দেশের পণ্য পরিবহন, সরবরাহ, জোগানসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক (লজিস্টিকস) খরচ ২৫ শতাংশ কমানো গেলে সার্বিক রপ্তানি ২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। আর বন্দরে পণ্যের কনটেইনার অবস্থানকাল এক দিন কমানো গেলে রপ্তানি বাড়বে ৭ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনে জাতীয় সড়কে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার নিশ্চিত করা গেলেও দেশের রপ্তানি প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে এক গোলটেবিল আলোচনার মূল প্রবন্ধে এ কথা বলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। ‘বাণিজ্যনির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এম মাসরুর রিয়াজ রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা, রপ্তানিতে পোশাকনির্ভরতা, দেশের দুর্বল লজিস্টিকস, উচ্চ পরিবহন ব্যয়, বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ছাড়া দেশের রপ্তানি ও লজিস্টিকস খাতে প্রতিযোগী দেশ ভারত এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করেন।
এ সময় আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ।
এ সময় প্যানেল আলোচনায় বক্তব্যে দেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব মো.হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যায়ের (বুয়েট) শিক্ষক মো. শামসুল হক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফেসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, শাহরিয়ার স্টিল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা (পরিবহন) হুমায়ুন কবির ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পরিবহনবিশেষজ্ঞ নুসরাত নাহিদ বাবী।
ভিয়েতনাম এগিয়ে কেন
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। যেখানে ভিয়েতনামর ৪৩তম ও ভারতের ৩৮তম। আবার কনটেইনার পোর্ট পারফরম্যান্স ইনডেক্সে চট্টগ্রাম বন্দর ভিয়েতনামের হাইফং বা ভারতের মুন্দ্রা ও জওহরলাল নেহরু বন্দরের তুলনায় প্রায় ২০০-২৫০ ধাপ পিছিয়ে।
এ সময় তিনি ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ভিয়েতনাম কয়েক বছর আগে তাদের শুল্কব্যবস্থা সহজ করা, ঝুঁকিব্যবস্থাপনা, বহুমাত্রিক (সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান) পরিবহনব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় সংস্কার করে। ফলে দেশটির রপ্তানি এখন প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আর বাংলাদেশ এখন বছরে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রপ্তানি করছে। অথচ নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের রপ্তানি প্রায় সমপর্যায়ে ছিল।
এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ২০৩০ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্য দেশের বর্তমান লজিস্টিক ব্যবস্থায় অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য দেশের বন্দরগুলোর অবকাঠামো সংস্কার প্রয়োজন।
‘লজিস্টিকস খরচ কিছু পণ্যের বিক্রির ৪৮ শতাংশ’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ডিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী বলেন, দেশের লজিস্টিকস খাতে অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতার ফলে দেশে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের লজিস্টিকস ব্যয় কিছু পণ্যের মোট বিক্রির ৪৮ শতাংশের বেশি, যা প্রতিবেশী দেশের হিসাবে অনেক বেশি।
এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আশির দশকে বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৪০ শতাংশ পণ্য পরিবহন করলেও এখন তা ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও ভবিষ্যতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে রেল এবং নৌপথের সঙ্গে সংযুক্ত না করলে কেবল বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে লাভ হবে না।
এডিবির জেষ্ঠ্য প্রকল্প কর্মকর্তা (পরিবহন) হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান কাঠামোয় বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা ও চুক্তিগত স্বচ্ছতার ঘাটতির অভাবে বেসরকারি খাত বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অনীহা তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে এখন থেকে প্রবাসীরা ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ খুলতে পারবেন, যা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করবে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীরা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মাধ্যমে এই হিসাব খুলতে পারবেন। এটি সঞ্চয়ী, চলতি বা স্থায়ী আমানত—যেকোনো ধরনের হতে পারে। এই অ্যাকাউন্টে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো রেমিট্যান্স, অন্য অনিবাসী হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, অর্জিত সুদ বা মুনাফা এবং অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় জমা রাখা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই হিসাবের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর পূর্ণ প্রত্যাবাসনযোগ্যতা। অর্থাৎ জমাকৃত অর্থ এবং এর ওপর অর্জিত লাভ যেকোনো সময় কোনো বাধা ছাড়াই বিদেশে ফেরত নেওয়া যাবে। এছাড়া এই অর্থ দেশের ভেতরে বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ, স্থানীয় পেমেন্ট এবং অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর। নতুন ব্যবস্থায় প্রবাসীরা এই অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণও নিতে পারবেন। তবে এই ঋণ কৃষি, প্ল্যান্টেশন বা আবাসন খাতে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
এবারের বাজেটে, স্বর্ণের গয়না কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানোর ঘোষণা আসায় অনেকটাই স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্বর্ণ ও গয়না কেনাবেচায় ৫ শতাংশ ভ্যাটের বদলে, ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা ভ্যাটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ক্রেতাদের খরচ কমবে। তবে ব্যক্তিগত স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে নতুন করের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই দেশে স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। এরপর বৈশ্বিক নানা সংকটে এ ধাতুটির দাম প্রায়ই ওঠানামা করতে দেখা যায়। এ অনিশ্চয়তায় স্বর্ণ কেনায় দ্বিধায় পড়েন ক্রেতারা। এমন বাস্তবতায় বাজেটে, স্বর্ণের কর ও ভ্যাটে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার সুবিধা পাবে সাধারণ ক্রেতারা। গয়না কেনায় তাদের খরচ অনেকটাই কমবে। বাজেটে স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভরিতে খরচ কমবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর, উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বেশি আলোচনায় এসেছে, বাজেটে ব্যক্তিগত স্বর্ণ বিক্রির ওপর নতুন কর। প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত স্বর্ণ, মূল্যবান পাথরসহ বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে লাভ হলে সেই মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুসের মুখপাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থা চালু হলে স্বর্ণালংকারের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, পাশাপাশি ক্রেতাদের ব্যয়ও কমবে।’ বাজেটে জুয়েলারি শিল্পের আধুনিকায়ন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি এবং অলঙ্কার রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বন্ডেড ওয়্যার হাউস পদ্ধতির আওতায় নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে।
দেশের ব্যাংকিং খাতে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রতিষ্ঠানের নামগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটিতে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানা আবারো ফিরে দেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ তারল্য সংকট, আমানত উত্তোলনের চাপ এবং নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে কঠিন সময় পার করা ব্যাংকটি এখন আবার গ্রাহকদের আস্থা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি কৃতজ্ঞতা বার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার (২১ জুন) ইসলামী ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যাংকটির প্রতি অগণিত গ্রাহকের অবিচল আস্থা ও সমর্থনের জন্য তারা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ব্যাংকটির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি যে বিশ্বাস ও আস্থা প্রদর্শন করে আসছেন, সেটিই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শক্তি। ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যাংকের জন্য মূলধন, শাখা নেটওয়ার্ক কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রাহকের আস্থা। কারণ ব্যাংকিং ব্যবসার ভিত্তিই গড়ে ওঠে আমানতকারীদের বিশ্বাসের ওপর। আর সেই বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংকের এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কেবল আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়; বরং এটি গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এদিকে মূল মালিকদের নিকট ইসলামী ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়াসহ ৭ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। আস্থাই ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ সময়ে ব্যাংকটি দেশের বৃহত্তম আমানতভিত্তিক ব্যাংকগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বিশেষ করে তারল্য সংকটের খবর প্রকাশের পর অনেক গ্রাহক একযোগে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। ফলে ব্যাংকটির ওপর চাপ আরও বাড়ে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও বিপুল সংখ্যক গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন, যা এখন ইসলামী ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকদের এই আস্থা এবং সমর্থনই তাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সহায়তা এবং নতুন ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখছে। স্বাভাবিক হচ্ছে লেনদেন ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসলামী ব্যাংকের শাখাগুলোতে লেনদেনের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক কমেছে এবং নতুন আমানতও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যাংকের সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সূচক হলো আমানতকারীদের আচরণ। যদি গ্রাহকরা টাকা তুলে নেওয়ার পরিবর্তে ব্যাংকে জমা রাখতে আগ্রহী হন, তাহলে সেটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন। কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। তাই একটি বড় ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মতো বৃহৎ গ্রাহকভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাংকটির সঙ্গে দেশের লাখো পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেই আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসবে না। এজন্য প্রয়োজন সুশাসন নিশ্চিত করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনা, করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করা। তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংক যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূল নীতিগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতে নেতৃত্বের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে। গ্রাহকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার বার্তা ইসলামী ব্যাংক বলছে, গ্রাহকদের ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতা তাদের চলার পথকে আরও শক্তিশালী করেছে। ব্যাংকটি ভবিষ্যতেও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন এবং উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে চায়। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান বাস্তবতায় ইসলামী ব্যাংকের এই বার্তা কেবল একটি ধন্যবাদ জ্ঞাপন নয়; বরং এটি একটি বড় সংকটের পর পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, গ্রাহকদের এই আস্থাকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকটি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে।