মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতার রয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। অপর আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনটি অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন তিনি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আর্জি জানান চিফ প্রসিকিউটর। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আসামি পলকের পক্ষে দাঁড়ান আইনজীবী লিটন আহমেদ। তিনি বলেন, 'আদালদের আদেশ অনুযায়ী গত ৯ জানুয়ারি আমরা আসামির সঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য কারাগারে যাই। কিন্তু ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ নিয়ে আমাদের ঢুকতে দেননি কারা কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা আগামী শুক্রবার এ কাজটি সারতে চাই। একই সঙ্গে, ১৮ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন নিয়ে প্রশ্নে শুনানি করতে চাই।'
এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আসামিপক্ষে শুনানির জন্য ১৪ তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। তারা চাইলে আজই আসামির সঙ্গে এখানে (ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়) প্রিভিলেজ কমিউনিকেশন করতে পারেন।'
তখন চেয়ারম্যান বলেন, 'শুক্রবার কেন, আপনারা চাইলে আজই এসব কাজ সারতে পারেন। কিন্তু নিজেদের আবেদন নিয়ে কিছুটা অটল থাকেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওনারা বিচারকাজকে বিলম্ব করতে চাইছেন। এজন্যই এতকিছু।'
এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে লিটন আহমেদ বলেন, 'এ মামলায় জব্দকৃত ১০টি ভিডিও আমাদের দিয়েছে প্রসিকিউশন। কিন্তু কয়েকটি ওপেন করতে পারিনি আমরা।'
তখন ট্রাইব্যুনালের প্রথম সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম বলেন, 'আপনারা বুঝে নেননি কেন? প্রসিকিউশনের সামনে সবকিছু দেখে নিতে পারতেন। পরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের এখানে সব ওপেন হচ্ছে। ওনাদের ডিভাইসে সমস্যা থাকতে পারে।'
জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, 'ডিভাইসের সমস্যা থাকলে আজও দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে করেন। আর নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শুনানি করেন।'
পলকের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, 'ফর্মাল চার্জ অনেক বড়। পুরোটা পড়তে সময় লাগবে আমাদের। আদালত সবার প্রতি দয়াবান। তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ অন্য বিচারকরাও বলেন, আগামী চারদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের কথা।'
তখনও রোববার শুনানি করতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'ওনারা আশায় আছে ইলেকশন (নির্বাচন) হলে বিচার-টিচার হবে না। এজন্য বিচারকার্য বিলম্বিত করতে চাইছেন।'
চিফ প্রসিকিউটরের এমন কথায় বিচারপতি শফিউল বলেন, 'ইলেকশন হলে কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে? এমন বইলেন না, এমন বইলেন না।' তখন চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'ওনারা কী বলে সব কথা আমাদের কানে আসে।' একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, এসব কথা আর বলবেন না।
পরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান গোলাম মুর্তাজা মজুমদার আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি ধার্য করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় খড় (বিচালি) নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে সামেলা বেগম (৫৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার স্বামী সাহেব আলী জোয়ার্দারকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের কাজলী গ্রামের মুচিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, খড় সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে সাহেব আলী জোয়ার্দার তার স্ত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সামেলা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মীর নাদিয়া নিভিনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগের মাধ্যমে তিনি সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথম নারী চেয়ারম্যান হলেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মীর নাদিয়া নিভিনের নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মীর নাদিয়া নিভিন কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে তাঁর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। মীর নাদিয়া নিভিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, নীতি-গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন পেশাজীবী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচন সংস্কার কমিশন-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-এর বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও মালয়েশিয়ায় কাজ করেছেন। উন্নয়ন ও সুশাসন খাতে তাঁর অবদান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এশিয়া সোসাইটি প্রকাশিত ‘এশিয়া ২১ ইয়াং লিডারস’ তালিকায় স্থান পান তিনি। এ তালিকায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ৪০ বছরের কম বয়সী উদীয়মান নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পেশাগত জীবনের শুরুতে মীর নাদিয়া নিভিন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি কিছু সময় সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। উল্লেখ্য, আইডিআরএ দেশের জীবন ও সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম তদারকি, নিয়ন্ত্রণ এবং বিমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে খাতটির সংস্কার ও আধুনিকায়নে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।
জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক)-এর হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে অংশ নিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। ১৭ থেকে ১৯ জুন অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের ইকোসকের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন। কর্মসূচি শেষে আগামী ২০ জুন তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ সেগমেন্টে বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এবারের অধিবেশনে চেয়ারের দায়িত্ব পালন করবেন জাতিসংঘে হেক্টর গোমেজ। ইকোসকের এই সেগমেন্টকে বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা ও সংকট মোকাবিলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর এখানে সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং দাতা দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে মানবিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এবারের আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বাস্তবায়ন, ক্রমবর্ধমান মানবিক জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং ত্রাণ সহায়তার কার্যকারিতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, মানবিক সহায়তা সংস্থা, বেসরকারি সংগঠন, গবেষক ও সংকটকবলিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।