাদবরেরচর এলাকায় এক নারী (৩০) মারা যান।   ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর ঘুরতে গিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেললাইনের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর এলাকায় একই উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের আবু খলিফা ওরফে মিজান সরদারের মেয়ে মিথিলা আক্তার (১৭) মারা যান। এসময় ওই কিশোরীর সঙ্গে থাকা তার ১১ মাস বয়সি ভাগনি আয়শার দুই হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   এছাড়াও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর গোল চত্বরের পাশে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবক মারা যান। একই বছর শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সীমানা এলাকায় রেলে কাটা পড়ে একই উপজেলার চরকেশবপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মোড়ল ছেলে ও স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রাকিব (১২) মারা যায়।   তারও আগে ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর শিবচর উপজেলার পাঁচ্চরের লাইফ কেয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন রেললাইনে ছবি তোলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় একই উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের লপ্তীকান্দি এলাকার হিরু খানের ছেলে এবং একই ইউনিয়নের মাদবরেরচর রহিমুদ্দিন মাদবর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি ছাত্র মো. ইব্রাহিম খান (১৪) মারা যান।   পাঁচ্চর এলাকার স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে এখানে এসে আত্মহত্যা করার ঘটনাও আছে। তা না হলে ট্রেনে কদিন পরপরই এত মারা যাবে কেন। তাছাড়া ট্রেনের নিচে ফেলে হত্যার ঘটনাও থাকতে পারে। তাই এসব ব্যাপারে আইনশৃংখলা বাহিনীর আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।   পাঁচ্চর এলাকার রেল সড়কে ঘুরতে আসা স্থানীয় জয়নাল হোসেন বলেন, বিকেল হলেই রেললাইনে মানুষের আড্ডা জমে ওঠে। এছাড়া সকাল-দুপুরেও রেললাইন ধরে অনেককেই হাঁটতে দেখা যায়। আসলে স্থানীয়রা ছাড়া অনেকেই ট্রেন চলাচলের সময় জানে না। দূর থেকে ট্রেন দেখে সরতে গিয়েও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক সময় দেখলে মনে হয় ট্রেন ধীরে আসছে আসলে ট্রেন প্রচণ্ড গতিতে চলে এখানে। তাই অনেক সময় অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সকলের সচেতন হতে হবে।   শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, মাঝে মধ্যে রেলে কাটা পড়ে মারা যাবার ঘটনা ঘটে থাকে। সম্প্রতি শুকরণ বেগম নামের এক নারী মারা গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।   শিবচর স্টেশনের মাস্টার মো. সেলিম হোসেন বলেন, এই লাইনটি খুবই গতিশীল। এখানে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইনে হাঁটাহাঁটি বন্ধ করতে হবে। মানুষকে সচেতন হতে হবে। রেললাইন ঘোরার জায়গা না। তাই এই ব্যাপারে সবার সচেতন হলে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটে বাধা পেয়ে খালের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করল প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন স্পট বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুর ১৪ তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত
ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ১৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা

টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে বন্যা ও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করে।   পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।   বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।   এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও জাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।   পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে পরবর্তী তিন দিন আবার বাড়তে পারে। তবে নদীটি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মার পানিও স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে সেখানেও আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।   রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, এরপর আবার পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে। এ ছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরায় ৭৭ মিলিমিটার, মাওসিনরামে ৬৯ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৫৭ মিলিমিটার এবং মাওফ্ল্যাংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।   সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো নদীই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল না বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে সংস্থাটি পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সবাই যদি লাভের হিসাব করে, রাষ্ট্র উন্নত হবে কীভাবে: হুইপ নিজান

ছবি : সংগৃহীত

ডিএমপির নতুন ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস কমিশনার ওসমান গনি

সংগৃহীত ছবি

মাকে ধর্ষণের প্রতিশোধ: যুবককে গলা কেটে হত্যা, ৪ ছেলে আটক

ছবি : সংগৃহীত
ইউএনওর মানবিকতায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সাবেক ভিক্ষুক শফিকুল

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকীর মানবিকতায় আড়াই ফুট উচ্চতা চার সন্তানের জনক হতদরিদ্র বিক্ষোভ শফিকুল ইসলামকে (৫৫) স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ব্যবসা চালানোর জন্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।   ধানীখোলা ইউনিয়নের মধ্য ভাটিপাড়া গ্রামের  শফিকুল দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরে ভিক্ষা করে জীবন-জীবিকা চালিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে বয়স ও শরীর তেমন ভালো না থাকায় আর ভিক্ষা করতে পারছেন না। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ফিরে আসেন স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর। তিনি রোববার দুপুরে শফিকুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে আসেন তার কার্যালয়ে। তিনি শফিকুল ইসলামকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তার হাতে তুলে দেন  চায়ের দোকান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এসব সামগ্রী পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী।   এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে শফিকুল ইসলামকে চায়ের দোকানের সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে, যাতে সে পরিবার নিয়ে চলতে পারে। তার পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও । তার এই মানবিকতা যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন ।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাম মৃত্যু: ইউনূস ও নূরজাহানদের বিরুদ্ধে মামলার আদেশ ১২ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মৃত্যুবরণ করেছেন

ছবি : সংগৃহীত

দেশে প্রথম ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক কর্নার’ উদ্বোধন গোলাপগঞ্জে

0 Comments