সর্বশেষ

নিরাপদ ঈদযাত্রায় কঠোর গতিনিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের বিশ্রামে জোর বিশেষজ্ঞদের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আবারও বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। এমন পরিস্থিতিতে মহাসড়কে অতিরিক্ত ভীড় নিয়ন্ত্রণ, চালকদের ক্লান্তি কমানো এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই যানবাহন, অনিরাপদ চালনা এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর টেকসই ও সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় ছুটির সময়ে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণগুলো আমাদের সবারই জানা। তারপরও কার্যকর প্রয়োগ, জবাবদিহি এবং পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।’

প্রতিটি বড় ছুটিতে কোটি মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্যে ছোটেন বলে পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। এসময় যানবাহনে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী ওঠে এবং চালকরা টানা পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মহাসড়কে অনুমোদনহীন যান চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. মাহবুব তালুকদার। যথাযথ অনুমোদন ও প্রশিক্ষিত চালক ছাড়াই দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী সিটি বাসগুলো তার মধ্যে অন্যতম।

নসিমন ও করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনকে প্রধান সড়ক থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এই সড়ক বিশেষজ্ঞের মতে, ঈদযাত্রার সময় অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন যেন মহাসড়কে চলতে না পারে, সেটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, দেশের সড়ক অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশপাশি দক্ষ চালক তৈরি, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নজরদারি জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এ বছর সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগের একটি হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি।
তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক তরুণ চালক লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া দীর্ঘপথে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করছেন। অথচ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার বড় অংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট।

অধ্যাপক মাহবুব আলম সতর্ক করে আরও বলেন, যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ছুটির মৌসুমে বাণিজ্যিক যানবাহনের চালকদের একটানা ও দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালাতে হয়। এতে তাদের ক্লান্তি বাড়ে এবং সড়ক নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে।

তার ভাষায়, ‘এ অবস্থায় ক্লান্তি, অতিরিক্ত গতি কিংবা অনিরাপদ গাড়ি চালনা এড়ানো অনেকটাই অসম্ভব হয়ে ওঠে।’

এজন্যই তিনি নির্ধারিত ঈদ রুটে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিসীমা আরোপসহ কঠোর গতি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন। 

পাশাপাশি সড়কের নকশা, যানজটের ধরন ও জনঘনত্ব বিবেচনায় বৈজ্ঞানিক ট্রাফিক পরিকল্পনার ওপরও জোর দেন।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ঈদের সময়ে অনিরাপদ বাণিজ্যিক পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস এবং প্রশিক্ষিত চালকসহ সব ধরনের সরকারি গণপরিবহন এখনই কাজে লাগানো উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিবহন, স্থানীয় সরকার, বাণিজ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান অধ্যাপক তালুকদার।

তার মতে, ঈদের সময় বিপুল পরিমাণ যানবাহনের চাপ শুধু পুলিশের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে এনজিওগুলোর প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োজিত করার পরামর্শ দেন।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর মহাসচিব লিটন আরশাদও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।  

তিনি বলেন, ঈদযাত্রার ঘরমুখী মানুষের ঢলে সমন্বয় ও বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
মহাসড়কগুলোতে বিপুল যানচলাচল সামলাতে হাইওয়ে পুলিশের বাড়তি জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার।

আরশাদ বলেন, ছুটির মৌসুমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অপরিহার্য। অথচ ঈদের সময় ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রকাশ্যেই চলাচল করে। আবার বাড়তি উপার্জনের আশায় অনেক চালক কোনো বিশ্রাম ছাড়াই দীর্ঘ সময় গাড়ি চালান।

তিনি বলেন, পেশাদার চালক প্রশিক্ষণ ও কঠোর গতিনিয়ন্ত্রণ নিয়ে বহুদিন ধরে সুপারিশ থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

দূরপাল্লার যাত্রায় মোটরসাইকেল এমনকি ট্রাক ব্যবহারের প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলছেন নিরাপদ সড়ক চাই-এর মহাসচিব। 

আরশাদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির ৫১ থেকে ৫৩ শতাংশের ক্ষেত্রেই মোটরসাইকেলই দায়ী।

অবকাঠামোর বিপজ্জনক ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নকশা না থাকায় অনেক স্থানে ফিডার রোড সরাসরি মহাসড়কে মিশেছে। এসব স্থানে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আরশাদ বলেন, মৃত্যুহার কমাতে সঠিক ‘ব্যবস্থাপনা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি ঈদের অতিরিক্ত যাত্রাচাপ সামাল দিতে বিআরটিসিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত চালকদের সাময়িকভাবে বেসরকারি পরিবহন খাতে নিয়োগ দেওয়ারও প্রস্তাব দেন।

একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করে যথাযথ আইন প্রণয়নেরও পরামর্শ দেন।  

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের টেকসই অঙ্গীকার ও সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে প্রভাব ও নিয়মভঙ্গের সংস্কৃতি সড়ক নিরাপত্তা প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

গত তিন বছরের তথ্য বলছে, শুধু ঈদ মৌসুমেই ৪শ’ থেকে ৫শ’ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতেই স্পষ্ট হয়, শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

এ পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঈদযাত্রায় যানজট কমাতে ও নিয়ম বাস্তবায়নে ঢাকাজুড়ে ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। 

মন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের যত্রতত্র ওঠানামা বন্ধে পরিবহন মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে মোতায়েন থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, গোয়েন্দা সদস্য ও হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা।

ভ্রমণের চাপ কমাতে সরকার পোশাক কারখানা মালিকদেরও তিনদিনে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের যাত্রাকালে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩৫১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, শুধু মার্চ মাসেই সারা দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
নিরাপদ ঈদযাত্রায় কঠোর গতিনিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের বিশ্রামে জোর বিশেষজ্ঞদের

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আবারও বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। এমন পরিস্থিতিতে মহাসড়কে অতিরিক্ত ভীড় নিয়ন্ত্রণ, চালকদের ক্লান্তি কমানো এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই যানবাহন, অনিরাপদ চালনা এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর টেকসই ও সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় ছুটির সময়ে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণগুলো আমাদের সবারই জানা। তারপরও কার্যকর প্রয়োগ, জবাবদিহি এবং পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।’ প্রতিটি বড় ছুটিতে কোটি মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্যে ছোটেন বলে পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। এসময় যানবাহনে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী ওঠে এবং চালকরা টানা পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। মহাসড়কে অনুমোদনহীন যান চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. মাহবুব তালুকদার। যথাযথ অনুমোদন ও প্রশিক্ষিত চালক ছাড়াই দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী সিটি বাসগুলো তার মধ্যে অন্যতম। নসিমন ও করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনকে প্রধান সড়ক থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এই সড়ক বিশেষজ্ঞের মতে, ঈদযাত্রার সময় অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন যেন মহাসড়কে চলতে না পারে, সেটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, দেশের সড়ক অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশপাশি দক্ষ চালক তৈরি, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নজরদারি জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এ বছর সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগের একটি হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক তরুণ চালক লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া দীর্ঘপথে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করছেন। অথচ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার বড় অংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। অধ্যাপক মাহবুব আলম সতর্ক করে আরও বলেন, যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ছুটির মৌসুমে বাণিজ্যিক যানবাহনের চালকদের একটানা ও দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালাতে হয়। এতে তাদের ক্লান্তি বাড়ে এবং সড়ক নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে। তার ভাষায়, ‘এ অবস্থায় ক্লান্তি, অতিরিক্ত গতি কিংবা অনিরাপদ গাড়ি চালনা এড়ানো অনেকটাই অসম্ভব হয়ে ওঠে।’ এজন্যই তিনি নির্ধারিত ঈদ রুটে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিসীমা আরোপসহ কঠোর গতি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন।  পাশাপাশি সড়কের নকশা, যানজটের ধরন ও জনঘনত্ব বিবেচনায় বৈজ্ঞানিক ট্রাফিক পরিকল্পনার ওপরও জোর দেন। বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ঈদের সময়ে অনিরাপদ বাণিজ্যিক পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস এবং প্রশিক্ষিত চালকসহ সব ধরনের সরকারি গণপরিবহন এখনই কাজে লাগানো উচিত। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিবহন, স্থানীয় সরকার, বাণিজ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান অধ্যাপক তালুকদার। তার মতে, ঈদের সময় বিপুল পরিমাণ যানবাহনের চাপ শুধু পুলিশের পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে এনজিওগুলোর প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োজিত করার পরামর্শ দেন। নিরাপদ সড়ক চাই-এর মহাসচিব লিটন আরশাদও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   তিনি বলেন, ঈদযাত্রার ঘরমুখী মানুষের ঢলে সমন্বয় ও বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। মহাসড়কগুলোতে বিপুল যানচলাচল সামলাতে হাইওয়ে পুলিশের বাড়তি জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার। আরশাদ বলেন, ছুটির মৌসুমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অপরিহার্য। অথচ ঈদের সময় ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রকাশ্যেই চলাচল করে। আবার বাড়তি উপার্জনের আশায় অনেক চালক কোনো বিশ্রাম ছাড়াই দীর্ঘ সময় গাড়ি চালান। তিনি বলেন, পেশাদার চালক প্রশিক্ষণ ও কঠোর গতিনিয়ন্ত্রণ নিয়ে বহুদিন ধরে সুপারিশ থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। দূরপাল্লার যাত্রায় মোটরসাইকেল এমনকি ট্রাক ব্যবহারের প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলছেন নিরাপদ সড়ক চাই-এর মহাসচিব।  আরশাদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির ৫১ থেকে ৫৩ শতাংশের ক্ষেত্রেই মোটরসাইকেলই দায়ী। অবকাঠামোর বিপজ্জনক ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নকশা না থাকায় অনেক স্থানে ফিডার রোড সরাসরি মহাসড়কে মিশেছে। এসব স্থানে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আরশাদ বলেন, মৃত্যুহার কমাতে সঠিক ‘ব্যবস্থাপনা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  তিনি ঈদের অতিরিক্ত যাত্রাচাপ সামাল দিতে বিআরটিসিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত চালকদের সাময়িকভাবে বেসরকারি পরিবহন খাতে নিয়োগ দেওয়ারও প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করে যথাযথ আইন প্রণয়নেরও পরামর্শ দেন।   তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের টেকসই অঙ্গীকার ও সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে প্রভাব ও নিয়মভঙ্গের সংস্কৃতি সড়ক নিরাপত্তা প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ গত তিন বছরের তথ্য বলছে, শুধু ঈদ মৌসুমেই ৪শ’ থেকে ৫শ’ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতেই স্পষ্ট হয়, শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই। এ পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঈদযাত্রায় যানজট কমাতে ও নিয়ম বাস্তবায়নে ঢাকাজুড়ে ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।  মন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের যত্রতত্র ওঠানামা বন্ধে পরিবহন মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে মোতায়েন থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, গোয়েন্দা সদস্য ও হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা। ভ্রমণের চাপ কমাতে সরকার পোশাক কারখানা মালিকদেরও তিনদিনে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের যাত্রাকালে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩৫১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, শুধু মার্চ মাসেই সারা দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৮, ২০২৬

ডা. নাসিরকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক

ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশ থেকে ৪ সেক্টরে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার

ছবি : সংগৃহীত

বিমানের কাছে ১০ উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব এয়ারবাসের

ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীতে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক জামায়াতে ইসলামী নেতার বাড়ি থেকে সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে।   শনিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে ইমান আলী বাজার সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা চাল জব্দ করা হয় বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান।   যার বাড়ি থেকে চাল জব্দ করা হয়েছে তার নাম আবদুস সামাদ। তিনি উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির।   স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে আবদুস সামাদের বাড়িতে সরকারি চাল মজুদ করে রাখা হয়। চালগুলো তিনি লোকজনের কাছে অধিক মূল্যে বিক্রি করছিলেন।   বিষয়টি টের পেয়ে লোকজন সেই বাড়িতে যান। তখন তারা দেখতে পান, একটি কক্ষে সরকারি চালের বস্তা মজুদ আছে। পরে উত্তেজিত লোকজন বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও চরজব্বার থানায় অবহিত করেন।   দুপুরের দিকে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। তার আগেই জামায়াত নেতা আবদুস সামাদ গা ঢাকা দেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।   পরে আবদুস সামাদের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এসব চাল তিনি রামগতির একটি মাদ্রাসা থেকে কিনেছেন।   সুবর্ণচরের ইউএনও আকিব ওসমান বলেন, “স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পাঠানো হয়। আবদুস সামাদের বাড়িতে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল পাওয়া গেছে। আপাতত চালগুলো প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে।   অভিযুক্ত ব্যক্তি যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে পারলে তার চাল ফেরত দেওয়া হবে, না হয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে লন্ডনে কামিল ইদ্রিসের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা বিএনপি মহাসচিবের

ছবি: সংগৃহীত

দাউদকান্দি সেতুতে কাভার্ড ভ্যান বিকল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

কৃষি উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি। ছবি : সংগৃহীত
বিয়ে ও পরকীয়া নিয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আবেগঘন পোস্ট

নারীর বৈবাহিক জীবন, মাতৃত্বকালীন সংগ্রাম এবং সম্পর্কের বিশ্বস্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় কৃষি উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি।   বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি বিয়ে ও পরকীয়া নিয়ে এক দীর্ঘ পোস্ট করেন। পোস্টে উম্মে কুলসুম পপি লেখেন, একটি পরিবারকে আগলে রাখা কিংবা সন্তান লালন-পালন কখনোই শুধু নারীর একার দায়িত্ব হতে পারে না। পোস্টে তিনি বর্তমান সমাজে বেড়ে যাওয়া পরকীয়া এবং এর ফলে নারীদের মানসিক বিপর্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন। পপির ভাষ্য, বিয়ের পর একজন নারীকে নিজের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতায় খাপ খাইয়ে নিতে হয়। নতুন সম্পর্ক ও পরিবেশে সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে অনেক নারী নিজের ভালো থাকা এবং ব্যক্তিসত্তাকে বিসর্জন দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। এ সময় একজন নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা বাইরের মানুষের পক্ষে পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন। পোস্টে পপি লিখেছেন, একজন মা নিজের স্বপ্ন ও জীবনের বড় একটি অংশ নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ করেই নতুন প্রাণের জন্ম দেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করার মধ্যেই কিছু পুরুষ ‘ভদ্র’ বা ‘পারফেক্ট স্বামী’র মুখোশ পরে আড়ালে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, পরকীয়া শুধু একটি ভুল নয়; এটি একজন মানুষের আত্মসম্মান ও ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাসকে ভেঙে দেয়। তিনি বলেন, বিশ্বস্ততা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং একটি সম্পর্কের মৌলিক দায়িত্ব। স্ট্যাটাসের শেষাংশে এই উদ্যোক্তা নারীর ত্যাগ ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সব পুরুষ এক রকম নন, তবে চারপাশে ঘটে যাওয়া বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪০ প্রার্থী

ছবি : সংগৃহীত

কার গাফিলতিতে মাঝ দরিয়ায় আটকে আছে বাংলার জয়যাত্রা?

ছবি: সংগৃহীত

এআই দিয়ে ট্রাফিক মনিটরিং, এক সপ্তাহে ৩০০’র বেশি মামলা

0 Comments