২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, সেখানে নতুন আরও চারটি বিষয় যুক্ত করা হবে।
সেগুলো হলো– আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা।
শিক্ষার্থীদেরকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দু'টি চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। আর মাধ্যমিক স্তরে পা রাখার পর, অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদেরকে 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা' এবং 'আনন্দময় শিক্ষা' বা 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' পড়তে হবে।
নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সোমবার (৮ জুন) বিকালে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
কী থাকবে এসব বিষয়ে
সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা — মানে কী, মূলত কী থাকবে এগুলোতে, কারা পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন, গণমাধ্যম কর্তৃক এসব জানতে চাওয়া হয় তাদের কাছে।
এসব প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় দু'টো নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, স্কুলে স্কুলে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা চালু থাকলেও এগুলোর কোনোটিই বর্তমান শিক্ষাক্রমের অংশ না এবং আগেও কখনও ছিল না।
কিন্তু ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সবসময় শিক্ষাক্রমে থাকা উচিৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সেজন্যই সরকার যত শীঘ্র সম্ভব এই বিষয় দু'টোকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত করবে। তবে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে সবগুলো বিষয় প্রথম দিন থেকেই কার্যকর করতে পারবে না সরকার।
তিনি বলেন, যেমন, আমরা প্রাথমিকে আটটি খেলা যুক্ত করতে চাই। কিন্তু একবারে এটি সম্ভব না। তাই, আমরা চেষ্টা করবো অন্তর দুই-তিনটি খেলাকে যোগ করতে।
অর্থাৎ, আপাতত ফুটবল, দাবাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বাকীগুলো পরে যোগ করা হবে। অবশ্য মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, ক্রিকেটকেও এখন থেকেই যুক্ত করা যেতে পারে।
সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাই। গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা্র মতো বিষয়গুলো থাকবে। তবে সংস্কৃতি বিষয়টিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, গান, নাচ, বক্তৃতা, পেইন্টিং, সাহিত্য ইত্যাদি থেকে শিক্ষার্থীরা বাছাই করতে পারবে যে সে কোনটি নিবে। পাইলটের পরে এগুলো পরিবর্তন হবে।
পারফরমেটিভ বলতে বোঝানো হচ্ছে যে শিক্ষার্থীরা কোনো শিল্প বা সাংস্কৃতিক কাজ সরাসরি পরিবেশন করবে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীকে অন্যদের সামনে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। আর এক্সপ্রেসিভে মঞ্চে পরিবেশনের চেয়ে নিজের ভাবনা বা অনুভূতি প্রকাশের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল বিষয় হলো সৃজনশীলভাবে নিজেকে প্রকাশ করা।
'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা' কী? জানতে চাইলে মাহ্দী আমিন বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে সমাজের চোখে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। এই ধারণা ভেঙ্গে আমরা এটিকে মূলধারার শিক্ষায় আনতে চাই। আমরা চাই, বাংলাদেশের সব স্কুলে যেন একটি করে কারিগরি ল্যাব থাকে।এতে করে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাটা সুনিশ্চিত করা যাবে বলে মত তার।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া একমাত্র পথ নয়। অনেক শিক্ষার্থী যদি স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন করে, তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং স্বাবলম্বী হতে পারবে।
লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কী?
এখন থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদেরকে 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা'র পাশাপাশি 'আনন্দময় শিক্ষা' বা 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' নামক বিষয়টিও পড়তে হবে।
কিন্তু যে কোনো শিক্ষাই তো আনন্দময় হওয়া উচিৎ। তাহলে 'আনন্দময় শিক্ষা' নামক আলাদা একটি বিষয় চালু করার কারণ কী? কী থাকবে এই বিষয়ে?
এ নিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের দুইটা দিক আছে। এক, এটা হলো পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ভ্যালু ও প্রিন্সিপ্যাল। যেভাবে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই, যে আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা হবে, উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস করবে।
অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চাইছেন যে 'আনন্দময় শিক্ষা' কেবল কোনো আলাদা বিষয় নয়। বরং, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তার একটি নীতি হলো এটি। শিক্ষার্থীরা যেন ভয় বা চাপ থেকে না, বরং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে আনন্দ নিয়ে পড়ে, শেখে। দুই, এই সাবজেক্টের মাধ্যমেই তারা নীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সুশিক্ষা শিখবে।
অর্থাৎ, এই বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণ, সততা, দায়িত্ববোধসহ বিভিন্ন জীবনদক্ষতা শেখানো হবে। তবে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বাস্তব জীবনে এগুলো কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, সেটিও শেখানো হবে এই বিষয়ে।
উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষার্থীদেরকে বৃক্ষরোপণের কথা বলা হয়। কিন্তু সাধারণত শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বৃক্ষরোপণ করতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বিষয়টির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে যে কী কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া, বিভিন্ন দিবস থাকে। যেমন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু এই দিবসের তাৎপর্য কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ বা আমরা মানবাধিকারের কথা বলি, কিন্তু কেন এই মানবাধিকার এত গুরুত্বপূর্ণ‒ এর প্রত্যেকটির ব্যবহার আমরা দেখাবো।
এসব বিষয় পড়ানোর জন্য সরকারের প্রস্তুতি
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি যুক্ত হবে এবং সেখানে দুই-তিনটি বিষয় শেখানো হবে। কিন্তু ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রম পুরোপুরিভাবে পরিবর্তন করবে সরকার।
এর আগে, সোমবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বল্প সময়ে শিক্ষাক্রম পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সে কারণে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
যদিও ২০২৮ সাল থেকে একেবারে সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে, নাকি ধাপে ধাপে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তবে এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয় দু'টো নিয়ে বলেন, ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যেসব নতুন বিষয় ও উদ্যোগ চালু করা হবে, সেগুলো মূলত পরীক্ষামূলক বা পাইলট পর্যায়ের অংশ। এসব কর্মসূচির সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ২০২৮ সালের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রমের কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে, নতুন বিষয়গুলো আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চালু হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষিত ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাই।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন বিষয় 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' পড়াবেন কারা? কীভাবে?
এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করা হবে। এটি যারা পড়াবেন, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এটি হবে সবচেয়ে বিশেষায়িত বিষয়গুলোর একটি। এজন্য বাছাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যমান শিক্ষকদের মাঝ থেকে শিক্ষক নির্বাচন করা হবে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' বিষয়ে শিক্ষকদের জন্য নির্দেশিকা এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে তারা সৃজনশীলভাবে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করতে পারেন। তবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়; তাই ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া, বাংলা ও ইংরেজির বাইরে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এজন্য শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার।এতে করে শিক্ষার্থীরা যেমন সমৃদ্ধ হবে, দেশে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে, বলছিলেন মাহদী আমিন।
উল্লেখ্য, নতুন যুক্ত হওয়া এসব বিষয়ে কোনো গ্রেড বা জিপিএ নির্ধারণ করা হবে না। শিক্ষার্থীদের কেবল পাশ বা ফেল হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, সেখানে নতুন আরও চারটি বিষয় যুক্ত করা হবে। সেগুলো হলো– আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। শিক্ষার্থীদেরকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দু'টি চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। আর মাধ্যমিক স্তরে পা রাখার পর, অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদেরকে 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা' এবং 'আনন্দময় শিক্ষা' বা 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' পড়তে হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সোমবার (৮ জুন) বিকালে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কী থাকবে এসব বিষয়ে সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা — মানে কী, মূলত কী থাকবে এগুলোতে, কারা পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন, গণমাধ্যম কর্তৃক এসব জানতে চাওয়া হয় তাদের কাছে। এসব প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় দু'টো নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, স্কুলে স্কুলে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা চালু থাকলেও এগুলোর কোনোটিই বর্তমান শিক্ষাক্রমের অংশ না এবং আগেও কখনও ছিল না। কিন্তু ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সবসময় শিক্ষাক্রমে থাকা উচিৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সেজন্যই সরকার যত শীঘ্র সম্ভব এই বিষয় দু'টোকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত করবে। তবে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে সবগুলো বিষয় প্রথম দিন থেকেই কার্যকর করতে পারবে না সরকার। তিনি বলেন, যেমন, আমরা প্রাথমিকে আটটি খেলা যুক্ত করতে চাই। কিন্তু একবারে এটি সম্ভব না। তাই, আমরা চেষ্টা করবো অন্তর দুই-তিনটি খেলাকে যোগ করতে। অর্থাৎ, আপাতত ফুটবল, দাবাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বাকীগুলো পরে যোগ করা হবে। অবশ্য মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, ক্রিকেটকেও এখন থেকেই যুক্ত করা যেতে পারে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাই। গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা্র মতো বিষয়গুলো থাকবে। তবে সংস্কৃতি বিষয়টিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১. পারফরমেটিভ। ২. এক্সপ্রেসিভ। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, গান, নাচ, বক্তৃতা, পেইন্টিং, সাহিত্য ইত্যাদি থেকে শিক্ষার্থীরা বাছাই করতে পারবে যে সে কোনটি নিবে। পাইলটের পরে এগুলো পরিবর্তন হবে। পারফরমেটিভ বলতে বোঝানো হচ্ছে যে শিক্ষার্থীরা কোনো শিল্প বা সাংস্কৃতিক কাজ সরাসরি পরিবেশন করবে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীকে অন্যদের সামনে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। আর এক্সপ্রেসিভে মঞ্চে পরিবেশনের চেয়ে নিজের ভাবনা বা অনুভূতি প্রকাশের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল বিষয় হলো সৃজনশীলভাবে নিজেকে প্রকাশ করা। 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা' কী? জানতে চাইলে মাহ্দী আমিন বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে সমাজের চোখে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। এই ধারণা ভেঙ্গে আমরা এটিকে মূলধারার শিক্ষায় আনতে চাই। আমরা চাই, বাংলাদেশের সব স্কুলে যেন একটি করে কারিগরি ল্যাব থাকে।এতে করে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাটা সুনিশ্চিত করা যাবে বলে মত তার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া একমাত্র পথ নয়। অনেক শিক্ষার্থী যদি স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন করে, তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং স্বাবলম্বী হতে পারবে। লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কী? এখন থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদেরকে 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা'র পাশাপাশি 'আনন্দময় শিক্ষা' বা 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' নামক বিষয়টিও পড়তে হবে। কিন্তু যে কোনো শিক্ষাই তো আনন্দময় হওয়া উচিৎ। তাহলে 'আনন্দময় শিক্ষা' নামক আলাদা একটি বিষয় চালু করার কারণ কী? কী থাকবে এই বিষয়ে? এ নিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের দুইটা দিক আছে। এক, এটা হলো পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ভ্যালু ও প্রিন্সিপ্যাল। যেভাবে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই, যে আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা হবে, উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস করবে। অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চাইছেন যে 'আনন্দময় শিক্ষা' কেবল কোনো আলাদা বিষয় নয়। বরং, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তার একটি নীতি হলো এটি। শিক্ষার্থীরা যেন ভয় বা চাপ থেকে না, বরং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে আনন্দ নিয়ে পড়ে, শেখে। দুই, এই সাবজেক্টের মাধ্যমেই তারা নীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সুশিক্ষা শিখবে। অর্থাৎ, এই বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক আচরণ, সততা, দায়িত্ববোধসহ বিভিন্ন জীবনদক্ষতা শেখানো হবে। তবে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বাস্তব জীবনে এগুলো কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, সেটিও শেখানো হবে এই বিষয়ে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষার্থীদেরকে বৃক্ষরোপণের কথা বলা হয়। কিন্তু সাধারণত শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বৃক্ষরোপণ করতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বিষয়টির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে যে কী কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে করতে হয়। তিনি আরও বলেন, এছাড়া, বিভিন্ন দিবস থাকে। যেমন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু এই দিবসের তাৎপর্য কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ বা আমরা মানবাধিকারের কথা বলি, কিন্তু কেন এই মানবাধিকার এত গুরুত্বপূর্ণ‒ এর প্রত্যেকটির ব্যবহার আমরা দেখাবো। এসব বিষয় পড়ানোর জন্য সরকারের প্রস্তুতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি যুক্ত হবে এবং সেখানে দুই-তিনটি বিষয় শেখানো হবে। কিন্তু ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রম পুরোপুরিভাবে পরিবর্তন করবে সরকার। এর আগে, সোমবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বল্প সময়ে শিক্ষাক্রম পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সে কারণে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। যদিও ২০২৮ সাল থেকে একেবারে সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে, নাকি ধাপে ধাপে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয় দু'টো নিয়ে বলেন, ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যেসব নতুন বিষয় ও উদ্যোগ চালু করা হবে, সেগুলো মূলত পরীক্ষামূলক বা পাইলট পর্যায়ের অংশ। এসব কর্মসূচির সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ২০২৮ সালের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রমের কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে, নতুন বিষয়গুলো আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চালু হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষিত ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন বিষয় 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' পড়াবেন কারা? কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করা হবে। এটি যারা পড়াবেন, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এটি হবে সবচেয়ে বিশেষায়িত বিষয়গুলোর একটি। এজন্য বাছাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যমান শিক্ষকদের মাঝ থেকে শিক্ষক নির্বাচন করা হবে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' বিষয়ে শিক্ষকদের জন্য নির্দেশিকা এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে তারা সৃজনশীলভাবে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করতে পারেন। তবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়; তাই ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, বাংলা ও ইংরেজির বাইরে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এজন্য শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার।এতে করে শিক্ষার্থীরা যেমন সমৃদ্ধ হবে, দেশে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে, বলছিলেন মাহদী আমিন। উল্লেখ্য, নতুন যুক্ত হওয়া এসব বিষয়ে কোনো গ্রেড বা জিপিএ নির্ধারণ করা হবে না। শিক্ষার্থীদের কেবল পাশ বা ফেল হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন। সোমবার (০৮ জুন) সচিবালয়ে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অন্যান্য আয়োজন বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছি। এটি পরিমার্জনের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী বছর ৪টি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, যেসব কলেজ অনার্স কোর্স চালানোর মতো উপযুক্ত না, সেসব বেসরকারি কলেজের ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদি কলেজগুলো কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে না পারে, তাহলে সেসব কলেজের অনার্স কোর্স হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অধ্যাপক ড. এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘অনার্স অধিভুক্তি এই মুহূর্তে বন্ধ আছে, ২০১৬ সালে পার্লামেন্টের একটা পার্লামেন্টারি কমিটির সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বন্ধ রয়েছে। আমরা সেটা এখনো চালু করিনি। অনার্স-মাস্টার্স খোলা থাকা সরকারি কলেজগুলার এক ধরনের বাস্তবতা, আর বেসরকারি কলেজগুলার এক ধরনের বাস্তবতা। জেলা ও ঢাকা শহরে অবস্থিত কলেজগুলোতে আরেক ধরনের বাস্তবতা রয়েছে। উপজেলা অথবা আরো প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেসব এলাকায় অনার্স কোর্স খোলা হয়েছে, সেখানে আরেক ধরনের বাস্তবতা। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কলেজগুলার র্যাংকিংয়ে হাত দিয়েছি এবং কলেজগুলো কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং অনার্স কোর্সগুলার আমরা একটা ইভালুয়েশন চলছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি মাঠ পর্যায়ের সমস্ত তথ্য আমাদের হাতে এসে পৌঁছে গেছে। প্রায় ৯০ শতাংশ তথ্য আমাদের হাতে এসে পৌঁছে গেছে। সেসব তথ্য আমরা ইভালুয়েট করছি। আমরা ইনসপেকশন করছি, যেসব কলেজ অনার্স কোর্স চালানোর মত উপযুক্ত না, বিশেষত বেসরকারি কলেজগুলোতে সেগুলার ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যদি তারা সেটাকে কোয়ালিটি এডুকেশন না দিতে পারে। তাহলে সেই সমস্ত কলেজগুলোতে অনার্স কোর্স হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।