যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে আটজন অভিবাসনবিষয়ক বিচারককে বরখাস্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। সংশ্লিষ্ট বিচারকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।
অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর অবস্থান ঘিরে অনিশ্চিয়তার মধ্যেই এ আট বিচারককে বরখাস্ত করার খবর জানা গেল।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইমিগ্রেশন জাজেস (এনএআইজে) জানায়, বরখাস্ত হওয়া আট বিচারকের সবাই ম্যানহাটানের ২৬ ফেডারেল প্লাজায় কর্মরত ছিলেন। এখানকার একটি আদালত অভিবাসীদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া–সংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
গত কয়েক মাসে মুখোশধারী ফেডারেল কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিনই ‘জ্যাকব কে জাভিটজফেডারেল বিল্ডিং’-এর করিডরে টহল দিয়ে আসছিলেন। শুনানি থেকে বেরিয়ে আসার পর তাঁরা অভিবাসীদের আটক করছিলেন। এমনকি বেশ কয়েকবার সংবাদমাধ্যমের সামনেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও অভিবাসী পরিবারগুলোকে পৃথক করে দেওয়ার ছবি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে ‘২৬ ফেডারেল প্লাজা’ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রতীকী জায়গা হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কের আট বিচারককে ঠিক কী কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিষয়ক ৬০০ বিচারক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০ জনকে বছরজুড়ে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন এই ৮ জন।
অভিবাসীদের পক্ষে কাজ করে আসা সংগঠনগুলো মনে করছে, বরখাস্ত হওয়া বিচারকদের পরিবর্তে এসব পদে এমন লোকদের নিয়োগ দেওয়া হবে, যাঁদের মনোভাব ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতির সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ইউরোপকে রক্ষা করতে নতুন একটি প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ইউক্রেনসহ ইউরোপের মোট ১০টি দেশ। গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের যে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, তা এই জোটে কাজে লাগানো হবে। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ফ্র্যান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ১০ দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতিতে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পুরো ইউরোপের সুরক্ষায় একটি যৌথ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।” ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং মহাদেশটিতে মস্কোর ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তারের আশঙ্কার মুখে, প্রায় দুই ডজন ইউরোপীয় নেতার কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহযোগিতা চেয়েছিলেন জেলেনস্কি। এরই ধারাবাহিকতায় ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই জোট গঠনে সম্মত হয়। যৌথ বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, “ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোনের তুলনায় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কঠিন। আমরা এই ক্রমবর্ধমান হুমকিকে গভীরভাবে অনুধাবন করছি। ইউরোপকে সুরক্ষিত রাখতে একটি সমন্বিত ও সুসংহত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতের যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে সফলভাবে নস্যাৎ করতে পারবে।” বিবৃতিতে জোটের কার্যক্রম শুরুর সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা না হলেও জানানো হয়েছে, এই প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার পথ অন্যান্য দেশের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ও তার সহযোগী দেশগুলো আগামী ১২ মাসের মধ্যে যৌথভাবে একটি কম খরচের এবং ব্যাপকভাবে উৎপাদনযোগ্য অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম। এই ব্যবস্থা যেমন ইউরোপের নিজস্ব সুরক্ষার চাহিদা মেটাবে, তেমনি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সুরক্ষায়ও সরবরাহ করা যাবে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই উদ্যোগের বিপরীতে কঠোর অনমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার তেল শোধনাগার, ট্যাংকার ও টার্মিনালগুলোতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুতিন। তেল অবকাঠামোগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার ফলে রাশিয়ায় বর্তমানে ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার মস্কোতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন বলেন, “তারা রাশিয়ার ভূখ-ে যেখানেই আঘাত করার চেষ্টা করবে, আমরা ঠিক সেভাবেই জবাব দেব, তবে আমাদের আঘাত হবে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী।’’ এদিকে একই দিনে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথক একটি বৈঠকে বসেন। সেখানে ইউক্রেনের জরুরি সামরিক চাহিদা এবং ইউরোপের নিরাপত্তার প্রতি রাশিয়ার সামগ্রিক হুমকি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখেই তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে চান। কারণ প্রতি বছর শীতকালে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, পানি ও হিটিং ব্যবস্থা ধ্বংস করতে রাশিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র করে তোলে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজস্ব মাটিতে মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাকে কিয়েভের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও সামরিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তবে উৎপাদন শুরু করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে ইউরোপের এই নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ব্যবস্থাটি কত দ্রুত কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মূল লক্ষ্য হলো সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে রাশিয়াকে চাপে ফেলে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় বসতে বাধ্য করা। যদিও মার্কিন প্রশাসনের শান্তি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মস্কো এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি। . প্যারিস বৈঠক নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘যুদ্ধবাজ ও বিভ্রান্তদের জোট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পেসকভ বলেন, “তারা এই চরম ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে রয়েছে যে রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা সম্ভব। মূলত এরা যুদ্ধকে আরো উসকে দিতে চাইছে।” তবে সামরিক বিশ্লেষক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক অবিশ্বাস্য অগ্রগতি যুদ্ধক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনছে। রাশিয়ার পেছনের সারির মূল রসদ ও সরবরাহ রুটে ইউক্রেনের নিখুঁত ড্রোন হামলার কারণে রুশ বাহিনী তাদের আক্রমণের গতি হারিয়েছে, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি এখন ধীর ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। সূত্র : এপি।
হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে বাণিজ্যিক এই জলপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী বেসামরিক জাহাজগুলো থেকে ২০ শতাংশ হারে টোল আদায়ের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা প্রত্যাহার করেছেন তিনি। গতকাল নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ট্রাম্প যদি হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাবদ টোল আদায় করা থেকে বিরত থাকেন— তাহলে নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বয়ে আনবে উপসাগরীয় দেশগুলো। এই প্রতিশ্রুতির পরই হরমুজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন তিনি। এর আগে ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবে মার্কিন নৌবাহিনী এবং এতে যে ব্যয় হবে— তা পূরণ করা হবে প্রণালিতে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলো থেকে ২০ শতাংশ হারে টোল আদায়ের মাধ্যমে। এই ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেলেন ট্রাম্প। ১৪ জুলাই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যের (উপসাগরীয় অঞ্চলের) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর আমি হরমুজ থেকে টোল আদায় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর পরিবর্তে শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” কী পরিমাণ অর্থ মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করবেন— সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প, তবে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, এই অর্থের পরিমাণ হবে বিপুল এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রেজুড়ে পণ্য প্রস্তুতকরণ, শিল্পোৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের ‘ঐতিহাসিক উল্লম্ফন’ ঘটবে। “এই বিনিয়োগ এলে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানাগুলোর উৎপাদনে ঐতিহাসিক উল্লম্ফন ঘটবে এবং এর ফলে দেশজুড়ে লাখ লাখ উচ্চ –বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে”, মঙ্গলবারের পোস্টে বলেছেন ট্রাম্প। টোল আদায় থেকে সরে এলেও হরমুজ ইস্যুতে কোনো ছাড় দিতে একেবারেই নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, হরমুজ এবং তার আশপাশে মার্কিন নৌবাহিনীর টহল-নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বের অন্য সব দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারলেও ইরানের কোনো জাহাজ হরমুজ ব্যবহার করতে পারবে না, এমনকি বন্দর ছেড়ে বাইরেও যেতে পারবে না। “হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে যে পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে, অতীতে কখনও এমন হয়নি। এই কৃতিত্ব মার্কিন সামরিক বাহিনীর এবং এজন্য ধন্যবাদ তাদের প্রাপ্য। ভবিষ্যতেও হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অব্যাহত থাকবে, তবে ইরানের কোনো জাহাজ এই প্রণালি তো ব্যবহার করতেই পারবে না— এমনকি বন্দর ছেড়ে বাইরেও যেতে পারবে না। আর দেশটির যেসব জাহাজ বর্তমানে বাইরে আছে— সেগুলোও ইরানে প্রবেশ করতে পারবে না। ইরানের বন্দরগুলোতে সম্পূর্ণ অবরোধ পুনর্বহাল করা হয়েছে”, ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন ট্রাম্প।
দুই দশকের বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর আল-জাইদি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনারা ইরাক ছেড়ে যাবে। তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে থাকবে। এর মাধ্যমে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর শুরু হওয়া ২৩ বছরের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ট্রাম্পও বলেন, আমাদের মনে হয়, এখন সেখানে মার্কিন সেনাবাহিনীর আর প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানান। ইরাকি সরকারের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে দেশটির ভেতরে রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনাও যুক্ত রয়েছে। আল-জাইদি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর রাষ্ট্রের বাইরে কোনো গোষ্ঠী অস্ত্র বহন করতে পারবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো, সামরিক সহযোগিতার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। এ উদ্দেশ্যে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের মার্কিন বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে বাগদাদ। ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার ইরাক, মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন, টিআই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসির মধ্যে একটি বড় চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বসরা থেকে হাদিথা হয়ে তুরস্ক ও সিরিয়ার বন্দর পর্যন্ত প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম একটি পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। একসময় ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানে ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা, ডয়চে ভেলে