বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। নতুন এক বৈশ্বিক সূচকে দেখা গেছে, পর্যটকদের কাছে পরিচিতি, আকর্ষণ ও ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার দিক থেকে এই শহরগুলো সবচেয়ে এগিয়ে।
ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৬ গ্লোবাল ট্যুরিজম সিটি অ্যাট্রাকটিভনেস ইনডেক্স’ প্রকাশ করেছে ইয়ানোলজা রিসার্চ, পারডু ইউনিভার্সিটি ও কিউং হি ইউনিভার্সিটি।
এবারের সূচকে বিশ্বের ২০০টি শহরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পর্যটকের সংখ্যা বা হোটেল বুকিংয়ের পরিবর্তে ১৪টি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণসংক্রান্ত আলোচনার ভিত্তিতে শহরগুলোর পরিচিতি ও আকর্ষণ মূল্যায়ন করা হয়েছে।
সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে নিউইয়র্কের পর রয়েছে প্যারিস, জাপানের ওসাকা ও কিয়োটো, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ইতালির রোম, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, জাপানের ওকিনাওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো।
শুধু পরিচিতির দিক থেকেও নিউইয়র্ক প্রথম এবং প্যারিস দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে আকর্ষণীয় শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জাপানের ওসাকা। এরপর রয়েছে কিয়োটো, নিউইয়র্ক, সিউল ও প্যারিস।
গবেষকদের মতে, এখন শুধু বিখ্যাত স্থাপনা থাকলেই একটি শহর জনপ্রিয় হয় না। বরং যেসব শহর পর্যটকদের জন্য স্মরণীয় ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে, সেগুলোই বিশ্ব পর্যটনে বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পর্যটকদের আকর্ষণের দিক থেকে এশিয়ার শহরগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ ১০ আকর্ষণীয় শহরের মধ্যে ছয়টিই এশিয়ায় অবস্থিত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ তিনটি দেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরি ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি পোস্টে তিনি এই প্রক্রিয়ায় নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নবদীপ সুরি জানান, পাঞ্জাবে বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) কাছে ভোটার আইডি ও আধার কার্ড জমা দেওয়ার পর সবকিছু ঠিক আছে বলে জানানো হলেও, পরবর্তীতে ২০০৩ সালের তালিকার সঙ্গে তথ্য না মেলার বার্তা পান। পরে বিএলও তাকে ডেকে নাগরিকত্বের প্রমাণের জন্য ‘অনির্দিষ্ট কিছু নথি’ জমা দিতে বলেন। ২০০৩ সালে দেশের বাইরে থাকায় তিনি পাসপোর্ট জমা দেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সাবেক কূটনীতিক লিখেছেন, তিনটি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার পরও যদি আমাকে নাগরিকত্ব প্রমাণে সমস্যায় পড়তে হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য কী? এসআইআর তালিকায় পরিচিত ব্যক্তিদের নাম বাদ পড়া বা ভুল থাকার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। যাচাই-বাছাই শেষে এসব ঘটনা সমাধান করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ২০০২ বা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্র প্রমাণের নথি জমা দিতে হয়। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন আধার কার্ড ছাড়া ১১টি নথি অনুমোদন করলেও, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর তালিকা সম্প্রসারিত করে আধার কার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে বিহারে প্রথম এসআইআর চালু করা হয়, যেখানে মৃত ব্যক্তিসহ ৬০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ে। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি
২৫শে জুলাই বিকেলে, গ্রিক মালিকানাধীন সুপারট্যাঙ্কার ‘কিকু’ কাতারের মেসাইদ তেল রপ্তানি টার্মিনালে নোঙর করে। এটি দোহা থেকে ২৫ মাইল দক্ষিণে দেশটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ৩০টি বার্থ বিশিষ্ট একটি বিশাল বন্দর। চার দিন পর, অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে ‘কিকু’ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’—যা ১,০০০ ফুটেরও বেশি দীর্ঘ এবং বৃহত্তম তেল ট্যাঙ্কার শ্রেণি—পারস্য উপসাগর জুড়ে তার সর্বোচ্চ গতির কাছাকাছি, ১৩ নট স্থির গতি বজায় রেখেছিল। এরপর, ৩১শে জুলাই, দুপুর ২টার কিছুক্ষণ পরে দুবাই উপকূলের কাছে ‘কিকু’ অদৃশ্য হয়ে যায়। জাহাজটি তার এআইএস ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিল; এটি একটি সামুদ্রিক রেডিও ডিভাইস যা জাহাজের পরিচয়, গতি, গতিপথ এবং অবস্থান সম্প্রচার করে। বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ট্র্যাকিং পরিষেবাগুলোর কাছে মনে হয়েছিল, ‘কিকু’ যেন হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছে। এটি ছিল তেল শিল্পের সর্বশেষ কৌশলের অংশ – মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রহরায় প্রণালীটি জুড়ে ‘গোপন’ বা ‘অন্ধকার’ রাতের বেলা চলাচল। এর উদ্দেশ্য: ইরানের ড্রোন হামলা এড়ানো – যেমনটি এক মাস আগে কিকুকে আঘাত করেছিল, কিন্তু বিস্ফোরিত হতে ব্যর্থ হয়েছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় সৌদি, কুয়েতি, কাতারি এবং আমিরাতি তেল কোম্পানিগুলো তেল ট্যাঙ্কার ভাড়া করেছে, যেগুলো তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে ওমান উপসাগরে তেল পাচার করে। সেখানে তারা তাদের গ্রাহকদের মালিকানাধীন অপেক্ষারত ট্যাঙ্কারে অপরিশোধিত তেল নামিয়ে দেয় এবং তারপর প্রণালী দিয়েই ফিরে আসে। এর ফলে ইরানের হামলার বীমা ঝুঁকি এবং শারীরিক বিপদের ব্যয়বহুল বোঝা বাণিজ্যিক জাহাজ কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে সরে গিয়ে মার্কিন সরকার এবং তেল উৎপাদনকারীদের নিজেদের ওপর এসে পড়েছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের মতে, এটি একটি কার্যকর কৌশল হয়ে উঠেছে। তাদের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক গড়ে ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ ব্যারেল তেল চলাচল করছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল—যা ওয়াল স্ট্রিটের তেল বিশ্লেষক এবং কেপলারের মতো শিপিং ট্র্যাকারদের ট্রান্সপন্ডার ডেটা ব্যবহারের পূর্বাভাসের প্রায় দ্বিগুণ। এই গোপন যাতায়াত মধ্যপ্রাচ্যের তেল শিল্পের জন্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। সিএনএন দুই দিনে ওমান উপসাগরে এক ডজনেরও বেশি জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে, যেখানে ট্যাঙ্কারগুলো চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডের মতো গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি একটি বিপজ্জনক এবং ব্যয়বহুল কৌশল যা তেলের বাজারকে কিছুটা সাময়িক স্বস্তি দেয়। কিন্তু যুদ্ধের সমঝোতার মাধ্যমে অবসান এবং প্রণালীটির জন্য একটি স্থায়ী পরিকল্পনার মতো স্থায়ী সমাধান অধরা থাকায়, এই বিকল্প পথটি সময় কিনে দিচ্ছে। গোপন যাতায়াত কিকুর সাম্প্রতিক যাত্রার মতো গোপন যাতায়াতের এই বৃদ্ধি জ্বালানি বাজারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘটছে। অনেকের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ ছয় মাস ধরে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত করেছে, কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি একটি সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে: বাণিজ্যিক মজুত থেকে শত শত কোটি ব্যারেল তেল ও জ্বালানি উধাও হয়ে গেছে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি মজুত এত কম আর কখনও ছিল না। চীনের বিশাল তেল মজুদের ওপর নির্ভরতা—যা তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছানো ঠেকানোর একটি প্রধান কারণ—চিরস্থায়ী হবে না। আর বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারী ও ভোটাররা উচ্চমূল্যে ধৈর্য হারাচ্ছেন। এক দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের নতুন কৌশল ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এটি কোনো নিখুঁত সমাধান নয়—প্রণালীটি তার সংকীর্ণতার জন্য বিখ্যাত, মাত্র ২৩ মাইল চওড়া। এখানে লুকানোর মতো বেশি জায়গা নেই, এবং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ থাকলেও রাডার একটি জাহাজকে শনাক্ত করতে পারে। এই সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু কেপলারের মতে, গত দুই সপ্তাহে প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রায় ৮০% জাহাজই ছিল “অদৃশ্য”, যেগুলো ইরান থেকে যথাসম্ভব দূরে ওমানের উপকূল ঘেঁষে যাতায়াত করছিল। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে, কিছু ট্র্যাকিং ডেটা জিপিএস জ্যামিংয়ের শিকার হয়েছে, যা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন করে তুলেছে। এই নতুন কৌশল ব্যবহারকারী অনেক জাহাজের মতোই, আমিরাতের বন্দর নগরী ফুজাইরাহর কাছে নোঙর করা অবস্থায় এর ট্রান্সপন্ডার বন্ধ হয়ে যাওয়ার একদিন পর কিকু জাহাজটিও পুনরায় আবির্ভূত হয়। এর ট্রান্সপন্ডার আবার পিং করা শুরু করলে, কিকু জাহাজটি আরেকটি গ্রিক সুপারট্যাঙ্কার, নাভে ইলেকট্রনের পাশে নোঙর করে, যেটি একদিন আগেই ওমান উপসাগরে এসে পৌঁছেছিল। জাহাজ দুটি এক সপ্তাহ ধরে একসঙ্গে তেল আদান-প্রদান করছিল। অবশেষে ৮ই আগস্ট যখন তারা আলাদা হয়, তখন নেভ ইলেকট্রন তেল বোঝাই করে উপসাগর ছেড়ে চীনের নিংবোর পথে আরব সাগরের দিকে রওনা দেয়। কিকু জাহাজটি প্রায় ১৪ই আগস্ট পর্যন্ত ফুজাইরাহর উপকূলে অবস্থান করছিল, এরপর এটি আবারও সংকেত দেওয়া বন্ধ করে দেয়। পরের দিন, বিকেল ৪টার ঠিক আগে, পারস্য উপসাগরে এর সংকেত পুনরায় দেখা যায় এবং এটি কাতারের দিকে ফিরে যাচ্ছিল। প্রতীক্ষামূলক এই সংকেতবিহীন যাত্রাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারীদের বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের কাছে তেল রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোর সর্বশেষ উদাহরণ, যা ইরানের ক্ষেত্রে প্রচলিত চিত্র পাল্টে দিয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল অন্য পথে পাঠিয়েছে, যা পারস্য উপসাগরে অপেক্ষারত তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য নির্ধারিত ছিল। এর পরিবর্তে, সেই তেল তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারীরা হরমুজ প্রণালীর চারপাশ দিয়ে দৈনিক আরও ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল অন্য পথে পাঠিয়েছে। এর ক্ষতিপূরণের জন্য বিশ্বজুড়েও উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ব্রাজিল, গায়ানা এবং ভেনিজুয়েলা সম্মিলিতভাবে দৈনিক ১০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি অতিরিক্ত উৎপাদন যোগ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাজারে দৈনিক আরও কয়েক লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহ করেছে। এবং এর চেয়ে অনেক কম সমন্বিত (বা সামরিকভাবে সুরক্ষিত) গোপন পরিবহনও কয়েক মাস ধরে চলছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ভিত্তিতে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছে, যার ফলে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে থাকা তাদের মজুত ব্যাপকভাবে কমে গেছে। চীনও তার নিজস্ব বিশাল তেলের মজুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে, এবং একই সাথে অপরিশোধিত তেল আমদানিও ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। দাম বাড়ার সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা তেলের বাজারে ভারসাম্য আনতে এবং যাদের প্রয়োজন তাদের কাছে তেল পৌঁছে দিতে সাহায্য করছে। বাজার তার পথ খুঁজে চলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় সবচেয়ে জ্ঞানী বিশেষজ্ঞরা যা অনুমান করেছিলেন, তার চেয়ে এটি অনেক বেশি জটিল এবং উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি নমনীয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। একটি অস্থায়ী সমাধান হরমুজ প্রণালীর রাডার এবং স্যাটেলাইট চিত্র এমন একটি ছবি তুলে ধরে যা ট্রান্সপন্ডার ডেটা দেখতে পায় না। উদাহরণস্বরূপ, ১৪ই আগস্টের স্যাটেলাইট ছবিতে, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে ওমানের উপকূলকে ঘিরে ধনুকের মতো বাঁকানো বিন্দুর সারি দেখা যায়। কিন্তু সেই বিন্দুগুলো একই দিন ও সময়ের জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটার সাথে মেলে না। "বিন্দুগুলো" অদৃশ্য হয়ে যায়। ৭ই আগস্ট, ট্রান্সপন্ডার ডেটাতে ওমান উপসাগরে দুটি গ্রিক মালিকানাধীন ট্যাঙ্কারকে একে অপরের পাশে দেখা যায়। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, নিসোস কিথনোস নামের একটি শাটল ট্যাঙ্কার, যেটি প্রণালীর অন্ধকার পথ দিয়ে গিয়েছিল, সেটি ফ্রন্ট ওট্রার পাশে সারিবদ্ধভাবে রয়েছে। ১৪ই আগস্ট, ফ্রন্ট ওট্রাকে তাইওয়ানের পথে আরব সাগরে শনাক্ত করা হয়। নিসোস কিথনোস তখন পারস্য উপসাগরে ফিরে এসেছিল। কিন্তু এই অবস্থা চিরকাল চলতে পারে না। যুদ্ধের সময় তেলের মজুত প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত কমে গেছে। যদি বাজার ভারসাম্যে পৌঁছায়, তবে পরবর্তী সংকট এড়াতে সেগুলো পূরণ করতে হবে। যদি তা না হয়, তবে এই মজুতগুলো একসময় এতটাই কমে যাবে যে বিশ্বের তেলের চাহিদা মেটাতে সেগুলোর ওপর আর নির্ভর করা যাবে না, এবং পরিস্থিতি এমন এক সন্ধিক্ষণে পৌঁছাবে যেখানে একমাত্র সমাধান হবে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়ে আরও বেশি চাহিদা দমন করা। জ্বালানির বাজারে ইতোমধ্যেই একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে: বিশ্বের চারটি শোধনাগার কেন্দ্রের মধ্যে তিনটিই মারাত্মক সংকটে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগারগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সেই অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে। জ্বালানির আরেকটি প্রধান উৎস রাশিয়া, ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাতের কারণে আরেকটি যুদ্ধে অচল হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন রাশিয়ার শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং দেশে জ্বালানির ঘাটতির সম্মুখীন হয়ে মস্কো তার রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। চীন, নিজের দেশে জ্বালানির ঘাটতি এড়াতে, তার পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ চীন সাধারণত একটি প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। এর ফলে উপসাগরীয় উপকূল বরাবর অবস্থিত মার্কিন শোধনাগারগুলোকেই বৈশ্বিক চাহিদার বোঝা বহন করতে হচ্ছে। কিন্তু মার্কিন শোধনাগারগুলো চিরকাল পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারে না। গ্যাস, বিশেষ করে ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের চাহিদা এতটাই বেশি যে, তা উৎপাদনের জন্য শোধনাগারের ক্ষমতা খুবই কম, ফলে দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে – যা অপরিশোধিত তেলের দাম অনুযায়ী স্বাভাবিক হারের চেয়েও অনেক বেশি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনায় একটি আসন্ন সাফল্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক মাস ধরে সফলভাবে তেলের দাম কমিয়ে এনেছিলেন। তবে সম্প্রতি তার পরিকল্পনা বদলে গেছে: আমেরিকার নতুন কৌশল হলো ইরানের বন্দরগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী নৌ অবরোধের মাধ্যমে একটি "চূর্ণকারী অর্থনৈতিক অভিযান" চালিয়ে ইরানকে শ্বাসরুদ্ধ করা। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। দুই দেশ যুদ্ধের এক অমীমাংসিত চোরাবালিতে জড়িয়ে পড়ায়, প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই লড়াই ভোক্তাদের জন্য তেল – বিশেষ করে গ্যাস, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের দাম অস্বস্তিকরভাবে বাড়িয়ে রেখেছে, যা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে এবং তাদের ব্যয়যোগ্য আয় কমিয়ে দিচ্ছে।
সরকারের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তিনটি সংস্থা একীভূত করে নতুন একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠন করা হয়েছে নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। গত বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ফলে এখন থেকে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম নতুন এই কর্তৃপক্ষের নামে পরিচালিত হবে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন-কে। গতকাল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, অন্য যেকোনও পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।