খেলাধুলা

স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল রাতে শিরোপা নির্ধারণী এল ক্লাসিকো

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১১, ২০২৬

বছরের প্রথম এল ক্লাসিকোতে রাতে মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামে স্প্যানিশ সুপার কাপের মেগা ফাইনালে লড়বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। রিয়াল শিবিরে স্বস্তির খবর চোট কাটিয়ে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে, আত্নবিশ্বাসের তুঙ্গে জয়ের ছন্দে রয়েছে কাতালানরা।

 

গত বছর রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতেছিলো বার্সা। তবে তার আগে, ২০২৪ সালে সোনালি অতীত ছিলো মাদ্রিদের। দুই জায়ান্টের চোখে একই স্বপ্ন, লড়াইয়ে থাকবে সেই চির প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ।

 

মূলত, নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে রিয়াল। তবে চোটের কারণে সে ম্যাচে খেলতে পারেননি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল সমর্থকদের জন্য সুখবর হলো, শুক্রবার সৌদি আরবে পৌঁছে শনিবার জেদ্দায় দলের ট্রেনিং সেশনে যোগ দিয়েছেন এমবাপ্পে।

 

তবে, ফাইনালে কি তবে খেলছেন কিলিয়ান? রিয়াল কোচ আলনসো আগেই জানিয়েছেন, সতর্কতার সঙ্গে নেয়া হবে সিদ্ধান্ত। রিয়াল মাদ্রিদ রাইট ব্যাক দানিয়েল কারভাহাল এল ক্লাসিকোর জানিয়েছেন সবটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত তারা।

 

কারভাহাল বলেন, 'বছরের শেষ দিকে দল তার সেরা ছন্দে খেলছিলো না। আমরা অনেক ইনজুরির কবলে পড়েছিলাম, যার ফলে নিয়মিত খেলোয়াড়রা খেলার সুযোগ পাচ্ছিলো না। বড়দিনের ছুটি আমাদের সবার জন্যই কাজে লেগেছে। জাবি এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা রয়েছে এবং আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দেব।'

 

এদিকে, বার্সেলোনার সাম্প্রতিক রেকর্ড রিয়ালের বিরুদ্ধে ঈর্ষণীয়। সবশেষ পাঁচ এল ক্লাসিকোর চারটিতেই জয় পেয়েছে কাতালানরা। তবে সবশেষ দেখায় এমবাপ্পে বেলিংহ্যামরা হারিয়ে দিয়েছিল ইয়ামাল র‍্যাশফোর্ডদের। এরপর ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আর হারেনি বার্সা।

 

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সা জিতেছে টানা ৯ ম্যাচ। এই আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা এবার নতুন শিরোপা জেতার মিশনে।

 

বার্সার সেন্টার ব্যাক এরিক গার্সিয়া বলেন, 'এই চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা আমাদের জন্য একটি বাড়তি অনুপ্রেরণা এবং আত্মবিশ্বাস যোগাবে। আমাদের জন্য আরেকটি শিরোপা জেতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই খুব তরুণ, তাই এই জয় আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বড় শক্তি হবে।'

 

উল্লেখ্য, গত মৌসুমে লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও কোপা দেল রে'তে ছিলো বার্সার উল্লাস আর রিয়ালের কান্না। এবার হাসবে কারা? ফুটবলপ্রেমীদের চোখ উত্তর খোঁজা শুরু করবে রাত ১টায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
দুই সাবেক কর্মকর্তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করলো ফিফা

গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই দেশের সাবেক ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল এবং মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিলের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে এ শাস্তি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার নৈতিকতা কমিটির বিচারকরা গুরুতর আর্থিক অনিয়মের দায়ে দুজনকেই আজীবন নিষিদ্ধ করেছেন। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফার তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।   জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও নির্দিষ্ট। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ফিফার দেওয়া কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহামারির সময়ে সদস্য দেশগুলোর জন্য ফিফা সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দিয়েছিল। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জালিল ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার কাজে ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।   ক্যাসেলের বিরুদ্ধে অবশ্য এর আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের এই ফুটবল কর্মকর্তা ও তার সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিলে কর ফাঁকির মামলায় দেশটির আদালতে দোষ স্বীকার করেন। এর আগে ২০১১ সালেও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্তের মুখে পড়েছিলেন ক্যাসেল ও হিউজ। ওই অর্থ তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ বিন হাম্মামের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।   এসব ঘটনার পরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাটের ফুটবল পরিচালনা করে আসছিলেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় থেকে দেশটির ফুটবল সংস্থাটি বছরে অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী। তবে অসাধারণ সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে ফিফা সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে।   আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্যাসেলকে আরও ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল।   হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনিয়মিত লেনদেনে সুবিধা নেওয়া ও তা সহজ করার অভিযোগে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে।   জালিলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে ফিফা। একই ঘটনায় মালদ্বীপের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে।    ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, আগিলের বিরুদ্ধে ফিফার অর্থের অপব্যবহারে সহায়তা ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং ফিফার নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

লাল-হলুদ কার্ডের পর ফুটবলে নতুন চমক ‘ব্ল্যাক কার্ড’

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে ম্যাচসেরা মিরাজ

সংগৃহীত
রিজওয়ান-ইমামের মোবাইল জব্দ, ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিষেধাজ্ঞা

ঘোর দুঃসময় যাচ্ছে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকের। ইংল্যান্ড সফর থেকে এই দুজনসহ সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জব্ধ করা হয়েছে মোবাইল। সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন দুজন। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা- এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের দরজাও বন্ধ হয়ে গেল ইমাম ও রিজওয়ানের জন্য।   প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের ফিটনেস টেস্ট করিয়ে তার প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু রিজওয়ান ও ইমাম তাদের নিজ নিজ বিভাগীয় দলের সঙ্গে ফিটনেস টেস্টে অংশই নেননি। ফলে দুই খেলোয়াড়ই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না।   এদিকে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের খবর, রিজওয়ান ও ইমামের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করছে সেদেশের জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (এনসিসিআইএ)। তাদের   মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় দুজনকে।   আগেই তাদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এবার তারা সেই ফোন দুটি জমা দিয়েছেন এনসিসিআইএ’র কাছে। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয় তাদের। জিও নিউজ জানায়, দুই ক্রিকেটারকে তলব করে এনসিসিআইএ। একটি তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। আরও এক ক্রিকেটার নোটিশ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।   ক্রিকেটারদের মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তা খতিয়ে দেখা হবে। কেন ক্রিকেটারদের মোবাইল নেওয়া হলো, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পিসিবি বা এনসিসিআইএ। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন এ দুই ক্রিকেটার।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছক্কার ঝড়ে পাকিস্তানকে বাঁচালেন রাজাউল্লাহ, ম্যাচ গড়াল চতুর্থ দিনে

ছবি: সংগৃহীত

তিন মাসের চুক্তিতে সান্তোসে কুতিনহো

ছবি: সংগৃহীত

এস্তেহেইজেনের সেঞ্চুরিতে সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমা চাইতে হবে না, গোল করুক আলভারেস

হুলিয়ান আলভারেসের ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছাকে ভালোভাবে নেননি আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকেরা। তাদেরই একজন মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেস-আলমেইদা। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ডের আচরণে কষ্ট পেয়েছেন তিনিও। তবে আলভারেস ক্ষমা চাইবে, এমন দাবি নেই তার। বরং দলের হয়ে মাঠে নেমে গোল করে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ চলার মাঝে আলভারেস জানান, তিনি অন্য ক্লাবে যাওয়ার ইচ্ছার কথা ক্লাবকে জানিয়ে দিয়েছেন। সেই থেকেই ক্লাবের সমর্থকদের সঙ্গে তার সম্পর্কে চিড় ধরে।   আলভারেসকে দলে নিতে চেষ্টা চালায় বার্সেলোনা। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে ছাড়তে রাজি হয়নি আতলেতিকো। খবর বের হয়, এই স্ট্রাইকারকে দলে টানতে চেয়েছিল আর্সেনালও। কিন্তু কারো কাছেই আলভারেসকে বিক্রি করেনি আতলেতিকো।   বিশ্বকাপ শেষে ছুটি কাটিয়ে অবশ্য ঠিক সময়েই ক্লাবে যোগ দেন তিনি। কিন্তু ক্লাবটির সমর্থকদের কাছে তার অবস্থান এখন আর আগের মতো নেই।   গত ২৩ অগাস্ট লা লিগায় ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে ২-২ ড্র ম্যাচের আগে ওয়ার্ম আপের সময় তাকে দুয়ো দেওয়া হয়। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তার নাম ঘোষণার সময়ও তাকে বিদ্রূপ শুনতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি মাঠে নামার পর আরও জোরাল হয় দুয়োধ্বনি। এই বিরূপ পরিস্থিতির প্রভাবও পড়ে তার ওপর; তাকে সেদিন খুবই বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।   ওই ঘটনার পর, দলের তৃতীয় ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে খেলেননি আলভারেস। ওই সময় তিন দিন অনুশীলনও করেননি তিনি। পরে আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ফুটবলার। আর বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে প্রথমবার খেলেন পুরো ৯০ মিনিট।   চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে কোনো গোল করতে পারেননি আলভারেস। তবে লিভারপুলের বিপক্ষে মার্কোস ইয়োরেন্তের গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি।   আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থক মার্তিনেস-আলমেইদা সম্প্রতি কাদেনা কোপকে বলেন, আলভারেসের কাছে এখন গোল ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার নেই তাদের।   “হুলিয়ানের ওপর কি আমি ক্ষুব্ধ? হ্যাঁ। সেই রাগ দেখিয়ে কি আমাদের কোনো লাভ হবে? না। আতলেতিকোর সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। আমি হুলিয়ানকে ক্ষমা চাইতে বলছি না, আমি চাই সে গোল করুক।”   তার মতে, সবাই মিলে এখন আলভারেসকে সেরা ছন্দে ফেরাতে হবে।   “আমাদের সবার এখন যা করতে হবে, তা হলো হুলিয়ানকে আবার ছন্দে ফেরানো। কারণ তা না হলে আগামী বছর তার মূল্য অর্ধেকে নেমে আসবে- এটা ছাড়াও আরও অনেক বিষয় আছে।   “যদিও তার ‘আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই’ মন্তব্য আমাদের কষ্ট দিয়েছে, আমার মনে হয় না, সে ক্ষমা চাইলে কোনো লাভ হবে। আমাদের এখন তাকে গোল করতে বলা এবং গোল করার ভিত্তিতেই তার বিচার করতে হবে।”   ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৮ কোটি ১৫ লাখ পাউন্ডে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন। এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে ১০৯ ম্যাচে ৪৯ গোল ও ১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মেসি-রোনালদোকে ঘিরে লা লিগায় নতুন চমক, বড় ইঙ্গিত সভাপতির

সংগৃহীত ছবি

মেসির ৭ কীর্তিতে ভাগ বসানোর দৌড়ে রাফিনিয়া

ছবি: সংগৃহীত

নেইমারের সান্তোসে এবার কৌতিনিয়ো, বন্ধুত্বে মিলল দুই ব্রাজিলিয়ান তারকা

0 Comments