সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬ তলা থেকে মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ চুরি হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দপ্তর রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির শাকিরুল ইসলামের কক্ষে পিএস ইমামুল হাফিজ প্রবেশ করেন। মাত্র পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখেন তার টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি নেই।
সূত্র জানায়, ওই সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এছাড়া কক্ষের বাইরে লোকসমাগমও ছিল। পরবর্তীতে তল্লাশি চালানো হলেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা যায়নি।
এদিকে নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কালো ব্যাগ নিয়ে দপ্তর থেকে বের হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগের মধ্যেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ছিল। এতে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিও থাকতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভবনের ১৬ তলায় শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা যায়। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, লিফট থেকে নেমেই নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই করিডোরে প্রবেশ করা যায়। ফলে দপ্তরগুলো কার্যত ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা উপস্থিত সবার ব্যাগ তল্লাশি করেছি। আমাদের জনবল খুবই সীমিত—মোট ২২ জন আনসার পুরো ভবনে দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তার তুলনায় জনবল কম। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬ তলা থেকে মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ চুরি হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দপ্তর রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির শাকিরুল ইসলামের কক্ষে পিএস ইমামুল হাফিজ প্রবেশ করেন। মাত্র পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখেন তার টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি নেই। সূত্র জানায়, ওই সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এছাড়া কক্ষের বাইরে লোকসমাগমও ছিল। পরবর্তীতে তল্লাশি চালানো হলেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা যায়নি। এদিকে নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কালো ব্যাগ নিয়ে দপ্তর থেকে বের হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগের মধ্যেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ছিল। এতে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিও থাকতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভবনের ১৬ তলায় শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা যায়। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা আরও বলেন, লিফট থেকে নেমেই নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই করিডোরে প্রবেশ করা যায়। ফলে দপ্তরগুলো কার্যত ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা উপস্থিত সবার ব্যাগ তল্লাশি করেছি। আমাদের জনবল খুবই সীমিত—মোট ২২ জন আনসার পুরো ভবনে দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তার তুলনায় জনবল কম। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারির একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
ঢাকার সাভারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে আটক করার পর দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে মারধর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আটক রফিকুল ইসলামকে নিয়ে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ৮টার দিকে সাভার পৌর এলাকার বেদেপল্লির কাঞ্চনপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হন- সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শামীম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান। তাদের প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে ধরতে সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা করেন এসআই শামীম ও এএসআই মশিউর রহমান। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তবে আটকের পরপরই রফিকুলের সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে- হামলাকারীরা কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও ইট দিয়ে আঘাত করে পুলিশ সদস্যদের আহত করে এবং তাদের হেফাজত থেকে রফিকুল ইসলামকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে আহত দুই কর্মকর্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের পাশাপাশি আরও ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি হামলায় অংশ নেন। স্থানীয়দের দাবি, রফিকুল ইসলাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত অধিকাংশ ব্যক্তিও একই চক্রের সদস্য। আহত এসআই এস এম শামীম বলেন, রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার সহযোগীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা সিভিল পোশাকে ছিলাম, তবে সঙ্গে পুলিশি সরঞ্জাম ও ওয়াকিটকি ছিল। হামলাকারীরা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত নুর মোহাম্মদ বলেন, আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আমাদের দুই কর্মকর্তা হামলার শিকার হয়েছেন। অনেক সময় সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা করতে হয়, কারণ ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় এসব আসামিকে আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যাকআপ টিম থাকায় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। হামলায় জড়িতদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যারা বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হন, পারিপার্শ্বিক নানা কারণে তাদের কাউকেই এ দেশের মূল অর্থনীতিতে বড় বিনিয়োগ করতে দেখা যায় না। অনেক বিলিয়নেয়ার হয়তো নিঃশব্দে দেশে আসেন, চেনা মানুষদের খোঁজ নেন, কেউ কেউ গোপনে বা প্রকাশ্যে বড় বড় দান-খয়রাতও করেন। দু-একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কেউ কেউ হয়তো আলোচনায় আসেন ঠিকই, কিন্তু এ দেশের বুকে তারা বড় কোনো শিল্প গড়েছেন বা মেগা বিনিয়োগ করেছেন, আহামরি এমন রেকর্ড আসলেই নেই। এই যেমন রবিন খুদা, অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী এবং হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টার জায়ান্ট ‘এয়ারট্রাঙ্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তার কোম্পানি আজ অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে। কিন্তু এত বড় তালিকায় বাংলাদেশের নামটা কোথাও নেই; এ দেশে তার কোনো দৃশ্যমান বিনিয়োগ নেই। অথচ তিনি এবার নতুন করে ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের ডাটা সেন্টার প্রকল্পে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের। এর অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিপুল অর্থ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করবে তার সংস্থা। রবিন খুদার এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে নরেন্দ্র মোদী নিজে এক্স-এ (টুইটার) উচ্ছ্বসিত বিবৃতি দিয়েছেন, দেশীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। ভদ্রলোকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কিন্তু আমাদের এই ঢাকা শহরেই। এখন বয়স মেরেকেটে ৪৭ কি ৪৮। মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হয়েছেন রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ স্কুল থেকে। ১৯৯৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন মিরপুরের এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে। এরপরই মূলত অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়তে তার অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমানো। জন্ম, শৈশব, বেড়ে ওঠা কিংবা প্রথম কৈশোরের সোনালি দিনগুলো—সব তো এই ঢাকায়ই কেটেছে। মানুষের জীবনের সবচেয়ে খাঁটি আর নিবিড় বন্ধুত্বগুলো তো তৈরি হয় ওই এসএসসি আর এইচএসসির দিনগুলোতেই। রবিন সাহেবেরও নিশ্চয়ই তেমন একঝাঁক বন্ধু আছে এই শহরে। ধমনিতে যেহেতু বাঙালি রক্ত, মাটির টানও তো থাকার কথা। খুব বেশি দিন তো হয়নি, ফেলে যাওয়া স্মৃতিগুলো তো তিনি নিশ্চয়ই ভুলে যাননি! তবুও রবিন সাহেব এই দেশে একটা টাকাও বিনিয়োগ করেননি। কেন করেননি? আসলে একটা চরম সত্য হলো—আবেগ আর বিজনেস বোধহয় কখনোই একসাথে চলে না। রবিন খুদাদের মাটির টান হয়তো আছে, কিন্তু এ দেশ আজ পর্যন্ত বিশ্বমানের কোনো বড় বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ, অবকাঠামো কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তৈরি করে দিতে পারেনি। তাই আবেগ আড়ালে পড়ে থাকে, আর কোটি কোটি ডলার চলে যায় অন্য কোনো দেশে।