সারাদেশ

পরিবহন থেকে চাঁদা তোলে মালিক-শ্রমিকদের ৯৩২ সংগঠন

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

দেশের সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সারা দেশে সংগঠনটির আওতাভুক্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ২৫৩।


পরিবহন খাতে শ্রমিক সংগঠনের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা গেলেও মালিক সংগঠনের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি পৃথক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব সংগঠনের আওতায় আবার দেশের প্রতিটি জেলায় একাধিক সংগঠন থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে ঠেলাগাড়ি, রিকশা-ভ্যানের মতো অযান্ত্রিক ও নসিমন-করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি পরিবহনের জন্যও রয়েছে আলাদা আলাদা সংগঠন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সড়ক পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের সংখ্যা ৯৩২। এসব সংগঠনের আয়ের প্রধান উৎস পরিবহন থেকে তোলা চাঁদার টাকা। সংগঠনগুলোর দাবি, এ চাঁদা সংগঠন পরিচালনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় খরচ করা হয়। যদিও এ ধরনের ব্যয় আদায়কৃত চাঁদার তুলনায় নগণ্য বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট অনেকে।


মালিক-শ্রমিক সংগঠন ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অনেক সদস্য, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গবেষণা ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


দেশের পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো সারা দেশে কী পরিমাণ টাকা আদায় করে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, রাজধানী ঢাকায় এ খাতে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়, যার বড় অংশই তোলা হয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে যত ধরনের বাণিজ্যিক পরিবহন রয়েছে, সবগুলোকেই চলতে হয় চাঁদা দিয়ে। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবহনভেদে দৈনিক চাঁদা আদায়ের হার ১০ টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক সংগঠনগুলো ৩০ টাকা ও মালিক সংগঠনগুলো ৪০ টাকা হারে চাঁদা তোলার কথা জানিয়েছে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ চাঁদাও তোলা বন্ধ রাখার দাবি করেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।


আদায়কৃত চাঁদার টাকা পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সংগঠন পরিচালনা ও নেতাদের সম্মানীর পেছনে ব্যয় হয় বলে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। তবে আদায় করা চাঁদার তুলনায় এ ব্যয়কে নগণ্য হিসেবে উল্লেখ করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আদায়কৃত চাঁদার বেশির ভাগ ব্যয়েরই দৃশ্যমান কোনো খাত নেই। এ টাকা মূলত মালিক-শ্রমিক নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করেন এবং এ খাতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদেরও সে টাকার ভাগ দেন।


দেশের সড়ক পরিবহন শ্রমিক খাতের প্রায় সব সংগঠন পরিচালিত হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন-এর আওতায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শাজাহান খান এ সংগঠনে দীর্ঘদিন একক কর্তৃত্ব ধরে রাখেন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বিএনপিপন্থী শ্রমিক নেতারা।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুর রহিম বক্স। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিচালনার জন্য ৩০ টাকা এবং ফেডারেশনের নির্ধারিত চাঁদার হার ১০ টাকা। আমরা বাস থেকে এ টাকা তুলতে পারলেও পাঁচ বছর ধরে ট্রাক থেকে টাকা তুলতে পারছি না।’


চাঁদার এ টাকা কী কাজে ব্যয় করা হয়—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক নেতাদের সম্মানী আছে, সংগঠন পরিচালনার খরচ আছে। ফেডারেশন চালাতে মাসে ৮-৯ লাখ টাকা লাগে। তবে দেড় বছরের বেশি হলো ফেডারেশনের জন্য চাঁদা তোলা বন্ধ আছে। এখন বলতে গেলে আমরা ভর্তুকি দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করছি।’


পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আব্দুর রহিম বক্স বলেন, ‘আমরা সামান্য ১০ টাকা বা ৩০ টাকা চাঁদা তুলি।’ সড়কের মূল চাঁদাবাজি মালিক সমিতির নামে করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, খুলনা থেকে কুষ্টিয়াগামী ১০০ মাইলের একটি রুটে মালিক সমিতি আপ-ডাউনে প্রায় ৩ হাজার টাকা করে নেয়। এ বিশাল অংকের টাকা মালিক সমিতি আদায় করছে, শ্রমিক ফেডারেশন নয়। শুধু খুলনা-কুষ্টিয়া না, এমন চাঁদা দেশের সবখানেই তোলা হচ্ছে।’


দেশের পরিবহন খাতের মালিকদের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে এ সংগঠনের শীর্ষ নেতা ছিলেন এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। আওয়ামী লীগের পতনের পর এ সংগঠনের নেতৃত্বে এসেছেন বিএনপিপন্থী পরিবহন মালিক হিসেবে পরিচিত সাইফুল আলম।


মালিক সমিতির বিরুদ্ধে সড়কে মোটা অংকের চাঁদাবাজির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, ‘অভিযোগটি সত্য নয় এবং সড়কে চাঁদা তোলার বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবহন কোম্পানিগুলোকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার প্রতিটি কোম্পানি পরিচালনার কিছু খরচ রয়েছে। অফিস স্টাফ, ওয়ে বিল, টিকেটিং, কাউন্টার মাস্টার, সিরিয়াল ম্যান, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীসহ বিভিন্ন খাতে খরচ হয়। এ খরচের টাকা পরিবহন থেকে তোলা হয়। কোম্পানি ও পরিবহন মালিকরা পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে খরচের এ টাকা ব্যয় করেন। এটা কোনোভাবেই চাঁদাবাজি নয়।’


দূরপাল্লার পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘স্টার্টিং’ ও ‘এন্ডিং’ পয়েন্ট ছাড়া আর কোথাও মালিক সমিতির নামে টাকা তোলা হয় না দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটা ইন্ডাস্ট্রি চালাতে তো খরচ আছে। আমরা এ খরচের টাকাটা গাড়ি থেকে সংগ্রহ করি।’
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে মালিক সমিতির নামে সব ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ রয়েছে জানিয়ে সাইফুল আলম বলেন, ‘অতীতে সমিতির নামে ইচ্ছামতো চাঁদাবাজি করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর আমরা সব বন্ধ করে দিয়েছি। এখন দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে। তাই আমরা আলোচনা করে সমিতির জন্য চাঁদার একটি নির্দিষ্ট হার ঠিক করে দিতে চাই।’
পরিবহন মালিকদের আরেকটি শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। যশোর ও সাতক্ষীরা ছাড়া এ সংগঠনের জেলাভিত্তিক আর কোনো শাখা নেই। বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কোনো পরিবহন থেকে টাকা বা চাঁদা তোলে না বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি চাঁদা তোলা বন্ধ রেখেছে, বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন পরিবহন থেকে কোনো টাকাই তোলে না, তাহলে সড়কে কারা টাকা তুলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বলেন, ‘শ্রমিক ফেডারেশন বা মালিক সমিতি নয়; পরিবহন থেকে টাকা তুলছে ভুঁইফোঁড় কিছু সংগঠন। এসব সংগঠনের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। কিন্তু তারা খুব ক্ষমতাবান। গাবতলীতে দারুস সালাম মোড়ে ছোট গাড়ি থেকে হঠাৎ করে এক ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে গেছে। সে কী বা কার নিয়োগকৃত তা আমরা কিছুই জানি না। সারা দেশেই এ রকম ব্যক্তিরা পরিবহন থেকে টাকা তুলছে। আমরা সাধারণ মালিকরা এ ধরনের ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।’


ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে দেশের সড়ক পরিবহন খাতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন শাজাহান খান, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও মশিউর রহমান রাঙ্গা। আওয়ামী লীগের পতনের পর পরিবহন খাতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস–এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি প্রায় চার দশক ধরে পরিবহন নিয়ে কাজ করছি। এ খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অবৈধ চাঁদাবাজি। এ চাঁদাবাজি মালিক-শ্রমিকরা করেন না; এ চাঁদা তোলেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ছোট্ট দেশ, বিরাট জনসংখ্যা। এখানে পরিবহনের বিশৃঙ্খলা আমাদের সবাইকে কষ্ট দেয়। এটা জাতীয় সমস্যা, আমাদের সবাইকে মিলে যার সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরকে আরো জনবান্ধব করতে হবে। এখানে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা, জনদুর্ভোগ যেন না থাকে সেজন্য কাজ করতে হবে। আর চাঁদাবাজির বিষয়টা তো আমরা ৫ আগস্টের (২০২৪) পর অফিশিয়ালি বন্ধ রেখেছি। এখন যেগুলো হয়, সেটা আমার জানার বাইরে। আমি এগুলোর ঘোর বিরোধী।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে গ্রেফতার বাংলাদেশের সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

দুর্নীতির মামলায় বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   এর আগে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে গত বছর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।   প্রথম মামলায় অভিযোগে বলা হয়, শেখ আব্দুল হান্নান বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।   এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।   অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার লেনদেন সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।   এই মামলায় তাহমিদা বেগমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং তাকে সহায়তা করার অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অনুমতি না মেলায় স্থগিত আমির হামজার মাহফিল

ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর সাবেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সংগৃহীত ছবি

ইনানীতে রিসোর্টে আগুন: পর্যটক রেখে পোষা প্রাণী উদ্ধারের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেফতার

গাজীপুরের পূবাইলে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি মেহেদী হাসান মারুফ নামে এক যুবককে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   গ্রেফতার মেহেদী হাসান মারুফ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইল থানার ৪১ নং ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে। আর নিহত আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা (২১) সিটি করপোরেশনের একই ওয়ার্ডের সাতানীপাড়া এলাকার মো. আফসার মিয়ার মেয়ে।   এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪২ নং ওয়ার্ডের পূবাইল থানার তালটিয়া মধ্যপাড়ায় ভাড়া বাসা থেকে আফসানা আক্তার স্নিগ্ধা নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে প্রবাসে থাকা অবস্থায় মেহেদী হাসান মারুফের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিয়ে হয় স্নিগ্ধার। পরে দেশে ফিরে কাজির মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন মারুফ। তবে তার পরিবারের সদস্যরা স্নিগ্ধাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে না নেওয়ায় তারা আলাদা বাসায় বসবাস করছিলেন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও পরিবারের সদস্যদের কাছে জানিয়েছিলেন স্নিগ্ধা।    নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে স্নিগ্ধাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর বাসা থেকে পালিয়ে যান মারুফ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আফসার মিয়া বাদী হয়ে জিএমপির পূবাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া সদর এলাকা থেকে মারুফকে গ্রেফতার করেন।    শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রিসোর্টে আগুনের পর নিখোঁজ নাহিদসহ পরিবারের চারজন

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে হত্যা মামলা, প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নারী-শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত

ছবি: সংগৃহীত
পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।   পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে।   শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে এরকম একটা ভিডিও আপলোড করা হয়।   ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’।   ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় শনিবার ঘটেছে বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে।   ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়।   গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "উনারা ৬ জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, সেগুলো কী, তা পরীক্ষায় জানা যাবে।”   তারা এ ধরনের 'অভিযান' চালানোর সময় পুলিশকে জানিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ওসি।   ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, ছয়-সাতজনকে ধরে তিনি থানায় দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় (অভিযানের বিষয়ে) পুলিশকে আগে থেকে জানাননি, আমরা পরে বিষয়টি জেনেছি।”   পিস্তল হাতে একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এরকম অভিযানের ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।   ইশরাকের ভিডিওর নিচে সাখাওয়াত হোসেন খান নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, “এভাবে ওপেন কেউ পিস্তল ব্যবহার করতে পারে!”   তার মন্তব্যের নিচে ৪৫টি মন্তব্য পড়েছে। বেশির ভাগ উত্তরে বলা হয়েছে, পিস্তলের লাইসেন্স থাকলে এভাবে ব্যবহার করতে পারে।   মো. হোসেইন আক্তার তানজিন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “গরীবের ফাটাকেষ্ট”।   মো. মাসুম নামে একজন লিখেছেন, “প্রথমে ভাবছিলাম কোনো ছবির শ্যুটিংয়ের দৃশ্য,পরে দেখি বাস্তব ঘটনা।”   মোহাম্মদ হোসেইন লিখেছেন, “দেশে পুলিশের অভাব পড়ছে?”   সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইশরাকের ভিডিওতে পাঁচ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।   সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে আরেকটি পোস্টে আসে। সেখানে বলা হয়, “ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।   তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও বড় হবে।”   পোস্টে আরও বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘সামাজিক প্রতিরোধে’ সতর্ক করতেই অস্ত্র দেখিয়েছি: ইশরাক

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাজারে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন প্রবীণ ও দক্ষ মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে বিশেষ সম্মাননা পেলেন ১৮ মৃৎশিল্পী

0 Comments