ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আবারও বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। এমন পরিস্থিতিতে মহাসড়কে অতিরিক্ত ভীড় নিয়ন্ত্রণ, চালকদের ক্লান্তি কমানো এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই যানবাহন, অনিরাপদ চালনা এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর টেকসই ও সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় ছুটির সময়ে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণগুলো আমাদের সবারই জানা। তারপরও কার্যকর প্রয়োগ, জবাবদিহি এবং পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।’
প্রতিটি বড় ছুটিতে কোটি মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্যে ছোটেন বলে পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। এসময় যানবাহনে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী ওঠে এবং চালকরা টানা পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মহাসড়কে অনুমোদনহীন যান চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. মাহবুব তালুকদার। যথাযথ অনুমোদন ও প্রশিক্ষিত চালক ছাড়াই দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী সিটি বাসগুলো তার মধ্যে অন্যতম।
নসিমন ও করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনকে প্রধান সড়ক থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এই সড়ক বিশেষজ্ঞের মতে, ঈদযাত্রার সময় অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন যেন মহাসড়কে চলতে না পারে, সেটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, দেশের সড়ক অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশপাশি দক্ষ চালক তৈরি, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নজরদারি জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
এ বছর সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগের একটি হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি।
তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক তরুণ চালক লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া দীর্ঘপথে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করছেন। অথচ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার বড় অংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট।
অধ্যাপক মাহবুব আলম সতর্ক করে আরও বলেন, যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ছুটির মৌসুমে বাণিজ্যিক যানবাহনের চালকদের একটানা ও দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালাতে হয়। এতে তাদের ক্লান্তি বাড়ে এবং সড়ক নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে।
তার ভাষায়, ‘এ অবস্থায় ক্লান্তি, অতিরিক্ত গতি কিংবা অনিরাপদ গাড়ি চালনা এড়ানো অনেকটাই অসম্ভব হয়ে ওঠে।’
এজন্যই তিনি নির্ধারিত ঈদ রুটে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিসীমা আরোপসহ কঠোর গতি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন।
পাশাপাশি সড়কের নকশা, যানজটের ধরন ও জনঘনত্ব বিবেচনায় বৈজ্ঞানিক ট্রাফিক পরিকল্পনার ওপরও জোর দেন।
বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ঈদের সময়ে অনিরাপদ বাণিজ্যিক পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস এবং প্রশিক্ষিত চালকসহ সব ধরনের সরকারি গণপরিবহন এখনই কাজে লাগানো উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিবহন, স্থানীয় সরকার, বাণিজ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান অধ্যাপক তালুকদার।
তার মতে, ঈদের সময় বিপুল পরিমাণ যানবাহনের চাপ শুধু পুলিশের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে এনজিওগুলোর প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োজিত করার পরামর্শ দেন।
নিরাপদ সড়ক চাই-এর মহাসচিব লিটন আরশাদও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রার ঘরমুখী মানুষের ঢলে সমন্বয় ও বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
মহাসড়কগুলোতে বিপুল যানচলাচল সামলাতে হাইওয়ে পুলিশের বাড়তি জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার।
আরশাদ বলেন, ছুটির মৌসুমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অপরিহার্য। অথচ ঈদের সময় ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রকাশ্যেই চলাচল করে। আবার বাড়তি উপার্জনের আশায় অনেক চালক কোনো বিশ্রাম ছাড়াই দীর্ঘ সময় গাড়ি চালান।
তিনি বলেন, পেশাদার চালক প্রশিক্ষণ ও কঠোর গতিনিয়ন্ত্রণ নিয়ে বহুদিন ধরে সুপারিশ থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।
দূরপাল্লার যাত্রায় মোটরসাইকেল এমনকি ট্রাক ব্যবহারের প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলছেন নিরাপদ সড়ক চাই-এর মহাসচিব।
আরশাদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির ৫১ থেকে ৫৩ শতাংশের ক্ষেত্রেই মোটরসাইকেলই দায়ী।
অবকাঠামোর বিপজ্জনক ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নকশা না থাকায় অনেক স্থানে ফিডার রোড সরাসরি মহাসড়কে মিশেছে। এসব স্থানে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আরশাদ বলেন, মৃত্যুহার কমাতে সঠিক ‘ব্যবস্থাপনা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ঈদের অতিরিক্ত যাত্রাচাপ সামাল দিতে বিআরটিসিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত চালকদের সাময়িকভাবে বেসরকারি পরিবহন খাতে নিয়োগ দেওয়ারও প্রস্তাব দেন।
একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করে যথাযথ আইন প্রণয়নেরও পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের টেকসই অঙ্গীকার ও সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে প্রভাব ও নিয়মভঙ্গের সংস্কৃতি সড়ক নিরাপত্তা প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
গত তিন বছরের তথ্য বলছে, শুধু ঈদ মৌসুমেই ৪শ’ থেকে ৫শ’ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতেই স্পষ্ট হয়, শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই।
এ পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঈদযাত্রায় যানজট কমাতে ও নিয়ম বাস্তবায়নে ঢাকাজুড়ে ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের যত্রতত্র ওঠানামা বন্ধে পরিবহন মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে মোতায়েন থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, গোয়েন্দা সদস্য ও হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা।
ভ্রমণের চাপ কমাতে সরকার পোশাক কারখানা মালিকদেরও তিনদিনে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের যাত্রাকালে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩৫১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, শুধু মার্চ মাসেই সারা দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের নির্দেশনা চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারায় চেয়ারম্যান পদের জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না থাকায় ওই বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রুলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারার অধীনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রাম আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গ্রাম আদালতে তিনি তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। অথচ একই ধরনের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে স্নাতক সম্পন্ন করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। তিনি আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত না থাকায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। জনস্বার্থে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্তে ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২১ জুলাই মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, খসড়া তালিকায় ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিপোর্টের খসড়া সম্পর্কে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা চাই কোনো আসামি যাতে বাদ না থাকে এবং নির্দোষ কাউকে যেন আসামি করা না হয়। আশা করি, ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে। ব্রিফিংয়ে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি নিহতের তথ্য অনেক মিসিং রয়েছে। যেহেতু তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে শাপলার শহিদদের লাশ গুম করার অপচেষ্টা হয়েছে, সেহেতু এই তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের কোনো তথ্য নেই। অথেন্টিকভাবে যাদের তথ্য আমাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল, নিহত ৬১ জনের তথ্য তাদেরই। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ ছাড়াও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহারসহ দলটির একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রোববার সকালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি হাতে পায় প্রসিকিউশন। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে এতে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর। সেই সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ ও র্যাব প্রধানসহ ডিএমপি কমিশনারকেও এতে আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দীন রোড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় আনোয়ারুল হক (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে জসিমউদ্দীন রোডের ইউ-টার্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আনোয়ারুল হককে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত আড়াইটার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আনোয়ারুল হকের বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার ঘোরাদহ গ্রামে। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। নিহতের ভাতিজা মো. পরশ জানান, গ্যারেজে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আনোয়ারুল হক রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক পেছন দিক থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।