আন্তর্জাতিক

নিরাপত্তার শঙ্কায় জনসম্মুখ এড়িয়ে চলেন ট্রাম্পের ছোট ছেলে

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প তার জীবনের তৃতীয় দশকে পা দেওয়ার পর থেকেই চরম নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থেকে একপ্রকার আত্মগোপনে জীবনযাপন করছেন। বাবার ওপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার পর উদ্ভূত রাজনৈতিক সহিংসতার আবহাওয়াই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের। 

 

এরই মধ্যে সম্প্রতি ইরানের কাছ থেকেও হুমকি পেয়েছেন ব্যারন ট্রাম্প। 

 

এমতাবস্থায় নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করা ২০ বছর বয়সি ব্যারনকে নিয়ে পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, ‘সে একদমই বাইরে বের হয় না।’ গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

 

২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত তিনটি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। মার্কিন শত্রুদের নজর থেকে রক্ষা পাননি তার ছোট ছেলেও। 

 

সম্প্রতি এক ইরানি গোষ্ঠী ‘কোথায় পাওয়া যাবে ব্যারন ট্রাম্পকে’ শীর্ষক একটি ভিডিও প্রকাশ করে এবং তার মাথার ওপর ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করে। কেবল ব্যারনই নন, লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকেও। 

 

এ ছাড়া, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল পরিবেশকর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডে ব্যারন গভীরভাবে মানসিক আঘাত পান, যার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জানা যায়, বাবার কাছে এই ঘটনার খবর পৌঁছে দেওয়ার সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘বাইরে পা রাখলে ঠিক এটাই ঘটে’। 

 

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলানিয়া ট্রাম্পের দপ্তর তাই ব্যারনকে নিয়ে যে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য বা সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে। 

 

মেলানিয়া সবসময়ই ছেলেকে নিয়ে অত্যন্ত সুরক্ষাশীল। ২০২২ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হলে ১৬ বছর বয়সে ব্যারনের সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা হারানোর কথা ছিল। কিন্তু মেলানিয়ার অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই নিরাপত্তার মেয়াদ বাড়িয়ে দেন।

 

ব্যারনের এই আত্মগোপন বা ঘরের মধ্যে থাকার সিদ্ধান্তকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞ সাইকোথেরাপিস্ট ড. আজিতা সায়ানের মতে, ‘একাকী থাকা মানেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া নয়। ব্যারন নিজেকে সুরক্ষিত রাখছেন এবং লোকদেখানো জীবন এড়িয়ে চলছেন, যা এই বয়সে অত্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচায়ক।’ 

 

ট্রাম্প পরিবারের অন্যান্য সন্তান—ডন জুনিয়র, এরিক, ইভানকা কিংবা টিফানি সবাই কমবেশি রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমক্ষে নিয়মিত আসেন। তবে ব্যারন চলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে।

 

উচ্চতায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা ব্যারনের জন্য হোয়াইট হাউসে নিজস্ব কাস্টমাইজড আসবাবপত্র সংবলিত ঘর থেকে শুরু করে ট্রাম্প টাওয়ারের আলাদা ফ্লোর ও মার-আ-লাগোতে নিজস্ব স্যুট রয়েছে। যেখানেই যান না কেন, গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি নিজের ব্যক্তিগত কক্ষে চলে যান তিনি।

 

রাজনীতির চেয়ে ব্যবসার দিকেই ব্যারনের বেশি আগ্রহ। ইতোমধ্যে হাইস্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে হার্বাল এনার্জি ড্রিংকস ব্যবসা ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ শুরু করলেও, কোনো প্রচারণায় তিনি সামনে আসেন না। 

 

গত ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বুলেটপ্রুফ কাঁচের পেছন থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করতে দেখা গিয়েছিল ফুটবলপ্রেমী ব্যারন ট্রাম্পকে। জনসমক্ষে সেটাই ছিল তার শেষ উপস্থিতি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মধ্যপ্রাচ্যে ২৫ হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবস্থা পাঠাল পেন্টাগন

২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের জন্য ২৫ হাজারের বেশি চালকবিহীন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।   বুধবার এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, পাঠানো সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৩০০টির বেশি একমুখী হামলায় ব্যবহারের ড্রোন, ১০০টির বেশি চালকবিহীন সামুদ্রিক ব্যবস্থা এবং ২৪ হাজারের বেশি ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা। এসব সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আওতাধীন বাহিনীর জন্য পাঠানো হয়েছে।   পেন্টাগন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং তুলনামূলক কম খরচে সামরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা পাঠানো অব্যাহত থাকবে।   ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ ঘোষণা এল। এর আগে বুধবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বিমান আরসি-১৩৫ইউ কমব্যাট সেন্ট আটলান্টিক পেরিয়ে ইউরোপের দিকে গেছে। ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই বিমান চলাচল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি মঙ্গলবার নেব্রাস্কার অফুট বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা করে নিউ হ্যাম্পশায়ারের পিস বিমানঘাঁটিতে থামে। বুধবার সেখান থেকে পূর্ব দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে।   আরসি-১৩৫ইউ বিমান উন্নত ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে সামরিক রাডারব্যবস্থা শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করতে এটি সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কাছে এ ধরনের মাত্র দুটি বিমান রয়েছে।   তবে বিমানটির শেষ গন্তব্য কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে অবস্থিত কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এর সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার আশা ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি

খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যয়েই আয়ের প্রায় অর্ধেক খরচ করছেন মার্কিনরা

প্রতীকী ছবি

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল সোনার দর

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করলেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের আসল কারণ সবার কাছেই অত্যন্ত স্পষ্ট, আর তা হলো ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাত।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হওয়া এই নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। এই ফলাফলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে জেডি ভ্যান্স নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।   বিবৃতিতে ভ্যান্স লিখেছেন, আমরা কেন হেরেছি তা প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট। আমাদের পরাজয়ের মূল কারণ হলো এই যুদ্ধ, যা প্রেসিডেন্ট নিজেও স্বীকার করেছেন। কেউ যদি যুক্তি দিতে চান যে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং এই ক্ষতি মেনে নেওয়া যৌক্তিক ছিল, তবে তারা তা বলতে পারেন। অন্তত সেই স্বীকারোক্তিটা সৎ হবে। কারণ কেন আমাদের হারতে হয়েছে তা সবাই জানে এবং আমাদের পরবর্তী পথচলা নিয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা এখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলের সাথে যুক্ত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন, ভ্যান্স শুরু থেকেই সে বিষয়ে কিছুটা অনিচ্ছুক ও দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন বলে জানা যায়। অথচ একসময় তেহরানের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও চুক্তিভিত্তিক আলোচনার অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন তিনি নিজেই।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে নিজেকে এগিয়ে রাখার কৌশল হিসেবেই ভ্যান্স এখন এই অপ্রিয় ও বিতর্কিত যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পথ বেছে নিচ্ছেন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ভোটের মাঠে, মানলেন ট্রাম্প

জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান

ফাইল ছবি

‘আমার সঙ্গে বিরোধে জড়ালে পরিণতি ভোগ করতে হবে’, হুঁশিয়ারি মাস্কের

সংগৃহীত ছবি
এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতেই বুলেট ট্রেন তৈরি করছে ভারত

উচ্চগতির রেল যোগাযোগের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ভারত। দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেনের নির্মাণকাজ চলছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেডে (বিইএমএল)। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরে চলাচলের জন্য তৈরি হচ্ছে ট্রেনটি।   রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনটির নকশা করা হয়েছে। এতে দেশীয় প্রকৌশল প্রযুক্তির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   আটটি কোচের ট্রেনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০২ মিটার। পরীক্ষামূলকভাবে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের সময় এর গতি থাকবে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার। ট্রেনটিতে একসঙ্গে ৫৫৭ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের জন্য দুটি নির্ধারিত জায়গা থাকবে।   ট্রেনটির আটটি কোচের মধ্যে চারটি মোটরচালিত এবং চারটি ট্রেলার কোচ। সাতটি কোচে থাকবে সাধারণ শ্রেণির আসন, যেখানে ৩×২ বিন্যাসে যাত্রীরা বসতে পারবেন। অন্য একটি কোচে থাকবে নির্বাহী শ্রেণির আসন, যার বিন্যাস হবে ২×২।   ট্রেনের দুই প্রান্তে চালকের কেবিন থাকবে। সেখানে থাকবে বুদ্ধিমান অনবোর্ড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। এর মাধ্যমে চালক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজনে দুটি আট কোচের ট্রেন জুড়ে ১৬ কোচের ট্রেন হিসেবেও চালানো যাবে।   যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে আসনগুলো। ভারতীয়দের শারীরিক গড়ন বিবেচনায় নিয়ে আসনগুলোর নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া থাকবে এলইডি বাতি, মাথার ওপর মালপত্র রাখার তাক, অতিরিক্ত লাগেজ রাখার জায়গা এবং ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুতের সংযোগ।   ট্রেনটির বড় জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি কোচগুলোর মধ্যে সংযোগপথ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারেন।   এতে থাকবে বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট, ওয়াই-ফাইভিত্তিক বিনোদনব্যবস্থা এবং এলসিডি পর্দায় যাত্রীদের জন্য তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা। ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় এসব তথ্য পাওয়া যাবে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা। জরুরি প্রয়োজনে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ টক-ব্যাক ইউনিট।   প্রতিবন্ধী ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে ট্রেনটির নকশায়। প্ল্যাটফর্মের উচ্চতার সঙ্গে কোচের মেঝের উচ্চতা সমন্বয় করে সহজে ওঠানামার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে থাকবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে এমন সিঁড়ি।   হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের উপযোগী দরজা, নির্ধারিত আসন ও টয়লেটের পাশাপাশি ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশনাও থাকবে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাত্রীরাও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বুঝতে পারবেন।   প্রতিটি কোচে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি করে হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) ইউনিট থাকবে। শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা, শব্দ কমানোর বিশেষ আবরণ, বগির কাভার ও অ্যারোডাইনামিক নকশা ট্রেনের শব্দ ও কম্পন কমাতে সহায়তা করবে।   ট্রেনটিতে ব্যবহার করা হবে ২৫ কিলোভোল্ট, ৫০ হার্টজের একক-ফেজ এসি বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থা। এর পুনরুৎপাদনমূলক ব্রেকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরুদ্ধার করে আবার বিদ্যুৎব্যবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার আরও সাশ্রয়ী হবে।   ট্রেনটির গতিবেগ ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ জন্য কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডাইনামিকস (সিএফডি) সিমুলেশনের মাধ্যমে ট্রেনের সামনের অংশ ও মূল কাঠামোর নকশা উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে বাতাসের বাধা ও ঘূর্ণি কমবে। পাশাপাশি টানেলের ভেতরে বায়ুচাপের আকস্মিক পরিবর্তন এবং শব্দের বিস্ফোরণধর্মী প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে।   বিশেষভাবে তৈরি ছাদের প্যানেল, বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রাংশ এবং বাইরের কাঠামোর নকশা বাতাসের প্রবাহ আরও উন্নত করবে। এতে উচ্চগতিতে এবং টানেলের ভেতর চলাচলের সময়ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকবে।   প্রকল্পটি উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: গালফ নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতি: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবে ভারি বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস: টর্নেডোর আশঙ্কা

0 Comments