চার গোলে লিড। বড় জয়ের অপেক্ষায় ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ক্রাভেন কটেজে ম্যাচটি শেষ হলো রোমাঞ্চ ছড়িয়ে। ৯ গোলের থ্রিলার ৫-৪ এ জিতল সিটি। ৫-১ গোলে এগিয়ে থাকার পরও যেভাবে ফুলহাম ঘুরে দাঁড়াল, তা নিয়ে ম্যানচেস্টার ক্লাবের প্রশ্নের মুখে পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারলেন না কোচ পেপ গার্দিওলা।
আর্লিং হালান্ড প্রথম গোল করে রেকর্ড গড়েন। প্রিমিয়ার লিগে দ্রুততম সেঞ্চুরি তার। হাফটাইমের কিছুক্ষণ পরই সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৫-১ এ। কিন্তু অ্যালেক্স আইওবি ও বদলি নেমে স্যামুয়েল চুকুয়েজের জোড়া গোলে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় পড়েছিল সিটিজেনরা।
ম্যাচ শেষে এনিয়ে প্রশ্ন শুনতে হলো গার্দিওলাকে। তিনি বললেন, ‘আপনারা কি ম্যাচটা উপভোগ করেছেন? আমি? অসম্ভব। এটা প্রিমিয়ার লিগ, আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আমি জানি আপনারা প্রশ্ন করবেন কী হয়েছিল, আমার কাছে কোনো উত্তর নেই।’
তার কথা, ‘এটা আবেগ, এটা ফুটবল। কেন এমনটা করলেন, কেন ওটা করলেন? কিন্তু দুঃখ নিয়ে বলছি, আমরা আজ অসাধারণ কিছু করেছিলাম, অসাধারণ। কারণ তারা খুব কঠিন দল ছিল।’
চার গোলে লিড থাকার পর যা হয়েছে, সেটাকে টিকে থাকার লড়াই বললেন গার্দিওলা, ‘আর্লিংয়ের সুযোগ ছিল ৬-৩ করার এবং ৫-৪ হওয়ার পরে। যা হলো, তা ছিল টিকে থাকার প্রশ্ন। আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না কীভাবে, খেলোয়াড়রাও জানে না। শেষ পর্যন্ত আমরা টিকে গেলাম।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির পরিবর্তে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) অ্যাওয়ে জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। অতীতের সাফল্যের কারণে এই জার্সিকে অনেকেই দলের জন্য ‘সৌভাগ্যের’ প্রতীক হিসেবে দেখছেন। খেলাধুলায় অনেক দল ও খেলোয়াড়ই বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার বা বিশ্বাস অনুসরণ করেন, যা তাদের মানসিকভাবে আত্মবিশ্বাসী থাকতে সহায়তা করে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেভি ব্লু জার্সি পরার সিদ্ধান্তকে তেমনই একটি বিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এর আগে দুইবার নেভি ব্লু জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল এবং দুইবারই জয় পেয়েছে। তবে ২০০২ বিশ্বকাপে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে হেরেছিল লা আলবিসেলেস্তে। ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড চাইছে নেভি ব্লু জার্সি পরা আর্জেন্টিনার কাছে হারের ধারার অবসান ঘটাতে এবং ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জিততে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নেভি ব্লু জার্সি পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রেকর্ড ২ ম্যাচে ২ জয়। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রথম এ জার্সি পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩০ জুন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র হলেও টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। সেই ‘হ্যান্ড অব গোল’-এর স্মৃতি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেভি ব্লু জার্সি পরে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর এডসন পাসোস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি নাটকীয় মোড় নেয়। ৫২তম মিনিটে দিয়েগো ম্যারাডোনা ‘হাত দিয়ে’ বল জালে পাঠান। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের গোলের স্বীকৃতি দেন। পরে এই গোলই ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়। এর মাত্র তিন মিনিট পর ম্যারাডোনা আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৮১তম মিনিটে গ্যারি লিনেকার ইংল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরে সেই বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতে তারা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ: নাটকীয় লড়াই ও টাইব্রেকারের জয় ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ছিল দারুণ নাটকীয়। ফ্রান্সের স্টেড জিওফ্রোয়া-গিশারে ম্যাচের শুরুতেই দিয়েগো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। চার মিনিট পর মাইকেল ওভেনকে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডের সমতা ফেরান অ্যালান শিয়ারার। এরপর ওভেন দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হাভিয়ের জানেত্তি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফেরান। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেভিড বেকহ্যাম সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর লাথি মারার অভিযোগে ডেনমার্কের রেফারি কিম মিল্টন নিয়েলসেনের কাছ থেকে লাল কার্ড দেখেন। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোনো দল গোল করতে না পারায় টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী সেমিতে আগে ওঠায় ম্যাচে ইংল্যান্ডের পোশাকি নাম টিম ‘এ’। আর টিম ‘এ’ জার্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড নিজেদের জন্য সাদা জার্সি বেছে নিলে টিম ‘বি’ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে ‘অ্যাওয়ে’ মানে নীল জার্সিতে খেলতে হতো। আর ইংল্যান্ড যদি অ্যাওয়ে, অর্থাৎ লাল জার্সি বেছে নিত, তবে আর্জেন্টিনাকে সাদা-আকাশি জার্সি পরে খেলতে হতো। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনভাবে জার্সি বেছে নিতে হয়, যেন সাদা-কালো পর্দায় দুই দলকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এ ছাড়া বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা যাতে দুই দলকে গুলিয়ে না ফেলেন, সেটাও খেয়াল রাখা হয়। এ জন্য ব্যবহার করা হয় ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামের একধরনের প্রযুক্তি। ইংল্যান্ড যাতে কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার নীল জার্সি পরা থামাতে না পারে, তাই আগেভাগেই নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়ে বসেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ফ্রান্সকে হারিয়ে টানা অজেয় থাকার রেকর্ড ছুঁল স্পেন। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-০ গোলে জিতে তারা ফাইনালে উঠেছে। এ নিয়ে ৩৭ ম্যাচ কোনো হার দেখল না স্প্যানিশরা। ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অপরাজিত থাকার কীর্তিতে ইতালিকে ছুঁল তারা, পেছনে ফেলল আর্জেন্টিনাকে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে হেরেছিল স্পেন। সেই অঘটনের পর থেকে তারা অপরাজিত, যার শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ থেকে। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালির ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ভাগ বসাল দে লা ফুয়েন্তের দল। এই সময়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে তাদের পাওয়া জয়টি ছিল ৩০তম। এছাড়া ১০ ম্যাচ ড্র করেছে তারা। ফ্রান্সের বিপক্ষে নামার আগে ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে আর্জেন্টিনার পাশে ছিল তারা। ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমার্ধে স্পেন এগিয়ে যায় ওয়ারসাবালের পেনাল্টি গোল থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে তারা আরেকটি গোল করেন পেদ্রো পোরোর সৌজন্যে। ফাইনাল জিতলে ইতালির রেকর্ড ভেঙে দেবে স্পেন। ফিফা ও উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দলগুলোর অপরাজিত থাকার ধারা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। তাই নেশন্স লিগে পর্তুগালের বিপক্ষে ফাইনালকে তাদের হার হিসেবে ধরা হয়নি।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটতে থাকা ফ্রান্সকে মাটিতে নামিয়ে ষোলো বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লা রোজারা। শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্প্যানিশরা। এর আগে ২০১০ সালে প্রথম ও শেষবার বিশ্বকাপের সেমিতে উঠেছিল স্পেন। ঐ আসরেই প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল তারা। ২০০৬ সালে শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হারের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা নয়টি ম্যাচে অপরাজিত ছিল স্পেন। ৭টি জয়ের সাথে ২টিতে ড্র করে তারা। ড্র হওয়া দু’টি ম্যাচে টাইব্রেকারে হারে স্প্যানিশরা। টাইব্রেকারে নির্ধারিত হওয়া ম্যাচগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ড্র’ হিসেবে ধরা হয়। আজ জয়ের সংখ্যাটাকে নিয়ে গেল আটে। শুধু তাই নয়? ফরাসিদের হারিয়ে ফুটবলের সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৭টি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও গড়ল স্পেন।