দেশের সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সারা দেশে সংগঠনটির আওতাভুক্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ২৫৩।
পরিবহন খাতে শ্রমিক সংগঠনের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা গেলেও মালিক সংগঠনের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি পৃথক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব সংগঠনের আওতায় আবার দেশের প্রতিটি জেলায় একাধিক সংগঠন থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে ঠেলাগাড়ি, রিকশা-ভ্যানের মতো অযান্ত্রিক ও নসিমন-করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি পরিবহনের জন্যও রয়েছে আলাদা আলাদা সংগঠন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সড়ক পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের সংখ্যা ৯৩২। এসব সংগঠনের আয়ের প্রধান উৎস পরিবহন থেকে তোলা চাঁদার টাকা। সংগঠনগুলোর দাবি, এ চাঁদা সংগঠন পরিচালনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় খরচ করা হয়। যদিও এ ধরনের ব্যয় আদায়কৃত চাঁদার তুলনায় নগণ্য বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট অনেকে।
মালিক-শ্রমিক সংগঠন ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অনেক সদস্য, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গবেষণা ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
দেশের পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো সারা দেশে কী পরিমাণ টাকা আদায় করে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, রাজধানী ঢাকায় এ খাতে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়, যার বড় অংশই তোলা হয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে যত ধরনের বাণিজ্যিক পরিবহন রয়েছে, সবগুলোকেই চলতে হয় চাঁদা দিয়ে। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবহনভেদে দৈনিক চাঁদা আদায়ের হার ১০ টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক সংগঠনগুলো ৩০ টাকা ও মালিক সংগঠনগুলো ৪০ টাকা হারে চাঁদা তোলার কথা জানিয়েছে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ চাঁদাও তোলা বন্ধ রাখার দাবি করেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।
আদায়কৃত চাঁদার টাকা পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সংগঠন পরিচালনা ও নেতাদের সম্মানীর পেছনে ব্যয় হয় বলে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। তবে আদায় করা চাঁদার তুলনায় এ ব্যয়কে নগণ্য হিসেবে উল্লেখ করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আদায়কৃত চাঁদার বেশির ভাগ ব্যয়েরই দৃশ্যমান কোনো খাত নেই। এ টাকা মূলত মালিক-শ্রমিক নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করেন এবং এ খাতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদেরও সে টাকার ভাগ দেন।
দেশের সড়ক পরিবহন শ্রমিক খাতের প্রায় সব সংগঠন পরিচালিত হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন-এর আওতায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শাজাহান খান এ সংগঠনে দীর্ঘদিন একক কর্তৃত্ব ধরে রাখেন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বিএনপিপন্থী শ্রমিক নেতারা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুর রহিম বক্স। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিচালনার জন্য ৩০ টাকা এবং ফেডারেশনের নির্ধারিত চাঁদার হার ১০ টাকা। আমরা বাস থেকে এ টাকা তুলতে পারলেও পাঁচ বছর ধরে ট্রাক থেকে টাকা তুলতে পারছি না।’
চাঁদার এ টাকা কী কাজে ব্যয় করা হয়—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক নেতাদের সম্মানী আছে, সংগঠন পরিচালনার খরচ আছে। ফেডারেশন চালাতে মাসে ৮-৯ লাখ টাকা লাগে। তবে দেড় বছরের বেশি হলো ফেডারেশনের জন্য চাঁদা তোলা বন্ধ আছে। এখন বলতে গেলে আমরা ভর্তুকি দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করছি।’
পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আব্দুর রহিম বক্স বলেন, ‘আমরা সামান্য ১০ টাকা বা ৩০ টাকা চাঁদা তুলি।’ সড়কের মূল চাঁদাবাজি মালিক সমিতির নামে করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, খুলনা থেকে কুষ্টিয়াগামী ১০০ মাইলের একটি রুটে মালিক সমিতি আপ-ডাউনে প্রায় ৩ হাজার টাকা করে নেয়। এ বিশাল অংকের টাকা মালিক সমিতি আদায় করছে, শ্রমিক ফেডারেশন নয়। শুধু খুলনা-কুষ্টিয়া না, এমন চাঁদা দেশের সবখানেই তোলা হচ্ছে।’
দেশের পরিবহন খাতের মালিকদের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে এ সংগঠনের শীর্ষ নেতা ছিলেন এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। আওয়ামী লীগের পতনের পর এ সংগঠনের নেতৃত্বে এসেছেন বিএনপিপন্থী পরিবহন মালিক হিসেবে পরিচিত সাইফুল আলম।
মালিক সমিতির বিরুদ্ধে সড়কে মোটা অংকের চাঁদাবাজির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, ‘অভিযোগটি সত্য নয় এবং সড়কে চাঁদা তোলার বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবহন কোম্পানিগুলোকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার প্রতিটি কোম্পানি পরিচালনার কিছু খরচ রয়েছে। অফিস স্টাফ, ওয়ে বিল, টিকেটিং, কাউন্টার মাস্টার, সিরিয়াল ম্যান, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীসহ বিভিন্ন খাতে খরচ হয়। এ খরচের টাকা পরিবহন থেকে তোলা হয়। কোম্পানি ও পরিবহন মালিকরা পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে খরচের এ টাকা ব্যয় করেন। এটা কোনোভাবেই চাঁদাবাজি নয়।’
দূরপাল্লার পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘স্টার্টিং’ ও ‘এন্ডিং’ পয়েন্ট ছাড়া আর কোথাও মালিক সমিতির নামে টাকা তোলা হয় না দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটা ইন্ডাস্ট্রি চালাতে তো খরচ আছে। আমরা এ খরচের টাকাটা গাড়ি থেকে সংগ্রহ করি।’
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে মালিক সমিতির নামে সব ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ রয়েছে জানিয়ে সাইফুল আলম বলেন, ‘অতীতে সমিতির নামে ইচ্ছামতো চাঁদাবাজি করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর আমরা সব বন্ধ করে দিয়েছি। এখন দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে। তাই আমরা আলোচনা করে সমিতির জন্য চাঁদার একটি নির্দিষ্ট হার ঠিক করে দিতে চাই।’
পরিবহন মালিকদের আরেকটি শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। যশোর ও সাতক্ষীরা ছাড়া এ সংগঠনের জেলাভিত্তিক আর কোনো শাখা নেই। বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কোনো পরিবহন থেকে টাকা বা চাঁদা তোলে না বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি চাঁদা তোলা বন্ধ রেখেছে, বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন পরিবহন থেকে কোনো টাকাই তোলে না, তাহলে সড়কে কারা টাকা তুলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বলেন, ‘শ্রমিক ফেডারেশন বা মালিক সমিতি নয়; পরিবহন থেকে টাকা তুলছে ভুঁইফোঁড় কিছু সংগঠন। এসব সংগঠনের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। কিন্তু তারা খুব ক্ষমতাবান। গাবতলীতে দারুস সালাম মোড়ে ছোট গাড়ি থেকে হঠাৎ করে এক ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে গেছে। সে কী বা কার নিয়োগকৃত তা আমরা কিছুই জানি না। সারা দেশেই এ রকম ব্যক্তিরা পরিবহন থেকে টাকা তুলছে। আমরা সাধারণ মালিকরা এ ধরনের ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।’
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে দেশের সড়ক পরিবহন খাতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন শাজাহান খান, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও মশিউর রহমান রাঙ্গা। আওয়ামী লীগের পতনের পর পরিবহন খাতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস–এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি প্রায় চার দশক ধরে পরিবহন নিয়ে কাজ করছি। এ খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অবৈধ চাঁদাবাজি। এ চাঁদাবাজি মালিক-শ্রমিকরা করেন না; এ চাঁদা তোলেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ছোট্ট দেশ, বিরাট জনসংখ্যা। এখানে পরিবহনের বিশৃঙ্খলা আমাদের সবাইকে কষ্ট দেয়। এটা জাতীয় সমস্যা, আমাদের সবাইকে মিলে যার সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরকে আরো জনবান্ধব করতে হবে। এখানে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা, জনদুর্ভোগ যেন না থাকে সেজন্য কাজ করতে হবে। আর চাঁদাবাজির বিষয়টা তো আমরা ৫ আগস্টের (২০২৪) পর অফিশিয়ালি বন্ধ রেখেছি। এখন যেগুলো হয়, সেটা আমার জানার বাইরে। আমি এগুলোর ঘোর বিরোধী।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রোহিতপুর ইউনিয়নের পোড়াহাটি গ্রাম থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধা নারীর (৬৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পোড়াহাটি এলাকার ফিট অ্যান্ড ফ্রেশ এগ্রোর পেছনে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ মরদেহের পরিচয় শনাক্তের জন্য এলাকাবাসীকে দেখানো হয়। এলাকাবাসী কেউ লাশটি চিনতে পারেনি। তার পরনে কোনো জামাকাপড় ছিল না। মুখে সাদা দাড়ি এবং মাথার চুল ছোট ছোট ছিল। ঘটনাস্থলে মরদেহ পরিচয় শনাক্ত করার জন্য আসা পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম জানান, মরদেহটি পচে যাওয়ার কারণে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তারপরও আমরা মরদেহের পরিচয় শনাক্তের কাজ করে যাচ্ছি। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস জানান, মরদেহটি পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
মাঠে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলায় উৎসাহ দিয়ে ভাইরাল হওয়া নারী শিক্ষক ক্রীড়াঙ্গনে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ওই শিক্ষকের নাম সৈয়দা খালেদা আক্তার পলি। তিনি ফেনীর গিল্লাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ওই শিক্ষিকাকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। পলি ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী তাকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মূল স্রোতধারায় কাজ করার পরামর্শ দেন। দীর্ঘ ফোনালাপে শিক্ষিকা পলি খেলাধুলার সঙ্গে তার পুরো পরিবারের গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তার মুখে পারিবারিক ক্রীড়া ঐতিহ্যের বিবরণ শুনে এবং খেলাধুলার প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা উপলব্ধি করে মুগ্ধ হন প্রতিমন্ত্রী। আমিনুল হক তাৎক্ষণিকভাবে পলির এই অদম্য উদ্দীপনা, মাঠের অভিজ্ঞতা এবং ক্রীড়াসুলভ মানসিকতাকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেনী সদরের এই শিক্ষিকার পুরো পরিবারই ক্রীড়া ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। তার বাবা সৈয়দ মমিনুল ইসলাম একসময় ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন এবং ভাই সৈয়দ মামুনুল হাসান ছিলেন ফেনী জেলার নামী ফুটবলার। পলি নিজে এবং তার বোন ফেনী মহিলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলেছেন। এমনকি তার প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন সকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট, যিনি বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে বৃষ্টির মধ্যে টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন গিল্লাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষিকা পলির উৎসাহ দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া জাগানো সেই ভিডিওটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তার নির্দেশনায় গত ২৬ মে জেলা প্রশাসন ওই শিক্ষিকার বাসায় বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়।
এলপিজি গ্যাসের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এর ব্যবহার কমতে শুরু করেছে। সংসারের খরচ সামলাতে অনেক পরিবার এখন গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার রান্নার জন্য ইলেকট্রিক চুলা বা অন্য বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পরিবেশকদের ভাষ্য, চলতি মাসে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ, বাড়তি জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে মানুষ এখন প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে চলছেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। সংস্থাটি জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফুয়েল কর্নারের মালিক এবং বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের পরিবেশক সুব্রত সাহা বলেন, দাম বাড়ার পর থেকেই বিক্রি দ্রুত কমে গেছে। আগে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩৫টিতে। তার মতে, অনেক গ্রাহক এখন ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলার দিকে ঝুঁকছেন। কারণ, বিদ্যুতে রান্নার খরচ এখন প্রায় এলপিজির সমান হয়ে গেছে। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বহন ও পরিবহনের ঝামেলাও এড়ানো যায়। পেট্রোম্যাক্স এলপিজির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত দেড় মাসে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজার অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। তার ভাষ্য, এক মাসের মধ্যেই দেশে এলপিজির মাসিক চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন থেকে কমে ১ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। তার মতে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগেই কমে গেছে। এর মধ্যে রান্নার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চাপে পড়েছে। এদিকে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। গ্রাহক ধরে রাখতে কিছু প্রতিষ্ঠান ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ও দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। এতে পুরো খাতেই ব্যয় বেড়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে প্রায় ৬ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই আবার পুরোনো জ্বালানির দিকে ফিরে যাচ্ছেন। তবে তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, বাজারে ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতা এখন সরকারি নির্ধারিত দাম মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ছে এবং ক্রেতাদের আস্থাও ফিরছে। বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, মূল্যস্ফীতি ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে শহর ও গ্রাম—সব জায়গাতেই চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। ইউনাইটেড আয়গ্যাজ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন ওরতাচ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের জন্য স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তার মতে, সময়মতো বিইআরসির মূল্য সমন্বয় ও নীতিগত সহায়তার কারণে দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের সংকট এড়ানো গেছে।