জাতীয়

৬৩৭ কোটির তালিকা অকেজো, ধনী-গরিব চিহ্নিত করতে ফের ৬৭৬ কোটি

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২২ সালে দেশের ধনী-গরিবের একটি তালিকা করেছিল সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এতে খরচ হয় ৬৩৭ কোটি টাকা। জাতীয় খানা তথ্যভান্ডার (ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেজ বা এনএইচডি) নামের ওই তালিকা করার উদ্দেশ্য ছিল, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর কর্মসূচির জন্য সুবিধাভোগী নির্বাচন সহজ করা। তবে চার বছরেও তালিকাটি ব্যবহার করা হয়নি। তথ্যও হালনাগাদ করা হয়নি।


এ অবস্থায় ধনী-গরিবের আরেকটি তালিকা তৈরি করতে যাচ্ছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৬ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের ঋণে এ তালিকা করার উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপকারভোগী নির্বাচন করা, যাতে গরিব পরিবারগুলোর নারীপ্রধানেরা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পান; ধনী পরিবারের কেউ এ তালিকায় ঢুকতে না পারেন।


দুটি ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য প্রায় এক হলেও কেন আরেকটি তালিকা করতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া দেশে যেকোনো জরিপ ও শুমারি করার আইনি সংস্থা বিবিএস। তাদের বাদ দিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর কেন তথ্য সংগ্রহের কাজ করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়েও রয়েছে সমালোচনা।


বিবিএসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এনএইচডির তথ্য হালনাগাদ করাসহ ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা জরিপের তথ্যের সমন্বয় করতে পারলে বর্তমান প্রয়োজন মিটতে পারে। একই বিষয়ে একাধিক জরিপ করা সরকারের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়।


তবে বিবিএসের জরিপের সঙ্গে অধিদপ্তরের জরিপ মেলানো ঠিক হবে না বলে জানান সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ্ মোহাম্মদ মাহবুব। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হবে পরিবারের নারীপ্রধানের কাছ থেকে। এটি বিশেষায়িত কাজ।


এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের অভিজ্ঞতা অধিদপ্তরের আছে কি না—এমন প্রশ্নে শাহ্‌মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট আকারে একটি জরিপের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী।


অবশ্য এ প্রকল্পের অধীন ফ্যামিলি কার্ডও তৈরি করা হবে। তথ্য সংগ্রহ ও কার্ড তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা।


দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত বছরেও ধনী-গরিবের একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার করতে না পারাকে ‘দুঃখজনক’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, করোনা মহামারির সময় তালিকার অভাবে অনেক ধনী পরিবার সরকারের প্রণোদনা নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকারও প্রকৃত উপকারভোগী বাছাই না করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। এতে সরকারি টাকার বণ্টনে ভুল হচ্ছে।


অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড দিতে পাঁচ বছরে ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এ কার্ডে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার।


বিবিএসের অনুমতি পেল সমাজসেবা অধিদপ্তর

আইন অনুযায়ী, যেকোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও তাদের অধীন দপ্তর, অধিদপ্তর বা সংস্থার বিবিএসের পরিসংখ্যান ব্যবহার বাধ্যতামূলক। যদিও সরকারের সিদ্ধান্ত, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ জন্য সারা দেশে তথ্য সংগ্রহের অনুমতি চেয়ে গত ২২ জুলাই বিবিএসকে চিঠি দেয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।


বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে জাতীয় খানা তথ্যভান্ডার জরিপের অভিজ্ঞতা বিবিএসের জন্য সুখকর ছিল না। এ ছাড়া বিবিএসের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। বিবিএসের পেশাদারি ও স্বচ্ছতার ঘাটতিরও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সরকারের অন্য কোনো সংস্থা জরিপ বা শুমারি করতে চাইলে তাদের নিষেধ করা যাচ্ছে না। তাই সমাজসেবা অধিদপ্তরকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এটিকে শুমারি বা জরিপ বলা যাবে না।


তথ্য সংগ্রহের কাজে বিবিএস সমাজসেবা অধিদপ্তরকে কারিগরি সহায়তা দেবে বলে জানান পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ফিরোজ সরকার।


কোথায় কত খরচ হবে

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, প্রথমে প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬’। পরে বিবিএসের আপত্তিতে করা হয় ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার’। এটি করা হচ্ছে স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইমপ্রুভমেন্ট রেজিলিয়েন্স ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্পের মাধ্যমে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড তৈরি ও তথ্য সংগ্রহের পেছনে খরচ হবে ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা।


নথিতে দেখা যায়, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের প্রধান নারীকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। এ কার্ড তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, ডেটাপ্রক্রিয়া করাসহ সরকারি কর্মচারীদের সম্মানী এবং তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ বাবদ খরচ হবে ৬৭৬ কোটি টাকা।


এরই মধ্যে ১২ আগস্ট মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার জন্য ৩২০ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকার অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর বাইরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে প্রচারণায় বিজ্ঞাপন বাবদ খরচ হবে ২০ কোটি টাকা। ভ্রমণ ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ১২ কোটি টাকা। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনুষ্ঠান করতে খরচ হবে ৫০ কোটি টাকা।


সঠিক তথ্য উঠে আসবে কি না, শঙ্কা

মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে ৬৭ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী ও প্রায় ৭ হাজার সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যেমন ১২ আগস্ট নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। এ অবস্থায় নানা অজুহাতে পদ দুটিতে নিয়োগ পরীক্ষা পেছানো হচ্ছে। ফলে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এসব পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তা হয়নি। অবশ্য সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়োগ সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।


জানা গেছে, তথ্য সংগ্রহের পর তা কোথায় সংরক্ষণ করা হবে, সেটি চূড়ান্ত হয়নি। তালিকা কীভাবে চূড়ান্ত হবে, তা-ও ঠিক হয়নি। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহের পর কোথাও ভুল হয়েছে কি না, তা দেখতে তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে জরিপ–উত্তর বাছাই জরিপ (পিইসি) করার নিয়ম রয়েছে। সেটি কোন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করানো হবে, তা–ও ঠিক হয়নি। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের কাজের নজরদারি কীভাবে হবে, তা–ও নির্ধারণ হয়নি। ফলে জরিপে সঠিক তথ্য উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সমাজসেবা অধিদপ্তর বিবিএসের প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের কাজ করবে। এ পদ্ধতি হচ্ছে স্কোরভিত্তিক। ১০০ নম্বরের মধ্যে যাঁর নম্বর যত বেশি, তিনি তত ধনী। এর বিপরীতে যাঁর নম্বর যত কম, তিনি তত গরিব।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজটি বিবিএসকে দিয়ে করালে ভালো হতো। তাঁরা বলেন, এ ধরনের জরিপ করতে বিবিএস সাধারণত এক থেকে দেড় বছর নেয়। অথচ অধিদপ্তর এটাকে এক মাসে করতে চায়।


তথ্যভান্ডার থাকলে এভাবে টাকা খরচ হতো না

ধনী-গরিবের তালিকা তৈরিতে জাতীয় খানা তথ্যভান্ডার নামের প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৩ সালে। ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২৮ কোটি টাকা। চার দফা ব্যয় বাড়িয়ে পরে ৭২৭ কোটি টাকা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে কাজ কিছুটা বাকি রেখেই প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তত দিনে খরচ হয়ে যায় ৬৩৭ কোটি টাকা।


পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এ প্রকল্প নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে ২০২৩ সালে। তাতে বলা হয়, যে উদ্দেশে প্রকল্পটি নেওয়া হয়, তা অর্জিত হয়নি। প্রকল্পের আওতায় যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে তথ্য হালনাগাদ করতে পারলে তা ব্যবহার করা যেতে পারে বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের সব নাগরিকের একটি তথ্যভান্ডার করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো তা করা হয়নি। যদি তথ্যভান্ডার থাকত, এভাবে তথ্য সংগ্রহের নামে টাকা খরচ করতে হতো না।


মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের অভিজ্ঞতা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নেই উল্লেখ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখন তাদের উচিত হবে বিবিএসের সহযোগিতা নিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজটি করা। তথ্য সংগ্রহের কাজ সতর্কভাবে করা, যাতে ভুল না হয়। অতীতের মতো আবার ধনীরা তালিকায় যাতে না ঢুকতে পারেন, এটি নিশ্চিত করতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মিরপুরে প্লট দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, সরকারের হস্তক্ষেপ চান মালিকরা

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় প্লট দখল, রাস্তা বন্ধ এবং ভবন নির্মাণে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে নির্মাণশ্রমিকদের মারধর ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় থানায় একাধিক জিডি করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্লট ও ফ্ল্যাটমালিকেরা।   সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে ‘সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতি’। এতে সমিতির সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।   লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) আওতাধীন রূপনগরের দুয়ারীপাড়া এলাকার এই আবাসন প্রকল্পের ‘ক’ ও ‘খ’ ব্লকে অন্তত অর্ধশত প্লটের মালিক চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গভীর রাতে ইট-বালু ও টিন দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ, দেয়াল তুলে গেট তৈরি এবং ২০ ফুট চওড়া রাস্তায় লোহার অ্যাঙ্গেল ওয়েল্ডিং করে চলাচলের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া প্রকল্পের খ-ব্লকের পূর্ব পাশে ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তাসহ প্রায় ৯০ কাঠা জায়গা দখল করে বস্তি ও গ্যারেজ বসানো হয়েছে, যার আড়ালে চলছে মাদক ব্যবসা। এসব ঘটনায় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মিরপুর কার্যালয় থেকে রূপনগর থানায় একাধিক জিডি ও লিখিত অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।   সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ১৮ জুলাই রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুলসহ দুজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে চাঁদাবাজেরা ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে গিয়ে শ্রমিকদের তাড়িয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। সিসিটিভি ফুটেজেও এর প্রমাণ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এ ঘটনায় থানায় গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে পরে সিএমএম আদালতে মামলা করেন।   এসব অভিযোগের বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নোমান হোসাইনকে ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন করলে তিনি কেটে দেন।   রূপনগর আবাসিক এলাকা প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির অভিযোগ, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকা ২২ সদস্যের আনসার ক্যাম্পটি প্রায় দুই মাস আগে প্রত্যাহার করা হয়। ওই দিন রাতেই ক্যাম্পসহ দুটি প্লট দখল করে নেয় চক্রটি।   শামসুজ্জামান বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বরাদ্দ পাওয়া এই প্রকল্পে অনেকে ভবন তুলেছেন, অনেকে সীমানা ঘিরে রেখেছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে একটি চক্র রাতের আঁধারে অন্যের জমিতে ঘর তুলে জবরদখল শুরু করেছেন।   দখলদার চক্রে ৩৬ থেকে ৩৮ জন জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। এই চক্রের সদস্য হিসেবে সালাউদ্দিন শিপু মোল্লা, আমজাদ হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন ওরফে শান্ত, শিহাব উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ওরফে লম্বা জামাল, আব্দুল হক, নজরুল ইসলাম (নজু), আক্তার হোসেন, হুমায়ুন কবির স্বপন, মামুন, আইজল, মোবারক হোসেন মেম্বার, গালিব হোসেন আরিফ, রাজু, সুমন, এরশাদ খোকন, জাহিদ হোসেন, মিজান, রকি, ফয়েজ, কামাল ওরফে সিএনজি কামাল, আজিজুল হক জামাল, দুলাল, সোহেল, সোহেল আনসারী, আবুল কালাম আনসারী, বাশার ও সফিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।   সমিতির দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ আগে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করছেন। দখলে বাধা দিলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্লটমালিকদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির সুরক্ষায় অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সমিতির নেতারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে অনিয়ম ঠেকাতে লটারির উদ্যোগ আইন মন্ত্রণালয়ের

ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে পারলে দেশের ভিত্তি শক্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
একযোগে বিমানের ১০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

একযোগে বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন ১০ কর্মকর্তাকে বদলি, সংযুক্তি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   সোমবার (৫ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তর, পার্সোনেল শাখা থেকে আদেশ জারি করা হয়।   আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। আদেশে স্বাক্ষর করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) ওম্মে কুলছুম।   বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, বদলি, সংযুক্তি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা বোসরা ইসলামকে পরিচালক প্রশাসন ও মানবসম্পদের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মহাব্যবস্থাপক (স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) হিসেবে কর্মরত ইকবাল আহমেদ আলীকে মহাব্যবস্থাপক (কার্গো) পদে বদলি করা হয়েছে। মহাব্যবস্থাপক (পোল্ট্রি কমপ্লেক্স) হিসেবে কর্মরত এ.এইচ.এম. শফিউল বারীকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) পদে বদলি করা হয়েছে।   এ ছাড়া মহাব্যবস্থাপক (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) হিসেবে কর্মরত শাহনুর আহমেদকে মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহক সেবা) পদে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহক সেবা) হিসেবে মূল দায়িত্ব এবং মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন আহমেদকে মহাব্যবস্থাপক (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) পদে বদলি করা হয়েছে।   ক্যাপ্টেন বি-৭৮৭ হিসেবে কর্মরত এবং উপমহাব্যবস্থাপক (কর্পোরেট প্ল্যানিং) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা শেখ আব্বাস হোসেনকে ক্যাপ্টেন বি-৭৮৭-এর মূল দায়িত্বের পাশাপাশি মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) হিসেবে কর্পোরেট প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং পরিদপ্তরের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপমহাব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) হিসেবে মূল দায়িত্ব এবং মহাব্যবস্থাপক, প্রশাসন হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা খন্দকার বাকী উদ্দিন আহমদকে মহাব্যবস্থাপক (স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   উপমহাব্যবস্থাপক (হিসাব) হিসেবে মূল দায়িত্ব এবং মহাব্যবস্থাপক, অর্থ ও হিসাব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা এম. এম. আরিফুর রহমানকে উপমহাব্যবস্থাপক (কর্পোরেট প্ল্যানিং) পদে বদলি করা হয়েছে। তাকে কর্পোরেট প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশাসন (মানবসম্পদ) হিসেবে কর্মরত মো. ফজরুল আলমকে উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) এবং উপমহাব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, উপমহাব্যবস্থাপক (বিকেএফসিসি) হিসেবে কর্মরত এ জেড এম আরিফকে উপমহাব্যবস্থাপক (পোল্ট্রি কমপ্লেক্স) পদে বদলি করা হয়েছে।   আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী অবিলম্বে কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে নারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ঘুষ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও ছড়াল, হবিগঞ্জের এএসআই ক্লোজড

ছবি: সংগৃহীত

সদরঘাটে জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের বিরোধ, ৪০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধ, চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি সরকারকে ঘুষির অভিযোগ

চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে গাড়ির পাস নিয়ে তর্কের জেরে এক জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে বন্দরের এক চেকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. আতিকুর রহমান (৪৫) নামে ওই জেটি সরকার আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনা তৈরি হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।   আহত আতিকুর রহমান সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মেসার্স টক ট্রেডের জেটি সরকার। ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন জানান, বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে আতিকুর রহমান বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে যান। সেখানে গাড়ির পাস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বন্দরের নিম্নমান বহিঃসহকারী (জেআরওএ) বা চেকার জুয়েল দের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।   মোশারফ হোসেনের অভিযোগ, একপর্যায়ে জুয়েল দে আতিকুর রহমানকে ঘুষি মারেন। এতে তার চোখের নিচে আঘাত লাগে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বন্দরের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।   চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।   বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহাম্মেদও ঘটনাটি ঘটার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   তবে গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত কীভাবে এবং ঘটনার সময় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ই-মেইলে বোমা হামলার হুমকি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার

ছবি: সংগৃহীত

দুই হাত না থাকলেও থামেনি পথচলা, পা দিয়ে ১৪৫ শিশুকে পড়ান দুঃখু মিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিভার্সেল মেডিকেলে শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

0 Comments