সারাদেশ

পরিবহন থেকে চাঁদা তোলে মালিক-শ্রমিকদের ৯৩২ সংগঠন

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সারা দেশে সংগঠনটির আওতাভুক্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ২৫৩।


পরিবহন খাতে শ্রমিক সংগঠনের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা গেলেও মালিক সংগঠনের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি পৃথক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব সংগঠনের আওতায় আবার দেশের প্রতিটি জেলায় একাধিক সংগঠন থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে ঠেলাগাড়ি, রিকশা-ভ্যানের মতো অযান্ত্রিক ও নসিমন-করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি পরিবহনের জন্যও রয়েছে আলাদা আলাদা সংগঠন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সড়ক পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের সংখ্যা ৯৩২। এসব সংগঠনের আয়ের প্রধান উৎস পরিবহন থেকে তোলা চাঁদার টাকা। সংগঠনগুলোর দাবি, এ চাঁদা সংগঠন পরিচালনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় খরচ করা হয়। যদিও এ ধরনের ব্যয় আদায়কৃত চাঁদার তুলনায় নগণ্য বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট অনেকে।


মালিক-শ্রমিক সংগঠন ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অনেক সদস্য, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গবেষণা ও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


দেশের পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো সারা দেশে কী পরিমাণ টাকা আদায় করে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, রাজধানী ঢাকায় এ খাতে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়, যার বড় অংশই তোলা হয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে যত ধরনের বাণিজ্যিক পরিবহন রয়েছে, সবগুলোকেই চলতে হয় চাঁদা দিয়ে। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবহনভেদে দৈনিক চাঁদা আদায়ের হার ১০ টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমিক সংগঠনগুলো ৩০ টাকা ও মালিক সংগঠনগুলো ৪০ টাকা হারে চাঁদা তোলার কথা জানিয়েছে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ চাঁদাও তোলা বন্ধ রাখার দাবি করেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।


আদায়কৃত চাঁদার টাকা পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সংগঠন পরিচালনা ও নেতাদের সম্মানীর পেছনে ব্যয় হয় বলে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। তবে আদায় করা চাঁদার তুলনায় এ ব্যয়কে নগণ্য হিসেবে উল্লেখ করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আদায়কৃত চাঁদার বেশির ভাগ ব্যয়েরই দৃশ্যমান কোনো খাত নেই। এ টাকা মূলত মালিক-শ্রমিক নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করেন এবং এ খাতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদেরও সে টাকার ভাগ দেন।


দেশের সড়ক পরিবহন শ্রমিক খাতের প্রায় সব সংগঠন পরিচালিত হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন-এর আওতায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শাজাহান খান এ সংগঠনে দীর্ঘদিন একক কর্তৃত্ব ধরে রাখেন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বিএনপিপন্থী শ্রমিক নেতারা।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুর রহিম বক্স। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিচালনার জন্য ৩০ টাকা এবং ফেডারেশনের নির্ধারিত চাঁদার হার ১০ টাকা। আমরা বাস থেকে এ টাকা তুলতে পারলেও পাঁচ বছর ধরে ট্রাক থেকে টাকা তুলতে পারছি না।’


চাঁদার এ টাকা কী কাজে ব্যয় করা হয়—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক নেতাদের সম্মানী আছে, সংগঠন পরিচালনার খরচ আছে। ফেডারেশন চালাতে মাসে ৮-৯ লাখ টাকা লাগে। তবে দেড় বছরের বেশি হলো ফেডারেশনের জন্য চাঁদা তোলা বন্ধ আছে। এখন বলতে গেলে আমরা ভর্তুকি দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করছি।’


পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আব্দুর রহিম বক্স বলেন, ‘আমরা সামান্য ১০ টাকা বা ৩০ টাকা চাঁদা তুলি।’ সড়কের মূল চাঁদাবাজি মালিক সমিতির নামে করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, খুলনা থেকে কুষ্টিয়াগামী ১০০ মাইলের একটি রুটে মালিক সমিতি আপ-ডাউনে প্রায় ৩ হাজার টাকা করে নেয়। এ বিশাল অংকের টাকা মালিক সমিতি আদায় করছে, শ্রমিক ফেডারেশন নয়। শুধু খুলনা-কুষ্টিয়া না, এমন চাঁদা দেশের সবখানেই তোলা হচ্ছে।’


দেশের পরিবহন খাতের মালিকদের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে এ সংগঠনের শীর্ষ নেতা ছিলেন এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। আওয়ামী লীগের পতনের পর এ সংগঠনের নেতৃত্বে এসেছেন বিএনপিপন্থী পরিবহন মালিক হিসেবে পরিচিত সাইফুল আলম।


মালিক সমিতির বিরুদ্ধে সড়কে মোটা অংকের চাঁদাবাজির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, ‘অভিযোগটি সত্য নয় এবং সড়কে চাঁদা তোলার বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবহন কোম্পানিগুলোকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার প্রতিটি কোম্পানি পরিচালনার কিছু খরচ রয়েছে। অফিস স্টাফ, ওয়ে বিল, টিকেটিং, কাউন্টার মাস্টার, সিরিয়াল ম্যান, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীসহ বিভিন্ন খাতে খরচ হয়। এ খরচের টাকা পরিবহন থেকে তোলা হয়। কোম্পানি ও পরিবহন মালিকরা পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে খরচের এ টাকা ব্যয় করেন। এটা কোনোভাবেই চাঁদাবাজি নয়।’


দূরপাল্লার পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘স্টার্টিং’ ও ‘এন্ডিং’ পয়েন্ট ছাড়া আর কোথাও মালিক সমিতির নামে টাকা তোলা হয় না দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটা ইন্ডাস্ট্রি চালাতে তো খরচ আছে। আমরা এ খরচের টাকাটা গাড়ি থেকে সংগ্রহ করি।’
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে মালিক সমিতির নামে সব ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ রয়েছে জানিয়ে সাইফুল আলম বলেন, ‘অতীতে সমিতির নামে ইচ্ছামতো চাঁদাবাজি করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর আমরা সব বন্ধ করে দিয়েছি। এখন দেশে নির্বাচিত সরকার এসেছে। তাই আমরা আলোচনা করে সমিতির জন্য চাঁদার একটি নির্দিষ্ট হার ঠিক করে দিতে চাই।’
পরিবহন মালিকদের আরেকটি শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। যশোর ও সাতক্ষীরা ছাড়া এ সংগঠনের জেলাভিত্তিক আর কোনো শাখা নেই। বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কোনো পরিবহন থেকে টাকা বা চাঁদা তোলে না বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি চাঁদা তোলা বন্ধ রেখেছে, বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন পরিবহন থেকে কোনো টাকাই তোলে না, তাহলে সড়কে কারা টাকা তুলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বলেন, ‘শ্রমিক ফেডারেশন বা মালিক সমিতি নয়; পরিবহন থেকে টাকা তুলছে ভুঁইফোঁড় কিছু সংগঠন। এসব সংগঠনের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। কিন্তু তারা খুব ক্ষমতাবান। গাবতলীতে দারুস সালাম মোড়ে ছোট গাড়ি থেকে হঠাৎ করে এক ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে গেছে। সে কী বা কার নিয়োগকৃত তা আমরা কিছুই জানি না। সারা দেশেই এ রকম ব্যক্তিরা পরিবহন থেকে টাকা তুলছে। আমরা সাধারণ মালিকরা এ ধরনের ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।’


ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে দেশের সড়ক পরিবহন খাতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন শাজাহান খান, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও মশিউর রহমান রাঙ্গা। আওয়ামী লীগের পতনের পর পরিবহন খাতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস–এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি প্রায় চার দশক ধরে পরিবহন নিয়ে কাজ করছি। এ খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অবৈধ চাঁদাবাজি। এ চাঁদাবাজি মালিক-শ্রমিকরা করেন না; এ চাঁদা তোলেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ছোট্ট দেশ, বিরাট জনসংখ্যা। এখানে পরিবহনের বিশৃঙ্খলা আমাদের সবাইকে কষ্ট দেয়। এটা জাতীয় সমস্যা, আমাদের সবাইকে মিলে যার সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরকে আরো জনবান্ধব করতে হবে। এখানে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা, জনদুর্ভোগ যেন না থাকে সেজন্য কাজ করতে হবে। আর চাঁদাবাজির বিষয়টা তো আমরা ৫ আগস্টের (২০২৪) পর অফিশিয়ালি বন্ধ রেখেছি। এখন যেগুলো হয়, সেটা আমার জানার বাইরে। আমি এগুলোর ঘোর বিরোধী।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগেই ঢামেকে কারাবন্দির মৃত্যু

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে খান মো. তোরাব আলী (৭৩)  নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক কারাবন্দি কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে অসুস্থ অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে কারারক্ষী এরশাদসহ কয়েক কারারক্ষী অসুস্থ কারাবন্দি তোরাব আলীকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছয়টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  তোরাব আলীর গ্রামের বাড়ি জেলা মানিকগঞ্জ সদর চরহিজুলী গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আলম খান। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।  কারা সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ থানার মামলা নং-০৭/(৬) ১৯৯১, দণ্ডবিধির ৩০২/৩২৪/১১৪ ধারায় তিনি বন্দি ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

দিপু হত্যা মামলার আসামি মাসুম জামিন পেলেন হাইকোর্টে

উথলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মঙ্গলবার দুপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক

বগুড়া হবে দেশের অন্যতম শিক্ষানগরী ও এডুকেশনাল হাব: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬

ছবি : সংগৃহীত
‘কৃষক কার্ড’ কারা-কখন-কোথায় পাবেন?

বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাসের মাথায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।   কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৪৬ জন ভূমিহীন, প্রায় ৯ হাজার ৪৫৮ জন প্রান্তিক কৃষক, ৮ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষুদ্র কৃষক, ১ হাজার ৩০৩ জন মাঝারি কৃষক এবং ৯১ জন বড় কৃষক রয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ক্রয়, ফসল বিক্রি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিমাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। দরিদ্র কৃষকদের বছরে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে। সরকারি তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে কৃষক পরিবারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ। এসব কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে—ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। পাঁচ শতকের কম জমির মালিকদের ভূমিহীন, পাঁচ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিকদের প্রান্তিক, ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিকদের ক্ষুদ্র, ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিকদের মাঝারি এবং ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিকদের বড় কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তালিকায় ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের সংখ্যা ২১ হাজার ১৪১ জন। এছাড়া গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন এবং দুগ্ধ খামারির সংখ্যা ৮৫৫ জন, ৬৬ জন মৎস্যজীবী এবং তিনজন লবণ চাষিও রয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপ প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দরিদ্র কৃষকের সংখ্যা বেশি এমন ১০টি জেলার ১১টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ধাপ শেষে আগামী আগস্টে পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর তিন ধাপে চার বছরের মধ্যে সারাদেশে কার্ড বিতরণ ও কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর ও বোদা, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, রাজবাড়ির গোয়ালন্দ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, জামালপুরের ইসলামপুর এবং কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় কার্ড বিতরণ শুরু হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্ডধারীরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, স্বল্পমূল্যে যন্ত্রপাতি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, প্রশিক্ষণ, কৃষি বিমা এবং ভর্তুকি সুবিধা পাবেন। এছাড়া মোবাইল ফোনে বাজার ও আবহাওয়ার তথ্য, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শসহ নানা ডিজিটাল সেবা পাওয়া যাবে। কৃষিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও সরকারি সহায়তা সহজ হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বছরে অন্তত আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, যা মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত ২২ হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ৬৭১ জন এ সুবিধার আওতায় আসবেন। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, কার্ডধারীদের জন্য সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় পৃথক হিসাব খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিবছর অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে, ফলে এটি এক ধরনের ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিককে লাঞ্ছনার অভিযোগে এএসআই ক্লোজড

কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ

কৃষকরা আমাদের জীবনের অংশ : ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

ছবি : সংগৃহীত

আইন সংশোধন হলেই পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হবে বগুড়ায়

ছবি : সংগৃহীত
দিনদুপুরে বাড়ির সামনে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা

রামু উপজেলা-এর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে বাড়ির সামনে এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব মেরংলোয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালু বড়ুয়া (৬৫) ওই এলাকার মৃত যতিন্দ্র বড়ুয়ার ছেলে। আটক তাম্বু বড়ুয়া (৪০) একই এলাকার নিরঞ্জন বড়ুয়া ওরফে ছাতু বড়ুয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাড়ির সামনের পাকা সড়কে কালু বড়ুয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।   খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাম্বু বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানান, হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদে পানি কম, তিন ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

রাঙামাটিতে বন্য হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু

0 Comments