সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পে-কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত পূর্ণ কমিশন সভায় গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তনের দাবি ওঠে। শেষ পর্যন্ত আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের হার নির্ধারণ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পুরো কাঠামো এখনো ঝুলে আছে।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেড সংখ্যায় কোনো হাত না দিয়েই বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে।
সভায় বেতন কাঠামোর পাশাপাশি পেনশন ও চিকিৎসা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার বিষয়ে আলোচনা হলেও মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন। এই অঙ্কটি চূড়ান্ত না হওয়ায় বাকি সব বিষয় আটকে আছে।
সূত্র বলছে, সর্বনিম্ন বেতনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না কমিশনের সদস্যরা। আগামী ২১ জানুয়ারি পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা হবে। এর আগে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে সর্বনিম্ন বেতন কত হবে, তার একটি সবুজ সংকেত নিতে পারেন।
তারও আগে বেতন-বৈষম্য কমাতে বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার কথা শোনা গিয়েছিল
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আগামী ১৮ জুন ২০২৬ থেকে সারা দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষায়িত উপজেলায় একযোগে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’র উদ্বোধনী কার্যক্রম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও সচিব কানিজ মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি মন্ত্রী জানান, গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ হতে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ ঐতিহাসিক ঘোষণাকে সফল ও সার্থক করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসমূহ সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য চলতি অর্থ বছরের বাজেট হতে দেশের প্রতিটি জেলা ও নির্দিষ্ট উপজেলায় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর বাংলা সাহিত্যে ও জাতীয় জীবনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদান ও দর্শনকে যথাযথভাবে ও মর্যাদার সাথে উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে নজরুলের চেতনা সবসময় আমাদের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম ও দর্শন প্রসারে অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কবি নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। সংবাদ সম্মেলনে ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে ২০২৬ হতে ২৫ মে ২০২৭) উদযাপনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গৃহীত মূল কর্মপরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরা হয়- ১. জাতীয় কমিটি গঠন: জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে নজরুল বর্ষ পালনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ২. লোগো ও পোস্টার প্রকাশ: নজরুল বর্ষের স্মারক হিসেবে একটি অনন্য ও দৃষ্টিনন্দন অফিসিয়াল লোগো এবং পোস্টার তৈরি করা হচ্ছে। ৩. বিশেষ ক্যালেন্ডার ও ডাকটিকিট: বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘নজরুল বর্ষ ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে ‘স্মারক ডাকটিকিট’ প্রকাশ করা হবে। ৪. গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ: নজরুল বর্ষ উদযাপন শুধু উৎসব-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; কবির সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও সঙ্গীত নিয়ে উচ্চতর গবেষণা ও আর্কাইভ সৃষ্টির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ৫. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টি ও দর্শনকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক জীবনদর্শন আজকের বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এ ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সফল করতে আমরা দেশের আপামর জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী মহল এবং সম্মানিত সাংবাদিক ভাই-বোনদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।
নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক এবং বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিবাদের মুখে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন ডেপুটি স্পিকার। রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার একটি ঘটনা তুলে ধরেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের-এর স্ত্রীকে নিয়ে একটি পুরোনো ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও পরিচিতি প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন, যা বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। তার বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী কায়সার কামাল সদস্যদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য না করার আহ্বান জানান। প্রতিবাদ অব্যাহত থাকলে মনিরুল হক বলেন, তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেননি এবং যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। পরে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) নির্দেশ দেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্যদের এমন আচরণ করা উচিত, যা জনগণের কাছে সংসদের মর্যাদা ও শালীনতা বজায় রাখে। তার এই সিদ্ধান্তকে বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানান। পরে বিষয়টি আবার উত্থাপন করেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য সংসদীয় শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় উপনেতার পরিবারকে নিয়ে কটাক্ষ করাকেও অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন। নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার বা পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে এমন মন্তব্য করবেন না, যা বিতর্ক ও বিভাজনের সৃষ্টি করে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং (fuel loading) এর পর পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যেতে জটিলতা বা ত্রুটি শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন চেষ্টার শুরুতেই প্লান্ট শাটডাউন করতে বাধ্য হয় তারা। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ (IAEA) এর প্রতিনিধিসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল রূপপুরে অবস্থান করছিল। এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে প্রথম ইউনিটের সিস্টেমে প্রেশার (চাপ) দেয়ার পর আমরা একটি সামান্য ত্রুটি পেয়েছি। এটি কোনো বড় সমস্যা নয় এবং আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এটি ঠিক হয়ে যাবে।” পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষা চলাকালীন প্রকৌশলীরা প্রথম ইউনিটের তিনটি ভিন্ন স্থানে সামান্য ত্রুটি শনাক্ত করেছেন। ঐ কর্মকর্তা জানান, ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী পরীক্ষা স্থগিত করার এবং কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আগে সমস্যাগুলো সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছে। শুরুতেই কি ধরণের সমস্যা হয়েছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং পরীক্ষার সময় প্রায় তিনটি ছোট ছিদ্র (minor holes) তৈরি হয়েছে। জানান, বিষয়টি সামান্য হলেও আমরা ক্ষতির পরিধি ও গুরুত্ব নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর আগেও এরকম একটি ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের টিমে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ছোটো-খাটো কারিগরি সমস্যা বা নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘাটতি থাকলে নিউক্লিয়ার প্লান্ট শাটডাউন করতে হয়। তিনি বলেন, জ্বালানি লোডিং পরীক্ষা বা পরীক্ষামূলক উৎপাদনের চেষ্টার সময় সম্ভবত এ ধরণের কোনো বিষয় শনাক্ত করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এটিকে বড় সমস্যা মনে করছেন না তিনি। রূপপুর সফরে থাকা আইএই-এর সদস্যরা বলেন, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্র পরিদর্শকের ভূমিকা পালন করবে সংস্খাটি। তবে রেগুলিটরি ক্ষমতা দেশটির নিজেদের হাতেই থাকে। এক্ষেত্রে আইএইএ কেবলমাত্র সহযোগিতা করে থাকে। এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন যৌথ উদ্যোগে “নিউক্লিয়ার এনার্জি: স্ট্রাটেজি রিয়েলিটিজ অ্যান্ড বাংলাদেশ পাথ ফরোয়ার্ড”শীর্ষক দুই দিনব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইইএ-এর পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বিশেষজ্ঞরাও এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিক, সংসদ সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ঐ আলোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, অন্যান্য জ্বালানি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচ দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলকভাবে কম হবে। মন্ত্রী জানান, সরকার আরও দুটি নতুন ইউনিট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে সেটি নির্ভর করছে প্রথম প্রকল্পের ছূড়ান্ত সমাপ্তির ওপর। কর্মকর্তারা জানান, রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও যেন কেন্দ্রটি টিকে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকার এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বলেন, একটি ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম; তাঁর অনুমান অনুযায়ী এমন ঘটনা দশ লাখে মাত্র একবার ঘটতে পারে। তারপরও নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। যার প্রথম ইউনিটে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি-লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এছাড়া একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানিভরনের কাজ শুরু হবে। অনুরূপ হিসাবেই ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।