অন্যান্য

নির্বাচন এলে তসবিহ নিয়ে ঘোরা রাজনীতিকই ধর্মকে ব্যবহার করে : জামায়াত আমির

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫ 0

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে না এ কথা জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকাস্থ দূতাবাসে আট দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।

 

তিনি বলেন, জামায়াত কখনো ধর্মের ব্যবহার করে না কিংবা ধর্মকে ব্যবসার উপকরণ বানায় না। নির্বাচনের সময় তসবিহ নিয়ে ঘোরাফেরা করা কিছু দলের আচরণই মূলত ধর্মকে ব্যবসার কাজে লাগানো। জামায়াত এ ধরনের পথ অনুসরণ করে না।

জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি জানান, নির্বাচনের তারিখ পেছানো জামায়াতের কাম্য নয়। তার মতে, কোনো কারণে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পিছিয়ে গেলে দেশ গভীর সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।

ক্ষমতায় গেলে দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে একটি ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আগামী পাঁচ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনটি শর্তের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন প্রথমত, দুর্নীতি পরিহার করতে হবে এবং কাউকে দুর্নীতি করতে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। যারা এসব নীতির সঙ্গে একমত হবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনে জামায়াত আগ্রহী।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সুস্থতা বা অসুস্থতা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছানির্ভর। তিনি দেশের মানুষের মতোই তার সুস্থতার জন্য দোয়া করেন। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র পরিচালনা থেমে থাকা উচিত নয়; সমাজের চাকা সবসময়ই চালু থাকা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনায় একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একই দিনে দুটি ভোট আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ আছে। তিনি আলাদা দিনে নির্বাচন করার পরামর্শ দেন।

 

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সামান্য পরিবর্তনও দেশে গভীর সংকট সৃষ্টি করতে পারে। দেশের স্বার্থে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
স্বামীসহ জাবি’র সাবেক উপাচার্য ফারজানার আয়কর নথি জব্দের আদেশ

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার স্বামী, পুত্র ও তৃতীয় হাতের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেন একজন আয়কর দাতা।  অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেন কর্তৃক বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গোপনের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেনের নামীয় মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদির সত্যায়িত অনুলিপি ও প্রয়োজনে জব্দকরণের লক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালতের যথাযথ আদেশ একান্ত প্রয়োজন। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাগ, পোশাক ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণ করা হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমায় আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন চালু করল ইউএনডিপি ও ঢাবি

ছবি : সংগৃহীত

এনসিপিতে যোগ দিলেই মিলবে ‘মিল্লি কার্ড’, ছাত্রশক্তি নেতার প্রচারণা ভাইরাল

ছবি : সংগৃহীত
সরকার শিক্ষকতার মানোন্নয়নে কাজ করতে বদ্ধপরিকর : শিক্ষা মন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষকতার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের এজেন্ডা। শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের এগোতেই হবে। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের জন্য সর্বোচ্চ ব্যয় করছেন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে আছি। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ সময় মন্ত্রী জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এ দীর্ঘ সময় পরও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি তার চোখে পড়ছে না। ড. মিলন আরও বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি)-৫ এ ৫১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর আগে পিইডিপি-৪ এ ব্যয় হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রধান দীপা শংকর।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো ডিনস এ্যাওয়ার্ড প্রদান

ছবি : সংগৃহীত

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

বাঁ থেকে, মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি : সংগৃহীত

ফাইট দ্য অডস অ্যান্ড কামব্যাক কমরেড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

চায়ের স্বাদ ছাড়িয়ে চুলের যত্ন

হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানা সভ্যতায় চা শুধু একটি পানীয় নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেই পরিচিত। মানসিক চাপ কমানো, ব্যথা উপশম, মনোযোগ বাড়ানো কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা—প্রায় প্রতিটি সমস্যার জন্যই রয়েছে কোনো না কোনো চা-সমাধান। চায়ে রয়েছে অসাধারণ কিছু গুণাগুণ, যা নিয়মিত পান করলে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের চা শুধু শরীর নয়, চুলকেও করে তোলে ঘন, শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত—জানলে অবাক হবেন এর বিস্ময়কর উপকারিতা! কীভাবে? তাই জানাচ্ছেন বৃষ্টি শেখ খাদিজা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে প্রকৃতি সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সেখানে চুল কীভাবে এর প্রভাবের বাইরে থাকতে পারে? আয়ুর্বেদ ইতিহাসে এমন বহু প্রাকৃতিক উপাদান ও ঘরোয়া উপায়ের কথা বলা হয়েছে, যা চুলকে করে তোলে আরও স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী ও উজ্জ্বল। আর সেই প্রাকৃতিক সমাধানগুলোর মধ্যেই স্বাদ ছাড়িয়ে আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—চা পান। স্বাদে তৃপ্তি দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক ধরনের চা নিয়মিত পান করলে চুলের গঠন মজবুত হয়, উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং সামগ্রিকভাবে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত হয়। আজকের জানব, কীভাবে চা হতে পারে আপনার চুলের যত্নে এক অনন্য প্রাকৃতিক সঙ্গী। চুলের বৃদ্ধিতে চায়ের ভূমিকা জীবন যতই এলোমেলো হোক, চুল যেন তেমন না হয়—এ চাওয়াই তো সবার। আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে প্রাচীন ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির দীর্ঘ যাত্রায় প্রকৃতির নিরাময় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এসেছে সার্বিক সুস্থতার জন্য। সেই ধারাবাহিকতায় সাধারণ চা ও হারবাল চা প্রাচীনকাল থেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আজকাল চুলের যত্নে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন হেয়ার গ্রোথের জন্য চা। সতেজ স্বাদের পাশাপাশি চা যে নানা স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর, তা তো জানা কথাই। তবে জানলে অবাক হবেন—সঠিক ধরনের চা আপনার স্ক্যাল্পকে রাখতে পারে সুস্থ এবং চুলকে করে তুলতে পারে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। চুলের বৃদ্ধিতে চা ব্যবহারের ইতিহাস ইতিহাসের পাতা উল্টালে কিংবা পৌরাণিক কাহিনির দিকে তাকালেই দেখা যাবে, চুলের যত্নে জবা (হিবিস্কাস) চা, নানা হারবাল চা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক চা ব্যবহারের উল্লেখ। সে সময় কেমিক্যালের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে, অথচ চুলের গুণমান ছিল আজকের তুলনায় অনেক ভালো। বিশেষ কিছু হারবাল চা ও প্রাকৃতিক চা চুলের গোড়া থেকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়। যেমন—নেটল চা, ব্লু ফ্লাওয়ার চা, হিবিস্কাস চা, গ্রিন টি, রোজমেরি চা, পেপারমিন্ট ইত্যাদি। এসব চা স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। কেউ এগুলো পানীয় হিসেবে উপভোগ করেন, আবার কেউ চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করেন। আমলকী চা: যাকে বিশ্বাস করতেন সাধু-সন্তরাও চুলের যত্নে আমলকীর ভূমিকা বরাবরই অনস্বীকার্য। দাদি-নানিদের ঘরোয়া টোটকায় সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চুলের কথা উঠলেই আমলকীর নাম যেন অবধারিত। আমলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চুলের যত্নে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে এসেছে। আমলকী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’তে ভরপুর। আর যখন এটি দিয়ে চা তৈরি করা হয়, তখন তা হয়ে ওঠে এক কাপ চুল-সঞ্জীবনী পানীয়। আমলকী চা চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, চুলের গোড়া শক্তিশালী করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে অকালপক্বতা বা অসময়ে চুল পাকা রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ক্যামোমাইল চা: চুলের জন্য গ্রিন টির বিশেষ উপকারিতা ক্যামোমাইল চা স্ক্যাল্পকে শান্ত করে এবং চুলের ফোলিকলগুলোকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। এটি চুলে পুষ্টি জোগাতে পারে এবং যদি আপনি এটি দিয়ে চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করেন, তবে চুল আরও উজ্জ্বল ও কোমল দেখাবে, সঙ্গে আকর্ষণীয় হালকা আভা বা লাইটনিং এফেক্টও আসতে পারে। পদ্ধতি খুবই সহজ—ক্যামোমাইল চা ফুটিয়ে নিন এবং কিছু সময় ঠান্ডা হতে দিন, যতক্ষণ না এটি রুম টেম্পারেচারে পৌঁছায়। এরপর চুল শ্যাম্পু করার পর এ চা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। অন্তত পাঁচ মিনিট রেখে দিন, তারপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নেটল চা: চুলের জন্য এক অনন্য সমাধান নেটল চা শুধু সার্বিক সুস্থতার জন্যই নয়, চুলের যত্নেও অসাধারণ উপকারী। এটি চুলের বৃদ্ধির জন্য যেন একটি শক্তিশালী সহায়ক স্তম্ভ এবং অধিকাংশ চুলের সমস্যার জন্য একক সমাধান হিসেবে পরিচিত। নেটল চা ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘কে’তে সমৃদ্ধ। এতে এমন উপাদান আছে, যা চুলকে গভীরভাবে পুষ্টি দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুলের বৃদ্ধি প্ররোচিত করে। এ ছাড়া, এতে সিলিকা ও আয়রনের মতো খনিজও বিদ্যমান, যা চুলের স্বাস্থ্য ও ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এ চা স্ক্যাল্প ও হরমোনাল সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করে, যা চুলের স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল হয় আরও শক্তিশালী, ঘন ও প্রাণবন্ত। গ্রিন টি: চুলের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভরপুর খোঁজ গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলে ভরপুর। এটি চুলের বৃদ্ধির জন্য এক চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে পরিচিত। গ্রিন টি চুলের ফোলিকলকে শক্তিশালী করতে সরাসরি সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেপারমিন্ট চা: স্ক্যাল্প ও মনকে ঠান্ডা রাখে চুলের বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য চায়ের মধ্যে পেপারমিন্ট চা বিশেষভাবে কার্যকর। এটি শরীর ও চুলের জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদানে ভরপুর। পেপারমিন্ট চা সরাসরি চুলের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে এবং স্ক্যাল্পকে সতেজ রাখে। ভৃংগরাজ চা: চুলের পুনর্জীবন ও স্বাস্থ্যবর্ধক চুলের যত্নে ভৃংগরাজকে বলা হয় ‘হের্বের রাজা’ বা সমস্ত উৎকৃষ্ট হের্বের উত্তরসূরি। এটি চুলকে পুনরুজ্জীবিত করতে ও স্বাস্থ্য বাড়াতে দারুণ। শুকনো ভৃংগরাজ পাতার চা আপনার চুলের রুটিনে যোগ করলে নতুন চুল গজানো এবং চুল পড়া কমানো সম্ভব। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের ঘনত্ব বাড়ে এবং স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে। মেথি চা: শুকনো চুলে জীবন সঞ্চার মেথি হলো রান্নাঘরের সাধারণ মসলার মধ্যে অন্যতম, কিন্তু চুলের যত্নেও এটি বিস্ময়কর। মেথি চা তৈরি করতে মেথি ভিজিয়ে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। এরপর এটি স্ক্যাল্পে ঢালুন। ধীরে ধীরে এটি স্ক্যাল্পকে আর্দ্রতা যোগ করে এবং অপ্রয়োজনীয় খসখসানি দূর করে। মেথি চা প্রোটিনে সমৃদ্ধ, যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে। ব্ল্যাক চা: চুলে নতুন রং ও উজ্জ্বলতা ব্ল্যাক চা অনেকের প্রিয় পানীয়। এতে থাকা ক্যাফেইন চুলের ফোলিকল ও ফ্ল্যাভনয়েড উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলে স্বাভাবিকভাবে আরও উজ্জ্বলতা ও ঘনত্ব আসে। ল্যাভেন্ডার চা: শান্তি ও পুষ্টির খোঁজ যারা মনে করেন ল্যাভেন্ডার চা শুধু আপনার সন্ধ্যায় স্নিগ্ধতা যোগ করতে পারে, তাদের জন্য বলি—এটি অনেক বেশি। এই চা শান্তিদায়ক উপাদানে ভরপুর, যা স্ট্রেস কমাতে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি চুলের বৃদ্ধিও উৎসাহিত করতে পারে। ল্যাভেন্ডার চা ব্যবহার করতে চাইলে চা ফুটিয়ে ছাঁকনি দিয়ে ঝরিয়ে নিন এবং চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করুন। চায়ের সুগন্ধ ও উপাদান চুলকে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সাহায্য করে, চুলকে করে সুস্থ ও প্রাণবন্ত। হিবিস্কাস চা: ফুলের চা ও ট্রপিক্যাল উপহার হিবিস্কাস চা চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত। দাদি-নানির ঘরোয়া টোটকায় হিবিস্কাস বা জবা ফুল প্রায় সর্বদা চুলের যত্নের অংশ ছিল। হিবিস্কাস চা তৈরি করা হয় শুকনো পাপড়ি দিয়ে, তবে কেউ কেউ তাজা পাপড়ি ব্যবহার করতেও পছন্দ করেন। হিবিস্কাস চা অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ। এটি চুলকে সম্পূর্ণভাবে পুষ্টি দেয়, চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুলকে ঘন, মসৃণ ও ঝলমলে রাখে। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই চা অকালপক্ব চুলের ধূসরতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্ক্যাল্পকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল সামলানো সহজ হয় এবং চুল সর্বোপরি সুস্থ ও উজ্জ্বল থাকে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

রিমান্ড শেষে কারাগারে ঢাবির সেই শিক্ষক

ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষকদের বদলিতে নতুন নীতিমালা, সর্বোচ্চ সুযোগ তিনবার

ছবি : সংগৃহীত

টিউলিপের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট ঘুষের অভিযোগ, ২৮ জুন শুনানি

0 Comments